পোস্টগুলি

Monologues লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Monologue- 29

ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। চা'ওয়ালা মামাকে বলে এক প্যাকেট কফি মিক্সড করে নিয়েছি। চিনি ছাড়া কড়া লিকারের কফি মিশ্রিত এ এক বিদঘুটে স্বাদ! স্বাভাবিক সময়ে হলে এ চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে আমার জিহ্বা ১২০ ভোল্টের শক খেতো কিন্তু এখনো তেমন কিছুই অনুভব করছি না। লাস্ট ২০ ঘন্টার ১৪ ঘন্টায় ঘুমিয়েছি। এরপর ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে টিউশনে গেলাম। পড়াতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো ঘুমে কথা জড়িয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি পড়ানো শেষ করে এসে মামার ভাসমান টি-স্টলে বসলাম। এ জায়গাটা আমার পছন্দের একটা জায়গা। সত্যি বলতে ফুটপাতে বসতে প্রথমদিকে অনেক মৌন বাধা কাজ করলেও, এখন বেশ মজায় লাগে! রাস্তার ভিখিরি থেকে শুরু করে জুতা সেলাই করা মামার নজরে পথচারীরা দেখতে কেমন, তা বুঝাতে পারা যায়।  ঘুমের আড়ষ্টতা যেন আস্তে আস্তে কাটছে মনে হচ্ছে। হঠাৎ কানে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম কোথা থেকে যেন। পুরুষ মানুষের কান্না। চারপাশে চোখ ভুলিয়ে বুঝতে পারলাম কিছুটা দূরে মধ্যবয়স্কা এক লোক কান্না করছে। হাতে বড়সড় একটা ফাইল, মেডিকেলের কাগজপত্র আর রিপোর্ট। ফোনে কারো সাথে কথা বলছে আর কান্না করছে। যতটুকু শুনতে পেলাম, উনার পরিবারের কারো কঠিন কিছু একটা হয়েছে। কান্নায় কেমন যেন...

Monologue-26

বিকেল ৪:১৩। জ্যামে রিকশায় বসে বসে ঘামছি আর মেজাজ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ১৯-২০ বছরের একটা ছেলে একদম মাঝ রাস্তায় মোটরসাইকেলে কিক মারছে বার-বার তারপরও গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট নিচ্ছে না। এইদিকে পেছন থেকে সব গাড়ি তাকে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে, এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সে  এমনভাবে মনোযোগ দিয়ে একটু পর পর তেলের পাইপ চেক করছে যেন দুনিয়ায় সে আর তার মোটবাইক বাদে আর কিছুই নেই! পেছনে উঁকি দিয়ে দেখি বিশাল লম্বা জ্যাম লেগে গেছে ইতিমধ্যে।  ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম কাস্টমাইজড বাইক। ওল্ড মডেলকে নতুন বডি দিয়ে যেন সাজিয়েছে। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে অবশ্য এসব শখ অদ্ভুত কিছু না। সেদিন এক স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, "পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কি করো?" সে উত্তর দিলো, "COD(Call of Duty) খেলি স্যার"। বেশ সুন্দর উত্তর!  আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "পড়াশোনা যে ঠিকঠাক মতো করছো না আঙ্কেল আন্টি তো ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন ভালো লাগবে স্বামী বাড়িতে গিয়ে সকাল সন্ধ্যা রুটি বানাবা আর চা? " প্রতিত্তোরে সে বললো,"স্যার বিয়ে দিয়ে দিলে তো ভালোই ছিলো। হাসবেন্ড আমাকে প্রতিদিন সকাল...

Monologue-24

বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছি। বাস একদম খালি, ছাড়তে নাকি দেরি হবে। ৫ মিনিট পর আরেকটা বাস ছাড়বে। ওইটা এসি। এসিতে উঠবো কি উঠবো না, দ্বিধাদ্বন্দে আছি। খোলা জানালার পাশে বসে বাতাসের সাথে শীতের কুয়াশার আবাসটা মিস করবো বদ্ধ এই এসি বাসে ওঠলে। অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে নন এসির একদম ড্রাইভার মামার পেছনের সিটের টিকেট কাটলাম। টিকেট নাম্বার-৪, একদম জানালার পাশে। যেহেতু আমিই প্রথম যাত্রী, তার উপর তিশা প্লাস। তারমানে বাস ছাড়তে অনেক দেরি। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলছে, সময় হলেও যাত্রী না হলে বাস ছাড়বে না উনারা। সময় কাটানোর জন্য অগত্যা ব্যাগ থেকে, " The Art of Reading Mind" বইটা নিয়ে পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।  একে একে যাত্রী ওঠতে শুরু করলো। সবাইকে কন্ডাক্টর ভাই বেশ জোড় গলায় বলছে,"শেষ ট্রিপ। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে দিবে তাড়াতাড়ি উঠেন"। ঘড়ির দিকে তাকালাম, প্রায় ৩০ মিনিটের উপর হয়ে গিয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময় আরো ১০ মিনিট আগে পার হয়ে গিয়েছে। বিরক্তি লুকানোর জন্য বইয়ের সূচিপত্রে গিয়ে ইন্টারেস্টিং চ্যাপ্টার খোঁজা শুরু করেছি৷  কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বেশ চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। সবাই বেশ রাগ ঝাড়ছে, নির...

Monologue-23

কনফারেন্সের লাঞ্চ ব্রেক। তীব্র ক্লান্তি আর চরম পিপাসা নিয়ে জাদুঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়েই যাচ্ছি। এটা নিয়ে চার নাম্বার কাপ শেষ হলো। ঘুম আর ক্লান্তি কেটে গেলেও পিপাসা কাটছে না কোনোভাবেই। ক্যান্টিন থেকে ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল খালি করে ফেললাম। তারপরও পিপাসা কাটছে না যেন! অবশেষে অনেকটা জোর করে কনফারেন্স রুমে গিয়ে বসলাম৷ স্পিকাররা একজনের পর একজন আসছেন আর লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন। মস্তিষ্ক লেকচারগুলোর নোট নিচ্ছে আর এই দিকে মন কোথায় যেন পড়ে আছে। মন চাচ্ছে কফির কাপ নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই শহরটাকে দেখতে। হঠাৎ করে এই যান্ত্রিক শহর আমার ভালো লাগছে কেন, আমি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি এখন। অথচ এই শহর ছিল আমার অপছন্দের লিস্টে প্রথম শহর। যে শহরে আসলে আমার হাসফাস লাগতো, সে শহরের প্রতি হঠাৎ তীব্র একটা টান অনুভব করছি যেন! ধুলোবালির এই শহরের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কেমন যেন এক  স্নিগ্ধতা, যা কখনো-ই আমি আগে টের পাইনি। কনফারেন্সে শেষ হতে হতে রাত হয়ে গিয়েছে প্রায়।  বের হয়ে ফুটপাত ধরে হাটছি। শহর ছাড়ার সময় হয়ে ওঠেছে, এবার বিদায় নেওয়ার পালা! খালি পায়ে পুরো শহ...

Monologue 22

 রাত ৯:০৫। হাতে ওয়ান টাইম চায়ের কাপ নিয়ে ফুটপাতের ওপর বসে আছি। রাত নয়টার পর থেকে কুমিল্লা শহর আস্তে আস্তে নীরব হতে শুরু করে। পৌরসভার এই দিকটা আরো তাড়াতাড়ি যেন নীরব হয়ে যায়। এ সময়টায় এভাবে ফুটপাতের ওপর চুপচাপ বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। এই ফুটপাতে ভিক্ষুকরা বসে ভিক্ষে করে, মুচি বসে জুতা সেলাই করে, প্রেমিক-প্রেমিকারা বসে আড্ডায় দেয়, অনেকে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এখানে এসে সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্লান্তি ভুলে। ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি আর সাতপাঁচ ভাবছি। পাশ থেকে একজন সিগারেট বাড়িয়ে দিলো হাসিমুখে। আমি ভদ্রতা সুলভ হাসি দিয়ে বললাম," সরি ভাইয়া, আমি স্মোক করি না, তবে ধন্যবাদ আপনাকে "। এরপর দীর্ঘ এক আড্ডা হলো উনার সাথে। আড্ডার প্রতিপাদ্য ছিলো," এই সিগারেটের খাতিরে কতোজনের সাথে পরিচয় হয়! ছেলেরা আসলে ওয়ানটাইম কাপে চা খেলেও একই সিগারেটের ফিল্টারে কয়েকজন মিলে ফুঁকতে দ্বিধাবোধ করে না "। কী অদ্ভুত এক আলোচনা করলাম এতোক্ষণ! আড্ডা ছেড়ে দু'জনেই উঠে রওয়ানা দিলাম। হাঁটছি আর ভাবছি," বদ অভ্যেস থাকা সবাই কী এমন ইন্টেলেকচুয়াল হয়?" হয়তো হয়। আমার জীবনে অধিকাংশ ভাইদেরই এমন দে...

Monologue 21

রাত ১০:৩৬। বারান্দার কর্ণারটায় গ্রীল দিয়ে পা বের করে বসে আছি। বাইরে বৃষ্টি, এর সাথে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এ মুহূর্তে আমার মন চাচ্ছে শহরের সব আলো নিভিয়ে দিয়ে সবকিছু অন্ধকার করে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে বিদ্যুৎ চমকানো দেখি।  গ্রামে যখন সন্ধ্যার পর ঝড় শুরু হতো তখন রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা হয়ে যেত। ঠিক ঝড় শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তের সেই সময়গুলো অনেক মনে পড়ছে এখন। কেন মনে পড়ছে জানি না। আমি তখন প্রায়শই আকাশ কালো দেখলে কিংবা ঝড় এর আভাস পেলে হাঁটতে বেড়িয়ে পড়তাম। গ্রামের শেষের সেই দক্ষিণের ওদিককার বড় ব্রীজটায় গিয়ে বসতাম। মনে মনে বলতাম নিজেকে বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা যেন আমার উপরই পড়ে! তখন থেকেই বুঝতে পারি, আমার ভেতর এক বিলাসিতা জন্ম নিচ্ছে। আমার যা ভালো লাগে তা অন্যের কাছে বিলাসিতা কিংবা পাগলামো হলেও আমি তাই করি। এখনও তা-ই করছি।  বাইরে বের করে রাখা পায়ের উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। এই শীতল শিহরণ পা থেকে এসে যেন আমার মস্তিষ্কে এসে পৌঁছুচ্ছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা কানেক্টেড ফিল করছি শিরা-উপশিরা গুলোয়। এমনটা শেষ মনে হয়েছিলো যখন খালি পায়ে ঘাসের উপর হেঁটে বেড়িয়ে ছিলাম। আকাশের আলোকচ্ছটা আমাকে মুগ্ধ করছ...

Monologue 20

সন্ধ্যা ৬:৩৬। আলো আর অন্ধকারের মিশেলে অদ্ভুত একটা সময়! এ সময়টা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে মনে চায়। চোখের পলক ফেলে খুলতেই যেন হঠাৎ আবছা অন্ধকার নেমে আসে চারিদিকে।  ছাঁদের কিনারায় বসে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। কিছুটা দূরে এক বিল্ডিংয়ের ছাদের পানির ট্যাংক এর উপর দৃষ্টি পড়লো আমার। আন্দাজে গুণে গুণে দেখলাম বিল্ডিংটা ১২ তালা হবে, ১৩ তালায় ছাঁদ, এর উপর পানির ট্যাংক। এর উপর একটা ছেলের অবয়ব। মাথার উপর একরাশ কালো মেঘ। আগুনের ফুলকি জ্বলছে হাতে ধরে রাখা সিগারেটটায়। ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে বসে আকাশ দেখলো, এরপর সিগারেটটা ফেলে দিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। ছেলেটা খুব সম্ভবত কান্না করছে কিংবা অবসাদ লুকানোর চেষ্টা করছে। কে জানে আকাশের কালো মেঘের মতো তার মনের মেঘও ভেতরে জমাট বেঁধেছে!   এই দৃশ্য দেখছি আর ভাবছি আমি শেষ কবে কেঁদেছিলাম?  শেষ ছ'মাসে নিজের জন্য কয়বার কেঁদেছি আর অন্যের জন্য কয়বার?  আমার কান্নাগুলো কেউ দেখলে আমার সম্পর্কে কি ভেবে বসতো?  আচ্ছা, পুরুষ মানুষের কাঁদা উচিত? উচিত হলেও কী কারো সামনে কান্না করা উচিত? সামনে বসে থাকা মানুষটা কী তাকে দুর্বল ভেবে বসবে?  একে ...

Monologue-19

শুক্রবার রাত। সারাটা দিনের ক্লান্তি ভুলতে লম্বা সময় নিয়ে গোসল সারলাম। ডায়েরিটা নিয়ে রুমের জানালার পাশে এসে বসলাম। ব্যাগ থেকে খুঁজে খুঁজে দামি জেল পেনটা বের করলাম। এমন আবহাওয়ায় ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ডায়েরি লিখতে বসলে অবশ্যই ভালো কিছুই লিখবো, এই প্রত্যাশা। কারেন্ট চলে গেল, মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে লিখা শুরু করলাম, জানালা দিয়ে বাইরে থেকে একটু পর পর দমকা বাতাস আসছে আর চঞ্চল করে দিচ্ছে মন!  আমার রুমের দক্ষিণা জানালাটা আমার খুব প্রিয়। সারাটা সপ্তাহ অপেক্ষা করি এই শুক্রবারটার জন্য। কখন এই জানালার সামনে এসে বসবো। এখানে বসে আমি একটা মেডিটেশন স্টেজ অনুভব করি। দিনশেষে নিজের হাতে গোছানো সবকিছু সুন্দর, সেটা সম্পর্ক হোক, ঘর কিংবা নিজেকে।  মাঝে মাঝে ডায়েরি লিখতে বসলে খুব দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যাই আমি, সারাদিনে ঘটে যাওয়া এতো এতো ঘটনার মধ্যে কোনগুলো লিখে রাখবো এই ভেবে। আমার কাছে মনে হয় একটা ফুলের বাগানের মধ্য দিয়ে দৌড়াচ্ছি আমরা, একদম দ্রুত গতিতে ছুটে চলছি যেন! ফুলের বাগানের মধ্য দিয়ে ছুটছি এই ভেবেই খুশি হচ্ছি, কিন্তু একটা মুহূর্ত দাঁড়িয়ে স্থির দৃষ্টিতে এতো এতো ফুলের মাঝে একটা ফুলকে ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ...

Monologue - 18

রাত ১টা বেজে ৫ মিনিট। রুমের লাইট অফ, ল্যাপটপের স্কিনে মিডিয়ামে ব্লগ পড়ছিলাম। হঠাৎ করে খোলা জানালার দিকে চোখ পড়তেই দেখি বাইরে কতো সুন্দর পূর্ণিমা। আধখোলা জানালা সবগুলো খুলে দিলাম। রূপালি চাঁদের আলো জানালার গ্রীল বেয়ে মেঝেতে এসে পড়ছে। অন্ধকার রুমটা এক অন্যরকম আলোয় ভরে গেল। জানালা দিয়ে বাইরে নতুন টিনের চাল দেখা যাচ্ছে। সেখানে পূর্ণিমার আলো পড়ে এর প্রতিফলন এসে আমার চোখে পড়ছে। জানালা দিয়ে এক দৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছি আর বিড়বিড় করছি, "পূর্ণিমা সুন্দর, ভয়ঙ্কর সুন্দর। প্রেমিকার কাজল কালো চোখের চেয়েও সুন্দর !" এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ কেন জানি রূপার জন্য মায়া হতে লাগলো আমার, হিমুর জন্য ক্রোধ টের পাচ্ছি। এই ভরা জ্যোৎস্নায় এক রূপবতী মেয়ে নীল শাড়ি পড়ে একটা ভ্যাগাবন্ডের জন্য অপেক্ষা করছে সে আসবে না জেনেও, ভালোবাসায় এ কি অন্যায়! ব্যাপারটা ভাবতেই মন খারাপ হয়ে যাই। হিমুদের কেন মহাপুরুষই হতে হবে? রূপার মতো মেয়েদের মনে কষ্ট দেওয়ায় কি মহাপুরুষদের কাজ? আমি অন্তত এই পূর্ণিমার রাতটুকুই চাইবো হিমু অতি সাধারণ এক প্রেমিক পুরুষ হয়ে পড়ুক, যে রূপার সব অপেক্ষার অবসান ঘুচিয়ে দিবে। রূপার চোখে চোখ রেখে বলে দিব...

Monologue-16

রাত ৯ঃ৪৫। নির্মাণাধীন এক ব্রীজের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশ দেখছি । রাতে কন্সট্রাকশনের কাজ বন্ধ থাকে, একদম  নিরিবিলি পরিবেশ, ঝিরিঝিরি বাতাস বয়ছে। অমাবস্যার রাতে পরিষ্কার আকাশে তারা গুনার ইচ্ছে দমন করতে না পেরে ধুলাবালির কথা ভুলে গিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম,একদম গ্রাউন্ডেড যাকে বলে। দুহাত মাথার নিচে দিয়ে পায়ের উপর পা দিয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে আছি। আকাশের তারা দেখছি আর মনে মনে বলছি ," একেই মনে হয় বলে ছুটি কাটানো "। এ মুহূর্তে নিজেকে সব থেকে শান্ত-পরিশ্রান্ত মনে হচ্ছে । পায়ের পাতা থেকে হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত রক্তের পাম্প হওয়া যেন টের পাচ্ছি। একটু আগেও আমার মাথায় কয়েকশ চিন্তা আর প্রেশার কাজ করছিল , এখন মনে হচ্ছে মাথা একদম ফাঁকা হয়ে গেছে । এ যেন মেডিটেট স্টেজে চলে যাচ্ছি! সব সময় উঁচু থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখে অভ্যস্ত চোখ দুটোর কখনো গ্রাউন্ডেড অবস্থায় আকাশ দেখা হয়ে ওঠে নি। চিৎ হয়ে গ্রাউন্ড পজিশনে শুয়ে আকাশ দেখার মাঝেও একটা Numb,Calmness কাজ করে মনে। জীবনের সব জায়গাতে যদি এমন গ্রাউন্ডেড থাকা যেত! কে কী বলুক, কে কী ভাবছে, কেউ মতামতের গুরুত্ব দিচ্ছে কি-না, এসব ব্যাপারগুলো কখনোই আর আঘাত করতে পারত...

পর্দা ও এক পারিবারিক শিক্ষা

ইফতারের প্রায় সময় হয়ে গিয়েছে। ট্রেনের অপেক্ষায় দাড়িয়ে ছিলাম। এক আপুকে দেখলাম স্টেশনে বসে থাকা অসহায়দের ইফতারের প্যাকেট দিচ্ছেন। পড়নে ঢিলেঢালা বোরকা, মুখে মাস্ক, চোখে গ্লাস। উনার সাথে দুটি পিচ্চি মেয়ে, সম্ভবত উনারই সন্তান। মা মেয়েদের প্যাকেট হাতে তুলে দিচ্ছে আর বাচ্চা মেয়েগুলো খুশি মনে একটা একটা করে খাবারের প্যাকেট ভিক্ষুকদের হাতে দিচ্ছে, সাথে এগালওগাল বিস্তৃত হাসি ! বিতরণ শেষে এরা চুপচাপ চলে গেল।  নেই কোনো শো অফ, নেই কোনো শোরগোল। কতো সুন্দর পর্দা, কী সুন্দর পারিবারিক শিক্ষা!

Monologue-14

ছবি
সন্ধ্যা ৬ঃ৪৩। ঘুম ঘুম চোখে কোনো রকমে কফিটা বানিয়ে মগটা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম। গত ৪০ ঘন্টার অঘুম, দুই ঘন্টা ঘুমালে যা হয়! ঘুম থেকে উঠে মাথাব্যথাটা আরো বেড়ে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে আমি বেশ আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার জন্য ঘুমোতে যাই ৷ যেমনটা আজকে! দুঃস্বপ্ন দেখার প্রথম আয়োজন হিসেবে রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে পাখাটা হালকা স্পীডে ছেড়ে রুমের তাপমাত্রা ঠান্ডা করে কাথার নীচে ঢু্ঁকে পড়ি৷ কানে ইয়ারফোনে লাগিয়ে প্লে করে দেই কাঠখোট্টা টপিকের কোনো পডকাস্ট। ব্যাস্, ক্লান্ত মস্তিষ্কে স্ববিরোধী সবচিন্তাভাবনা উদয় হতে থাকে শীতল তাপমাত্রার সাথে! সারারাত না ঘুমিয়ে, সারাদিন ল্যাব দিয়ে এসে কোনো রকমে দুপুরের খাবারটা খেয়ে আজকেও আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রিপারেশন নিলাম ৷ এভাবে নিজের মস্তিককে জানিয়ে শুনিয়ে স্বপ্ন দেখানোর ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ মজার। মনে হয় যেন, আমি আমার মন দিয়ে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করছি! লেপের ভেতর ঢুঁকে পড়ছি। কানে ইয়ারফোনে পডকাস্ট চলছে৷ আজকের পডকাস্টের টপিক " Financial independency vs Psychological freedom "। বঙ্গানুবাদ করলে এমন দাঁড়ায় অনেকটা - "..... ফিনানশিয়াল ইনডিপেনডে...

Monolouge-13

ছবি
রাত ১০ঃ৪৫। রাতের খাবার খেয়ে একা একা হাঁটতে বের হয়েছি। গ্রামের রাস্তা, চুপচাপ, নির্জনতায় একা একা পায়ে ধুলো মেখে হাঁটছি, উদ্দেশ্যহীন হাঁটা যাকে বলে। স্কুল লাইফে এই রাস্তাটায় প্রায়ই বাড়ি ফিরা হতো, রাতে কারেন্ট চলে গেলেও হাঁটতে বের হয়ে যেতাম এই রাস্তায়। আর এখন তো আসা হয় না বললেই চলে। এই বয়সে ব্যস্ততা নামক অজুহাত জীবন যান্ত্রিক করে দিচ্ছে। দু'পাশে ক্ষেত, তার মধ্য দিয়ে ইট বাঁধানো ধুলোপড়া রাস্তা। কনকনে ঠান্ডা, নাকমুখ দিয়ে কুঁয়াশা ঢুকছে। স্কুল লাইফে রাত দশটার পর এখান দিয়ে একাকী হাঁটা কল্পনাই করতে পারতাম না। এখন অবশ্য কিছুটা যাতায়াত আর ঘরবসতি বেড়েছে এ-ই দিকটায়। গাঁ ঝিমঝিম করছে অমাবস্যা আর রাস্তার পাশের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে। তারপরও হাঁটতে ভালো লাগছে। কতোদিন হলো খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস বুক ভরে নিই না। যানজট আর দুশ্চিন্তায় ভরা এই হাপিত্যেশ জীবনে শেষ কবে যে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেছি, তা চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না! আজ মনটা অনেক ভারী হয়ে আছে। মনে যে কালো মেঘের জমাট বাঁধছে তার কারণ একাধিক হলেও, আপাতত একটা কারণ আমাকে ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। তাই মন হালকা করতে এই কুঁয়াশা জড়ানো রাস্তা...

ডিসেম্বরের শহর থেকে যায় অপেক্ষায় প্রাক্তন ভালোবাসায়

রাত ১০টা। চায়ের কাপ হাতে ফুটপাতের বেঞ্চিতে বসে আছি। শহরের ব্যস্ততা কমে আসছে ধীরে ধীরে। বিকেল থেকে টানা চার টিউশন করে আমার নিজেরও ব্যস্ততা শেষ। এখন মাথার ঝিমঝিম ভাবটা কমানোর জন্য রাস্তার পাশের এই ভাসমান টংয়ের দোকানে বসে আছি। দেখতে দেখতে ডিসেম্বর চলে এলো। ২২-সালের শেষ মাস৷ কত চাওয়া-পাওয়া আর হারানোর মধ্য দিয়ে চলে গেল বছরটা ! শীতের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। হালকা কুয়াশা পড়া শুরু করেছে, শীতশীত একটা ভাব। বেঞ্চিতে বসে চায়ে একের পর এক চুমুক দিচ্ছি। আহা, চায়ের লিকারের সাথে যেন সমস্ত ক্লান্তি বোধ গলা দিয়ে নেমে যাচ্ছে। এ মুহুর্তে "ডিসেম্বরের শহরে" গানটা কানে ইয়ারফোন গুঁজে ফুল ভলিউম শুনতে খুব মন চাচ্ছে । মোবাইলে To-Do লিস্ট খুলে টাস্কটা দেখলাম, "ডিসেম্বরের কোন এক শীতের রাত, চাদর গায়ে ফুটপাতে বসে চা সাথে ডিসেম্বরের শহরে গান। *** সাথে কেউ না থাকলেও চলবে। তবে দলবেঁধে গলা ছেড়ে গাইতে পারলে মন্দ হবে না! *** " ০৩.০৪.২০২২ আজকে নভেম্বর ২৯, তারমানে আজকে শোনা ঠিক হবে না। কিছু জিনিস সঠিক সময়েই সুন্দর, এর আগে চাহিদা পেয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে ফেললে এর সৌন্দর্য্য আর মুগ্ধতা থাকে না। তবে এই গানের...

Monologue-11

রাত ১১টা ২০। লোকাল ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বাইরের ঘন কুয়াশার দিকে তাকিয়ে আছি। গাড়ি প্রচন্ড ভীড়, পুরো বগিতে কারেন্ট নেই, পূর্ণিমার শীতল আলো গাঁয়ে এসে পড়ছে। ২০২২-এর শুরু থেকে wishlist-এ এড করে রেখেছিলাম একদিন রাতে লোকাল ট্রেনে জার্নি করবো,সেদিন বাইরে থাকবে নীল জ্যোৎস্না, ট্রেনের বগি থাকবে অন্ধকার! লোকাল ট্রেনের বগিগুলোয় অধিকাংশ সময়ই ইলেক্ট্রিসিটি থাকে না, থাকলেও গুটিকয়েক কম্পার্টমেন্টে। আমি খুঁজে খুঁজে অন্ধকার বগিটাই উঠলাম। ট্রেন স্টেশন ছাড়লো, কানে এয়ারপডটাই এইদিনের জন্য বাছাই করে রাখা প্লেলিস্টটা চলছে। এই মুহুর্তগুলোয় এসে মনে হয় ছেলে হয়ে জন্মানোটা কতোটা সৌভাগ্যের ! নয়তো মাঝরাত হাঁটতে বের হওয়া, আড্ডা দিয়ে রাতে দেরিতে বাসায় ফিরা, বন্ধুদের সাথে হুটহাট ট্যুর প্ল্যান, মাঝ নদীতে নৌকার ইঞ্জিন বন্ধ করে পূর্ণিমা দেখা, এই যে ট্রেন জার্নি, wishlist-এর এমন অনেক ইচ্ছেগুলো অপূর্ণই থেকে যেতো হয়তো ! কুয়াশা কেঁটে ট্রেন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। দূরে কুয়াশার মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বর্ডারের কাঁটা তারের পাশে নিয়ন বাতির আলোগুলোর আকৃতিকে একটা বিশাল সাপ মনে হচ্ছে। নাকে সিগারেট এর গন্ধ আসায় বর্ডার এর দিক থেকে চো...

Monologue -09

ছবি
ক্লাস নাইনে উঠার পর টের পেলাম রাতে বেশি খেলে ঘুম পাই অনেক। খাওয়ার পর ঘন্টাদুয়েকও টেবিলে টিকতে পারি না। আবার কম খেলে খালি পেঁটে মনোযোগ দিতে পারি না। আম্মা তখন রাতে ভাতের পরিবর্তে রুটি বানিয়ে দেওয়া শুরু করলো। সেই ঘন্টাদুয়েকের পড়া চার-পাঁচেক এ গিয়ে দাঁড়ালো। জীবনে প্রথম সেদিন টের পেলাম জীবনে "অপটিমাইজেশন" দরকার! জীবনে প্রথম ডিকশিনারি হাতে পেয়ে শব্দ খুঁজতে গিয়ে নাকানিচুবানি অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো । তারপর বড় কাকা যখন শিখিয়ে দিলো কিভাবে এ্যালফাবেটিক্যালি শব্দ খুঁজতে হয়, তখন দ্বিতীয়বারের মতো উপলব্ধি করতে পারলাম জীবনে " অপটিমাইজেশন" দরকার। পায়ে ব্র্যান্ডের জুতা পরে যেদিন দেখলাম ছেঁড়াপ্যান্ট পরে আছি, সেদিন তৃতীয়বারের মতো বুঝলাম জীবনে অপটিমাইজেশন" দরকার।  এরপর আর কী, যতো বড় হচ্ছি অপটিমাইজেশন এর উপর অপটিমাইজেশন করার চেষ্টা করছি। অনেকেই প্রশ্ন করে আমাকে, "এতো দূর, এতোকিছু সামলানো, মানিয়ে চলা কিভাবে?" আমার কাছে এর উত্তর নেই কোনো। আমি হাঁসি, ছোটবেলা থেকে উপলব্ধি করা সেই শব্দটার কথা মনে পরে তখন।  আলহামদুলিল্লাহ নিজেকে আগের থেকে বেটার মনে হয়। প্রতিটা দিন নিজেকে নিয়ে বসি,...

Monologue -08

ছবি
রাত ১১ঃ৫০, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। পুরো স্টেশন জুড়ে কারেন্ট নেই।ওয়ান টাইম চায়ের কাপ হাতে ১নং প্ল্যাটফর্মের একদম শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। পূর্নিমার চাঁদটা চায়ের মধ্যে দুলছে । চাঁদের আলো, দুধ চায়ের রং এর সাথে মিলে অদ্ভুত একটা রং তৈরি করেছে। পূর্ণিমার আলোয় এই আশ্চর্য এক ক্ষমতা, চায়ের রং এর মতো নিজের মন খারাপ, মন ভালো কিংবা ক্লান্তিবোধ এর সাথে মিশে কেমন যেন গুলিয়ে ফেলে সব। না থাকে কোনো মন খারাপবোধ, না থাকে ক্লান্তি না থাকে উৎফুল্লতা,অদ্ভুত রকমের একটা শান্তি, নীরবতা কাজ করে মনে।  আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি একটা কুকুর আমার পিছু নিয়েছে। কুকুরটাকে দেখে নিজের অজান্তেই হেঁসে ফেললাম। অন্ধকারের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, কি মায়া নিয়ে আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে আছে। জানি এই মায়া দেখানো তার স্বার্থের জন্য, তারপরও প্রশংসা করতেই হয়। এই মায়া যে কোনো কাউকে মায়ায় ফেলতে বাধ্য, ঠিক প্রিয় মানুষের মায়ায় পড়ার মতো! বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বিস্কুটের একটা প্যাকেট এনেছিলাম সাথে করে, যদি মাঝরাতে ক্ষিদে পাই খাবো বলে। বিস্কুটটা ব্যাগ থেকে বের করে প্যাকেট ছিঁড়ে কুকুরটাকে একটা একটা করে দিচ্ছি। একটা বিস্কুট দিয়ে আমি...

Monologue-07

ছবি
ট্রেনে জানালার পাশের সিটটায় বসে আছি, ট্রেন যে দিকে ছুটছে তার বিপরীত দিকে মুখ করে। ট্রেন যখন স্টেশন ছেড়ে ধীরে ধীরে ছুটতে শুরু করলো, মনে হচ্ছিলো যেন, সবকিছুকে প্রচন্ড বেগে পেছনে ফেলে ছুটে যাচ্ছি। অনেকদিন পর  নিজেকে কেমন যেন হালকা অনুভব করছি। টিউশন,ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, মানসিক স্ট্রেস, হিসেব নিকেশ সবকিছু থেকে যেন সাময়িক মুক্তি!  ট্রেন তার সর্বোচ্চ গতি দিয়ে পরবর্তী স্টেশনের সাথে দূরত্ব গুছাচ্ছে। আর এইদিকে আমার মাথায় শ'খানে ভাবনার উদয় হচ্ছে।  আচ্ছা আমরা মানুষ কি কখনো বেকার থাকতে পারি? আমার তো মনে হয় না ! পার্থক্য এই যে কিছু কর্মের জন্য আমরা পার্থিব প্রশংসা কিংবা অর্থ পেয়ে থাকি আর কিছু কর্মের জন্য পায় আত্মিক কিংবা মানসিক শান্তি কিংবা অশান্তি। আমরা প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু করছি। আচ্ছা তার মানে কি এই যে  যদি কোনো কর্মের জন্য আমরা অর্থ না লাভ করি তাহলে আমরা বেকার? কিন্তু বেকার মানে তো যতটুকু জানি যার কোনো কর্ম নেই তাকে বুঝায় ! ব্যাপারটা কেমন যেন সাংঘর্ষিক হয়ে গেল না? এই যেমন ধরেন আমি এখন চলন্ত ট্রেনে বসে ভাবছি, এলোমেলো চিন্তাগুলো সাজাচ্ছি নিজের মতো করে, বাতাসে হাত বু...
ছবি
আম্মা বেঁচে থাকতে সময় খারাপ গেলে কিংবা সবকিছু আমার প্রতিকূলে চললে, তীব্র অসহায়ত্ব নিয়ে আম্মার কোলে মাথা গুঁজে চুপচাপ শুয়ে থাকতাম। জানতাম আম্মা চেহারা দেখেই বুঝে ফেলবে। তাই অপেক্ষা করতাম,কখন নিজ থেকে প্রশ্ন করবে আর আমি উত্তর দিবো। ঠিক তাই হতো! সবকিছু শোনার পর আম্মা কতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতো। এবং আমি এটাও জানতাম সবকিছু শোনার পর উনি বলবেন,"ধৈর্য্য ধর,একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে"। এই বাক্যে অদ্ভুত রকমের একটা জাদু কাজ করতো তখন। শুয়ে শুয়ে কল্পনা করতাম যে, আসলেই সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। অনেক হালকা হয়ে যেত মন।এখনও যখন সময় আমার বিপরীতে ছুটে,সবাই ছেড়ে ছুড়ে চলে যায় একা ফেলে,কেউ আমাকে বুঝার চেষ্টা করে না তখন নিজেকে নিজে বলি," একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে আমান"।কল্পনা করি আমি সবার মাঝখানে আছি,সব পজিটিভ এনার্জি আমাকে ঘিরে আছে! সেই ধৈর্য্য ধরার ফল পেতাম! সেই একটা সময় আসে আসলেই। সব প্রতিকূলতা কেটে যায় ঠিকই, তখন অতীতের সময়টার কথা মনে পড়ে যাই। তবে ইতিমধ্যে অনেককিছু চেনা হয়ে যাই! আশেপাশের মানুষগুলোর রূপ বদলানো,নিজের ফ্লেক্সিবিলিটি,আত্মবিশ্বাস৷ আরেকটা মজার বিষয় হলো আপনার অনুকূল সময়ে যে সূর্যাস্ত রো...

Monologue-01

ছবি
শুক্রবার। বন্ধের দিন, কিন্তু আমার জন্য ব্যস্ততম একটা দিনের শুরু মাত্র। ট্রেনের সিটে বসে 'To-do list' এ task add করছি, আজকের সারাদিনের শিডিউল। ট্রেন কুমিল্লা শহরকে পিছনে ছেড়ে ছুটতে শুরু করলো। শিডিউল গুছানো শেষ করে playlist টা অন করে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলাম। প্রতি সপ্তাহেই বাসায় যাই,তবে এ সপ্তাহে বাসায় যেতে কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম! কারণ বাসায় আপুরা এসেছে, ভাগ্নাভাগ্নিতে বাসা ভর্তি! বাসা এলোমেলো করার ক্ষেত্রে এই পিচ্চি বাহিনীর জুড়ি মেলা ভার! বিশেষ করে আমার টেবিল,টেবিলে রাখা প্রতিটা জিনিসপত্র,সেল্ফে রাখা বই, আর শো কেইসে রাখা আমার পুরষ্কার এবং ড্রয়ারে রাখা ডাইরি উপহারগুলো খুব যত্নসহকারে এলেমেলো করে দিয়ে যায়। পরবর্তী কিছু জিনিস বাসার পেছনে, জানালার বাইরে,খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয় আবার কিছু জিনিস নিখোঁজই রয়ে যায়। তবে সবথেকে সুখের বিষয় হলো সব আপুরা আসলে,একসাথে হলে আমার জন্য ইদের দিন। সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া,পরিবারের পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে কথা তুলা, অনেক রকমের রান্নাবান্না করা, এসবকিছু শূন্য ঘরটাকে যেন পূন্য করে দেয়। আপুরা আমার জন্য নিয়ামত বলা যাই। উনাদের এতো সেবাযত্ন,...