Monolouge-13
রাত ১০ঃ৪৫। রাতের খাবার খেয়ে একা একা হাঁটতে বের হয়েছি। গ্রামের রাস্তা, চুপচাপ, নির্জনতায় একা একা পায়ে ধুলো মেখে হাঁটছি, উদ্দেশ্যহীন হাঁটা যাকে বলে। স্কুল লাইফে এই রাস্তাটায় প্রায়ই বাড়ি ফিরা হতো, রাতে কারেন্ট চলে গেলেও হাঁটতে বের হয়ে যেতাম এই রাস্তায়। আর এখন তো আসা হয় না বললেই চলে। এই বয়সে ব্যস্ততা নামক অজুহাত জীবন যান্ত্রিক করে দিচ্ছে।
দু'পাশে ক্ষেত, তার মধ্য দিয়ে ইট বাঁধানো ধুলোপড়া রাস্তা। কনকনে ঠান্ডা, নাকমুখ দিয়ে কুঁয়াশা ঢুকছে। স্কুল লাইফে রাত দশটার পর এখান দিয়ে একাকী হাঁটা কল্পনাই করতে পারতাম না। এখন অবশ্য কিছুটা যাতায়াত আর ঘরবসতি বেড়েছে এ-ই দিকটায়। গাঁ ঝিমঝিম করছে অমাবস্যা আর রাস্তার পাশের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে। তারপরও হাঁটতে ভালো লাগছে।
কতোদিন হলো খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস বুক ভরে নিই না। যানজট আর দুশ্চিন্তায় ভরা এই হাপিত্যেশ জীবনে শেষ কবে যে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেছি, তা চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না! আজ মনটা অনেক ভারী হয়ে আছে। মনে যে কালো মেঘের জমাট বাঁধছে তার কারণ একাধিক হলেও, আপাতত একটা কারণ আমাকে ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। তাই মন হালকা করতে এই কুঁয়াশা জড়ানো রাস্তায় নৈশ্য হাঁটা!
আমরা মানুষ, ভবিষ্যতের চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকতে থাকতে বর্তমানকে খুন করা খুনী রোবটে পরিনত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। এরপর এই ভবিষ্যতটা যেদিন সামনে এসে হাজির হবে, সেদিন হেরে যাওয়ার দলের মানুষেরা দোষ দিবে নিয়তির আর জিতে যাওয়া মানুষেরা ক্রেডিট নিয়ে নিবে নিজের। অথচ, হারা কিংবা জিতা কোনোটাই তাদের সামর্থ্য কিংবা যোগ্যতার মধ্যে কখনোই পড়ে না। জীবন গুছানোর নামে একধাপ করে বুড়ো হয়ে যাচ্ছি আমরা, তার খবর নেই। বর্তমানকে দেওয়ার মতো কোনো উপহার আমাদের নেই, সবকিছু তুলে রাখা ভবিষ্যৎ নামের মরিচীকার জন্য !!!
Monologue-13
রাত ১১ঃ৪০, শুক্রবার
১৩-ই জানুয়ারি ২০২৩ইং
১৩-ই জানুয়ারি ২০২৩ইং

মন্তব্যসমূহ