পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে
ছবি
আমার কাছে চা একটা ম্যাজিক্যাল রেসিপি! মগ ভর্তি গরম পানি সাথে দুই চা-চামচ চিনি, ছোট এক টুকরো লেবু, একটা টি-ব্যাগ। এই একই চা আমি রুমের বারান্দায়,ছাদে,পড়ার টেবিলে,সব জায়গায় পান করি। একেক জায়গায় এক এক স্বাদ টের পাই। অথচ প্রতিবার ওই একই উপকরণ! যখন খুব স্ট্রেসে থাকি,চা নিয়ে ছাদে চলে যাই। চায়ের ধোঁয়ার মতোই যেন স্ট্রেসগুলো ক্রমশ হালকা হয়ে মিলিয়ে যায়! ক্লান্ত শরীর যখন পড়ার টেবিলকে আর গ্রহণ করতে চায় না, তখন এই চা-ই যেন সেল্ফ-মোটিভেশান জাগায়। একটা মন খারাপের বিকেলের সঙ্গী এই মগ ভর্তি চা ৷ স্টেশনের চা, কড়া লিকারের সমপরিমাণ গরুর দুধ, সাথে দুই চা-চামচ চিনি। এই একই দোকানের অভিন্ন চা, আড্ডায় এক রকম স্বাদ, ফুটওভারের উপর একাকী দাঁড়িয়ে পান করার সময় আরেক রকম স্বাদ, আবার চলন্ত ট্রেনে জানালার পাশের সিটটায় বসে পান করার সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদ!প্রতিবারের তৃপ্তি যেন ভিন্নতার উপলব্ধি দেয়! চা আড্ডা জমায়,চা গল্প তৈরি করে,চা একাকীত্বের সঙ্গী হয়, চা একাকী বসে ভাবতে সাহায্য করে, চা এন্টি ডিপ্রেশন এর ঔষধ হিসেবে কাজ করে৷ A cup of tea can fix myself,but you can't!

আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন

ছবি
ক্যাফেতে ঢুকেই রীতিমতো একটা ধাক্কা খেলাম! আজ প্রায় তিনমাস পর এই ক্যাফেতে আসা। ক্যাফের চেয়ার টেবিল, দেয়ালে লাগানো দেয়ালিকা, ঝুলে থাকা ল্যাম্পশেড, সবকিছু কেমন যেন অচেনা মনে হতে লাগলো। "Please Pay First"-লিখা কাউন্টারে কফি অর্ডার দিয়ে পেমেন্ট করে এসে সেই প্রিয় কর্ণারটায় এসে বসলাম। এই ক্যাফেটাকে ঘিরে অনেক স্মৃতি আমাদের। আমাদের প্রথম ডেইট ছিল এই ক্যাফেটায়, বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলাম এখানে । একটা সময় পর আমরা থেকে আমি হয়ে গেলাম! এরপর থেকে প্রায় একাই বেশ কয়েকবার আসছি এখানে। গরম কফিতে চুমুক দিয়ে আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন করতে প্রায়ই আসা হয় আমার। একাকী বসে যতবার এই গরম Cappuccino-তে চুমুক দেই, ততোবার সেই একসাথে খাওয়া Cappuccino-এর স্বাদ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। নাহ, কাজল চোখে চোখ রেখে গরম কফিতে চুমুক দেওয়ার মাঝে যেই স্বাদ, তা কি আর একলা বসে সামনে থাকা ফাঁকা চেয়ারের দিকে তাকিয়ে চুমুক দিতে দিতে পাওয়া যায়?! তবে কফিতে চুমুক দিয়ে মনে হয় যেন একটা Meditate স্টেজে চলে যাই! মনের ভেতর চলা স্মৃতির ঝড়, অবসাদ, অনুশোচনাবোধ সবকিছু কেমন যেন সাময়িকভাবে Dump হয়ে যায়। সাময়িক সময়ের জন্য একটা প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর ...

ডিসেম্বরের শহর থেকে যায় অপেক্ষায় প্রাক্তন ভালোবাসায়

রাত ১০টা। চায়ের কাপ হাতে ফুটপাতের বেঞ্চিতে বসে আছি। শহরের ব্যস্ততা কমে আসছে ধীরে ধীরে। বিকেল থেকে টানা চার টিউশন করে আমার নিজেরও ব্যস্ততা শেষ। এখন মাথার ঝিমঝিম ভাবটা কমানোর জন্য রাস্তার পাশের এই ভাসমান টংয়ের দোকানে বসে আছি। দেখতে দেখতে ডিসেম্বর চলে এলো। ২২-সালের শেষ মাস৷ কত চাওয়া-পাওয়া আর হারানোর মধ্য দিয়ে চলে গেল বছরটা ! শীতের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। হালকা কুয়াশা পড়া শুরু করেছে, শীতশীত একটা ভাব। বেঞ্চিতে বসে চায়ে একের পর এক চুমুক দিচ্ছি। আহা, চায়ের লিকারের সাথে যেন সমস্ত ক্লান্তি বোধ গলা দিয়ে নেমে যাচ্ছে। এ মুহুর্তে "ডিসেম্বরের শহরে" গানটা কানে ইয়ারফোন গুঁজে ফুল ভলিউম শুনতে খুব মন চাচ্ছে । মোবাইলে To-Do লিস্ট খুলে টাস্কটা দেখলাম, "ডিসেম্বরের কোন এক শীতের রাত, চাদর গায়ে ফুটপাতে বসে চা সাথে ডিসেম্বরের শহরে গান। *** সাথে কেউ না থাকলেও চলবে। তবে দলবেঁধে গলা ছেড়ে গাইতে পারলে মন্দ হবে না! *** " ০৩.০৪.২০২২ আজকে নভেম্বর ২৯, তারমানে আজকে শোনা ঠিক হবে না। কিছু জিনিস সঠিক সময়েই সুন্দর, এর আগে চাহিদা পেয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে ফেললে এর সৌন্দর্য্য আর মুগ্ধতা থাকে না। তবে এই গানের...