পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কোয়ারেন্টিনে হিমু (পার্ট - ০২)

হিমুর ঘুম ভাঙ্গতেই চোখ খুলে দেখে মাথার উপর  সিলিং ফ্যানটা ঘুরছে। "আচ্ছা, পাখার তিনটা ব্লেড থাকে কেন?" কোথায় যেন এর উত্তরটা পড়েছিল মনে করতে পারছে না এই মূহুর্তে। "একটা পাখার যত বেশি ব্লেড থাকবে তার বাতাস ততো বেশি হয়,তিনটার থেকে চারটা ব্লেডের পাখার বাতাস বেশি হয়"। তাহলে পাঁচটা ব্যবহার করলে.......?!!!! মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যাচ্ছে। ঠিক কয়টা বাজে তাও আন্দাজ করতে পারছে না, কারণ আশেপাশে কোনো ঘড়ি নেই। ও যেই ঘরটায় থাকে তাতে একটা খাট,একটা চেয়ার একটা টেবিল,কাল রাতে বজলুর রেখে যাওয়া একটা পানির বোতল ছাড়া আর কিছুই নেই।খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েও কিছু আন্দাজ করার উপায় নেই, আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। আচ্ছা, সূর্যের অবস্থান দেখে যেমন সময় বলে দেওয়া যায় তেমনই মেঘের রং দেখে যদি সময় বলে দেওয়া যেত?! ব্যাপারটা মন্দ হতো না!  তবে পাখার স্পীড দেখে মনে হচ্ছে দুপুর হয়ে গিয়েছে, কারণ বেলা যত গড়ায় ওর রুমের পাখাটার স্পীড যেন ততো কমতে থাকে, ব্যাপারটা অনেকদিন ধরে খেয়াল করছে ও৷ এসব ভাবতে ভাবতে আবার ঘুমিয়ে পড়লো হিমু।  যখন ঘুম থেকে উঠলো তখন প্রায় সন্ধ্যা গড়িয়েছে, বাইরে কয়েকটা মসজিদে একসাথে আযান দিচ্ছে। সন্...

অভিব্যক্তি

আমি কোনো দার্শনিকই নই যে, চাঁদের সাথে ভাব করব। আমি হিমু নই যে এখন খালি  পায়ে হেটে ফিরব। আমি কোনো জ্যোতিবিদ নই যে, তাকে নিয়ে গবেষণা করব। আমি জানি,আমি এক স্নিগ্ধপূণির্মাবিলাসী তাই আমি শুধু কিছু মুহুর্ত তাকে অনুভব করব। মুগ্ধদৃষ্টি ছাড়া তোমায় দেয়ার মত আমার আর কিছু নেই

একদিন হিমু হবো

একদিন হিমু হবো,পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবি পড়ে বের হয়ে যাবো রাতের এই শহর ঘুরতে। পার্থিব এই টাকা পয়সার ভার থেকে নিজেকে মুক্ত অনুভব করা ভীষণ প্রয়োজন।  একদিন হিমু হবো,খালি পায়ে বেড়িয়ে পড়বো এই শহর ঘুরতে। দেহের সাথে এই মাটির যেই সম্পর্ক তা অনুভব করতে চাই,প্রতিটা কদমে। একদিন হিমু হবো,এই ভ্যাগাবন্ড উদ্ভ্রান্ত মন দিয়ে ভঁড়কে দিবো আশে পাশের মানুষকে। এই যান্ত্রিক শহরে আঙ্গুল কাটা জগলু, র‍্যাবের মহাপরিচালক , ওসি নাজমুল হুদা, মাজেদা খালা, রহিম-করিম মিয়ার মতো ব্যতিক্রমী চিন্তার মানুষদের খুঁজে বের করে জম্পেশ আড্ডা দিবো। একদিন হিমু হবো,শুভ্র-বাদল এদের মতো কিছু শিষ্য থাকবে আমার। নিজেকে এই ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স এর জগত থেকে আলাদা করে কিছু সময়ের জন্য হলেও মহামানব ভাবার বড় ইচ্ছে! একদিন হিমু হবো,সারা রাত এই শহর ঘুরে ঘুরে গল্প তৈরি করে এসে সারাদিন পরে ঘুমাবো। এই ৮-৫ টার যান্ত্রিক রুটিন ছুড়ে ফেলে দিয়ে, নিজের মতো করে কিছুটা দিন বাঁচতে চাই। একদিন হিমু হবো,কোনো এক পূর্ণিমার রাতে রূপাকে নীল শাড়ি পড়ে ছাদে আসতে বলবো। আসবো না জেনেও সেঁজে ছাদে আসবে সে। পূর্নিমার আলোয় নাকি সব রং অস্পষ্ট মনে হয়। হিমু প্রতি বার না গেলেও...

আমরা একটা ইনফিনিটি লুপ

ছবি
রাত ৯ঃ০৫।কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন এর ফুটওভার ব্রীজের ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি এক ভাইয়ার সাথে দেখা করার জন্য। অনেকদিন ধরে দেখা করবো করবো করে আর সময় হয়ে উঠছিল না দু'জনের কারোর ই। তাই আজকে আগে আগে এসে অপেক্ষা করছি যাতে আমার আগে এসে উনাকে অপেক্ষা করতে না হয়।  ৯ঃ১৩,ঘড়ির দিকের থেকে চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকালাম বৃষ্টি নামবে এমন একটা ভাব,বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। ভাইয়ার সাথে দেখা করার টাইম ৯ঃ৩০। উনি আসতে পারবে তো? ফুটওভার ব্রিজটা থেকে স্টেশনটাকে অন্য রকম লাগে! এই জায়গাটা কুমিল্লার মানুষের কাছে একটা ছোটোখাটো পার্কে পরিণত হয়েছে। ভোরে এখানে মানুষ হাঁটতে আসে,দুপুর কিংবা বিকেলে স্কুল কলেজে ছাত্রছাত্রীরা আসে আড্ডা দিতে আর রাত হলে দিনের কোলাহলের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা রূপ নেয়!   পরবর্তী যাত্রীবাহী ট্রেন খুব সম্ভবত মাঝরাতে। এতো বড় স্টেশনটা একদম ফাঁকা। কেমন যেন অদ্ভুত এক শূন্যতা কাজ করছে প্ল্যাটফর্মগুলোয়। ২নং প্ল্যাটফর্মে কাঁথা বিছিয়ে একটা পরিবারকে দেখলাম নির্বিঘ্নে ঘুমিয়ে আছে।পরিবারটা আমার চেনা। ভিক্ষাবৃত্তিই তাদের পেশা। সারাদিন এতো বড় স্টেশনটায় এ মাথা থেকে ও মাথা অন্ধ স্বামী আর পিচ্চি বাচ্চ...

মনের বয়স এই যে পৃথিবীর ঘড়ির হিসেবে বাড়ে না

ছবি
পৃথিবীর abnormal মানুষগুলো একটা সময়ে গিয়ে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতা ছুঁই। এখানে 'abnormal' বলতে অস্বাভাবিক নয়, অসাধারণ অর্থে ব্যবহার করেছি। ইংরেজিতে এই এক সমস্যা! আচ্ছা আমরা এই মানুষগুলোকে সুন্দর একটা বিশেষণে বিশেষায়িত করি, "extraordinary"! আমি প্রায়ই podcast শুনি। আজ পর্যন্ত যতগুলো successful মানুষের গল্প শুনেছি,তাদের কারো অতীতই স্বাভাবিক ছিল বলে আমার মনে হয় নাই। হয় abnormal,নয় পরিশ্রমে extraordinary ছিল!  আমার চারপাশের কিছু মানুষদের দেখি,খুব মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করি। তাদের জীবনের গল্পগুলো মাঝে প্যার্টার্ন খোঁজার চেষ্টা করি। খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করি এই যে,  • একটা মেয়ের যে বয়সে পড়াশোনা এবং নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সে বয়সে পরিবারের দ্বন্দ্ব-কলহ সহ্য করছে, আবার অবাধ্য হওয়া ভাইটার ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে! • যে মেয়েটার আয়নার সামনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা নিজের সৌন্দর্যকে বিস্তৃত করার কথা, সেই মেয়েটা ওড়না কোমরে গুঁজে ঘন্টার পর ঘন্টা রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার, অসুস্থ বাবার সেবা করছে। শেষ বিকেলে ক্লান্ত অবিশ্রান্ত দেহে ছাদে এসে চুল শুকাতে দেখছি!  • নিজের অনিশ্চিত ক্য...

একাকীত্বের ভাবনা

একাকীত্ব কি জিনিস অনুভব করতে চান?   • যে জায়গাটায় বসে পুরো বন্ধু মহল মিলে আড্ডা দিতেন ওই জায়গাটায় কখনো সুযোগ পেলে একা গিয়ে বসবেন, একাকীত্ব কি জিনিস তা হারে হারে টের পাবেন। • রেস্টুরেন্টে গিয়ে ফ্যামিলি সাইজ কিংবা ডুয়েল সিটের টেবিলে পরিবার আর কাপলদের মাঝে যখন আপনি সিঙ্গেল টেবিল খুঁজে পাবেন না বসার জন্য, কোনার দিকের টেবিলটায় মুখ গুঁজে গিয়ে বসে পড়বেন। কফির মগে চুমুক দিবেন আর অপর পাশের ফাঁকা সিটটায় তাকাবেন একটু পর পর,তখন বুঝবেন একাকীত্ব কি জিনিস। • একাকী ছাদে শুয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাঁরা গুনার চেষ্টা করেন। নিজেকে এতো এতো তাঁরাদের মাঝেও একাকীত্বের গভীরে খুঁজে পাবেন। • একাকী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফাঁকা প্ল্যাটফর্মটায় যখন চা হাতে নীরবে একের পর এক চুমুক দিয়ে যাবেন নিজের এলোমেলো চিন্তাভাবনাগুলোর সাথে, তখন হঠাৎ করে অনুভব করবেন একাকীত্বের গাঢ়তা।  • মাঝরাতের ক্ষুধায় যখন আপনি রান্নাঘরে খাবার গরম করে টেবিলে বসবেন খেতে, তখন হঠাৎ করে অনুভব করবেন আপনি একা ৷ খাবারের স্বাদের সাথে একাকীত্বের স্বাদ আপনার মন বিষাদে ছেয়ে দিবে। • বন্ধুদের আড্ডার মাঝে যখন আপনি কোনো টপিক খুঁজে পাবেন না বলার,কিংবা ...

পজিটিভ মাইন্ডসেট রাখলে তা করার জন্য পজিটিভ এনার্জি প্রকৃতিই যোগাড় করে দেয়

শুক্রবার। বন্ধের দিন, কিন্তু আমার জন্য ব্যস্ততম একটা দিনের শুরু মাত্র। ট্রেনের সিটে বসে 'To-do list' এ task add করছি, আজকের সারাদিনের শিডিউল। ট্রেন কুমিল্লা শহরকে পিছনে ছেড়ে ছুটতে শুরু করলো। শিডিউল গুছানো শেষ করে playlist টা অন করে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলাম। প্রতি সপ্তাহেই বাসায় যাই,তবে এ সপ্তাহে বাসায় যেতে কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম! কারণ বাসায় আপুরা এসেছে, ভাগ্নাভাগ্নিতে বাসা ভর্তি! বাসা এলোমেলো করার ক্ষেত্রে এই পিচ্চি বাহিনীর জুড়ি মেলা ভার! বিশেষ করে আমার টেবিল,টেবিলে রাখা প্রতিটা জিনিসপত্র,সেল্ফে রাখা বই, আর শো কেইসে রাখা আমার পুরষ্কার এবং ড্রয়ারে রাখা ডাইরি উপহারগুলো খুব যত্নসহকারে এলেমেলো করে দিয়ে যায়। পরবর্তী কিছু জিনিস বাসার পেছনে, জানালার বাইরে,খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয় আবার কিছু জিনিস নিখোঁজই রয়ে যায়। তবে সবথেকে সুখের বিষয় হলো সব আপুরা আসলে,একসাথে হলে আমার জন্য ইদের দিন। সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া,পরিবারের পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে কথা তুলা, অনেক রকমের রান্নাবান্না করা, এসবকিছু শূন্য ঘরটাকে যেন পূন্য করে দেয়। আপুরা আমার জন্য নিয়ামত বলা যাই। উনাদের এতো সেবাযত্ন, প্...

মুখোশ ও প্রেমিক

Fall in love to Fail in love : আমার কাছে মানুষের এই স্টেজটা সবথেকে ইন্টারেস্টিং লাগে,যদিও জিনিসটা কষ্টের। প্রেমে পড়ার পর প্রথম প্রথম সবকিছু সুন্দর মনে হয়, মনে হয় সব পজিটিভ এনার্জিতে যেন চারপাশটা ভরপুর। একটা মানুষকে কেন্দ্র করে যেন পুরো পৃথিবী ঘুরা শুরু করে তখন। গান শুনছেন ওই মানুষটাকে মনে পড়ছে, কবিতা লিখছেন ওই মানুষটাকে ভেবে, উপন্যাস লিখছেন গল্পের চরিত্রে ওই মানুষটা ঢুকে পড়ছে! তারপর? তারপরও যখন একদিন প্রিয় মানুষটা থেকে আঘাতের ঝাঁপটা এসে পড়ে বিশ্বাসঘাতকতা কিংবা রিজেকশন করে বসে, তাঁসের ঘরের মতো যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে পরে। গানের লিরিক্স গুলোতে বিষাদেরা ভর করে,কবিতায় কিংবা উপন্যাসে ট্র্যাজেডি চলে আসে। দিনশেষে নিজেকে একদম এলেমেলো, কূল হারা মাঝি মনে হয়। স্বপ্নগুলোকে কাছ থেকে ভেঙ্গে যেতে দেখা মানুষগুলোর মধ্যে এরা অন্যতম। একটা সাজানো গোছানো পরিপাটি মানুষ কত অল্প সময়ে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে,তা এই স্টেজের মানুষগুলো উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে।  Fail in love to Fall in love : এই স্টেজের মানুষগুলো একটু অন্যরকম হয়। সবার থেকে আলাদা বলা যায়। এমনকি এদের সংখ্যাও অনেক কম। সবাই আঘাত সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পার...

অন্ধকার একসময় কেটে যায় কিন্তু অনিশ্চয়তা নয়

ভোর ৪ঃ৩০,বারান্দায় বসে আছি। নির্ঘুম একটা রাত কাটানোর পর এই সময়টায় এসে চোখে রাজ্যের যত ঘুম আর ক্লান্তি ভর করার কথা। আশ্চর্য! আমার দুচোখে একফোঁটাও ঘুম নেই, কোথাও ক্লান্তির ছিটেফোঁটাও কাজ করছে না। আমার মাঝে মাঝেই এমনটা হয়। প্রতিনিয়তই যে হয়, এমনটা না। যখন প্রচন্ড ব্যস্ত থাকি কিংবা আইডিয়ারা সারারাত ঘুমোতে দেয় না আমাকে, তখন একদম ভোর দেখে ঘুমোতে যাই। আশ্চর্যের বিষয় এই যে,আজকে আমার মাথায় তেমন কোনো আইডিয়াও খেলা করছে না কিংবা কোনো ব্যস্ততাও নেই,আজ মাথা সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে আছে। কি জন্যে ঘুম আসছে না,তা নিজেও জানি না! সেমিস্টার শেষ,বন্ধুরা যেখানে পরীক্ষার অসম্পূর্ণ ঘুম কাভার দিচ্ছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে,পেন্ডিং রাখা মুভি সিরিজ দেখে ক্লিয়ার করছে টু-ডু লিস্ট,সেখানে আমার না হচ্ছে ঘুম, না পাচ্ছি মুভিতে আগ্রহ!  আজকের ভোরটা অনেক সুন্দর,তীব্র সুন্দর যাকে বলে! অনেক জোরে বাতাস বয়ছে,এতোটাই জোরে যে রীতিমতো চোখে সামনে থেকে বার-বার চুল সরাতে হচ্ছে। পুবের আকাশের কোনটা তার রক্তিম আভায় জানান দিচ্ছে সূর্যের উপস্থিতি যে ঘন্টা খানেকের মধ্যেই হবে। এই ভোরের সবথেকে ভালো লাগার বিষয় হলো, অন্ধকার চিরে অচেনা শহরের এই বিল্ডিংগুলো...

ছেলে মানুষের ইগো থাকতে নেই, যা থাকা দরকার তা হলো "self - respect" !

ছবি
সিএনজির মাঝখানের সিটে বসে আছি। বাম পাশের সিটে একটা হকার ছেলে এসে উঁকি দিলো,বয়স ১৫-১৬, সাথে বাঁশের কঁঞ্চি দিয়ে বানানো একটা ফ্রেম যেখানে টিঁপের পাতা,চুড়ি,আরো নানা সাঁজগোজের জিনিস ক্লিপ দিয়ে এঁটে রেখেছে। আমাকে দেখে প্রথমে ইতস্ততবোধ করছিলো উঠবে কিনা। আমি হাসিমুখ নিয়ে বললাম,"সমস্যা নেই।তোমার জিনিসগুলো এখানে রাখতে পারবে, উঠে পরো"। কিছুটা স্বস্তির সুরে সে বলল, "আসলে ভাই সামনেই বইতাম কিন্তু ব্যাগে কাঁচের মালও আছে(হাঁসি)"। আমি বললাম,"আরেহ সমস্যা নেই। পেছনেই জায়গা হবে, আমার সমস্যা হবে না "। সিএনজি ছাড়তে তখনো আরো দুজন প্যাসেঞ্জার লাগবে।  তাই সময় কাটানোর জন্য ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলাম,"বেচাকেনা শেষ? বাড়ি ফিরতেছো নাকি?"। সে হেঁসে উত্তর দিলো," হ্যা আজকের মতো বেঁচা বিক্রি শেষ, বাড়িত যাইতেছি। আপনার বাড়িও কি কুমিল্লা? "।  আমি বললাম," না,কুমিল্লা পড়াশোনার জন্য থাকা হয়,বাড়ি আখাউড়াতে।" এরপর অনেক কথা হয়েছে আমাদের মাঝে। কথায় কথায় জানতে পারলাম আমার মতো ওর ও ট্রেন মিস হয়েছে।জানতে পারলাম সারাদিন ফেরি করে যা আয় হয় তা তিনটা ভাগ হয়, একটা ভাগ দুপুরে হোটেলে খ...

মধ্যবিত্ত, Dark Art এবং Dark fantasy অতংপর Antique piece

মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেরা ছোটবেলা থেকেই একটা সহজাত প্রতিভা নিয়ে বেড়ে উঠে। যেমন এদের যদি এক প্লেট ভাতের সাথে অল্প একটু তরকারি কিংবা একটা ডিম ভাজি দিয়ে আতিথেয়তা শেষ করে ফেলেন,তাহলে এরা ওই একটু দিয়েই এক প্লেট ভাত গুছিয়ে খেয়ে হাঁসি মুখে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলার অভিনয় করতে পারবে। আবার আপনি যদি ফর্মাল কোনো পার্টিতে আমন্ত্রণ করেন। এরা সেখানেও গতবছরের কেনা ফুলহাতা শার্টটাকে ধুয়ে ইস্ত্রি করে ফর্মাল ছদ্মবেশী হয়ে হাসিমুখে মানিয়ে নিতে পারবে। আর এদের মধ্যে যারা প্রেমিক তারা তো একেক জন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে প্রেমিকা এবং মানিব্যাগ ব্যালেন্স করার জন্য নোবেল এর দাবীদার! একমাত্র তারাই জানে মাসের শেষের দিকে যখন মানিব্যাগে খরা চলে, তখন প্রেমিকার আবদার মিটাতে গিয়ে তাদের কতো দিকের হিসেব-নিকেশ কাটছাঁট করতে হয়। তারপরও তারা ভালোবাসাটাকে ঠিকই ব্যালেন্স করে নেয় হাসিমুখেই।  এই মধ্যবিত্তের হাঁসিটা অনেকটা "Dark Art" এর মতো। বাইরের মানুষ ভালো করে না খেয়াল করলে বুঝতেই পারবে না যে এদের মুখে এক আর মনে আরেক! ডার্ক আর্ট এ একটা সময় গিয়ে আপনি যখন বিশ্লেষণ করতে করতে এর মানে খুঁজে পেতে শুরু করবেন,তখন আপনি আপনার সহ্য সীমা ...
ছবি
আম্মা বেঁচে থাকতে সময় খারাপ গেলে কিংবা সবকিছু আমার প্রতিকূলে চললে, তীব্র অসহায়ত্ব নিয়ে আম্মার কোলে মাথা গুঁজে চুপচাপ শুয়ে থাকতাম। জানতাম আম্মা চেহারা দেখেই বুঝে ফেলবে। তাই অপেক্ষা করতাম,কখন নিজ থেকে প্রশ্ন করবে আর আমি উত্তর দিবো। ঠিক তাই হতো! সবকিছু শোনার পর আম্মা কতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকতো। এবং আমি এটাও জানতাম সবকিছু শোনার পর উনি বলবেন,"ধৈর্য্য ধর,একটা সময় সব ঠিক হয়ে যাবে"। এই বাক্যে অদ্ভুত রকমের একটা জাদু কাজ করতো তখন। শুয়ে শুয়ে কল্পনা করতাম যে, আসলেই সব ঠিক হয়ে গিয়েছে। অনেক হালকা হয়ে যেত মন।এখনও যখন সময় আমার বিপরীতে ছুটে,সবাই ছেড়ে ছুড়ে চলে যায় একা ফেলে,কেউ আমাকে বুঝার চেষ্টা করে না তখন নিজেকে নিজে বলি," একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে আমান"।কল্পনা করি আমি সবার মাঝখানে আছি,সব পজিটিভ এনার্জি আমাকে ঘিরে আছে! সেই ধৈর্য্য ধরার ফল পেতাম! সেই একটা সময় আসে আসলেই। সব প্রতিকূলতা কেটে যায় ঠিকই, তখন অতীতের সময়টার কথা মনে পড়ে যাই। তবে ইতিমধ্যে অনেককিছু চেনা হয়ে যাই! আশেপাশের মানুষগুলোর রূপ বদলানো,নিজের ফ্লেক্সিবিলিটি,আত্মবিশ্বাস৷ আরেকটা মজার বিষয় হলো আপনার অনুকূল সময়ে যে সূর্যাস্ত রো...