পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানুষ মাত্রই একা

চলার পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একদিন খেয়াল করলাম পাশাপাশি সঙ্গ দিয়ে আসা মানুষটা আর সঙ্গে নেই। তখন নিজেকে আশ্বস্ত করলাম এই বলে যে তার হয়তো দীর্ঘ পথ চলায় ক্লান্তি পেয়ে বসেছে, বিরতি নিয়েছে হয়তো। আশ্চর্য! সকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলো, আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামলো, তার আর আসার নামগন্ধ নেই! মাঝরাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে যখন ঝড় শুরু হলো তখনও অপেক্ষায় ছিলাম হয়তো রাস্তার ও-ই মাথায় এখনই তাকে দেখতে পাবো বলে। ঝড়ের সাথে বিজলির আলোকছটায় প্রতিবার ওই পথ পানে শতশত ছায়ার মাঝে সেই একটা পরিচিত অবয়ব খুঁজেছিলাম প্রতিবার। আশ্চর্য, ঝড় থেমে গেল, ভোরের সূর্য উকি দিল, অতঃপর আমি নিজেকে মাঝপথে কাকভেঁজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আবিষ্কার করলাম! অনেকটা চাপা ক্ষোভ আর অভিমান নিয়ে মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম যে, " মানুষ মাত্রই একা,বাকি সব অভিজ্ঞতা "। মন কি বুঝলো নাকি বুঝলো না জানি না, আমার অপেক্ষার অবসান ঘটনলো। এরপর রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফান হোক কিংবা সমুদ্র তীরে বসে ঢেউ গণনার আনন্দ, পাহাড়ের চূড়ায় উঠে মুক্ত বাতাস টেনে নেওয়ার প্রশান্তি, সবকিছু একা উপভোগ করতে শিখে গেলাম। আগে এক হয়ে জীবন উপভোগ করার স্বপ্ন দেখতাম এখন একা থেকে জীবন ...

Sweet in my Black Coffee

আমার হাতে ধরে রাখা কফির মগটার দিকে আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। এক চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো জিহ্বা থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠলো! স্টুডেন্ট উপহার হিসেবে কফির প্যাকেটটা দিয়েছিলো। কফির প্যাকেট দেখে খুশিই হয়েছিলাম। প্যাকেটটা দেওয়ার সময় বলে ছিল , "ভাইয়া, ব্ল্যাক কফি স্পেশাল এডিশন, চিনি আর মেট ছাড়া খাবেন"। আমি আমলে নেই নি তখন। ভেবেছিলাম পরীক্ষার আগের রাতে 'Nescafe' দুধ চিনি ছাড়া পান করা পাবলিক আমি, এ আর এমন কি! এখন এই কফিতে চুমুক দেওয়ার পর মনে হচ্ছে ওর কথা গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া উচিত ছিল। কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম, "যে দুধ-চিনি ছাড়া শুধু ব্ল্যাক কফি খেতে পারে, সে মানুষও খুন করতে পারে!" আপাতত আমার মানুষ খুন করার ইচ্ছে করছে না, তবে ওই স্টুডেন্টকে সামনে পেলে Complex Number এর কিছু জটিল ফর্মুলা প্রতিপাদন করিয়ে ছাড়তাম! পরক্ষণে মনে হলো আমার স্টুডেন্ট মনে হয় আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। এতোদিনের করানো জটিল জটিল থিওরি আর ইকুয়েশনের সব বিষাদ আর তিক্ততা সব এই কফির মাধ্যমে আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে! তিন চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো, " নাহ, আমাকে দিয়ে মানুষ খুন করাও সম...

Monologue -09

ছবি
ক্লাস নাইনে উঠার পর টের পেলাম রাতে বেশি খেলে ঘুম পাই অনেক। খাওয়ার পর ঘন্টাদুয়েকও টেবিলে টিকতে পারি না। আবার কম খেলে খালি পেঁটে মনোযোগ দিতে পারি না। আম্মা তখন রাতে ভাতের পরিবর্তে রুটি বানিয়ে দেওয়া শুরু করলো। সেই ঘন্টাদুয়েকের পড়া চার-পাঁচেক এ গিয়ে দাঁড়ালো। জীবনে প্রথম সেদিন টের পেলাম জীবনে "অপটিমাইজেশন" দরকার! জীবনে প্রথম ডিকশিনারি হাতে পেয়ে শব্দ খুঁজতে গিয়ে নাকানিচুবানি অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো । তারপর বড় কাকা যখন শিখিয়ে দিলো কিভাবে এ্যালফাবেটিক্যালি শব্দ খুঁজতে হয়, তখন দ্বিতীয়বারের মতো উপলব্ধি করতে পারলাম জীবনে " অপটিমাইজেশন" দরকার। পায়ে ব্র্যান্ডের জুতা পরে যেদিন দেখলাম ছেঁড়াপ্যান্ট পরে আছি, সেদিন তৃতীয়বারের মতো বুঝলাম জীবনে অপটিমাইজেশন" দরকার।  এরপর আর কী, যতো বড় হচ্ছি অপটিমাইজেশন এর উপর অপটিমাইজেশন করার চেষ্টা করছি। অনেকেই প্রশ্ন করে আমাকে, "এতো দূর, এতোকিছু সামলানো, মানিয়ে চলা কিভাবে?" আমার কাছে এর উত্তর নেই কোনো। আমি হাঁসি, ছোটবেলা থেকে উপলব্ধি করা সেই শব্দটার কথা মনে পরে তখন।  আলহামদুলিল্লাহ নিজেকে আগের থেকে বেটার মনে হয়। প্রতিটা দিন নিজেকে নিয়ে বসি,...

Monologue -08

ছবি
রাত ১১ঃ৫০, আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশন। পুরো স্টেশন জুড়ে কারেন্ট নেই।ওয়ান টাইম চায়ের কাপ হাতে ১নং প্ল্যাটফর্মের একদম শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। পূর্নিমার চাঁদটা চায়ের মধ্যে দুলছে । চাঁদের আলো, দুধ চায়ের রং এর সাথে মিলে অদ্ভুত একটা রং তৈরি করেছে। পূর্ণিমার আলোয় এই আশ্চর্য এক ক্ষমতা, চায়ের রং এর মতো নিজের মন খারাপ, মন ভালো কিংবা ক্লান্তিবোধ এর সাথে মিশে কেমন যেন গুলিয়ে ফেলে সব। না থাকে কোনো মন খারাপবোধ, না থাকে ক্লান্তি না থাকে উৎফুল্লতা,অদ্ভুত রকমের একটা শান্তি, নীরবতা কাজ করে মনে।  আওয়াজ শুনে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখি একটা কুকুর আমার পিছু নিয়েছে। কুকুরটাকে দেখে নিজের অজান্তেই হেঁসে ফেললাম। অন্ধকারের মধ্যেই দেখতে পাচ্ছি, কি মায়া নিয়ে আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে আছে। জানি এই মায়া দেখানো তার স্বার্থের জন্য, তারপরও প্রশংসা করতেই হয়। এই মায়া যে কোনো কাউকে মায়ায় ফেলতে বাধ্য, ঠিক প্রিয় মানুষের মায়ায় পড়ার মতো! বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বিস্কুটের একটা প্যাকেট এনেছিলাম সাথে করে, যদি মাঝরাতে ক্ষিদে পাই খাবো বলে। বিস্কুটটা ব্যাগ থেকে বের করে প্যাকেট ছিঁড়ে কুকুরটাকে একটা একটা করে দিচ্ছি। একটা বিস্কুট দিয়ে আমি...

" Happy Teachers Day 🖤"

ছবি
" Happy Teachers Day 🖤" শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই পৃথিবীর সকল শিক্ষকগণকে। আমাদের সবার জীবনে ফিনিক্স পাখির মতো এমন কিছু শিক্ষকগণের আবির্ভাব হয়, যাদের অনুপ্রেরণা আমাদের বহুদূর যেতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। সেই স্কুল লাইফ,স্কুল থেকে কলেজ লাইফ,কলেজ থেকে ভার্সিটি সুদীর্ঘ এই পথ-পরিক্রমায় শিক্ষক হিসেবে সান্নিধ্য পেয়েছি অনেকের। একাডেমিক ক্যারিয়ারে যতটুকু আসা সবটুকুর অবদান উঁনাদের, আমার নিজের পরিশ্রমটুকু ছাড়া আর কিছুই ছিল না।  স্কুল জীবনের জুনায়েদ ভাই, রত্না ম্যাম, জহির স্যার, গোলাম ফারুক স্যার, রবিউল স্যার, কলেজ জীবনের শফিক স্যার, মনির স্যার, দিলারা ম্যাম, শাহীন ভাই, শাহাদাত ভাই, এই মানুষগুলোর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। উঁনারা ভালো মানুষ গড়ে তোলার কারিগর❤️। উনাঁদের মধ্যে রত্না ম্যাম এবং রবিউল স্যার পৃথিবীতে না থাকলেও, আমার মতো এমন অসংখ্য শিক্ষার্থীদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ঠিকই। আল্লাহ উঁনাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন(আমিন)৷  আজ যখন মার্কার নিয়ে ওয়াইট বোর্ডের সামনে দাঁড়ায় তখন বুঝতে পারি, শিক্ষক হওয়াটা এতোটাও সহজ নয়। এখানে দাঁড়িয়ে অনেক ক্লান্তি লুকাতে হয়, স্টুডেন্টদের মোটিভেটেড রাখতে নিজেক...