পোস্টগুলি

শব্দের প্রলাপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Cafe Date

ছবি
ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক দিচ্ছি আর বাইরে বৃষ্টি দেখছি। ক্যাফের স্বচ্ছ কাঁচের দরজা দিয়ে বাইরের যান চলাচল দেখা যাচ্ছে। যখন বিদ্যুৎ চমঁকিয়ে উঠছে , তখন কাঁচের উপর জমা পানির বিন্দুগুলো হীরের টুকরোর মতো ঝলঝল করে উঠছে। আমার মুখোমুখি টেবিলের ওপাশে একজন আশ্চর্য রকমের রূপবতী মেয়ে বসে আছে। আশেপাশের মানুষ বারবার আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। তাই অস্বস্তি দূর করার জন্য আমি বাইরে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ আমাদের প্রথম দেখা। ওর সাথে পরিচয় ফেসবুকেই। তখন ভোর রাত প্রায় চারটা। ল্যাপটপ শাটডাউন করে টেবিল গুছিয়ে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম,এমন সময় ম্যাসেঞ্জারের টুং শব্দ। ভোর রাতে ম্যাসেঞ্জারের নোটিফিকেশন এর শব্দে ভ্রু কুঁচকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি ম্যাসেজ রিকুয়েস্ট এসেছে। ম্যসেজ ওপেন করতেই বিশাল বড় এক ম্যাসেজ, " মাঝরাতে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে ম্যাসেজ না দিয়েও পারলাম না ! আপনার সব লিখাই আমি পড়ি। শুধু পড়ি বললে ভুল হবে খুব মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করে করে পড়ি। আপনি কি জানেন আপনার লিখাগুলো যে সুসাইডাল? আপনার কিছু লিখা আছে যা একটা সুস্থ মানুষকে ডিপ্রেশনের সেকেন্ড স্টেজে নিয়ে যেতে যথেষ্ট! এতো গুছানো...

তুমি

আমি জানালা খুলে দিতে পারি       তারপর বৃষ্টি উড়ে গেল কয়েকটি তিতির       ঘোরলাগা সন্ধ্যা কোমল শীতে ডানা ঝাপটায়        দূরে সাইরেন চাদরে সোদা,   গন্ধের ডাক        পুরনারী কথা চলে যাবো দূরদেশে কোথাও         তবু হাহাকার মলিন ফ্রেমে তোমার ছবি       ফুরিয়েছে সব।

উপলব্ধি

ছুঁ'তে পারি না তবুও অনুভব করি  উচ্চারণ করতে পারি না, তবুও আবৃত্তি করি  ঘুমুতে পারি না তবুও স্বপ্ন দেখি  ছন্দের মিল নেই, তবুও কবিতা লিখি  আকাশে কালো মেঘ, তবুও নীল জোৎস্না দেখি  আনমনা যাত্রী আমি, বেখেয়ালী আমার স্টেশন !

Lost of Love

আজ, বাতাসে তোমার চুলের ঘ্রাণ,  ভেঁজা জানালার কাঁচে তোমার আবছায়া বিদ্যমান।  ভোরের সূর্যোদয়ে তোমার দেওয়া আশারবাণী, একফালি জ্যোৎস্নায় তোমার সাথে আমার দূরালাপনি।  রাস্তাঘাটের হাহাকারে তোমার অভিমান,  পড়ন্ত বিকেলের হাঁটাপথটায় তোমার স্মৃতি বিদ্যমান।  কথা ছিল, দু'জনে একইসাথে পূর্ণিমাসিক্ত হবো, দু'জনের বোনা স্বপ্নগুলো, স্বপ্ন দিয়েই সাজাবো।  ক্লান্ত শরীরে, ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ঝড় তুলবো রাজপুত্র হলে তুমি, আর রাজকন্যা হলে  নামটা আমিই রাখবো!  অবশেষে কথা হলো আমি থাকবো ভালো তোমায় ছেড়ে, আর তুমি এতে বিশ্বাসী হলে আমিও গেলাম হারিয়ে!

তুমি ও বেমানান

 আজ,  বাতাসে তোমার চুলের ঘ্রাণ,  ভেঁজা জানালার কাঁচে তোমার আবছায়া বিদ্যমান।  ভোরের সূর্যোদয়ে তোমার দেওয়া আশারবাণী,  একফালি জ্যোৎস্নায় তোমার সাথে আমার দূরালাপনি।  রাস্তাঘাটের হাহাকারে তোমার অভিমান,  পড়ন্ত বিকেলের হাঁটাপথটায় তোমার স্মৃতি বিদ্যমান।  কথা ছিল, দু'জনে একইসাথে পূর্ণিমাসিক্ত হবো,  দু'জনের বোনা স্বপ্নগুলো, স্বপ্ন দিয়েই সাজাবো।  ক্লান্ত শরীরে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে ঝড় তুলবো  রাজপুত্র হলে তুমি, আর রাজকন্যা হলে নামটা আমিই রাখবো!  অবশেষে কথা হলো আমি থাকবো ভালো তোমায় ছেড়ে,  আর তুমি এতে বিশ্বাসী হলে আমিও গেলাম হারিয়ে!

ভালোবাসা অমর মানুষগুলো নয়

বসন্তের প্রথম বৃষ্টি আর তোমার সেই প্রথম ছোঁয়ায়            আমি আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়, মন খারাপ করা ঘরবন্দী সন্ধ্যা আর তোমার ছেড়ে যাওয়ায়           আমি আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়।  সম্পর্কের শংকায় যখন অস্থির হয়ে যেতাম তখন তোমার  সেই আশ্বস " এতো ভেবো না, আমাদের ভালোবাসা অমর",            এখন একাধিক জন্মদিন চলে যাচ্ছে             অথচ এখন কেউ কারো নেই না খবর !             তোমার কাজল কালো চোখের মায়ায়, সৌন্দর্য্য আর কাব্যিকতার মাঝে আজও পার্থক্য খুঁজে বেড়ায়       সেই অপরিচিত দুটো মুখ হতে চেনা মুখ হওয়ার গল্প                      আমি আজও সাজায়,                সেই গল্পে চরিত্রগুলো বদলায়                   কিন্তু গল্পটা আমাদেরটায়।     ৭৫লাইনের কবিতার লাইনগুলো আজ...

বৃষ্টি বিলাস

 বৃষ্টি , কাথামুড়ি দিয়ে পড়ে থাকা ঢুলুঢুলু চোখ । বৃষ্টি , কফির মগটা হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাড়িয়ে ফিনফিনে বাতাসটাকে অনুভব করা । বৃষ্টি , অনুভূতিগুলো আকাশে ডানা ঝাপটায় । বৃষ্টি , বিলাসী মন কত কিছু চায় । বৃষ্টি , প্রিয় মানুষটার কথা ভেবে ডাইরির পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া । বৃষ্টি , প্রিয়জনের সাথে অনুভূতিগুলো শেয়ার । বৃষ্টি , টিউশনি শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ছেলেটার চোখে মুখে প্রশান্তির ছাপ । বৃষ্টি , অভিমানী প্রতীক্ষা প্রিয়জনের ম্যাসেজের । বৃষ্টি , কবির লিখে যাওয়া একটার পর একটা লাইনের অনুপ্রেরণা । বৃষ্টি , পুরোনো বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে পড়া । বৃষ্টি , রাস্তার পাশের আশ্রয়হীন মানুষটার জন্য অভিশাপ । বৃষ্টি , একবেলা অন্নের টাকা না জোগাড়ের আশংকা । বৃষ্টি , রাস্তার পাশে পলিথিনের নিচে থাকা পরিবারটার তীব্র হার কাপুঁনি ঠান্ডা । বৃষ্টি , দিন শেষে ঘরে ফেরা বাবাটির জন্য সন্তানের না খেয়ে বসে থাকা । বৃষ্টি , বিদ্যুতহীন ঘরটায় আধো ঘুমে চোখ বুঝে যাওয়া মায়ের সন্তাদের জড়িয়ে ঘুম পাড়ানো । বৃষ্টি , অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশটাকে দেখে একাকীত্ত্ববোধ । বৃষ্টি , তার কথা ভেবে ঘুমিয়ে পড়া !

অব্যক্ত

                                                            মাঝরাত , শহুরে জানালার কাচঁঘষা আলোগুলো নিভে আসছে | মাঝরাত , পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ঢুলুঢুলু চোখ । মাঝরাত , কেউ স্বপ্ন দেখছে । মাঝরাত , ডাইরির পাতাগুলো নির্ঘুম চোখে ওল্টাচ্ছি । মাঝরাত , কানে ইয়ারফোনটা দুর্বলভাবে ঝুলে আছে । মাঝরাত , রেডিওতে হটসিটে বসা প্রেমিকে-প্রেমি কার নির্ঘুম কাহিনী । মাঝরাত , কথা বলতে বলতে দুজনেই ক্লান্ত । মাঝরাত , টকটাইমটা ফুরিয়ে আসছে । মাঝরাত , কেউ প্রিয় মানুষটাকে স্বপ্ন দেখবে এই আশায় ঘুমটাকে খুজঁছে । মাঝরাত , ভালোবাসায় আসক্ত দুজন ঘুমগুলো জোর করে তাড়িয়ে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করায় ব্যস্ত । মাঝরাত , ছাদের কিনারায় দাড়ানো ছেলেটি অপেক্ষায় আছে মৃত্যু জন্য । মাঝরাত , কেউ অভিমান করে না খেয়ে বসে আছে কারো জন্য । মাঝরাত , কেউ অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর । মাঝরাত , কেউ অন্ধকার কবরটার ভেতর মৃত্যুর পরে আজ প্রথম রাত কাটাঁচ্ছে ।

কবি ও ফুল

          কবি আজও বারংবার সেই একটি ফুলের প্রেমে পড়ে         কবি আজও ঘুমের ঘোরে সেই ফুলেই বাগান ভরে।         সেই ফুল,         সে তো নিষ্পাপ, ভালবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।         সেই ফুল,         সে তো আজও সুবাস ছড়ায় মনের ঘরে।         সেই ফুলকে ভালবেসে প্রকৃতির কাছে যাওয়া,       সেই ফুলকে ভালবেসে যত সুখ, রঙ্গিন অনুভুতি পাওয়া।                       জান সেই ফুলটিকে?                      সে এক অপরূপ প্রেম প্রিয়সী।     যার কাজল কালো চোখের গভীরতায় আমি হারিয়ে যায়।       যার ঈষৎ রাঙ্গা গোলাপী ঠোঁটের ভাষায় আমি মুগ্ধ।                যার মায়াবী চেহারায় আমি আবেগাপ্লুত।       যার লজ্জাবতীর ন্যায় আচরণে আমি আর চঞ্চল।        ...