পোস্টগুলি

জুন, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানুষ মারা যাওয়ার পর আল্লাহ আকাশের তাঁরা বানিয়ে রাখলে খারাপ হতো না

ভোররাত ৩:৪৮। অসুস্থ আমি বারান্দায় বসে বসে আকাশ দেখছি। ফজরের আজান দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে মসজিদের মাইকে মাইকে। এই সময়টায় কেমন যেন শান্ত-স্নিগ্ধ বাতাস বয় চারপাশে। মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লাহ অসুখ-বিসুখ দিয়েও অনেক ভালো কিছু অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়। ঠিক যেমনটা ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মায়ের আদর আর সেবাযত্ন পেতাম। এখন আর সেই সৌভাগ্য নেই, সবকিছু একাকী সহ্য করতে হয়। মা ছাড়া বেড়ে ওঠা এই পৃথিবীর এক একটা ছেলেমেয়ে অযত্নে বড় হওয়া ফুল!  আমি আকাশ দেখছি। খুব মনোযোগ দিয়ে আকাশের তিমির নিমিষেই কিভাবে নীলাভ রং ধারণ করছে তা বুঝবার চেষ্টা করছি। এর আগেও বেশ অনেকবার অনেক ভোর আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি! আকাশের এই পরিবর্তনের সময়টায় কেমন যেন একটা ঘোর লাগা কাজ করে। ঘোর কাটতে কাটতে ততোক্ষণে আঁধার শেষে আলোর চোখে ক্লান্তি ধরিয়ে দেয়। কি অদ্ভুত সময়টা যেন!  আম্মা বলতো যারা আকাশ পছন্দ করে তারা নাকি উদার মনমানসিকতার হয়। আমি নিজেকে মাপার চেষ্টা করছি আমি উদার কি না। এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানার কোনো উপায় নেই। এখন ভোর না হলে হয়তো একজনকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা যেতো,  "হ্যালো, তুমি আমাকে উদারতার মাপকাঠিতে কতো দিবে? Out of...

মানুষকে বেঁচে থাকবার সাহস যোগায় পিছুটান

জীবনে পিছুটান থাকার দরকার আছে। যে পিছুটান পরিবারের কথা একটু হলেও ভাবাবে। যেই পিছুটান কোনো লয়্যালটি ব্রেক করতে গেলেই প্রিয় মানুষটার কথা মনে করিয়ে দিবে। যেই পিছুটান মনে করিয়ে দিবে দিনশেষে তার ফিরবার মতো একটা আশ্রয় আছে। এই পিছুটান হতে পারে নিজের পরিবার, বাসা কিংবা প্রিয় মানুষটা।  আজকাল অনেকেই দেখি বেশ গর্ব করে বলে, "আমার কোনো পিছুটান নেই, যেভাবে খুশি চলবো"। আসলে তারা ভেতরে ভেতরে কতোটা অসহায়, কতোটা একাকী, তা একমাত্র তারাই উপলব্ধি করে। পিছুটান না থাকা কোনো ফ্লেক্স না, বরং মানসিক আশ্রয়হীন একটা জীবন যেন। যার পরিবার নেই, সে জানে দিনশেষে পরিবারে ফিরতে চাওয়ার আকাঙ্খা চেপে রাখা কতোটা কষ্টের। যার মাথা গুঁজবার একটা ঠাঁই নেই, সে জানে আশ্রিত থাকা কতোটা পীড়াদায়ক। দিনশেষে নিজের কথাগুলো বলার জন্যও আমরা মানুষ খুঁজি, মানসিক আশ্রয় খুঁজি, যার মাঝে নিজেকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে বিলীন হতেও দ্বিধাবোধ করি না আমরা। এমন মানুষ আমরা কেউ খুঁজে পাই, কেউবা খুঁজে পাই না।  আমি এমন অভিযোগ অনেক শুনতে পাই যে, আম্মু এটা করতে দেয় না, আব্বু কোথাও যেতে দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কাছে পিছুটান মানে এ-সবই। এরা বড় হওয়া...

সব পেলে নষ্ট জীবন

দিনশেষে আমরা নিজেকে বেচে দেই। কখনো নিজের সময়, কখনো নিজের আবেগ, কখনো নিজের পরিশ্রম, কখনো বা নিজের মন। সুখ কেনার নামে প্রতিনিয়ত নিজের মুহূর্তগুলোকে যেন নিলামে তুলছি আমরা। ব্যক্তিগত কোনো মতাদর্শ নেই, পছন্দ-অপছন্দের মূল্য নেই, নিজস্ব সৌখিনতা নেই, সবকিছুকে বাজি রেখে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সুখের পেছনে ছুটছি যেন!  বয়স যতোই বাড়ছে, ততোই প্রতিনিয়ত নিজেকে এক পণ্য বলে মনে হচ্ছে। পণ্যের কোয়ালিটি বাড়াতে গিয়ে জীবনের কোয়ালিটি কমিয়ে ফেলছি যেন। মন ভালো করা স্মৃতি নেই, সূর্যাস্ত দেখা বিকেল নেই। নদীর স্রোতে বয়ে যাচ্ছে জীবন, অথচ সেই নদীতে অবগাহন করার সময় নেই। ফুটবল নিয়ে মাঠে ছুটে বেড়ানো উচ্ছ্বসিত মন, বড় হওয়ার নামে হাতকড়া পড়ে আছে যেন। এই গুণগত জীবন তো চাইনি, যা চেয়েছি তা তো পাওয়া হয়ে ওঠেনি! সব পেলে নষ্ট জীবন। অথচ, সব পাওয়ার আগেই জীবন নষ্ট করে বসে আছি। স্রষ্টা থেকে পাওয়া এই এক জীবন, একাধিক জীবনকে অনুসরণ করতে গিয়ে পণ্য হয়ে গিয়েছে। এই প্রডাক্ট জীবন্ত। হাঁটাচলা করা, কথা বলতে পারা এবং দেখতে পারলেও, সে সুবিবেচক নয়। মন কখনো ভাবতে বসে না, নিজের সাথে নিজের হিসেব কষে না, জীবনের স্বাদ ম্যাটেরিয়েলিস্টিক লাইফে খুঁজে...