পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Monologue-01

ছবি
শুক্রবার। বন্ধের দিন, কিন্তু আমার জন্য ব্যস্ততম একটা দিনের শুরু মাত্র। ট্রেনের সিটে বসে 'To-do list' এ task add করছি, আজকের সারাদিনের শিডিউল। ট্রেন কুমিল্লা শহরকে পিছনে ছেড়ে ছুটতে শুরু করলো। শিডিউল গুছানো শেষ করে playlist টা অন করে চোখ বন্ধ করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলাম। প্রতি সপ্তাহেই বাসায় যাই,তবে এ সপ্তাহে বাসায় যেতে কিছুটা ভয় পাচ্ছিলাম! কারণ বাসায় আপুরা এসেছে, ভাগ্নাভাগ্নিতে বাসা ভর্তি! বাসা এলোমেলো করার ক্ষেত্রে এই পিচ্চি বাহিনীর জুড়ি মেলা ভার! বিশেষ করে আমার টেবিল,টেবিলে রাখা প্রতিটা জিনিসপত্র,সেল্ফে রাখা বই, আর শো কেইসে রাখা আমার পুরষ্কার এবং ড্রয়ারে রাখা ডাইরি উপহারগুলো খুব যত্নসহকারে এলেমেলো করে দিয়ে যায়। পরবর্তী কিছু জিনিস বাসার পেছনে, জানালার বাইরে,খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করতে হয় আবার কিছু জিনিস নিখোঁজই রয়ে যায়। তবে সবথেকে সুখের বিষয় হলো সব আপুরা আসলে,একসাথে হলে আমার জন্য ইদের দিন। সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেওয়া,পরিবারের পুরোনো স্মৃতিগুলো নিয়ে কথা তুলা, অনেক রকমের রান্নাবান্না করা, এসবকিছু শূন্য ঘরটাকে যেন পূন্য করে দেয়। আপুরা আমার জন্য নিয়ামত বলা যাই। উনাদের এতো সেবাযত্ন,...

বয়স যখন আঠারো ছুঁই, মানুষ তখন প্রেমে পড়ে

বয়স যখন আঠারো ছুঁই, মানুষ তখন প্রেমে পড়ে। কেউ দেশের প্রেমে পড়ে সেনাবাহিনী,নেভী কিংবা এয়ারফোর্সে নাম লিখায়,আবার কেউ ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়ে ২৫'শে ঘরসংসার করার স্বপ্ন দেখে। আমার বয়স যখন আঠারো ছুঁই, আমি তখন এ দুইয়ের প্রেমেই পড়ি। একদিকে নারীর মন জয় অন্যদিকে উত্তাল সাগরের ঢেউ, এ দুইয়ে মিলে আমি তখন ফ্যান্টাসির এক অন্য জগতের সুনাগরিক!  শর্টলিস্টেড হওয়ার পরও যখন ভাইভা বোর্ড থেকে নক আউট হলাম তখন জীবনে প্রথম নিজের ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর অর্ধেক সমভর আমার মনে এসে জমা হয়েছিল! এরই এক বছর পর যখন ভার্সিটির ভাইভা বোর্ডে জিজ্ঞেস করা হলো," CSE-তেই কেন পড়তে চাও?" তখন নেভীর ISSB সিলেকশান বোর্ডের সেই পাঁচজন অফিসারের তীব্র চাহনির সাথে ছুঁড়া প্রশ্ন,"Why do you want to join Bangladesh Navy?" এর কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো । তখন মনে হচ্ছিলো যেন, "History repeats thyself!". আঠারোই আসা নারী যখন কুড়িতে এসে হারিয়ে যেতে চাই, তখন কেন হারিয়ে যেতে চাই তা জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে জাগে না আর!   সব জায়গায় এই "Why" শব্দটা আমাকে এতোটা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে যে এক...

কল্পনাবিলাসী

ছোট থেকে আমরা যখন বড় হতে থাকি তখন সবার একটা কমন ডায়ালগ শুনতে শুনতে আমাদের বড় হতে হয় । আর সেই ডায়ালগটা হলো "বড় হচ্ছ ! বাস্তববাদী হতে শিখ "। তাদের বলতে বড় ইচ্ছে করে ছোটবেলা রূপকথার গল্প শুনিয়ে কে ঘুম পাড়াতো ,চাদঁ এর দিকে আঙ্গুল তাক করে কল্পনায় মামা নামক সম্পর্কে কে জড়িয়ে দিত ,  আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে মানুষেকে সেবা করার স্বপ্ন দেখিয়ে কে পড়ালেখা করাতো , চুমু খেয়ে দিয়ে কে বলতো তুমি পুতুলের মতো, তাল পাতার সেপাই এর মতো, তুলোর মতো টুকটুকে , কে কমিক এর বইগুলো দিয়ে বলতো এই কার্টুনটা তোর মতো ,কে জুজুর গল্প শুনিয়ে ভয় দেখাতো?  যাইহোক আশেপাশের সবাইকে শুধু একটা কথায় বলতে চাই, আপনারা আমাদের যেইভাবে স্বপ্ন দেখিয়ে কল্পনাবিলাসী বানিয়েছেন, সেইভাবে বাস্তববাদী বানিয়ে দিন। এইভাবে হঠাৎ করে বাস্তবতার সাগরে টুপ করে ডুব দিতে বললে কি হবে? আমরা যে সেই সাগরের সৈকতে দাড়িয়ে শুধু এতদিন শরীর উষ্ণ করেই এসেছি,হঠাৎ সিক্ত করতে বললে আমরা তো ভড়কে যাই!

''Minimalism"-বলতে যে একটা শব্দ আছে তা কেবল পুরুষ মানুষদের জন্যই

সেই বিকেল থেকে কলম নিয়ে টেবিলে বসে আছি। আমরা যেভাবে অক্সিজেন নিই,ঠিক সেভাবে জানালা দিয়ে আকাশের দিকে  তাকিয়ে গল্প নেওয়ার চেষ্টা করছি। নাহ, হচ্ছে না! দেখতে দেখতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল। এই যে চোখের সামনে দিয়ে অলস বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে দেখা, এর থেকে মন খারাপের আরকিছু হতে পারে না।  ইদের দিন, জন্মদিন, বাসায় কোনো অনুষ্ঠানের দিন, এমন বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে সময়টা যদি একাকী শুয়ে বসে কেটে যাই,তাহলে খুবই বিরক্ত হওয়ার সাথে মন খারাপও লাগে। আর আজ তো ইদের দিনই! নাহ আর লিখা হবে না আজ। মাথায় গল্পের প্লটের কাটাকুটি চলছে। বিছানায় শুয়ে মোবাইলটা হাতে নিয়ে 'Facebook Story' চ্যাক করছি। এক একজনের Story-তে রংবেরঙের শাড়ী নয়তো গর্জিয়াস জামাকাপড়ের সাথে ভারী Makeup দেখে মনে হচ্ছিলো আমি এদের এই অচেনা মুখ কখনো দেখিই নি,সার্কাসের ক্লাউন কিংবা বেঁদ( আমাদের গ্রামের ভাষায় বাঁইদ্যা) দেখছি! এদের কে বুঝাবে "শাড়ীতেই নারী" কিন্তু সব নারীতে না! কেউ কেউ ভার্সিটির তপ্ত দুপুরে প্রচন্ড গরমের মাঝেও তটস্থ হয়ে যাওয়ার পরও সুন্দর,কেউ আবার ঘুমন্ত চোখে একটা ফুল হাতে নিলেই ভয়ংকর সুন্দর, আবার কারো চোখই যথেষ্ট তাক...

মানুষ পাল্টায়,কারণে অকারণে পাল্টায়,চরিত্রের প্রয়োজনে পাল্টায়,চরিত্রের অপ্রয়োজনে পাল্টায়!

ছবি
স্কুল লাইফে যে ছেলেটাকে স্যার দাঁড় করিয়ে রিডিং পড়তে বললে তোতলামো করতো,ভয়ে ইতস্ততবোধ করতো তাকে এখন দেখি এলাকার পলিটিক্যাল বড় ভাই,মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেয়!  কলোজ লাইফের গিটারিস্ট বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি গিটারের উপর ধুলোবালি জমে আছে,তিনটা কর্ড ছিড়ে পড়ে আছে!  কলেজ লাইফের সবথেকে 'Cool' এবং 'Idol' প্রেমিক যুগল এর একজনের সাথে অনেকদিন পর ট্রেনে দেখা। বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করলাম,"সজিব(ছদ্মনাম) এর কি খবর? তোমাদের বিয়ের দাওয়াত কবে পাচ্ছি?" প্রত্যুত্তরে ওর বোকা-সোকা হাঁসি আমাকে এতোটাই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে যে, পুরো যাত্রায় আমি আর কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাই নি ওকে। পরবর্তীতে জানতে পারলাম ভার্সিটিতে ওঠার পর সজিব লং-ডিস্ট্যান্স এর দোহায় দিয়ে ওর সাথে ব্রেকআপ করেছে,এখন নাকি ডিপার্টমেন্টে তার খুব সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড জুটিয়েছে!  স্কুল লাইফে টিফিনের টাকা জমিয়ে যে গল্পের বই আর ম্যাগাজিনগুলো কিনতাম, এদের উপর এখন ধুলোর আস্তরণ আর অবহেলার ছাপ!  মানুষ পাল্টায়, কারণে অকারণে পাল্টায়,চরিত্রের প্রয়োজনে পাল্টায়,চরিত্রের অপ্রয়োজনে পাল্টায়! রং পরিবর্তন করা আমাদের ধর্ম। কারো পরিবর্তন চোখ...

"Double Standard"

পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের দুইটা সত্ত্বা থাকে,যাকে আমরা ''Duel personality" হিসেবে জানি। অনেকে আবার "double standard" ও বলে!   প্রথম সত্ত্বা, যা আমাদের দিনের আলোতে কিংবা সবার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে শিখায়। আর অন্যটি আমাদের নিজের সামনে নিজেকে একাকী উপস্থাপন করতে শিখায়। চাঁদের যেমন দুটো রূপ আছে,আলো এবং অন্ধকার তেমনিভাবে মানুষের এই দুই সত্ত্বা কাজ করে।আমরা আলোয় নিজেকে একভাবে পরিচিত করায়, অন্ধকারে ঠিক অন্যভাবে।  মজার ব্যাপার হলো,আমরা অন্ধকারে কখনো নিজের আসল রূপ লুকাতে পারি না,নিজের কাছে নিজের সবকিছু ধরা পরে যাই। এসময় আমরা নিজের সাথে নিজে কথা বলি, গল্প গোছায়, সারাদিনের ব্যস্ততা ভাগাভাগি করি!  অপরদিকে,দিনের আলোয় কিংবা সবার মাঝে আমরা একটা ইমেজ নিয়ে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করি। আপনার মন চাইছে না এভাবে কাজটা করতে কিন্তু তারপরও কাজটা করতে হবে, নয়তো সবার সামনে নিজের ইমেজ খারাপ হবে যে! দীর্ঘদিন ধরে একটা মানুষকে ভালোবাসেন কিন্তু বলতে পারছেন না। কারণ ওই যে, দিনের আলোয় থাকা সত্ত্বা আপনাকে বাঁধা দিচ্ছে কে কি মনে করবে এই জন্যে! দিনশেষে নিজ সত্ত্বার,নিজের সাথে কথা বলা, গল্প করা সত্ত্বারই ...

অন্ধকারে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে খোঁজার চেষ্টা করি

এই বয়সটা এতোটাই দোটানায় পড়ার বয়স যে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত শুধু কনফিউশান আর কনফিউশান!  সকাল ৯টায় বের হতে হবে।এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে ৮টায়।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কনফিউজড হয়ে যায় যে,আরো দশ মিনিট ঘুমিয়ে নিবো নাকি ওঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ১০ মিনিট রেস্ট নিবো!  বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে ভার্সিটির বাসের দিকে তাকিয়ে কনফিউশানের মধ্যে পড়ে যায় যে,এতো ভীড়ের মধ্যে এই বাসেই উঠে যাব নাকি আরো সময় নিয়ে পরের বাসটার জন্য অপেক্ষা করব!  বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসলে মন ও মস্তিষ্ক দুটোই একসাথে কনফিউশানে পড়ে যাই!এক বন্ধু সফটওয়্যার মার্কেট এর ভবিষ্যতবাণী করছে, আরেক বন্ধু খেলার বুলেটিন আলোচনা করছে তো আরেকজন তার অসংজ্ঞায়িত প্রেমের সংজ্ঞা শোনাচ্ছে। এই বহুপাক্ষিক আলোচনা সভায়, আমি কি বলে শান্তিচুক্তি করব তা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে রই!  এই বয়সটায় এসে এতো ভিন্ন ভিন্ন মানুষদের সাথে মিশতে হয় এবং তাদের মন রক্ষা করে চলতে হয় যে,কার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে তা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে যায় মন!   সারা বছর পড়াশোনা না করে পরীক্ষার দুইদিন আগে যখন পড়তে বসি তখন মন ও মস্তিষ্ক দুটোই একসাথে কনফি...

ব্যক্তিত বেচা

আমরা ব্যক্তিত্ব বেচে ইমোশন কিনি, অথচ হওয়া উচিত ছিল তার উল্টো!

আমরা দিনশেষে হয় "Numb" না হয় "Dump"

মানুষ বড্ড অভিমানী প্রানী। আমরা দিনশেষে হয় "Numb" না হয় "Dump"!  আমরা আকাশে কালো মেঘ দেখে বৃষ্টির সাথে অভিমান করে বসি। টেবিলের কার্ণিশে হোঁচট খেয়ে ওই জড়-অসার পদার্থটার উপর অভিমান করে বসি।নিজে সারা বছর না পড়ে সব দোষ সিস্টেমের উপর চাপিয়ে পড়াশোনার সাথে অভিমান করে বসি।  আমরা মানুষ,আমরা অভিমানী। বুঝে হোক কিংবা না বুঝে,যৌক্তিক কিংবা অযৌক্তিক,যেকোনো বিষয়ে আমরা অভিমান করে বসি!  সময় এর সাথে সব অভিমান কেটে যায় একসময়,কিন্তু প্রিয় মানুষগুলোর সাথে করা অভিমানগুলো সময়ের সাথে সাথে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে ওঠে।  আমরা আশা নিয়ে বসে থাকি ওপরপাশ থেকে আমাদের রাগ-অভিমান ভাঙ্গাবে,সবকিছু ঠিকঠাক করে দিবে। ওইদিকে ওপরপাশের উনিও একই আশা নিয়ে আসে থাকে! এভাবেই সময় কেটে যাই। দূরত্ব, ব্যবধানে রূপ নেয়।  অভিমান করে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা মানুষটার আইডিতে ঢুঁকে ''Add Friend" পাঠানোর আগে কয়েকশ বার ভাবি। অভিমান আর হিসেবের দরকষাকষি শেষে অবশেষে অভিমানের পাল্লা ভারি করে আর Add পাঠানো হয় না,কিন্তু আইডিতে দৈনিক ঢুঁ মারা হয় ঠিকই গুটা দশেক বার!  আমরা জানি,"A walk together can fix our every...

ভালোবাসা অদ্ভুত একটা সমীকরণ!

টিউশন থেকে ফিরছিলাম,মাঝরাস্তায় এসে হোঁচট খেয়ে স্লিপার গেলো ছিঁড়ে! এখন এই ছেঁড়া জুতা নিয়ে যাই কোথায়? কোনো রকমে বিরক্তি চাপা দিয়ে রিকশা ডাকলাম। গন্তব্য মুচি যেখানে বসে সেখানে। মুচির সামনে রিকশা এসে থামলো। ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে রিকশাওয়ালা মামাকে বিদায় করলাম। মুচি মধ্যবয়স্ক হেঙ্গলাপাতলা একজন মানুষ,মার্কেটের সামনে বিস্তৃত ফুটপাতের একটুখানি জায়গা নিয়ে বসে আছে। টিউশনে আসা যাওয়ার সময় অনেক বার উনার সামনে দিয়ে যাওয়া আসা করেছি,কিন্তু কখনো ভাবি নি,উনাকে একটা দিন এমনভাবে প্রয়োজন পড়বে!  "মামা এই স্যান্ডেলটা একটু সেলাই করে দেন"। উনি উনার বক্স থেকে বের করে এক্সট্রা একজোড়া স্যান্ডেল দিল পড়ে দাঁড়াতে। সৌজন্যবোধের হাসি দিয়ে ফুটপাতের পাশেই উনার সাথে বসে পড়লাম। উনি কিছুটা অবাক হলেন মনে হলো। আমি উনার দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখ করে জিজ্ঞেস করলাম, -" কি খবর মামা, কাস্টমার কেমন আসলো আজকে?" -"আর কাস্টমার মামা(হেঁসে)। আপনারা সবাই এখন দামী দামী জুতা পড়েন, ছিঁড়েও না, সিলাইতেও আয়েন না।সবাই জুতা একবার ছিঁড়লেই একদম ফালায় দেয় মামা। এই যে যারাই আঁয়ে,আপনার মতো মাঝ রাস্তায় জুঁতা ছিঁড়লে আঁয়ে।" - ...

আপনি আমি সবকিছু আপেক্ষিক, চিন্তাধারার পার্থক্য মাত্র!

আমার কাছে সবগুলো কঠিন শব্দের মধ্যে "Balance" শব্দটাকে একটা মনে হয়।উচ্চারণ করা যতোটা সহজ,মেইনটেইন করা ততোটাই কঠিন।অনেকটা "স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন" এর মতো!  আমার চেনা খুব কম মানুষকেই দেখেছি জীবনে ব্যালেন্স করে চলতে। তারা আমার মতো মানুষদের কাছে 'Iconic' বলা যায়।হাইস্কুলে থাকতে রেজাল্ট ভালো করা এবং খেলাধুলা দুটো একসাথে করতে গিয়ে একটাকে স্যাক্রিফাইস করতাম।আমার এখনো মনে আছে,আগে যেদিন বিকেলে ফুটবল খেলতে যেতাম,ওইদিন রাতে আর পড়াশোনা হতো না পা ব্যাথায়! কলেজ লাইফে উঠে যেখানে আড্ডা আর নিজেকে সময় দিতে গিয়ে পড়াশোনার সময় নিয়ে টানাটানি ঠিক তখনই অপরদিকে কিছু বন্ধু, কিছু সিনিয়র মানুষদের বিশ্লেষণ করতাম। তারা কত সুন্দর করে সবকিছু ব্যালেন্স করে চলছে। এরা দেখতে সাধারণ মনে হলেও এরা আসলে সাধারণ না, এরা অসাধারণ!  আমার মতো ছেলেগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে ঘুম,ক্লাস আর টিউশন এর শিডিউল নিয়ে দোটানায় ভুগি, একটা করতে গেলে আরেকটা স্যাক্রিফাইস করতে হয় তখন অনেককেই দেখি ডিপার্টমেন্টের এতো এতো চাপের মধ্যে থেকেও বিএনসিসি করতে,সংগঠন করতে,ফটোগ্রাফি করতে,উচ্চশিক্ষার বিষয়ে কত জ্ঞান রাখতে! ...

Comparable Competition Vs Self-Competition

সেই ক্লাস ওয়ান থেকে কলেজ লাইফ পর্যন্ত একটা "Comparable Competition"-এর মধ্য দিয়ে যেতে হয় আমাদের। হাতে পেন্সিল ধরার সময় থেকে আমাদের এই শুনে বড় হতে হয় যে," অমুকের ছেলে কত সুন্দর কবিতা বলে, তমুকের মেয়ে কত সুন্দর হাতের লেখা, তুই কি পারিস? কিছুই না "। ব্যাস,এই অমুকের ছেলের ছড়া আর তমুকের মেয়ের হাতের লেখার থেকে আরো বেশি বেটার হতে কম্পিটিশনের বীজ বপন! এরপর সেই বীজ হতে চারাগাছ, চারাগাছ ডালপালা শিকড় মেলে বড় হতেই থাকে! স্কুল লাইফে এমনও বান্ধবীদের দেখেছি যাদের গলায় গলায় ভাব ছিল কিন্তু ম্যাথ্ এক্সামে একজন আরেকজন থেকে কম মার্কস পাওয়ায় পুরো এক সপ্তাহ একজন আরেক জনের সাথে কথাই বলে নাই, একবন্ধু আরেক বন্ধুকে সাজেশন দেয় নাই। কলেজ লাইফ পর্যন্ত এভাবেই চলতে দেখতাম। ভার্সিটি লাইফে উঠে বুঝতে পারলাম এখানেও কম্পিটিশন আছে তবে এই অসুস্থ "comparable competition" নয়।  এখানে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে "self competition" দিয়ে টিকে থাকতে হয়।এখানে আগেরদিন রাতে ঘুৃমোতে যাওয়ার সময় পরের দিনের ক্লাস,টিউশন,এক্সাম,সম্পর্ক সবকিছু শিডিউল করতে হয়। আর পরের দিন চলে যাই এই শিডিউল ব্যালেন্স করতে করত...

মুগ্ধতা

 পাকা ধান ক্ষেতের উপর পূর্ণিমার আলো, আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম দৃশ্য❤️

আমার কাছে ফুল ব্যবসায়ীদের সবথেকে শৌখিন এবং আলাদা মনে হয়

টিউশন থেকে বের হয়ে কাক ভেজাঁ ভিজে বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম। যদিও আকাশের অবস্থা দেখে স্টুডেন্ট বের হওয়ার সময় জোর করে ছাতা দিতে চেয়েছিল,নেয় নি।কারণ বৃষ্টি চলে গেলে আবার এই ছাতা বহন করাটা এক্সট্রা প্যারা মনে হয় আমার কাছে! কিছুদূর এভাবে কাক ভেজাঁ হয়ে হাঁটার পর অনুশোচনা হচ্ছে এই কারণে যে, ছাতাটা নেওয়া উচিত ছিল। ইতিমধ্যে বৃষ্টি অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। আশেপাশে তাকিয়ে কোথায় দাঁড়ানো যাই এর জন্যে আশ্রয় খুজঁছি, পুলিশ লাইনের ঐখানটাই ফাঁকা দেখে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ির নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। পুলিশের পোশাক পড়া একজনকে দেখলাম চেয়ারে বসে সিগারেট টানছে আর মোবাইল টিপছে। ড্রেসে কোনো স্টার অথবা ব্যাজ না দেখতে পেয়ে আন্দাজ করে নিলাম কনস্টেবল হবে। এতো সুন্দর একটা আবহাওয়া তার উপর ঝুম বৃষ্টি, কোথায় উপভোগ করবে, তা না করে মোবাইল টিপছে! আমার স্টুডেন্টের বাবার কথা মনে পড়ে গেল। উনিও কেমন যেন কাঠখোট্টা,কর্কশ মেজাজি মনে হয় এবং প্রয়োজনের বাইরে হাসিটা পর্যন্ত দেন না! একটা মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখ নিয়ে বললেন,"কেমন আছেন?" আর উনি প্রত্যুত্তরে গম্ভীর চেহারা নিয়ে ভারী কন্ঠে, "আলহামদুলিল্লাহ, আপনি কেমন আছেন?"...

এই শহরের ইয়ং জেনারেশন সবাই ড্রাগ এডিক্টেড না,সবাই ইভটিজার না, সবাই স্বার্থপর না, সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত না

রাজগঞ্জ যাচ্ছিলাম, কুমিল্লার কিছু ব্যস্ততম জায়গার মধ্যে একটি। বাজার, আউলেট,শোরুম, মার্কেট সবমিলিয়ে মানুষের হিজিবিজি একটা অবস্থা! আমি সাধারণত কোনো কাজ না থাকলে এই হিজিবিজি আর ব্যস্ততম জায়গাগুলো এড়িয়ে চলি! কাজ এর জন্য তাই অনেকদিন পর রাজগঞ্জ যাওয়া।  জ্যাম আর মানুষদের ভীড় ঠেলে সামনে আগাচ্ছি।মেজাজ এমনিতেই তিরিক্ষি হয়ে আছে,কোনো রকমে ব্রুঁ কুঁচকে তাড়াহুড়ো করে হাঁটছি।  মাইকের আওয়াজে সামনে চোখ পড়লো, এক মধ্যবয়স্ক আঙ্কেল সাথে ২৫-২৬ বছরের এক আপু(খুব সম্ভবত উনার মেয়ে)কে নিয়ে হ্যান্ড মাইক নিয়ে কথা বলছে। আপুটা খুব হাসি হাসি মুখ করে টাকা নিচ্ছে মানুষজন থেকে। অটোর পেছনে বড় বড় করে লিখা,"সিলেট সুনামগঞ্জ এর বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে....... "পুরোটা পড়তে পাড়িনি পেছন থেকে ধাক্কা এসে লাগল। বুঝলাম হাঁটার গতি স্লো হয়ে গিয়েছে আমার! দৃশ্যটা দেখে কিছুটা সময় আসলেই ভাবনার ঘোরে চলে গিয়েছিলাম। মধ্যবয়স্ক একটা মানুষ, যেই বয়সটায় উনার ঘরসংসার, দুনিয়াদারী, দুশ্চিন্তা হতাশা এসব নিয়ে তীব্র ব্যস্ত থাকার কথা এই সময়টা একটা মেয়েকে নিয়ে অসহায় মানুষদের জন্য ব্যয় করছে। এই সময়টায় হয়তো উনি উনার বিজনেসে দিলে আরো বেশি ডিজিটের ...

সময়ের প্রয়োজনে কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে

সময়ের প্রয়োজনে কিছু মানুষ নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে। অঙ্গীকারবদ্ধ থেকে যায় স্মৃতিগুলো হারিয়ে যায় মানুষগুলো। কে জানে হয়তো হারায় না, আাশেপাশেই থেকে যায় দৃষ্টির আড়ালে! পৃথিবীতে নিষ্ঠুরতার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য যদি কোনো পুরস্কার দেয়া হয়, তাহলে তা প্রাপ্ত একমাত্র সেই মানুষগুলো। "হ্যা সময়ের প্রয়োজনে মানুষগুলো বদলায় তা ঠিক কিন্তু এভাবে আবেগের খেলায় কেন?" সময়ে সময়ে খোঁজ নেয়া মানুষগুলো আজ জানেই না,নিয়মিত খোঁজ নেয়ার মানুষটা আজকে কেমন আছে! কোথায় আছে! কী করছে! তারা আজ ব্যস্ততায় নেশাগ্রস্থ। কে জানে, হয়তো নতুন কোনো স্মৃতি বুনার জন্য কারো সাথে ব্যস্ত। অপরদিকে সেই মানুষগুলো, যারা সময় বদলে যায় কিন্তু স্মৃতিগুলোকে হারিয়ে ফেলতে চাই না, নতুন কোনো স্মৃতি বুনার জন্য নিজেকে বদলাতেও পারে না তারা আজও শূন্যতায় ব্যস্ত। স্নিগ্ধ সেই জোৎস্নার আড়ালে বসে তারা আজও স্মৃতিগুলোকে হাতড়িয়ে বেড়ায়। তারা বিশ্বাসী একদিন হয়তো প্রিয় সেই মানুষগুলো, প্রিয় সেই বন্ধুগুলো, খোঁজ খবর নেওয়া সেই মানুষগুলো তাদের কাছে ফিরে আসবে। সব কিছু সেই আগের মতো হয়ে যাবে। তারা বিশ্বাস করতে চাই না, প্রিয় মানুষগুলো যে নিঃস্বার্থকে হারিয়ে স্বার্থের জন্...

আঠারোই প্রেম

ছবি
বয়স যখন আঠারো ছুঁই, মানুষ তখন প্রেমে পড়ে।কেউ দেশের প্রেমে পড়ে সেনাবাহিনী,নেভী কিংবা এয়ারফোর্সে নাম লিখায়,আবার কেউ ব্যক্তিত্বের প্রেমে পড়ে ২৫'শে ঘরসংসার করার স্বপ্ন দেখে। আমার বয়স যখন আঠারো ছুঁই, আমি তখন এ দুইয়ের প্রেমেই পড়ি।একদিকে নারীর মন জয় অন্যদিকে উত্তাল সাগরের ঢেউ, এ দুইয়ে মিলে আমি তখন ফ্যান্টাসির এক অন্য জগতের সুনাগরিক!  শর্টলিস্টেড হওয়ার পরও যখন ভাইভা বোর্ড থেকে নক আউট হলাম তখন জীবনে প্রথম নিজের ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর অর্ধেক সমভর আমার মনে এসে জমা হয়েছিল! এরই এক বছর পর যখন ভার্সিটির ভাইভা বোর্ডে জিজ্ঞেস করা হলো," CSE-তেই কেন পড়তে চাও?" তখন নেভীর ISSB সিলেকশান বোর্ডের সেই পাঁচজন অফিসারের তীব্র চাহনির সাথে ছুঁড়া প্রশ্ন,"Why do you want to join Bangladesh Navy?" এর কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো । তখন মনে হচ্ছিলো যেন, "History repeats thyself!". আঠারোই আসা নারী যখন কুড়িতে এসে হারিয়ে যেতে চাই, তখন কেন হারিয়ে যেতে চাই তা জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে জাগে না আর!   সব জায়গায় এই "Why" শব্দটা আমাকে এতোটা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে যে একটা...