পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২০ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

LoveLost !!!

শুরুটা হয় পাগলামো দিয়ে। তখন সবকিছুতেই যেন অদ্ভুত এক ভাল লাগা কাজ করে। প্রতিদিনের জন্য যেন একটা রুটিন তৈরি হয়ে যায়। ব্যক্তিত্বের বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এর থেকে বড় পাগলামো বুঝি আর কিছু হতে পারে না! আর তারপর?  তারপর তা কিছুদিন ভালোভাবেই চলে, মনে হতে থাকে হাজার জীবন পাড়ি দিয়ে ফেলা যাবে এই আবদ্ধতায়,যাক না দিনগুলো পাগলামোয়!  কী আছে জীবনে পাশে থাকার মানুষটি ছাড়া!  তারপর!  তারপর একদিন আসে সেই সময়টা যেই সময়টার জন্য কেউই প্রস্তুত থাকে না, যা নিয়ে দুজনের কারো সিলেবাসেই কোনো চ্যাপ্টার ছিল না। হঠাৎ করে যেন চারপাশটা ভ্রমে ভরে যায়। ছেড়ে যাওয়ার মাঝেই যেন সবথেকে বড় ম্যাচুউরিটি কাজ করে তখন। আর তারা তো ম্যাচিউরড হওয়ার জন্য জড়িয়েছিল এই শিকলে। তখন যেন সস্তা সিগারেটের পেছনে ফুঁ দিতে দিতে জীবনকে গালি দেওয়ার মাঝেও অদ্ভুত এক ম্যাচুউরিটি কাজ করে!  আর অপরদিকে আরেকজন সারারাত কেঁদে বালিশ ভিজালেও দিনে শখ করে কারো জন্য আর কাজল দেয় না কারণ কাজল তো তার এখন চিরস্থায়ী অলংকার 🙂 আহা অদ্ভুত এক ম্যাচুউরিটি!!!👏 সম্পর্ক!  সম্পর্ক!!  সম্পর্ক!!!  আসলেই কী সম্পর্ক তাকে বুঝাই?!  আমি...

নিশাচর

রাত ১টার কাছাকাছি! ছাদের রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছি। শহরটায় সুনসান নীরবতা। তবে এর মাঝেই কিছু কিছু ইন্টারেস্টিং জিনিস চোখে পড়ছে। কিছু মানুষের নিঃশব্দে নিরিবিলি হাঁটাচলা, বেশ কয়েকজনের ফুটপাতের উপর দাড়িয়ে আপনমনে সিগারেট ফুকঁছে। কেউ কেউ কর্মব্যস্ততা শেষে পাড়ার গলিটার ভেতর দিয়ে ভীরু ভীরু মনে এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বিশেষত মধ্যরাতে রাস্তা পরিষ্কার সেই মানুষগুলো আমার দৃষ্টিরত আকর্ষণসীমার ভেতর।   সবার কর্মব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরে শুয়ে পড়া আর তাদের কর্মব্যস্ততা শুরু! সকাল হলেই ঘুম ঘুম চোখে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ি । নীরব রাস্তাঘাট, যানবাহনের নেই কোনো ভীড়। রাস্তাগুলো কত পরিষ্কার, নেই কোনে ধুলোবালি, নেই কোনো নাক ছিটকানোর মত কিছু,  নেই কোনো নাক চেপে ধরা দুর্গন্ধ!  অথচ এই বিশেষ উপকারটুকু যারা করে তারা  রাত জেগে বিনা প্রচারণায় অল্পকিছু টাকার বিনিময়েই চুপচাপ নিরিবিলিতেই কর্মটুকু সম্পন্ন করে দিয়ে যায়। হয়তো মধ্যরাতে কিছু চোখ রাস্তায় পড়ে,  সেই চোখগুলোই শুধু তাদের দেখতে পাই। তারা বাদে আর কেউ তাদের দেখতে কিংবা চিনতেও পারে না।     পৃথিবীটা এমনই ! যারা সবার জন্য, ...

উত্তম পুরুষ

অপরিচিত মানুষগুলো একদিন জানতে চাইবে "তুমি কে? " - ঠিকই তো আমি কে? হ্যা দুঃখিত তার সদোত্তর আমার জানা নেই, কারণ আমি নিদিষ্ট কোনো ভাল কিংবা খারাপ কেউ নই। পরিচিত মানুষগুলোও একদিন আমাকে নিয়ে সন্দেহ করবে, " আচ্ছা, তুমি সেই আগের তুমি তো? " - দুঃখিত, কারণ তার উত্তর অবশ্যই হবে ' না '। কারণ পরিবর্তনশীলতার চর্কায় প্রতিনিয়ত তেল দিয়ে বেড়াচ্ছি আমি, তুমি এবং আমরা সবাই । তাই প্রশ্ন না অমূলক। একদিন কেউ বলে বসবে " তুমি বড্ড সেকেলে! এভাবে চল কিভাবে? " - তার উত্তর অবশ্যই ' হ্যা আমি সেকেলে '। মনটা আজ সেকেলে আছে বলেই চলতে পারছি। একালের মন হলে কবেই এতো দুর্যোগে ননীর পুতুলের মতো ক্ষয়ে যেত। আজকের মিষ্টভাষী মানুষটার সাথে হয়তো কোনো একদিন ঝগড়া হবে তখন হয়তো সে বলে বসবে, " আমি জানি তোমার সাথে পরিচয় হওয়াটাই আমার দোষ ছিল । সব দোষ আমারই, এবার দূর হও " - সরি, দোষ কখনো একার তোমার হবে কেন? দয়া করে পরিচয় নামক মেলবন্ধনটাকে অপবাদ দিও না। আমরা কেউ সারাজীবন একরকম থাকতে পারি না ঝগড়া একটু হতেই পারে। যদি পার প্লিজ ঝগড়ার সময় কিংবা ঝগড়ার পর আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করো, সমঝোতায় এ...

সুহাসিনী

 প্রিয় সুহাসিনী , তোমার কথা অনেকদিন ধরে কিছুই জানি না । যখনই তোমার কথা মনে পড়ে এক পশলা দমকা হাওয়া এসে মনটাকে জুড়িয়ে দেয় ।শত ব্যস্ততার মাঝেও তুমি যখন চোখের কল্পনার মাঝে উদয় হও তখন আমার সব ব্যস্ততা এলোমেলো হয়ে যায় ।জানি না তুমি কেমন আছো ! হয়তো নতুন বন্ধুগুলো ,নতুন ক্লাসরূমগুলো তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে ! সবাই বলে "দূরত্ব বাড়লে সত্যিকারের ভালোবাসার পরিমাণ বাড়ে" ! হয়তো আমাদের ভালোবাসাটা ,ভালো লাগাটা ছিল চুম্বকীয় ভালোবাসা তাই তো দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে দেখলে না কেমন তোমার আর আমার মনটাও পরিবর্তন করে দিল ! কিন্তু জান ? আমার নতুন পরিবেশ ,নতুন বন্ধুবান্ধবগুলো ,নতুন ক্লাসরূমগুলো আমাকেও অনেক বদলিয়ে দিয়েছে ঠিকই তবে তা একমাত্র তাদের কাছেই ! আমি যখন আমার আগের পরিবেশে আগের বন্ধুগুলোর কাছে ফিরে যায় তখন সেই আমি আবার আগের আমিই হয়ে যায় । তোমার সামনেও ঠিক তাই ! শহরের নতুন বন্ধুগুলোর মাঝেও অনেক সময় তোমার ছায়া তোমার অবয়ব ফিরে পায় ,অপলক চেয়ে থাকি তাদের দিকে পরমূহূর্তে আমি আমার ভ্রম বুঝতে পারি । আজ যখন রাতের আকাশের মেঘগুলো ভাবিয়ে তোলে তখন তোমার ঘোর লাগা স্মৃতিগুলোকেই বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় ! ভালো থেকো...
পথিমধ্যে এক পথিক আকস্মিক আমাকে থামাইয়া দিয়া কহিল , "খোকা ! এই দিগ দিয়া নাকি যাত্রাপালা হইয়াতেছে ? তুমি কি বলিতে পারিবে কোন দিগে গেলে নাটক মঞ্চস্থ স্বচক্ষে দেখিতে পারিব ?" যেহেতু আর গোটা দুই মাস পার হইলেই আমি ১৮ই পা রাখিব তাই স্বভাবতই পথিকের মুখে খোকা ডাক শুনিয়া ঈষৎ চটিয়া গিয়াছিলাম । তাই যেইটুকু না বয়সের কন্ঠ তাহার চাহিয়াও আরো গুরুগম্ভীর কন্ঠে পথিককে উদ্দেশ্য করিয়া পারিলাম ,"ওহে মহাশয় নাটক মঞ্চস্থ কি দেখিবেন ?আপনার চারপাশেই তো হরহামেশ নাটক মঞ্চস্থ হইতেছে ! আপনাকে নিজেকে ,আমাকে কিংবা চারি পার্শ্বের মনুষ্যগুলোকে দেখিলে কি আপনার অভিনেতা মনে হয় না ? তফাৎ শুধুমাত্র ইহাই যে যাত্রাই কিংবা মঞ্চে বড্ড আয়োজন করিয়া অভিনেতারা নাটক মঞ্চস্থ করিয়া থাকেন আর আমাদিগের চারিপার্শ্বে সাদামাটা লীলাখেলায় অভিনেতা নহে যোদ্ধারা যুদ্ধের নাটক করিইয়া যাইতেছে ! অতএব আমাদিগের কি উচিত নহে যোদ্ধাদের নাটক স্বচক্ষে দেখা ? তাহাদিগকে বেশ বেশ বলিয়া অনুপ্রাণিত করিইয়া সামনে এগিয়া যাইবার পথ দেখাইয়া দেওয়া ? এইবার পথিক কিছুটা থতমত খাইয়া বুঝিতে পারিলেন তার সম্বোধনের সাথে আমার তফাৎটা ! আমি তাহাকে পিছন ফেলিয়া আমার গন...

বৃষ্টি বিলাস

 বৃষ্টি , কাথামুড়ি দিয়ে পড়ে থাকা ঢুলুঢুলু চোখ । বৃষ্টি , কফির মগটা হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাড়িয়ে ফিনফিনে বাতাসটাকে অনুভব করা । বৃষ্টি , অনুভূতিগুলো আকাশে ডানা ঝাপটায় । বৃষ্টি , বিলাসী মন কত কিছু চায় । বৃষ্টি , প্রিয় মানুষটার কথা ভেবে ডাইরির পাতার পর পাতা লিখে যাওয়া । বৃষ্টি , প্রিয়জনের সাথে অনুভূতিগুলো শেয়ার । বৃষ্টি , টিউশনি শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ছেলেটার চোখে মুখে প্রশান্তির ছাপ । বৃষ্টি , অভিমানী প্রতীক্ষা প্রিয়জনের ম্যাসেজের । বৃষ্টি , কবির লিখে যাওয়া একটার পর একটা লাইনের অনুপ্রেরণা । বৃষ্টি , পুরোনো বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়গুলোর কথা মনে পড়া । বৃষ্টি , রাস্তার পাশের আশ্রয়হীন মানুষটার জন্য অভিশাপ । বৃষ্টি , একবেলা অন্নের টাকা না জোগাড়ের আশংকা । বৃষ্টি , রাস্তার পাশে পলিথিনের নিচে থাকা পরিবারটার তীব্র হার কাপুঁনি ঠান্ডা । বৃষ্টি , দিন শেষে ঘরে ফেরা বাবাটির জন্য সন্তানের না খেয়ে বসে থাকা । বৃষ্টি , বিদ্যুতহীন ঘরটায় আধো ঘুমে চোখ বুঝে যাওয়া মায়ের সন্তাদের জড়িয়ে ঘুম পাড়ানো । বৃষ্টি , অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশটাকে দেখে একাকীত্ত্ববোধ । বৃষ্টি , তার কথা ভেবে ঘুমিয়ে পড়া !

অব্যক্ত

                                                            মাঝরাত , শহুরে জানালার কাচঁঘষা আলোগুলো নিভে আসছে | মাঝরাত , পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ঢুলুঢুলু চোখ । মাঝরাত , কেউ স্বপ্ন দেখছে । মাঝরাত , ডাইরির পাতাগুলো নির্ঘুম চোখে ওল্টাচ্ছি । মাঝরাত , কানে ইয়ারফোনটা দুর্বলভাবে ঝুলে আছে । মাঝরাত , রেডিওতে হটসিটে বসা প্রেমিকে-প্রেমি কার নির্ঘুম কাহিনী । মাঝরাত , কথা বলতে বলতে দুজনেই ক্লান্ত । মাঝরাত , টকটাইমটা ফুরিয়ে আসছে । মাঝরাত , কেউ প্রিয় মানুষটাকে স্বপ্ন দেখবে এই আশায় ঘুমটাকে খুজঁছে । মাঝরাত , ভালোবাসায় আসক্ত দুজন ঘুমগুলো জোর করে তাড়িয়ে অনুভূতিগুলো প্রকাশ করায় ব্যস্ত । মাঝরাত , ছাদের কিনারায় দাড়ানো ছেলেটি অপেক্ষায় আছে মৃত্যু জন্য । মাঝরাত , কেউ অভিমান করে না খেয়ে বসে আছে কারো জন্য । মাঝরাত , কেউ অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর । মাঝরাত , কেউ অন্ধকার কবরটার ভেতর মৃত্যুর পরে আজ প্রথম রাত কাটাঁচ্ছে ।

কবি ও ফুল

          কবি আজও বারংবার সেই একটি ফুলের প্রেমে পড়ে         কবি আজও ঘুমের ঘোরে সেই ফুলেই বাগান ভরে।         সেই ফুল,         সে তো নিষ্পাপ, ভালবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।         সেই ফুল,         সে তো আজও সুবাস ছড়ায় মনের ঘরে।         সেই ফুলকে ভালবেসে প্রকৃতির কাছে যাওয়া,       সেই ফুলকে ভালবেসে যত সুখ, রঙ্গিন অনুভুতি পাওয়া।                       জান সেই ফুলটিকে?                      সে এক অপরূপ প্রেম প্রিয়সী।     যার কাজল কালো চোখের গভীরতায় আমি হারিয়ে যায়।       যার ঈষৎ রাঙ্গা গোলাপী ঠোঁটের ভাষায় আমি মুগ্ধ।                যার মায়াবী চেহারায় আমি আবেগাপ্লুত।       যার লজ্জাবতীর ন্যায় আচরণে আমি আর চঞ্চল।        ...

অসমাপ্ত ভালবাসা

ম্যাসেজের রিংটোনের শব্দে গভীর ঘুমটা হালকা হয়ে গেল হিমাদ্রীর। "Happy Valentine....   tmi ki vule giyeso ajk j amdr meet krar ktha? !  Amdr relationship ar first valentine aj othocho tmi nicchoy  pore ghumaccho!!! " চোখে যতটুকু ঘুম বাকি ছিল পুরোটা উবে গেল হিমাদ্রীর। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়ল ফুলের দোকানের উদ্দেশ্যে। তারপর চকোলেটের দোকান, তারপর গিফটের দোকানে যেতে হবে। আজকে পাগলিটার হাত থেকে রেহাই নেই তার! " আচ্ছা গিয়ে কিভাবে রাগটা ভাঙ্গানো যায়? গিয়েই জড়িয়ে ধরে বলবে Happy Valentine sweetheart. I love u!  " এভাবেই সাত পাঁচ  ভাবছিল আর হাঁটছিল দোকানের উদ্দেশ্যে।  হঠাৎ তার চোখের সামনে ঘটে গেল এক দূর্ঘটনা। বাসন্তী রঙা শাড়ি পড়িহীতা এক মেয়ের শাড়ির আচলের সাথে রিকশার চাঁকা পেচিয়ে যায়৷ চলন্ত রিকশা থেকে তরুণী পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায়। হিমাদ্রীর ছুটে গিয়ে দেখে প্রচন্ড রক্তক্ষরণে তরুণী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। "বেঁচে আছে? হ্যা এই তো পালস চলছে " দ্রুত সিনজি নিয়ে সদর হসপিটালে ছুটে। ডাক্তার জানাই দ্রুত এক ব্যাগ এপজিটিভ রক্তের দরকার । সে ভাবে " আমারই তো এ পজিটিভ রক...