Monologue-26

বিকেল ৪:১৩। জ্যামে রিকশায় বসে বসে ঘামছি আর মেজাজ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ১৯-২০ বছরের একটা ছেলে একদম মাঝ রাস্তায় মোটরসাইকেলে কিক মারছে বার-বার তারপরও গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট নিচ্ছে না। এইদিকে পেছন থেকে সব গাড়ি তাকে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে, এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সে  এমনভাবে মনোযোগ দিয়ে একটু পর পর তেলের পাইপ চেক করছে যেন দুনিয়ায় সে আর তার মোটবাইক বাদে আর কিছুই নেই! পেছনে উঁকি দিয়ে দেখি বিশাল লম্বা জ্যাম লেগে গেছে ইতিমধ্যে। 

ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম কাস্টমাইজড বাইক। ওল্ড মডেলকে নতুন বডি দিয়ে যেন সাজিয়েছে। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে অবশ্য এসব শখ অদ্ভুত কিছু না। সেদিন এক স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম,

"পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কি করো?"

সে উত্তর দিলো, "COD(Call of Duty) খেলি স্যার"। বেশ সুন্দর উত্তর! 

আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "পড়াশোনা যে ঠিকঠাক মতো করছো না আঙ্কেল আন্টি তো ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন ভালো লাগবে স্বামী বাড়িতে গিয়ে সকাল সন্ধ্যা রুটি বানাবা আর চা? "

প্রতিত্তোরে সে বললো,"স্যার বিয়ে দিয়ে দিলে তো ভালোই ছিলো। হাসবেন্ড আমাকে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা বানিয়ে খাওয়াবে আমি না। আর আমি রুটি বানাতেও পারি না।"

এমন অদ্ভুত উত্তরের জবাবে আর কিছু বলার থাকে না। আমি শুধু মুখে একটা হাসি এনে মনে মনে বললাম,"শখের তো কমতি নেই"! 

কলেজে সেকেন্ড ইয়ার পড়াকালীন সময় থেকে কলেজের স্টুডেন্ট পড়াচ্ছি। এখন ভার্সিটির ফাইনাল ইয়ার, এখনও কলেজের স্টুডেন্টই পড়াচ্চছি। এই ৭-৮ বছরে কতো অদ্ভুত এবং ইন্টারেস্টিং স্বভাবের ছেলে-মেয়ের সাথেই না পরিচয় হলো! কারো বেশি পড়লে মনে থাকে না, কারো নাকি আমি পড়াতে আসলেই মাত্র পড়ার কথা মনে পড়ে, কারো আবার আমার সামনে প্রবলেম নিয়ে আসলেই ইকুয়েশন সলভ হয়ে যায়, কারো আবার আমাকে দেখলেই পড়া ভুলে যায় ভয়ে, আরো কতকিছু! 

এই ১৭-১৮-১৯-২০ খুবই এনার্জেটিক একটা এইজ। কেউ বাইক-সিগারেট-আড্ডা এসবের পেছনে দৌড়ে এই সময়টা নষ্ট করে দেয়, কেউ অদ্ভুত সব শখের পেছনে পড়ে! একটা সময়ের পর এসে এরা বুঝতে পারে Reality is more challenging than they expected. 

এরপর এদের আর শখ আহ্লাদ বলতে কিছু থাকে না জীবনে। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস নিয়ে সার্ভাইভাল ফিটেস্ট হওয়ার মূল্য হারে হারে বুঝে যায়। 

অবশ্য এদের কাছে প্রেম বিষয়ে খুব রোমাঞ্চকর পরামর্শ পাওয়া যায়! "ভাইয়া আপুর জন্য ফুল নিয়ে যাবেন, দেখবেন সব রাগ অভিমান ভুলে গিয়েছে"। আমি এদের কথা শুনে হাসি আর ভাবি, "এরা শুধু আপু ফুল পেলে খুশি হবে সেটা ভাবে। কিন্তু দোকান থেকে ফুল কিনে তা হাতে নিয়ে আমাকে পথটুকু পাড়ি দিয়ে আপুর কাছে পৌঁছাতে হবে, তা চিন্তা করে না"! 

একটা মেয়ে রাস্তায় ফুল হাতে নিয়ে হাঁটছে এটা দেখতে যতোটা না সুন্দর, তার থেকে বেশি বেমানান একটা ছেলে হাতে ফুল নিয়ে হাঁটছে সেটা! অবশ্য এসব প্রেম বিষয়ক এদের সলাপরামর্শ আমি খুব সিরিয়াসলিই নিই! প্রেমের মতো একটা জিনিসকে সুন্দর করতে কাল্পনিকই হতে হয়! 

এই এইজের ছেলে-মেয়ে কাল্পনা করতে খুব পটু। কল্পনা করতে করতে বাস্তবতা ভুলে যায়। ১৭-১৮ এই বয়সটা অদ্ভুত সুন্দর, যতোক্ষণ না আইডেন্টিটি ক্রাইসিস পর্ব শুরু হয়!

১১/০৯/২৪

বুধবার, রাত ১১:০০

#Monologue-26

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest