পোস্টগুলি

ডাইরির প্রলাপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

কালবেলার নিউজে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্টাফদের ব্যক্তিগত তথ্য (প্রায় ৭০ জিবি ডাটা) হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের কর্মকতার মাঝে তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই দেখা গেল না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা তো বাদই দিলাম! সেই কর্মকর্তা দেখলাম বেশ কনফিডেন্ট নিজের সিস্টেম নিয়ে, আবার বলছেন এই হ্যাক করার প্রচেষ্টা নাকি গত দুবছর ধরে চালাচ্ছিলো, এখন এসে সফল হয়েছে, তার উপর ৭০ জিবির ডাটার ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন রীতিমতো! কথা হলো, দু'বছর ধরে চেষ্টা করে থাকলে তাদের এই দুবছরে ডিফেন্স মেকানিজম কি ছিলো ?  দুবছরে একবারও টের পায় নাই? এই সিস্টেম এ ঢুকতে দুই বছর? নিরাপত্তায় পুলিশ না রেখে চুরি হওয়ার পর চুরি হওয়ার ব্যাপারটাকে অস্বীকার করলে চোরদেরই লাভ। চোরেরা বসে বসে তো মুচঁকি হাসবেই!  মাস ছয়েক আগে সাত কলেজের এক ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা হয়েছিলো এক একাউন্ট দিয়ে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে। কৌতুহলবশত সার্ফিং করতে গিয়ে খেয়াল করলাম ঢাবির ডাটাবেজ লিংকড কিছুক্ষেত্রে। আমি সিকিউরিটি সেক্টরে বলতে গেলে একদম ন্যুব। এখনো তেমন কিছুই জানি না ভালো করে। কলেজের সাইটট...

নতুন বছরে সবকিছু নতুন করে শুরু হোক

মাথার ভেতর এখন যেন 24/7 আস্ত একটা ক্যালকুলেটর চলে। প্রতিনিয়ত যেন চলতে থাকে হিসেব-নিকেশ। শেষ কবে এই যন্ত্র বিরতি নিয়েছিলো তা মনে পড়ে না। ঘুমের মাঝেও মস্তিষ্কে চলে রাজ্যের হিসেব-নিকেশ।  সমুদ্রের পাড়ে বসে তীরের ঢেউ গুনতে গুনতে মনে হয়, "এই তো আরেকটা সূর্যাস্ত শেষ, আরেকটা দিনের সমাপ্তি "। আড্ডা আর আগের মতো হাসিঠাট্টার হয় না। এখন আড্ডা হয়ে উঠে যতসব হিসেব-নিকেশের। এই হিসেব-নিকেশ সংসারের, নিজের, প্রয়োজনের কিংবা বেশিরভাগই অপ্রয়োজনের! আমরা এখন সম্পর্কের চেয়ে বেশি সময়ের দাম দিতে শিখে গিয়েছি। যান্ত্রিকতা ছুঁইয়ে দিচ্ছে রক্তে-মাংসের দেহটাকে। কেউই মাটির কাছে ফিরবার কথা মনে-ই করে না আর! তারপরও আমরা সবাই বয়সের কাছে এসে কেমন যেন ক্যালকুলেটিভ হয়ে পড়ছি দিন দিন। এই পরিবর্তন বড্ড বেশি চোখে পড়ার মতো! আমি বছরের শেষ দিনে এসে ক্যালেন্ডার সরিয়ে রাখতে রাখতে ভাবি, "এভাবেই দিনগুনে বছর শেষ তারপরও প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির ভীড়ে কত-শত মানুষ হারালাম, তার আর হিসেব কই রাখলাম?  নতুন বছরে হয়তো নতুন নতুন মানুষ আসবে জীবনে, পুরনোদের আর হিসেব কই রাখলাম?  তাহলে কি মানুষের মস্তিষ্ক 24/7 যে হিসেব কষে, তা শুধুই স্বার্থ...

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলো

আমার সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলোকে খুব ভালো লাগে। এদের মাঝে ব্যক্তিত্ব বলতে একটা ব্যাপার ফুঁটে থাকে। এদের সবসময় দরকার হয় না সামনে থেকে চেনার, কথা বলে পরিচিত হওয়ার। এদের দূর থেকেও এমনিতেই চেনা যায়, কার্যকলাপেও বুঝা যায়। দরকারের বাইরে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই, শো-অফের এর নামে এটেনশান সিক করতে চায় না, প্রয়োজনের সময় এক্সট্রোভার্ট এবং অপ্রয়োজনে একদম চুপচাপ। এর মানে এই না যে, আমি অন্যদের অপছন্দ করি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যারা অতিরিক্ত মজা করে, Flirt করার নামে ভাঁড়ামি করে, সিরিয়াস সিচুয়েশনে জোকস ক্র্যাক করতে আসে, তাদের আমি একদমই অপছন্দ করি। একটা গামছা ৮ বছরে কিভাবে টিকে এসব নিয়ে ট্রল করে। ফেলানী-স্বর্ণা দাস বর্ডারে গুলি খেয়ে মরে এসব নিয়ে এরা কিছু বলে না, জাতীয় সংগীত পাল্টিয়ে পাগলু হবে না লুঙ্গি ড্যান্স তা নিয়ে পরে আছে! মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে এদের বলি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে মতামত দিলে সেটা জোকস হবে আর কোথায় সেটা ভাঁড়ামি হবে!  ইদানীং স্যোসাইল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, সব জায়গায় অনেকেই নিজেকে Funny সাজাতে গিয়ে জোকার সাজিয়ে ফেলছে, মজা করার নামে ভাঁড়ামি করতেছে! আপনাদের শেয়ার...

সব পেলে নষ্ট জীবন

দিনশেষে আমরা নিজেকে বেচে দেই। কখনো নিজের সময়, কখনো নিজের আবেগ, কখনো নিজের পরিশ্রম, কখনো বা নিজের মন। সুখ কেনার নামে প্রতিনিয়ত নিজের মুহূর্তগুলোকে যেন নিলামে তুলছি আমরা। ব্যক্তিগত কোনো মতাদর্শ নেই, পছন্দ-অপছন্দের মূল্য নেই, নিজস্ব সৌখিনতা নেই, সবকিছুকে বাজি রেখে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সুখের পেছনে ছুটছি যেন!  বয়স যতোই বাড়ছে, ততোই প্রতিনিয়ত নিজেকে এক পণ্য বলে মনে হচ্ছে। পণ্যের কোয়ালিটি বাড়াতে গিয়ে জীবনের কোয়ালিটি কমিয়ে ফেলছি যেন। মন ভালো করা স্মৃতি নেই, সূর্যাস্ত দেখা বিকেল নেই। নদীর স্রোতে বয়ে যাচ্ছে জীবন, অথচ সেই নদীতে অবগাহন করার সময় নেই। ফুটবল নিয়ে মাঠে ছুটে বেড়ানো উচ্ছ্বসিত মন, বড় হওয়ার নামে হাতকড়া পড়ে আছে যেন। এই গুণগত জীবন তো চাইনি, যা চেয়েছি তা তো পাওয়া হয়ে ওঠেনি! সব পেলে নষ্ট জীবন। অথচ, সব পাওয়ার আগেই জীবন নষ্ট করে বসে আছি। স্রষ্টা থেকে পাওয়া এই এক জীবন, একাধিক জীবনকে অনুসরণ করতে গিয়ে পণ্য হয়ে গিয়েছে। এই প্রডাক্ট জীবন্ত। হাঁটাচলা করা, কথা বলতে পারা এবং দেখতে পারলেও, সে সুবিবেচক নয়। মন কখনো ভাবতে বসে না, নিজের সাথে নিজের হিসেব কষে না, জীবনের স্বাদ ম্যাটেরিয়েলিস্টিক লাইফে খুঁজে...

এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়

একদিন এই নীরব যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরবো। এই যুদ্ধে পাওয়া আর হারানোর হিসেব এর আর কোনো মূল্য থাকবে না তখন। যা কিছু হারাবার তা মেনে নিয়ে যা কিছু পেয়েছিলাম, তাও পেছনে ফেলে একদম রিক্ত শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবো। একদম একা, নিঃস্ব হয়ে পার্থিব সব চাহিদা ভুলে গিয়ে বাড়ি পৌঁছাবো সেদিন! মাথার উপর বিশাল আকাশটার কয়েক হাত দেখতে পাবো শুয়ে শুয়ে। ঘাড় ফিরিয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যাবে না, পূর্ণিমার আলো দেখতে পেলেও চাঁদ টাকে দেখতে পাবো না ঠিক মতো।  সেদিন ফেলে আসা মানুষ, রেখে আসা কর্ম নির্ধারণ করবে আমার সেই চিরস্থায়ী স্থান হবে নেক্রপলিসে নাকি অতিসাধারণ কোনো কবরস্থানে। আমার নামের পাশে লিখা পড়াশোনা, পদমর্যাদা, পেশা সবকিছু মুঁছে গিয়ে এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়। মেডিটেশন করতে যেই আর্টিফিশিয়াল মিউজিক শুনি শব্দ দূষণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে, তখন আর এর প্রয়োজন হবে না। ঝিঁঝি পোকাদের রিরি শব্দ আর বাতাসের মৃদু গুঞ্জন আমায় অতল ঘুমে তলিয়ে দিবে! 

একটা বিকেল থাকুক, একান্তই আমার

আমার অধিকাংশ বিকেল কাটে বারান্দায় বসে। কখনো চায়ের কাপে, কখনো কফির মগের সাথে মস্তিষ্কের তীব্র বুঝাপড়ার মধ্য দিয়ে আমার কত-শত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এই বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামা, আমাকে আমার জীবনের যে আয়ু ফুরিয়ে আসছে, তা মনে করিয়ে দেয়। এই বিকেল বেলায় আমার কাজকর্মে জড়তা এসে ভর করে। টিউশনে যেতে মনে চায় না, কাজ করতে মনে চায় না, টেবিলে বসলে কেমন যেন এক অস্থিরতা কাজ করে! তখন উদভ্রান্ত মন নিয়ে বারান্দায় এসে বসি।  নিভু নিভু সূর্যের নিস্তেজ হয়ে পড়া আমাকে আমার শেষ বয়সের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমন একটা দিন আসবে, যেদিন এই মস্তিষ্ক আর আগের মতো শার্প কাজ করবে না, স্মৃতি হাতড়ে বের করতে পারবো না সামনের বসে থাকা মানুষটার নাম। তারপরও কি এক অদ্ভুত অসীমের দিকে ছুটে চলা আমাদের! অস্ত যাওয়া সূর্যটা কাল নিয়ম করে ঠিকই ফিরে আসবে, কিন্তু ফুরিয়ে যাওয়া জীবন আর ফিরে পাওয়া যাবে না!  জড়তা নিয়ে যেমন প্রেমিকার কপালে চুমু খেতে পারে না কোনো প্রেমিক, তেমনিভাবে এতো শত-শত দায়িত্ব আর কর্তব্যের ভীড়ে জীবন উপভোগ করা যায় না। এরপরও জীবন একটা-ই, একে নিজের মতো করে সাঁজিয়ে নিতে হয়। নিজের মতো করে উপভোগ্যকর...

পূর্ণিমার আলো

পূর্ণিমার আলোয় এক ধরনের বিষাদগ্রস্ততা কাজ করে। আবছায়া এই আলো- আঁধারির খেলায় কত-শত স্মৃতিরা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায়, পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে গোল হয়ে আড্ডা দেওয়ার দিনগুলি। মনে পড়ে, লোডশেডিংয়ের রাতে হারিকেনের আলোয় পড়তে বসে পূর্ণিমার আলোয় বের হতে না পারার আফসোসের সেই দিনগুলি। দুপাশের ধানক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া গ্রামের সেই রাস্তাটায় পূর্ণিমার আলোয় নিজের ছায়াটার সাথে হেঁটে চলার সেই দিনগুলি বড্ড বেশি স্মৃতিকাতর করে তুলে।  ছোটবেলায় এই পূর্ণিমার আলোয় উঠোনে বসে ফিনিক্স পাখির গল্প শুনতাম আর ভাবতাম, "পূর্ণিমার আলো থেকেও কেন ফিনিক্স পাখি জন্মায় না? তাহলে তো আরো শক্তিশালী হতো এরা, নাকি জন্মায় অন্যকোনো রূপে অন্যকোনো উপায়ে?"। কি এক অদ্ভুত সুন্দর ছিলো সেদিনগুলো! এখন আর তেমন পূর্ণিমা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠে না। ব্যস্ততা আর শহররে চটকদার আলো, ভেতর ভেতর বড্ড বেশি যান্ত্রিক করে দিচ্ছে ।  একদিন খুব আয়োজন করে পূর্ণিমা বিলাস করবো। গ্রামের সেই ছোট্ট ব্রীজটায় দাঁড়িয়ে খুব করে সেই আলো লুফে নিবো। ছাদের কোনো এক কার্ণিশে দাঁড়িয়ে একহাতে কফির মগ আরেক হাতে পুরোনো ডায়রির পাতার পুরাতন কোনো কবিতার লাইন সেই আব...

সুইসাইডাল মুডে একটাই চিন্তা থাকে নিজের অস্তিত্ব শেষ করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দাবার বোর্ড ত্যাগ করা

ক্লাস নাইনের পর আমি যে একটামাত্র খেলা খেলতাম তা হলো দাবা। যেদিন থেকে মিশির আলী পড়া শুরু করেছি, সেদিন থেকে এই মাইন্ড গেইম আর সাইকোলজিক্যাল এর ব্যাপার-স্যাপারের উপর তীব্র আগ্রহের শুরু। ওয়েস্টার্ন ফিলোসোফির আর সাইকোলজির প্রতি একটা টান অনুভব করি।  এরপর থেকে ক্রিকেট-ফুটবল আর আমাকে তেমন আকর্ষণ করেনি। স্কুল লাইফে দাবাটাকে খেলা হিসেবেই নিতাম। কিন্তু যখন থেকে গেইম প্ল্যান সাজানো শিখলাম, জানতে পারলাম একটা মুচঁকি হাসি দিয়েও ওপনেন্টকে ম্যানিপুলেট করে ফেলা যায়,সেদিন থেকে দাবাকে আমার কাছে রীতিমতো War of Manipulation মনে হতে লাগলো। দাবা খেলার সাথে জীবনের অনেকটা অংশের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে জীবনের দাবা খেলায় আপনার ওপনেন্ট টিম আপনি নিজেই। জীবনে আসা অধিকাংশ মানুষগুলোয় ঘোড়া(Knight)-এর মতো। আপনার সাথে স্বার্থের সুবিধা করতে না পারলে সুযোগ মতো আপনাকে ডিঙ্গিয়ে আড়াই ঘরের চাল দিয়ে চলে যাবে! প্রতিদিন অনেক মানুষের সাথে আমাদের দেখা হয়, কথা হয়, পরিচয় হয়। এরা হলো সৈন্য(Pawn) এর মতো । মনে হবে তেমনকিছু না, উদ্দেশ্যহীন। কিন্তু সুযোগ বুঝে এমন চাল দিবে যে আপনি কপোকাত। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আপনার গেইম প্ল্যান শেষ😄 ...

অপ্রত্যাশিত এক দেখা হোক, দুজন দুজনের সামনাসামনি খুব কাছ থেকে

আমাদের অপ্রত্যাশিত এক দেখা হোক, দুজন দুজনের সামনাসামনি খুব কাছ থেকে! সেদিন চোখ চোখ রেখে চোখের ভাষায় কথা হোক আমাদের। চোখে চোখ রেখে দুজনের মাঝে যেই হাজার বছরের দূরত্ব, তা ঘুঁচে যাক সেদিন। আমাদের পাশাপাশি পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটার যে তীব্র শখ নিয়ে বাঁচা , সেদিন সে শখ পূরণ হোক। এই যে তোমাকে দেখার তীব্র যে তৃষ্ণা নিয়ে প্রতিটা দিন কাঁটায়, সেদিন তোমার কাঁজলকালো চোখের টলমল সমুদ্রে ডুব দিয়ে সে তৃষ্ণা নিবারণ হোক আমার! এই ব্যস্ততার যুগে সময়ের উপর যত অভিমান তোমার, সেদিন সবকিছু ভেঙ্গেচুরে যাক।  একদিন দেখা হোক। নিবার্ক চাহনি গল্প খুঁজুক। মহাশূন্যের মতো শূন্য এ মন পূর্ণতা পাক তোমার উপস্থিতিতে। হাতে রেখে হাত, এ শহরের ল্যাম্পপোস্টগুলো আলো ছড়াক। রং চায়ের কাপে কিংবা ধূমায়িত কফির সাথে দৃষ্টি বিনিময় হোক দু'জনার।এ মন তার মৌলিক অধিকার পেয়ে যাক সেদিন!

কিছু শখ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাক

আমার মাঝে মাঝে মনে চায় লেখালেখি ছেড়ে দিই। একদম ছেড়ে ছুঁড়ে দিই। ডায়েরি আর কলম নিয়ে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চলে যায় কিন্তু চিন্তাভাবনাগুলো আর গুছিয়ে উঠতে পারি না, এই উপলব্ধি ভীষণ যন্ত্রণার। ' Writer's Block' শব্দটা শুনতে যতোটা ভালো লাগে, যাদের সাথে ঘটে তারাই  টের পায় তা কতোটা খারাপ! একটা সময় পর বুঝতে পারি, এই শখ আমার কল্পনার জগৎটাকে সুন্দর করে দিয়েছে। এই শখটা আমাকে সবার থেকে আলাদা করে ভাবতে শিখিয়েছে। পরমুহূর্তে আর ছাড়া হয়ে উঠে না এই শখটাকে ! আমার মাঝে মাঝে মনে চায়, সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে দিয়ে দূরে কোথাও চলে যাই। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এর কথা, একটা সময় টক্সিসিটির লেভেলকে ছাড়িয়ে যায়। জীবন আর ঘরসংসারের ঘোর ডেমোক্রেসি থেকে এই আত্মা স্বাধীনতা খুঁজে তখন। নিজের দুঃসময়গুলোয় যখন দেখি নিজের পরিবার ছাড়া আর কেউ পাশ নেই, তখন বুঝতে পারি দিনশেষে পরিবারই আসল পরিচয়। এই শেকড়ের টান উপড়ে ফেলে চাইলেও দূরে কোথায় যাওয়া সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে মনে চায়, এই একাডেমিক লাইফ থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে এক ঘরে করে রাখি। পুরো একটা জীবন চলে যাচ্ছে এই লং টাইম ইনভেস্টমেন্টে, কিন্তু এর প্রফিট মার্জিন শূন্যের কোঠায়! তখন মনে হ...

কেউ যদি আমাকে একবার বলতে পারতো কোথায় টাকার বিনিময়ে সময়ের সওদা হয়?

কখনো যদি সুযোগ পেতাম টাকা দিয়ে সময় কিনে নিতাম। আমার হারানো সেই সময়গুলো, যে সময়গুলো আমাকে ভালো থাকতে শিখিয়েছিলো, যে সময়গুলোতে হাসি-আনন্দে একটা দিন কেটে যেতো।  টাকা দিয়ে সময় কিনা গেলে, আমি আমার ছোটবেলার সেই বিকেলগুলো কিনে নিতাম আরেকটিবারের জন্য হলেও। যে বিকেলগুলোয় নাটাই এর সুতোর টানে আর উড়ন্ত ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে নেমে যেত সূর্যাস্ত! একদিকে মাগরিবের আযান, অন্যদিকে অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে ক্রমশই! ক্রমান্বয়ে আকাশে উড়া ঘুড়িটা অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে যেন। এইদিকে নাটাই এ দু'হাতের আঙ্গুল তীব্রবেগে চলছে। ঘুড়িটা যখন আকাশ থেকে নেমে আসে, ততোক্ষণে নাটাই ধরে রাখা দু'হাতের আঙ্গুল বেশ ক্লান্ত। একহাতে ঘুড়ি আরেক হাতে নাটাই ধরে ছুটতাম, ততোক্ষণে অন্ধকার নেমে পড়েছে চারদিকে। বাসায় গিয়ে কোনো রকমে হাতমুখটা ধুয়ে লুকিয়ে চুপচাপ টেবিলে গিয়ে বসে পড়তাম বকুনি থেকে বাঁচার জন্য। যখন দেখতাম কেউ আসছে না বকাঝকা করতে, তখন এক তীব্র স্বস্তির সুখ অনুভব করতাম। আমি সেই সুখটুকু আবার কিনে নিতে চাই!  টাকা দিয়ে সময় কিনা গেলে, আমি আমার ছোটবেলার লোডশেডিং এর সেই সময়গুলোকে কিনে নিতাম। ঘরের সামনের উঠোনটায় মাদুর বিছিয়ে সব ভাইবোন মিলে গল্...

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার স্বাদ

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার যেই স্বাদ, এর থেকে তিক্ত স্বাদের আর কিছু পৃথিবীতে হতেই পারে না। নিজের উপর ঠিক আফসোসও না, আবার নির্মমতাও না। এ যেন নিজের নিয়তির উপর ভরসা উঠে যাওয়ার মতো তিক্ততা !  একটা মানুষকে ভালোবেসে তার মন ছুঁয়ে দেখার বাসনায় আপনি নিজের মনের রং-তুলি দিয়ে নিজের মতো করে আঁকতে বসলেন। এঁকেও ফেললেন তার অবয়ব। ভাবলেন, এই তো আমার মনের পার্ফেক্ট মানুষ। জ্বী না, আপনি ভুল, সম্পূর্ণ ভুল! বিধাতার রং-তুলির কাছে আপনার ক্যানভাস ফেইল, একদম ভিন্নও হতে পারে আবার হুবহু একরকমও হতে পারে। এটা নিয়তি নিশ্চিত করে বিধাতার ক্যানভাসে। আপনি নিজেকে যতোই আর্টিস্ট দাবী করেন না কেন, আপনার ক্যানভাস বিধাতার ক্যানভাসের ছোট একটা অংশ মাত্র। এটা নির্ভর করে উনি আঁচড়টা কোথায় দেয়, আপনার ক্যানভাসেও তুলির আঁচড় পড়তে পারে কিংবা নাও পড়তে পারে৷ পড়লে আপনি ভাগ্যবান, না পড়লে আপনি নিয়তির ভবলীলার দুষ্টচক্রে ক্ষত-বিক্ষত মানুষ!  আপনার সাথে আমার ঠিক এই জায়গায় পার্থক্য। ঠিক এই জায়গাতেইই পার্থক্য!!!

ইদ-উল-আযহা'২৩

কারো জন্য ইদ আনন্দের, কারো জন্য ইদ দায়িত্বের। সকালে ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে ইউটিউব দেখে সেমাই করতে রান্না ঘরে গেলাম। সেমাই রান্না প্রায় শেষ, নামিয়ে ফেলার সময় মনে পড়ল এতে চিনিই দেওয়া হয়নি। কী বিশ্রী এক অবস্থা! তাড়াতাড়ি করে সেমাই চুলায় বসিয়ে চিনি দিলাম। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি নামাজের টাইম হয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি করে গোসল করে রেডি হয়ে নামাজে গেলাম। নামাজ থেকে এসে ফোন হাতে নিয়ে দেখি আপুদের কল উঠে আছে। কল ব্যাক করলাম। ছোট্ট আপু ফোন দিয়ে কান্নাকাটি লাগিয়ে দিলো, আমরা কিভাবে কি করছি এসব ভেবে। প্রতি ইদে আপুরা ফোন দিয়ে এসব বলে মন খারাপ করে দেয়। তখন কতো মিথ্যে বলে যে সান্ত্বনা দিতে হয় এদের! আল্লাহ মাফ করুক আমাকে। কুরবানির কাজ শেষ করে বাসায় এসে পড়তে হয় আরেক বিপাকে। কিভাবে মাংস প্যাকেট করতে হয়, মাংস ধুয়ে প্যাকেট করতে হয় নাকি এমনিই রেখে দিতে হয়, হাড় আলাদা রাখা লাগে নাকি মাংসের সাথে প্যাক করে ফ্রিজে রেখে দিতে হয়? অবশেষে বাধ্য হয়ে দিলাম আপুকে ফোন। এক আপু ফোন না ধরায়, আরেকজনকে কল দিলাম। আপু বুঝিয়ে দিলো সব। মাংস প্যাক করছি আর মনে মনে হাসছি, "এসব তো আমার সিলেবাসে ছিলো না, এখন এসব ও শিখতে হচ্ছে"। এর মাঝে ব...

মানুষকে কখনো নিজের সমীকরণে ফেলে যাচাই করতে যেতে নেই

আমি একবার Good listener হয়ে দেখলাম। সবার সব দুঃখকষ্টের কথা মন দিয়ে শুনলাম। মানুষ কমফোর্ট জোন পেলে আইসক্রিমের মতো গলে যায়। সব কথা গদগদ করে বলে দেয়। এই চরম বিশ্বস্ত প্রাণী একবারও অপর পাশের মানুষটার কথা শুনতে চাই না, দুঃখ তো ছুঁয়ে দেখা অনেক পরের কথা। আমি তারপর নিজের কথা বলার আগ্রহ হারায় ফেললাম! শুনেই গেলাম একপাক্ষিক দুঃখকষ্টের কথা আর সান্ত্বনা দিয়ে গেলাম নিজের ক্ষতের জায়গায় হাত চেপে। আমি একবার Introvert হয়ে দেখলাম। কেউই খবর নেই না। কাজ না থাকলে কেউই আসলে স্মরণ করে না। ভার্চুয়াল মেলডির এই যুগে মানুষ খুব সহজে বন্ধুত্ব প্রতিস্থাপন করে ফেলে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারো খুঁজ নেই না। আমি একবার Extrovert হয়ে দেখলাম। বেশি মানুষের সাথে মিশতে গেলে মানুষ সস্তা মনে করে। নিজের মূল্যবান সময় ব্যয় করে কাউকে সময় দিতে গিয়ে উল্টো কথা শুনতে হয়েছে। মানুষ সহজে সাহচর্য পেয়ে গেলে সস্তা ভেবে বসে।  আমি একবার প্রেমিক হয়ে দেখলাম৷ প্রেমিকা আমার চেয়ে বেশি ফুল ভালোবাসে। অতি যত্ন নিতে গিয়ে প্রেমিক বেচারা উপাধি শূন্য! নিজেকে ভেঙ্গেচুরে দিতে গিয়ে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ফেলে দেয়। প্রেমিকা বুঝে না সে ভাষা, যে ভাষা জুড়ে তাকে নিয়...

সুইসাইড, আ স্কুল অব থটস

এই যে প্রতিদিন এতো এতো সুইসাইডের কেস, কিন্তু কেন? অনেকে এদের পারিবারিক সমস্যা কিংবা দুর্বলচিত্তকে দায়ী করছে। আমার কাছে এসব বাদেও সব থেকে বড় যে কারণ তা এদেশের বাজে এডুকেশন সিস্টেম এবং ভার্চুয়াল লাইফকে মনে হয়। আমরা এমন এক এডুকেশন সিস্টেমের মধ্য দিয়ে জীবনের ২৪-২৫ বছর কাটিয়ে দেয় যে,বের হওয়ার পর আর হিসেব মিলাতে পারি না এতোদিন কী শিখলাম,কিসের জন্য শিখলাম! যে ক্যারিয়ারের জন্য এতো পড়াশোনা অথচ সে ক্যারিয়ারের সাথে একাডেমিক লাইফের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে আমরা যারা ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ছি, তাদের অবস্থা তো আরো বেশি নাজেহাল। মুখস্থ বিদ্যা ভালো লাগে না বলে জেনারেল আর মেডিকেলের প্রিপারেশন না নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা। স্কিল ডেভেলপমেন্ট আর ইনোভেশনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং এ আসা। অথচ এই সিস্টেমের ভেতর ঢুকে জানপ্রাণই হতাশ। এখানে যে যত শীট চাটতে পারে, তার সিজি ততো হাই! কোড মুখস্থ করে ল্যাব পাশ করতে হয়। আর জেনারেল সাবজেক্টে যারা পড়াশোনা করছে, তাদের অবস্থা তো আরো বেশি নাজুক। তারা অধিকাংশই ভার্সিটি লাইফটাকে চিল মনে করে আকাশে উড়তে উড়তে গ্র্যাজুয়েশনের পর ধপাস করে আকাশ থেকে মাটিতে পরে। অনেকেই বিসিএস ক্যাডা...

মন খারাপ ও আমি

মাঝে মাঝে হুট করে তীব্র মন খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ এই মন খারাপের কোনো কারণ খুঁজে পাই না তখন। সূক্ষ্ম এই মন খারাপবোধ ভেতরটা কেমন যেন শূন্য করে তুলে। তখন কোনো কাজ করে শান্তি পাই না, প্রিয় বইটা নিয়ে বসতেও আগ্রহও খুঁজে পাই না। লিখতে বসে কলম নাচাই কিন্তু কোনো লিখা বের হয় না! চা-কফির স্বাদটদকেও তখন তিক্ত মনে হয়।সব মিলিয়ে তীব্র এক অশান্তি যাকে বলে। মন খারাপ ছোঁয়াচে এক রোগ, এটা ভেবে কারো সাথে শেয়ার করতেও ভালো লাগে না। নিজেকে একদম একাকী করে রাখতে মনে চাই। সব কিছু থেকে গুটিয়ে, সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে মনে চাই।

ছুটি শেষের বিকেল

২৭শে এপ্রিল বিকেল ৪টা বেজে ৪৫ মিনিট, ইদের ছুটি শেষ। ট্রেনে করে কুমিল্লা ফিরছিলাম। ট্রেনের ভেতর প্রচন্ড ভীড় আর প্রচুর গরম। অবশ্য আমার তাতে ভ্রুক্ষেপ ছিল না। আমি ট্রেনের খাবারের বগির জানালা দিয়ে অর্ধেক শরীর বের করে দিয়ে বাতাস খাচ্ছিলাম আর বাইরের প্রকৃতি দেখছিলাম তখন।  আকাশে মেঘ জমে একদম কালো হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হবে কিছুক্ষণের মধ্যেই । ট্রেনের তাতে কোনো চিন্তায় নেই যেন, সে চলছে তার আপন গতিতে। দুপাশে ধানক্ষেত , মাঝখান দিয়ে বিলি কেটে যেন ট্রেন এগিয়ে চলছে। এখন ধানের মৌসুম, মাঠে কেউ কেউ ধান ভানছে , কেউ কেউ বন শুকাতে দিয়েছে, কেউ কেউ আবার গরু চড়াচ্ছে । তাদের সবার মাঝে ছুটোছুটি শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যে। গৃহস্থের সপরিবার ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত। বৃষ্টি আসার আগে কষ্টের ধানগুলো ঘরে তুলবার এ যেন রীতিমতো এক সংগ্রাম। যুবতী মেয়েরা কোমরে ওড়না পেঁচিয়ে সমস্ত মাঠ পরিষ্কার করে ফেলছে ধান জমাবার নামে। আজকাল এমন সুন্দর দৃশ্য দেখবার সুযোগ মেলে না একদমই । লুঙ্গি পরা এক ছোট রাখাল , অবাধ্য এক বাছুরের পেছনে লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছে আর আপ্রাণ চেষ্টা করছে বাছুরটাকে পালে ভীড়াবার জন্য। ট্রেন যখন লোকালয়ে প...

প্রেম বনাম ম্যারাথন

সে বললো প্রেম, আমি বললাম ম্যারাথন।  সে বললো প্রেমিকা, আমি বললাম যার কাছে মানিসক শান্তি মেলে। "তাহলে প্রেমিক?" আমি বললাম," যে পুরুষ রিকশা ভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে ফুল কিনে।" সে তখন আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিচ্ছে আর বলছে,"প্রেম নিয়ে দারুন ফ্যান্টাসাইজ তো আপনি। আপনার এই যুক্তিহীন প্রেমে যুক্তি টা কোথায়?"  আমি বললাম, "প্রেম জিনিসটাই অযৌক্তিক। যুক্তি দিয়ে আর যাইহোক প্রেম হয় না। কথায় কথায় যুক্তি দেখানো মানুষগুলো প্রেমিক/প্রেমিকা হয়ে ওঠতে পারে না। বেচারা প্রেমিক হলুদ খামের জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করে, বেচারি প্রেমিকা ভরা জ্যোৎস্নায় নীল শাড়ি পড়ে পূর্ণিমা দেখবার বায়না ধরে। আপনি এসবের মাঝে যুক্তি খোঁজতে গেলে পাগলের প্রলাপ বলে দ্রুত প্রস্থান করবেন।" তার মুখে বিদ্রুপ চোখে দুষ্টুমি, " আর যা-ই বলেন এসব প্রেম বইপত্রেই সুন্দর৷ বাস্তব জীবনে প্রেমিকা হিসেবে আপনারা চান সুন্দরী-সুশ্রী-রমনী আর মেয়েরা চায় সামাজিক নিরাপত্তা, সুন্দর ভবিষ্যত"।  এবার আমার মুখে বিদ্রুপ, ঠোঁটে বাঁকা হাসি," অনেক পুরুষ কাজলকালো চোখের মায়ায় দেখে কাঁত হয়ে যায়। পুরুষ মান...

আম্মা

আম্মা , আপনাকে ছাড়া আরেকটা রামাদান শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাকে ছাড়া এই শবে-ই-বরাত, রামাদান, ঈদ, এই দিনগুলো আমার কেমন জানি অসহায় অসহায় লাগে! এই উৎসবমুখর দিনগুলো আমার কেমন যেন বিষণ্ণটায় কাটে। আমার জন্য না যতোটুকু খারাপ লাগে,তার থেকে বেশি খারাপ লাগে ইমরান আর আব্বার দিকে তাকালে। পুরো বাসাটায় কেমন জানি খাঁ খাঁ করে। সন্ধ্যা কিংবা বিকেলটা আমি বাসায় থাকতে পারি না, কেমন যেন এক শূন্যতা এসে ভর করে। রমাদান আসতেছে ,সামনের সপ্তাহেই বাজার করবো কিন্তু বাসায় মা না থাকলে দুটো পুরুষ মানুষ এর জন্য রমাদান এর বাজার কি কি কিনতে হয়, তা বুঝতে পারছি না! এদের কি কিনে দিয়ে গেলে সেহরি আর ইফতারে ভালো হবে, তাও আন্তাজ করতে পারছি না। আজকে আপনি থাকলে আমাকে এমন দ্বিধাদ্বন্দে পরতে হতো না। আম্মা, আপনি বলতেন না একদিন আমার অনেক টাকা হবে? ইনশাল্লাহ একদিন আমার আসলেই অনেক টাকা হবে, তা আমিও টের পাই। আমি আপনার ডাকা নামের মর্যাদা অবশ্যই রাখবো ইনশাল্লাহ। আব্বা আর ইমরানের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারতেছি তা তো জানি না।তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এদের ভালো রাখবার। আম্মা, আপনার অনেক ইচ্ছে ছিল আমি যাতে অনেক পড়াশোনা করি, বিশ্ববিদ...