পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Money never be the Second God

"Time is valuable","Money is the Second God"- ছোটবেলা থেকে আমাদের মাথায় এই দুইটা লাইন অনেকটা আনুষ্ঠানিকভাবে বইখাতায়, ক্লাসে এবং পরিবার থেকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অথচ একবারও কেউ এটা শিখায় না যে, "You're also valuable"। যার ফলস্বরূপ, এই সময় আর টাকার পেছনে দৌড় দিতে গিয়ে পেছনে কতকিছু যে ফেলে আসতে হয়! হাইস্কুলে থাকতে টিফিন পিরিয়ডে দুই বন্ধু মিলে গল্প করতাম। সে গল্প বড় হওয়ার গল্প, বড় হয়ে টাকা কামানের গল্প। বড় হওয়ার পর এখন দুই বন্ধু মিলে গল্প করি, সে গল্প সময় কিনার গল্প, ইশ্ স্কুল লাইফটা ফিরে পাওয়ার গল্প! সময় আর টাকার পেছনে দৌড়াতে গিয়ে দেখলাম কল লিস্টে আত্মীয়স্বজনদের নাম্বারই সেভ করা হয়ে ওঠে নাই, শেষ কবে সব বন্ধুরা মিলে খোলা মাঠে বসে মন খুলে গল্প করেছি মনে করতে পারছি না, নতুন কোনো বন্ধুও তৈরি হয় নাই, ক্রিকেট ব্যাটটা নিয়ে শেষ কবে মাঠে নেমেছি তাও মনে নেই! Life is a rat race, আর এই রেইস এ ইঁদুর সাজতে গিয়ে নিজের যেই স্বাধীন ব্যক্তিসত্ত্বাটা তা খুঁইয়ে ফেলি। মনুষ্যত্বের জায়গা থেকে আর কখনো ভাবতে পারি না আমরা, আমাদের দিয়ে কবিতা লিখা হয় না,আমাদের দিয়ে জ্যোৎস্নাবিলাস, ...

আটপৌরে জীবন

এই আটপৌরে জীবনে যখন থেকেই বুঝতে শিখেছি তখন থেকে কখনোই চাই নি জীবনে বদ অভ্যাসগুলো রপ্ত হোক। কিন্তু এরপরও চায়ের প্রতি আসক্তি, কফির নেশা, লিখালিখর মতো বদ অভ্যাসগুলো ঠিকঠিকই পেয়ে বসেছে। কখনো ভাবিনি এই বদ অভ্যাসগুলোই আমাকে বেঁচে থাকা শিখাবে! এক-একটা ব্যস্ততম দিনের শেষে একটা মগ চা-কফি যেন নিজেকে সতেজ করার ডোজ। শারীরিক ক্লান্তি হোক কিংবা মানসিক অবসাদ,এসবের উর্ধ্বে যেন এরা। আর লিখালিখি, এ তো রীতিমতো মানসিক সত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন কেউ গালি দিলে, অভিযোগ করলে, সাইট-টক করলে গায়ে লাগে না। মানুষকে বিশ্লেষণ করতে শিখিয়েছে এই লিখালিখি। আজ থেকে চার বছর আগের লিখার সাথে দুই বছর আগের কিংবা এখনকার লিখাগুলো বিস্তর ব্যবধান খুঁজে পাই। যেই জায়গায় আমার নিজেরই মনমানসিকতার পরিবর্তন হয়, সেই জায়গায় আমার সামনে ভালো আর পেছনে খারাপ বলা চরিত্রগুলোর পরিবর্তনশীলতা তো স্বাভাবিক! মাঝে মাঝে তীব্র অবসাদগ্রস্থ হলে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগলে লিখতে বসে যাই চুপ করে। লেখা শেষ করে কখনো কখনো নিজের লেখা দেখে নিজেই অবাক হয়, এই সব কী আমার মাথা থেকেই বের হয়েছে! তারপর একদিন আবিষ্কার করলাম মন খারাপ থাকলেই আমা...

আম্মা

আম্মা , আপনাকে ছাড়া আরেকটা রামাদান শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাকে ছাড়া এই শবে-ই-বরাত, রামাদান, ঈদ, এই দিনগুলো আমার কেমন জানি অসহায় অসহায় লাগে! এই উৎসবমুখর দিনগুলো আমার কেমন যেন বিষণ্ণটায় কাটে। আমার জন্য না যতোটুকু খারাপ লাগে,তার থেকে বেশি খারাপ লাগে ইমরান আর আব্বার দিকে তাকালে। পুরো বাসাটায় কেমন জানি খাঁ খাঁ করে। সন্ধ্যা কিংবা বিকেলটা আমি বাসায় থাকতে পারি না, কেমন যেন এক শূন্যতা এসে ভর করে। রমাদান আসতেছে ,সামনের সপ্তাহেই বাজার করবো কিন্তু বাসায় মা না থাকলে দুটো পুরুষ মানুষ এর জন্য রমাদান এর বাজার কি কি কিনতে হয়, তা বুঝতে পারছি না! এদের কি কিনে দিয়ে গেলে সেহরি আর ইফতারে ভালো হবে, তাও আন্তাজ করতে পারছি না। আজকে আপনি থাকলে আমাকে এমন দ্বিধাদ্বন্দে পরতে হতো না। আম্মা, আপনি বলতেন না একদিন আমার অনেক টাকা হবে? ইনশাল্লাহ একদিন আমার আসলেই অনেক টাকা হবে, তা আমিও টের পাই। আমি আপনার ডাকা নামের মর্যাদা অবশ্যই রাখবো ইনশাল্লাহ। আব্বা আর ইমরানের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারতেছি তা তো জানি না।তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এদের ভালো রাখবার। আম্মা, আপনার অনেক ইচ্ছে ছিল আমি যাতে অনেক পড়াশোনা করি, বিশ্ববিদ...

যন্ত্র সভ্যতা ও আমি

আপনি যদি যন্ত্রের উপর একবার নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, এ নির্ভরশীলতা আপনার ইমোশনাল লাইফটাকে অনেকটায় নষ্ট করে দিবে। ইমোশন জিনিসটা যদি ব্যক্তিত্বে শূন্যের কাছাকাছি থাকে, তাহলে এর যেমন সুবিধা আছে তেমন অসুবিধাও আছে। এই যেমন ধরুন আপনার সারা সপ্তাহের শিডিউল প্রি-প্ল্যান করে রাখলেন গুগল ক্যালেন্ডারে। টাস্ক অনুযায়ী এক একটা প্রি রিমাইন্ডার দিয়ে রাখলেন, কোনোটা আধাঘন্টা আগে তো কোনোটা এক ঘন্টা। যেমন টিউশনে যেতে সময় লাগবে ১৫ মিনিট এবং আপনার ফ্রেশ হতে ১৫ মিনিট, তাই টিউশন প্রি রিমাইন্ডার ৩০ মিনিট আগে। তেমনিভাবে মিটিং, ওয়ার্কআউট, ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আপনি যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন। এর সুবিধা হলো আপনি সবকিছুতে টাইমিং ঠিক রাখতে পারবেন। যন্ত্রের জায়গায় যদি একটা মানুষের উপর নির্ভরশীল হতেন, তাহলে হয়তো মাঝে মাঝে টাইমিং এ সমস্যা হতো, ট্রাস্ট ইস্যু তৈরি হতো। তাছাড়া আজকাল মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লেই মানুষ পরগাছা ভাবা শুরু করে, বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করে। পৃথিবীতে যত বড় বড় ট্র্যাজেডি সব মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার জন্যই ঘটেছে। অসুবিধা হলো আপনার কপালে আন-স্যোসাল ট্যাগ লেগে যাবে। কে...

সময় যেখানে যেমন

ছবি
ট্রেনে বসে আছি৷ আমার বিপরীত পাশে বসে আছে এক ৬৫+ বছরের বৃদ্ধ। ট্রেন চলছে আর উনি বসে বসে চোখ বন্ধ করে ঝিমাচ্ছে। পড়নে ফর্মাল শার্টপ্যান্ট, সম্ভবত অফিস করে বাসায় ফিরছেন। আমি বেশ কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি উনার দিকে। আমার ভাবনায় হিসেব-নিকেশের ঝড় চলছে। কানে ইয়ারফোনে কি লিরিক্স চলছে তাতে একদম মনোযোগ নেই! নিজের শেষ বয়সের কথা মনে পড়ে গেল। আমার আর উনার মাঝে বয়সের ব্যবধান কতো হবে? ৪০-৪২। মানে উনার বয়সের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পার করে ফেলেছি আমি। এখনকার যেই এনার্জেটিক মাইন্ড, এক্সাইটমেন্ট, সামনের দিনগুলো নিয়ে কত পরিকল্পনা, তা কি উনার বয়সে পৌঁছুতে পৌঁছুতে শেষ হয়ে যাবে? ষাটোর্ধ্ব হওয়ার পর থেকে নাকি শেষ বয়সের অবসন্নতা ভর করে! কে জানে, এই ভাবলেশহীন চেহারার ঘুমন্ত বৃদ্ধ ভদ্রলোক হয়তো বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনযাপন করছে! আমি আমার শেষ বয়সে নিদেনপক্ষে আমার এক্সাইটমেন্ট আর আমার সেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টির মৃত্যু দেখতে চাই না। হয়তো কোনো না কোনো আফসোস থেকেই যাবে কিন্তু, কখনো চাইবো না আমার কল্পনাবিলাসিতার কিংবা মুগ্ধ হওয়া ক্ষমতা কমে যাক৷ আমি কখনো চাইবো না শেষ বয়সে এসে নিজের অপ্রকাশিত উপন্যাস অযত্নে পরে থাকুক, বরং এটাই ...