পোস্টগুলি

উপলব্ধির প্রলাপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সব পেলে নষ্ট জীবন

তারপরও জীবন থামতে চায়। চলন্ত রেলগাড়ীতে তীব্র ব্রেক কষে যাত্রার মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যেতে মনে চায়। এই যাত্রায় কারো কাছে "Life is a journey", কারো কাছে "Life is a tour" বলা এ জীবন নিজের কাছে মনে হয় "Life is a Marathon"! একটু ঝিমুনি আসলেই চোখ খুলে দেখতে হয় পেছনের অনেকে টপকে সামনে চলে গিয়েছে!  তারপরও জীবন একটু থেমে আশেপাশের মানুষের মুখোশের অন্তরালে আসল মানুষটিকে চিনতে-জানতে মনে চায়। যে মুখোশের আড়ালে মানুষ কান্না লুকায়, চাপা আর্তনাদ ফেলে, ক্রোধ পুষে, সেই মুখোশ ফেলে দিয়ে আয়নায় তাদের কুৎসিত চেহারাটা চিনিয়ে দিতে মনে চায়! এই জীবনে একটু থেমে ভালোবাসার স্বাদ উপভোগ করতে মনে চায়। যান্ত্রিকতার আত্মগ্লানিতে ক্লান্ত মন ভালোবাসার পরিচর্যায় পুনরায় উজ্জীবিত হতে চায়। দিনশেষে ভালোবেসে কেউ একজন থাকুক যে ম্যাটারিয়ালিস্টিক প্রাচুর্যের বাইরেও যার থাকবে আত্মসম্মানবোধ,গভীর যত্ন নিয়ে আগলে রাখার ক্ষমতা আর অফুরন্ত ভালোবাসা। যে ব্যকুল হয়ে অপেক্ষা করবে বেলাশেষে শেষ ট্রেনে কখন বাড়ি ফিরবো এই আশায়।  এই জীবন একটু ফুরসত নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ডুব দিতে চায়। পাহাড়ের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আগামীর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...

জীবন আপনার ফিলোসোফির মতো সুন্দর

আমরা অনেকেই একটা নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে জীবনযাপন করি। স্টুডেন্ট হলে ভার্সিটি-টিউশন-কোকারিকুলার, চাকুরীজীবী হলে নাইন-টু-ফাইভ জব, বাজার করা, পরিবার মেইনটেইন করা,আরো নানান কাজেকর্মে দিন পার হয়ে যাই। এই যান্ত্রিক জীবন নিয়ে আমাদের নানান অভিযোগ তৈরি হয়। একটা সময় এসে, এই ক্লান্ত শরীর আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তখন আর কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতে মনে চায় না, মনে চায় না অপ্রয়োজনে নিজের শক্তি অপচয় করতে! অনেক ফোন কল আর রিসিভ করা হয়ে ওঠে না, অনেক ম্যাসেজের আর জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়তো সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যতাবোধের খাতিরে হাসিমুখে দু'চারটা কথা বলতে হয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও!  দিনের পর দিন যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ যায় কখন উইকেন্ড আসবে এই ভেবে। ট্যুর প্ল্যানও দূরে কোথাও করা যায় না সময়ের অভাব বলে। শেষ কবে ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো তা মনে পড়ে না আর! এভাবেই একটা সময় এসে এই জীবনের সকল ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ জমা হয়, অভিমানে এই জীবন নিয়ে দু'চারটা গাল-মন্দও করে বসি। অবসর জীবনই প্রকৃত জীবন, ছুটি সুন্দর, এসব ধারণা মনে বাসা বাঁধে।  অথচ অবসর সময়ও সবসময় সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে এই যান্ত্রিক জীবন...

সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলো

আমার সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলোকে খুব ভালো লাগে। এদের মাঝে ব্যক্তিত্ব বলতে একটা ব্যাপার ফুঁটে থাকে। এদের সবসময় দরকার হয় না সামনে থেকে চেনার, কথা বলে পরিচিত হওয়ার। এদের দূর থেকেও এমনিতেই চেনা যায়, কার্যকলাপেও বুঝা যায়। দরকারের বাইরে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই, শো-অফের এর নামে এটেনশান সিক করতে চায় না, প্রয়োজনের সময় এক্সট্রোভার্ট এবং অপ্রয়োজনে একদম চুপচাপ। এর মানে এই না যে, আমি অন্যদের অপছন্দ করি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যারা অতিরিক্ত মজা করে, Flirt করার নামে ভাঁড়ামি করে, সিরিয়াস সিচুয়েশনে জোকস ক্র্যাক করতে আসে, তাদের আমি একদমই অপছন্দ করি। একটা গামছা ৮ বছরে কিভাবে টিকে এসব নিয়ে ট্রল করে। ফেলানী-স্বর্ণা দাস বর্ডারে গুলি খেয়ে মরে এসব নিয়ে এরা কিছু বলে না, জাতীয় সংগীত পাল্টিয়ে পাগলু হবে না লুঙ্গি ড্যান্স তা নিয়ে পরে আছে! মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে এদের বলি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে মতামত দিলে সেটা জোকস হবে আর কোথায় সেটা ভাঁড়ামি হবে!  ইদানীং স্যোসাইল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, সব জায়গায় অনেকেই নিজেকে Funny সাজাতে গিয়ে জোকার সাজিয়ে ফেলছে, মজা করার নামে ভাঁড়ামি করতেছে! আপনাদের শেয়ার...

জীবন যেন একটা স্যুটকেস

একটা সময় পর,জীবন যেন একটা স্যুটকেস এর মতো হয়ে যায়।আজকে এক জায়গায় তো, কালকে আরেক জায়গায়। কখনো এখানে তো, কখনো সেখানে।আবার কোনোদিন অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে ঘরের কর্নারে। স্যোসাইল স্ট্যাবিলিটি আনতে গিয়ে এ যেন, জীবনের স্ট্যাবিলিটির বারোটা বেজে যায়! রাত্রি বেলা ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরও মনে হয়, মাথায় ভেতর শব্দ করে মস্ত বড় একটা ট্রেন চলছে! 

একটা প্রস্টিটিউটরে প্রমোট করা থেকে থামেন ভাই

NSU এর যে মেয়েটার চ্যাট ভাইরাল হলো, প্রথমবার দেখে খুব অবাকই হয়েছিলাম এই ভেবে যে, একেই হয়তো 'পশ প্রস্টিটিউশন' বলে, এভাবেই হয়তো ডিল করে! কিন্তু সবথেকে বেশি অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে এই মেয়েটার চ্যাট রীতিমতো 'Talk of the Town'। বিশেষ করে এই মেয়ের একরাত্রি 25k ব্যাপারটা!  সকাল থেকে দেখছি, অনেকেই এই মেয়ের রেট নিয়ে খুব কথাবার্তা বলতেছে স্যোসাইল মিডিয়াগুলোতে। সব থেকে বাজে যে ব্যাপারতা হলো,মেয়েরাই এই মেয়েকে নিয়ে বেশি ট্রল করতেছে। এদের ক্যাপশন অনেকটা এমন যে, "৬৯ টাকার জিনিস ২৫ হাজার হয় কেমনে?"  "মুদ্রাস্ফীতির ফলে আজ ২৫০ টাকার জিনিস ২৫ হাজার!"  " বছরে ৯১ হাজার 😲"  ....................ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তাভাবনা কোথায় গিয়ে পৌঁছালে মানুষ এভাবে একটা Prostitute কে প্রমোট করতে পারে। এরা ভাবে এসব নিয়ে ট্রল করলে নিজেরা সুশীল। কিন্তু আমি তো এদের মানসিকতার সাথে সুশীল সমাজের বিস্তর ফারাক দেখি! মেয়েটা ইনবক্সে গিয়ে করেছে, যা করেছে। ছেলেটাও কম দোষী না। সেই প্রথম অফার করেছে, এবং মেয়েটা প্রশ্রয় দিয়েছে। অথচ ছেলেটাকে নিয়ে কোথাও কথা হচ্ছে না। উত্তেজনা সঠিক জায়গায় না উঠ...

আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে!

বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে! এমন ঝুম বৃষ্টির বেশ কয়েক রাত আমি স্টেশনে বসে কাটিয়েছি ট্রেনের অপেক্ষায়।টিউশন থেকে ফিরতে গিয়ে কত বার যে মাঝরাস্তায় আটকা পড়ে ছিলাম এমন ঝুম বৃষ্টির জন্যে। মন খারাপবোধটা এসব অভিজ্ঞতার জন্যও না। আমার ঝুম বৃষ্টির ভয় অন্য কারণে।এমন মুষলধারে বৃষ্টি হলেই মনে হয় কোথায় কার সদ্য কবর থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে, কোথায় কোনো এক মা যেন ফুটো টিনের চালার ঘরে তার সন্তানকে আগলে ধরে বসে আছে বৃষ্টি থামবার অপেক্ষায়!

Dear GEN-Z

Dear GEN-Z, সংগ্রাম করে পুরো একটা দেশ স্বাধীন করলা, স্বৈরাচারের পতন ঘটাইলা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরের স্বৈরাচারকে এখনো দূর করতে পারতেছো না! সংগ্রাম করলা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। বিজয়ীও হইলা। কিন্তু লাভটা কি হইলো বলো তো আমারে? বড় ভাইদের পেছনে গিয়া শো-ডাউন দিতেছো, সহমত ভাই মনোভাব নিয়ে ঘুরতেছো, গর্ত থেকে বের হয়ে নিজেরে সমন্বয়ক দাবিদার ভাইয়েরা যা বলতেছে তাই করতেছো। একবারও মনটারে জিজ্ঞাইতেছো না, এই ভাইয়েরা যেই যেই কাজ করাইতেছে তোমাদের দিয়া তা কী আদো উপকারী, সমাজের ভালো হচ্ছে নাকি শুধুই সময় আর এনার্জি নষ্ট হইতেছে?  গত একটা সপ্তাহ ধরে এলাকায় থাকলাম। খুব আশা নিয়ে আসছিলাম, নিজের এলাকার পরিবর্তন দেখবো স্বচক্ষে। আমার মনে হয় না খুব একটা পরিবর্তনমূলক কিছু করে যেতে কিংবা দিয়ে যেতে পারছি! আমি ব্যর্থ হইলাম, আমার মনে হয় আমার সাথে ব্যর্থ তোমরা অনেকেই।  কথা ছিলো, আমরা সমাজের মূল ধারায় পরিবর্তন করবো। কিন্তু পরিশেষে দেখলাম আমরা নিজেরাই সমাজের মূল ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলাম!  খালি দেশ স্বাধীন, দেশ স্বাধীন বইলা না চিল্লাইয়া, একটু ভাবতে বইসো, একটু ক্রিটি...

QuotaReformProtest

যেই ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ছেড়ে লং মার্চে গেলো, যারা পরিবার ছেড়ে রাজপথে নামলো, তারা এখনো বাড়িও ফেরেনি। এর মাঝে আপনারা এক্সপোজার নেয়া শুরু করলেন বাড়িতে বসেই?  আপনার এই এক্সপোজার নেওয়া বিবেক নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেন?   একটা দল ক্ষমতা না ছাড়তেই আরেকটা দল এসে ক্যাম্পাসে শো ডাউন দিয়ে যায়, ভাংচুর করে, সংখ্যালঘুদের লুটপাট করে আগুন দিয়ে যায়! এভাবে খালি এক্সপোজার পাওয়ার চিন্তা করলে দেখবেন দেশে আবার অগণতন্ত্রই আসবে। লীডারের নামে নেতা আসবে, ছাত্রসংসদের নামে ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকদের নামে অযোগ্য-ব্যক্তিত্বহীন-ছাপোষা চাকুরিজীবী!  

QuotaReformProtest

গত একটা সপ্তাহ ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দিতে অনেক চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ চেষ্টা বলা যায়।  এমন অনেক লিখা আছে ব্যাক স্পেস দিয়ে ডিলেট করতে বাধ্য হয়েছি, কারণ বাকস্বাধীনতার অধিকার তো কবেই কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিলো এখন জানপ্রাণও নিচ্ছে!  চোখ বন্ধ করলে নৃশংসতা, চোখ খুললে বর্বরতা আর পৈশাচিকতা। মানুষ Writer's Block এ আঁটকায়, আর আমি আটকায় আত্মগ্লানিতে। আমার মনে হচ্ছে আমি যা-ই লিখি না কেন, যা-ই ভাবি না কেন, এ-সময়টায় এসব ভাবনার সময় না। জোর করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও বিবেক প্রতিনিয়ত পীড়া দেয় ব্যাকস্পেস ব্যবহার করার জন্য! স্রষ্টা মানুষ বানানোর সময় সবাইকে বিবেক দিলেও, অপরাধ আর অনুশোচনা বোধশক্তি সবাইকে দেননি। তিনি কাউকে ক্ষমতা দিয়ে বানিয়েছেন ইবলিশের অনুরাগী, কাউকে শুধুমাত্র একবুক সাহস দিয়ে বানিয়েছেন শহীদ। কি এক দেশে বাস করছি, যেখানে একটা নিদিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে, আরেক শ্রেনীর মানুষ মারা গেলে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ছে! সবাই মানুষ, পার্থক্য শুধু কাজেকর্মে! কতোটা নিকৃষ্ট কাজকর্ম করলে মানুষের মনে এতোটা ঘৃণা জন্মায় এদের জন্য!  একদিন ওপারে চলে যাবো, সেদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে...

QuotaReformProtest

যেই আন্দোলনের দাবীগুলোর যৌক্তিকতা একটা রিকশাওয়ালা মামা পর্যন্ত বুঝে, যেই আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে দেশের আপামর জনতা, এই দাবিগুলোয় কীভাবে দ্বিমত পোষণ  করেন এদেশের তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর অধিকাংশ স্যার-ম্যাম, পুলিশ, বিজিবি, ***লীগ এর মতো মানুষগুলো ???   আপনাদের হাত-পা, চোখ-মুখও কি বেঁধে ফেলা হয়েছে?  যেমনটা র‍েইপ করার সময় ধর্ষকেরা বেঁধে দেয় ভিক্টিমকে, যাতে আওয়াজ, নড়াচড়া করতে না পারে। আপনাদের কার্যক্রম আর নীরব থাকা তো তারই প্রতীক!!!  চাটতে চাটতে যারা উপরে উঠে, তাদের আর জিহ্বা বলতে কিছু থাকে না যা দিয়ে প্রতিবাদের ধ্বনির বের হবে। অন্যায়ের কাছে কুঁজো হয়ে থাকতে থাকতে তো নিজের সততার মেরুদণ্ড হারিয়ে বসতেছেন। নিজের সন্তানদের জন্য সততার গল্প বলবেন কোথা থেকে!  টাকার কাছে বিবেক বিক্রি হয়, এর জন্য এতোটা নিকৃষ্টভাবে? খুন করতেও পিছু হটতে বলছে না আপনার বিবেক? বউ-বাচ্চা সর্বোচ্চ ২-৩ দিন না খেয়ে থাকবে, ২-৩ মাস কষ্ট করতে হবে চাকরিটা হারিয়ে , চাকুরিটা না থাকলে লাইফস্টাইল লো হয়ে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শহীদদের খুনি বাবা/মা/ভাই/বোন ট্যাগ নিয়ে অন্তত সারাজীব...

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা

আমি ভার্সিটিতে ঢুকবার সময় দেখেছি মোটামুটি সব ছেলেমেয়েই নিজের পটেনশিয়ালটি দিয়ে, নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। নিজের হেডমে, নিজের বাবার পরিচয়ে, নিজের পরিবারের সাপোর্টে এতোটা শেকড় থেকে শিখরে এসেছে তারা। তাদের অধিকাংশেরই বাবা কৃষক, সাধারণ চাকুরীজীবি কিংবা দিনে এনে দিনে খায় শ্রেনীর। কারো আবার বাবা নেই, কারো মা। এককথায় বলতে গেলে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা।  আমি জানতাম, এসব পরিবারের সন্তানদের শিরদাঁড়া খুব শক্ত হয়। জীবনে এতো ঝড় তুফান আর প্রতিকূলতা সহ্য করে যে, তাদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত হওয়ার আগে তাদের পা শক্ত হয়ে যায়। তাদের আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটা যে, প্রথম বর্ষে উঠে তারা কেমন যেন বিকিয়ে যায়! হল প্রশাসন কর্তৃক হল বরাদ্দ করে দেয় প্রতিটা শিক্ষার্থীকে,এর জন্য হল ফিও নেওয়া হয় প্রতি সেমিস্টারে। এমনকি যারা হলে থাকে না, তাদেরও হল ফি বাধ্যতামূলক। তাহলে হলে উঠা শিক্ষার্থীদের কেন আশ্রয়ের জন্য আরেকজনের প্রভুত্ব করতে হয়?  এদের প্রোফাইলে দেখি প্রিয় অভিভাবক বড় ভাইকে নিয়ে তৈলাক্ত ক্যাপশনে পোস্টে ভরপুর। অথচ যে মা-...

নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা হয় না

এদেশে এখন আর শিক্ষিত মানুষরা দেশপ্রেমের গল্প করে না। এরা দেশ ছাড়তে ব্যাঁকুল। নিজে না পারলেও নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে দেশ থেকে বের করতে পারলে এরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে! অথচ, এদেশের Policy Making-এ বসে আছে সব কোট-টাই পড়া শিক্ষিত ভদ্রলোক। এই পলিসি মেকার-রা ই নিজের ছেলে মেয়েদের দেশে রাখেন না। কারণ তারা জানেন এই দেশের পলিসি তারা কতোটা ধ্বংস করে রেখেছেন। এদের পরে যারা আসবে, তাদের জন্য কোনো Ideal Situation-ই রেখে যান না ইনারা। আমার দেখা ভার্সিটির যতো ভিসি এবং শিক্ষকগণ আছেন, তাদের ছেলে-মেয়েকেই বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়ে দিয়েছেন অথবা পরিকল্পনা করছেন পাঠিয়ে দেওয়ার, এমন প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ । ভাবা যায়, ব্যাপারটা কতোটা চিন্তার! যেই পলিসি নিজের ছেলে-মেয়েকেই মানুষ করতে পারবে কি না সন্দেহ , সেই পলিসি দেশের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন উনারা! এটা শুধু ভার্সিটির শিক্ষক বলে না, সকল আমলাদের বেলায় প্রযোজ্য। দেশের পলিসি মেকার ইনারা সবাই-ই!  দেশের সিস্টেমেটিক পলিসি নিয়ে আমার নিজের একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আছে। আমার মতে, "নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা ...

সম্পর্কের লয়্যালটি

দীর্ঘদিন একটা মানুষের প্রতি সেইম ফিলিংস ধরে রাখা অনেক কঠিন। রীতিমতো স্যাক্রিফাইস বলা চলে! নাটক সিনেমাতে এক নারী/পুরুষে আসক্ত ক্যারেক্টার যতোটা সহজে দেখানো হয়, বর্তমানে তা ততোটাই কঠিন।  সম্পর্কে এক্সপ্লোরিং একটা স্টেজ থাকে, এবার এই সম্পর্ক বন্ধুত্বের হোক কিংবা ভালোবাসার। এই সময়টায় আমরা একটা মানুষকে অনেকটাই কম জানি, কম বুঝি, কম চিনি। এই কমবেশি অজানার প্রতি জানার যে আগ্রহ, তার প্রতি আমরা অবসেসড হয়ে পড়ি। একটা সময় সবকিছু ঠিক থাকলে, এই অবসেশন রূপ নেয় ভালো বন্ধুত্বে, রুপ নেয় ভালোবাসায়। একটা সময় এসে এই স্টেজে আমরা ইউজড টু হয়ে যায়। তখন সম্পর্কের শুরু হয় এডাপ্টিভ স্টেজ। এই স্টেজে এসে আমাদের চোখে পড়ে সামনের মানুষটার সব ভালোমন্দের অতীত, অভ্যেস, স্বভাব, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ সবকিছু। এসবের মাঝে আমরা অনেকটা কনফিউজড হয়ে যাই। সম্পর্ক তখন দুটো দিকে মোড় নেয়। হয় দুটো মানুষের আন্ডারস্ট্যান্ডিং তাদের নিজেদের শুধরে দেয়, তারা নিজেদের পছন্দ অপছন্দের প্রায়োরিটি দিতে শিখে। নয়তো চুম্বকের বিকর্ষণ বলের মতো দু'জন দু'জনের কাছ থেকে মানসিকভাবে ছিটকে দূরে সরে যায়। অনূভতিরা মরতে শুরু করে। মানসিক একটা ...

প্রতিকূলতা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপদ্রব

জীবনে দু'একটা আঘাত দরকার। যে আঘাতের ক্ষত মনে করিয়ে দিবে, এর থেকে বর্তমান আঘাতের যন্ত্রণা বেশ সহনীয়।  জীবনে দু'একটা প্রিয় মানুষ হারানোর গল্প থাকা দরকার। যে গল্প মনে করিয়ে দিবে, সবটুকু দিয়েও কখনো কাউকে আগলে রাখা যায় না যদি স্রষ্টা না চায়!  জীবনে দু'একটা অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা থাকা দরকার। যা প্রতিনিয়ত নিজেকে মনে করিয়ে দিবে, এই জীবনে সব চাওয়া-পাওয়াই পূরণ হয় না। জীবনে নিজের বলতে দু'একটা অপ্রিয় সত্যি থাকুক। যা মনে করিয়ে দিবে, আমি নিজেও ষোলোকলা খাঁটি না। এতে অহংকার জন্মাবে না নিজের মাঝে। জীবনে দু'একটা নির্ঘুম রাতের অভিজ্ঞতা থাকুক। যা প্রয়োজনে মনে করিয়ে দিবে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারাটাও কতো বড় নিয়ামত। মাঝরাতে শ্বাসকষ্ট উঠা মানুষটা জানে, চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে চোখ মেলে রাখা কতেটা কষ্টের! জীবনে দু'চারটা হেরে যাওয়ার স্মৃতি থাক। এরা প্রতিকূল সময়ে মনে করিয়ে দিবে হেরে যেয়েও বেঁচে থাকা যায়, ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও জীবনের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। জীবনে দু'একটা ভুল বুঝাবুঝি থাকুক। যে ভুল বুঝাবুঝি সবসময় স্মরণ করিয়ে দিবে, নিজের সব সিদ্ধান্ত সঠিক হয় না। মানুষ ম...

আমরা কেউ আর দেশপ্রেমিক নেই

আগে মানুষ চোর ডাকাতদের ভয় পেতো। এখন আর এই যুগ নেই। যুগ পাল্টে গেছে। মানুষ এখন শিক্ষিত মানুষদের বেশি ভয় পায়। কেমন যেন বিতৃষ্ণার ভয়! এই ভয়, সম্মান দেখিয়ে ভয় পাওয়া নয়। এই ভয় অন্তরে অসম্মান নিয়ে বাইরে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া!   ৬ বছর ধরে ট্রেনে প্রায়শই সপ্তাহে সপ্তাহে যাতায়াত করি। ট্রেনে TTE থাকে, মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টও। এতো বছরে এক দুইজন TTE আর মোবাইল কোর্ট ছাড়া আর কাউকে তার কাজে সৎ থাকতে দেখি নাই! গায়ে সফেদ সাদা পোশাক, মুখে সুন্নতি দাঁড়ি রেখে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা যাত্রীদের থেকে উপঢৌকন নিচ্ছে তাও কোনো ডকুমেন্টস না দিয়ে। এই টাকা কখনো সরকারি খাতে যাবে না, যাবে এদের সিন্ডিকেটের ভাগবাটোয়ারাতে। কোনো যাত্রী যদি একটু টাকা কম দেয় কিংবা সহজ সরল হয়, এদের ব্যবহার এতোটা বাজে হয় যে দেখে বুঝায় যাবে না এরা ডিগ্রীধারী শিক্ষিত ভদ্রমানুষ! এর উপর ট্রেনে তো যাত্রীর থেকে হকার আর ভিক্ষুক বেশি। এক হকারের সাথে কথা বললাম, এদেরও নাকি উপঢৌকন দিতে হয় সিন্ডিকেটকে। আমরা যারা স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটি এবং মেয়ে মানুষদের যে কি ভোগান্তি হয় এই হকার আর ভিক্ষুকদের জন্য, তা কেবল আমরাই সামনে থেকে দেখি। অথচ পুরো রেলওয়ে খাতটা ...

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি। আমি বুঝি না, সংসারে দায়িত্বশীল হওয়া বেশি প্রয়োজন, নাকি যত্নবান! আমি এটাও বুঝি না, মানুষকে আসলে কিসে আঁটকে রাখতে হয়, দায়িত্ব নাকি যত্ন দিয়ে? একটা মানুষের জন্য ঠিক কতটুকু যত্নশীল হলে মানুষ আসলে ছেড়ে যায় না, ততোটুকু যত্নশীল কি আদোও হওয়া যায়? সবাইকে দিয়েও তো সব দায়িত্ব পালন হয় না। অথচ মানুষ কতো সহজে যত্ন কিংবা দায়িত্বের অভাব দেখিয়ে ছেড়ে চলে যায়! একদিন সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে যখন সংসারে মনোনিবেশ করতে যাবেন, তখন দেখবেন আপনাকে দিয়ে আর দায়িত্ব এবং যত্নের মাল্টি-টাস্কিং হচ্ছে না। দায়িত্ববান বাবা হতে গিয়ে, যত্নবান বাবা হতে পারছেন না। যত্নবান প্রেমিক হতে গিয়ে, দায়িত্বশীল স্বামী আর হয়ে ওঠা হচ্ছে না আপনাকে দিয়ে। বাস্তব সত্য এটাই যে, মেয়েরা প্রেমিক হিসেবে চায় যত্ন করতে পারে এমন ছেলেকে, আর স্বামী হিসেবে চায় দায়িত্ববান পুরুষকে। এ এক অমোঘ সত্য! এখন অনেকেই ভাবছেন, দায়িত্ব এবং যত্নের ব্যালেন্স করে নিলেই তো হয়। এমনটা কখনো সম্ভব হয় না। মাথায় দায়িত্ব নিয়ে চলা পুরুষ কখনো শতভাগ যত্নবান হতে পারে না। সংসারে মেয়েদের হতে হয় যত্নবান, ছেলেদের হতে হয় দায়িত্বশ...

আবেগের ঘোর লাগা কেটে গেলে আমরা ম্যাটারিয়ালিস্টিক হয়ে পড়ি

ক্লাস থ্রি-তে যখন বৃত্তি পেলাম, খুব ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় করছিলাম কখন বৃত্তির টাকা হাতে পাবো। সেই টাকা দিয়ে ক্যারাম বোর্ড কিনার তীব্র আশা নিয়ে বসে ছিলাম। সেই টাকা পেতে পেতে প্রায় ৬'মাস, ততোদিনে ক্যারাম বোর্ড কিনার সেই আগ্রহ একদম মরে যায়। এরপর জীবনে আর কখনো ক্যারাম বোর্ড কিনা হয়নি! এরপর যখন ক্লাস সেভেনে উঠলাম, সাইকেল কিনে দেয়ার বায়না ধরি। অনেক অভিনয় আর আকুতি-মিনতির পর যখন বুঝতে পারলাম কোনোভাবেই সাইকেল কিনে দেবে না, তখন নিজে টাকা জমানো শুরু করলাম। ৩ মাস লাগিয়ে তখন ৩৭৫/- টাকা জমাতে পেরেছিলাম পড়ার টেবিলের ড্রয়ারটায়। রোজ বেশ কয়েকবার করে খুলে দেখতাম টাকা ঠিকঠাক আছে কিনা! আর হিসেব করতাম পাঁচ হাজার হতে আর কতো টাকা বাকি। তারপর একদিন, এই ঝোঁকও মাথা থেকে নেমে গেল, যখন দেখলাম এতো টাকা জমাতে জমাতে আমি বুড়ো হয়ে যাবো! সেই টাকা দিয়ে ইচ্ছে মতো গল্পের বই আর ম্যাগাজিন কিনেছিলাম তখন। সাইকেলের কথা মনে পড়লেই, তিন গোয়েন্দা সিরিজে ডুব দিতাম। কিশোর,মুসা,রবিন এর মতো বন্ধু পাবার স্বপ্ন দেখতাম তখব।  এরপর সাইকেল কিনার মতো টাকা অনেকবার হাতে এসেছিলো, সাইকেলটা আর কিনা হয়নি! এভাবে নিজের ইচ্ছেগুলোকে ডাইভার্ট করা শিখ...

আমি আমার মায়ের কোলের মতো নিরাপদ, পবিত্র আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার একটা জীবন চাই

মানুষ আসলে কি চায়?  দুইদিন সমুদ্রে থেকে, নাবিক হয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। একদিন পাহাড়ে উঠে, এই পাহাড়ি জীবনে জন্মগ্রহণ না করার আফসোস করে। যান্ত্রিক জীবন নিয়ে হাপিত্যেশ আবার গ্রাম্য জীবনে জীবনযাত্রার মান পিছিয়ে পড়ার ভয়, তারা একদমই দ্বিধাগ্রস্ত!  মানু্ষ আসলেই কি চায়?  পুরো যৌবন বিজর্সন দিলো চাকরিটা পাওয়ার পেছনে। তারপর? তারপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই বন্ধুর চাকুরিটা নিজে না পাওয়ায় আফসোস করে বাঁচে । নিজের বেছে নেওয়া জীবিকার প্রতি তার তীব্র বিতৃষ্ণা শুরু হয়।  মানুষ আসলেই কি চায়?  একটুখানি যত্ন আর আহ্লাদের কাঙ্গাল প্রেমিক বেচারা কখন যেন এসব ভুলে গিয়ে দেহের কাঙ্গাল হয়ে পড়ে সে নিজেও বুঝতে পারে না। আসলেই একজন প্রেমিকের প্রকৃত অর্থে কি প্রয়োজন, যত্নের নাকি দেহের? অথচ দেহ আজ যত্রতত্র মিলে। সস্তাতেই আমাদের যত ঝোঁক!   এইদিকে বেচারি প্রেমিকা বেকার প্রেমিকের শূন্য পকেট আর আগন্তুকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মাঝে দ্বিধান্বিত হয়ে আছে। একদিকে চেনা মানুষটার সাথে স্বপ্নের ঘর বাঁধার বাসনা, অন্যদিকে অচেনা মানুষটার ঘরের ফার্নিচার হয়ে প্রবেশ!  মানুষ আসলেই কি চায়? ...