পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

উপলব্ধি

এই বয়সে এসে উপলব্ধি হয়, নিজের ব্যাপারে মানুষকে বুঝানোর চেয়ে মানুষকে বুঝা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। নিজেরে কারো কাছে প্রকাশ করতে, মেলে ধরতে কেমন যেন জড়তা কাজ করে। এর থেকে ভালো মনে হয় সামনে থাকা মানুষটাকে বুঝি, সে কি চায় সে অনুযায়ী আচরণ করি। সেও খুশি,আমিও রেহাই পেলাম!  এখন কেন জানি জ্বর উঠলে "ঔষুধ খাইনি কেন?", তার এক্সপ্লেইনেশন আর কাউকে দিতে ভালো লাগে না। কিভাবে বুঝায়, ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মাথায় পানি দিয়ে, গা মুছিয়ে দিয়ে জোর করে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে, ঔষুধ খাইয়ে দেওয়া মানুষটা যে আর যে নেই। ঔষুধ যে এখন বড্ড তিক্ত লাগে! নিজের শখ-আহ্লাদের কথা এখন আর কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। কারণ মানুষ প্রচন্ড ব্যস্ত। গল্প শুরু করার আগেই শেষ করার তাগিদ দেওয়া শুরু করে। কী দরকার, অযথা কারো সময়ের ভাগীদার হওয়ার!  এখন আর অসুস্থ আছি নাকি মন খারাপ, তাও কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। তারপর কতো প্রশ্নের সম্মুখীনের হতে হবে এই ভেবে! যেই আমি'টার মন খারাপ নাকি অসুস্থ, তা চেহারা দেখেই কেউ বুঝে যেতো, মুখ ফুঁটে বলার আগেই বুঝে যেত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া উচিত, সেই আমি'টা এখন এই আদরের অভাবে তীব্র মন খারাপ লুকিয়ে হাসি...

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি। আমি বুঝি না, সংসারে দায়িত্বশীল হওয়া বেশি প্রয়োজন, নাকি যত্নবান! আমি এটাও বুঝি না, মানুষকে আসলে কিসে আঁটকে রাখতে হয়, দায়িত্ব নাকি যত্ন দিয়ে? একটা মানুষের জন্য ঠিক কতটুকু যত্নশীল হলে মানুষ আসলে ছেড়ে যায় না, ততোটুকু যত্নশীল কি আদোও হওয়া যায়? সবাইকে দিয়েও তো সব দায়িত্ব পালন হয় না। অথচ মানুষ কতো সহজে যত্ন কিংবা দায়িত্বের অভাব দেখিয়ে ছেড়ে চলে যায়! একদিন সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে যখন সংসারে মনোনিবেশ করতে যাবেন, তখন দেখবেন আপনাকে দিয়ে আর দায়িত্ব এবং যত্নের মাল্টি-টাস্কিং হচ্ছে না। দায়িত্ববান বাবা হতে গিয়ে, যত্নবান বাবা হতে পারছেন না। যত্নবান প্রেমিক হতে গিয়ে, দায়িত্বশীল স্বামী আর হয়ে ওঠা হচ্ছে না আপনাকে দিয়ে। বাস্তব সত্য এটাই যে, মেয়েরা প্রেমিক হিসেবে চায় যত্ন করতে পারে এমন ছেলেকে, আর স্বামী হিসেবে চায় দায়িত্ববান পুরুষকে। এ এক অমোঘ সত্য! এখন অনেকেই ভাবছেন, দায়িত্ব এবং যত্নের ব্যালেন্স করে নিলেই তো হয়। এমনটা কখনো সম্ভব হয় না। মাথায় দায়িত্ব নিয়ে চলা পুরুষ কখনো শতভাগ যত্নবান হতে পারে না। সংসারে মেয়েদের হতে হয় যত্নবান, ছেলেদের হতে হয় দায়িত্বশ...

আবেগের ঘোর লাগা কেটে গেলে আমরা ম্যাটারিয়ালিস্টিক হয়ে পড়ি

ক্লাস থ্রি-তে যখন বৃত্তি পেলাম, খুব ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় করছিলাম কখন বৃত্তির টাকা হাতে পাবো। সেই টাকা দিয়ে ক্যারাম বোর্ড কিনার তীব্র আশা নিয়ে বসে ছিলাম। সেই টাকা পেতে পেতে প্রায় ৬'মাস, ততোদিনে ক্যারাম বোর্ড কিনার সেই আগ্রহ একদম মরে যায়। এরপর জীবনে আর কখনো ক্যারাম বোর্ড কিনা হয়নি! এরপর যখন ক্লাস সেভেনে উঠলাম, সাইকেল কিনে দেয়ার বায়না ধরি। অনেক অভিনয় আর আকুতি-মিনতির পর যখন বুঝতে পারলাম কোনোভাবেই সাইকেল কিনে দেবে না, তখন নিজে টাকা জমানো শুরু করলাম। ৩ মাস লাগিয়ে তখন ৩৭৫/- টাকা জমাতে পেরেছিলাম পড়ার টেবিলের ড্রয়ারটায়। রোজ বেশ কয়েকবার করে খুলে দেখতাম টাকা ঠিকঠাক আছে কিনা! আর হিসেব করতাম পাঁচ হাজার হতে আর কতো টাকা বাকি। তারপর একদিন, এই ঝোঁকও মাথা থেকে নেমে গেল, যখন দেখলাম এতো টাকা জমাতে জমাতে আমি বুড়ো হয়ে যাবো! সেই টাকা দিয়ে ইচ্ছে মতো গল্পের বই আর ম্যাগাজিন কিনেছিলাম তখন। সাইকেলের কথা মনে পড়লেই, তিন গোয়েন্দা সিরিজে ডুব দিতাম। কিশোর,মুসা,রবিন এর মতো বন্ধু পাবার স্বপ্ন দেখতাম তখব।  এরপর সাইকেল কিনার মতো টাকা অনেকবার হাতে এসেছিলো, সাইকেলটা আর কিনা হয়নি! এভাবে নিজের ইচ্ছেগুলোকে ডাইভার্ট করা শিখ...

যন্ত্র ও আমরা

আমরা যারা যন্ত্রের সাথে জীবনযাপন করি, তাদের আর স্যোসাইটি ভালো লাগে না, একটা সময় এসে মানুষকে অসহ্য লাগা শুরু হয়। এই স্যোসাইটির মানুষ থেকে পালিয়ে বাঁচতে মনে চায় তখন, চার দেয়ালবন্দী ঘরকুনো জীবনযাপন করতে ভালো লাগে। চারপাশের মানুষের কথাবার্তা, বেমানান উপদেশ সবকিছুকে অপ্রীতিকর লাগে। তারপরও হাসিমুখে অভিনয় করে সবকিছু চুপচাপ সহ্য করে নিই আমরা।  বেশকিছু প্যারামিটারে যন্ত্র সঙ্গী হিসেবে মানুষ থেকেও ভালো, সামাজিকতা থেকে যান্ত্রিক সভ্যতা আরো ভালো! রোবটিক মুভিতে কিংবা সায়েন্টফিক ডকুমেন্টারিতে মানুষের জায়গায় যন্ত্রের যেই বিকল্প দেখানো হয়, সেই ভবিষ্যত আর বেশি দূরে নয়। মাঝে মাঝে থিসিস, রিসার্চ, প্রজেক্ট এসব দেখে মনে হয় সে ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে বর্তমান হয়ে পড়েছে! আমার স্মার্টওয়াচ আমাদের প্রতিদিন নিয়ম করে পানি পান করার রিমাইন্ডার দিচ্ছে, স্লিপ মনিটর করছে, ফিটনেস দেখাচ্ছে। ঘড়িটা প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুম থেকে তুলছে। রোবট থাকলে ঘরের কাজগুলোও করে দিবো। ইমোশনালেস একটা মানুষের প্রাত্যহিক যতো চাহিদা আছে যন্ত্র সব কাজ করে দিতে সক্ষম বলা যায়। এরা টক্সিক না, এরা প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় আরো।  সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যন্ত্...