পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়

একদিন এই নীরব যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরবো। এই যুদ্ধে পাওয়া আর হারানোর হিসেব এর আর কোনো মূল্য থাকবে না তখন। যা কিছু হারাবার তা মেনে নিয়ে যা কিছু পেয়েছিলাম, তাও পেছনে ফেলে একদম রিক্ত শূন্য হাতে বাড়ি ফিরবো। একদম একা, নিঃস্ব হয়ে পার্থিব সব চাহিদা ভুলে গিয়ে বাড়ি পৌঁছাবো সেদিন! মাথার উপর বিশাল আকাশটার কয়েক হাত দেখতে পাবো শুয়ে শুয়ে। ঘাড় ফিরিয়ে সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যাবে না, পূর্ণিমার আলো দেখতে পেলেও চাঁদ টাকে দেখতে পাবো না ঠিক মতো।  সেদিন ফেলে আসা মানুষ, রেখে আসা কর্ম নির্ধারণ করবে আমার সেই চিরস্থায়ী স্থান হবে নেক্রপলিসে নাকি অতিসাধারণ কোনো কবরস্থানে। আমার নামের পাশে লিখা পড়াশোনা, পদমর্যাদা, পেশা সবকিছু মুঁছে গিয়ে এপিটাফে লিখাগুলো হবে আমার আসল পরিচয়। মেডিটেশন করতে যেই আর্টিফিশিয়াল মিউজিক শুনি শব্দ দূষণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে, তখন আর এর প্রয়োজন হবে না। ঝিঁঝি পোকাদের রিরি শব্দ আর বাতাসের মৃদু গুঞ্জন আমায় অতল ঘুমে তলিয়ে দিবে! 

Passion ছেড়ে Professional হয়ে উঠে চব্বিশের সদ্য গ্রেজুয়েট!

দুই যুগ পার করে ফেলা যুবকের ঠোঁটের কোণে ক্লান্তির হাসি। ফেলে আসা বয়সের সমীকরণ মিলাতে গেলে কেন যেন ফলাফল শূন্যে এসে নামে বারবার। এই যে পাওয়া না পাওয়ার দায়ভার, তা কেবল একান্তই নিজের কাঁধেই নিতে হয়। যে বয়সে এসে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতো সে, সেই বয়সে এসে যখন বুঝতে পারে পায়ের নিচের মাটি-ই এখনো শক্ত করতে পারেনি সে!  নিজের চাহিদার কথা কাউকে বলতে না পারার যেই হাপিত্যেশবোধ, একে একে স্বপ্নগুলো অপূর্ণ থেকে যাওয়ার যেই ক্লান্তি, তা নির্ঘুম এই দুচোখের দিকে তাকালে যে-কেউ বুঝতে পারবে। এই দুই যুগে দুই ডজনেরও বেশি মানুষ হারিয়েও নির্বাক যুবক। নিবার্ক না হওয়ারও কারণ দেখছি না! রোজ নিয়ম করে মানুষ আসে, নিয়ম করে মন ভেঙে দিয়ে যেতে যেতে মনকে পাথর করে দিয়ে গেছে। এখন আর পাথরের প্রাচীর ভেদ করে ওপাশটায় পৌঁছায় না কিছু।  জীবনকে গতিশীল ভাবতে ভাবতে এতো এতো মানুষকে পেছন ফেলে আসতে হয়েছে যে, এখন আর নিজের মানুষ, নিজের আত্মীয়স্বজন বলতে আর কেউ নেই। সাফল্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে উপলব্ধি করতে পারছে যে, দিনশেষে সাফল্য এক মরীচিকা মাত্র। এই মরীচিকা নামক গন্তব্যের দূরত্ব অসীম।  এই দুই যুগ পেরোনো বয়স, বাকি চার যুগ বাঁচার ...

High valued Partner

Rafsan Sabab, Esha, এবং Xefer-এদের ঘটনায় আমি জানি না রাফসান এর দোষ কতটুকু, ঈশা-ই-বা কতটুকু নির্দোষ, জেফার-ই-বা কতটুকু খারাপ! এদের কারোরই ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলানোর অধিকার আমাদের নেই। হ্যা, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি অন্যায়ের। কিন্তু সেটা জেনে, বুঝে করা উচিত। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারটাকে নিয়ে রীতিমতো ট্রল, মিম বানিয়ে নিজেদের পার্সোনাল এ্যাটাকে নিয়ে যাচ্ছি। ব্যাডা জাত, হেহ হেহ, ব্যাডি মানুষ, হেহ হেহ , ফালতু সব ক্যাপশন দেখতে পাচ্ছি। প্রতিবাদের নামে বডি শেমিং করছি আমরা। একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের চরিত্রে আঙ্গুল তুলতে দেখছি কত সহজে! এই যুগে Cheat করা অনেক সহজ  কাজ। আমরা একে রীতিমতো  Coolness এবং  Social Taboo বানিয়ে ফেলেছি। অধিকাংশ ছেলেদের আড্ডার হট টপিক কয়টা মেয়ের সাথে ডেট করলো,অধিকাংশ মেয়েদের আড্ডার টক অফ দ্যা টেবিল, " কার কয়টা বয়ফ্রেন্ড, কোনটা বেটার"। যখন জৈবিক চাহিদা এককেন্দ্রিক না থাকলে আর নীতি-নৈতিকতার মৃত্যু ঘটলে তখন Cheat করা , পরকীয়া করা ব্যাপারগুলোর উদয় ঘটে।  আমাদের হাতে এখন প্রচুর অপশন, অনেক অপরচুনিটি। কারণ, এখন আর মানুষ আগের মতো ভালো মন, পবিত্র ভালোবাসা খুঁজে ...

একটা বিকেল থাকুক, একান্তই আমার

আমার অধিকাংশ বিকেল কাটে বারান্দায় বসে। কখনো চায়ের কাপে, কখনো কফির মগের সাথে মস্তিষ্কের তীব্র বুঝাপড়ার মধ্য দিয়ে আমার কত-শত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এই বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামা, আমাকে আমার জীবনের যে আয়ু ফুরিয়ে আসছে, তা মনে করিয়ে দেয়। এই বিকেল বেলায় আমার কাজকর্মে জড়তা এসে ভর করে। টিউশনে যেতে মনে চায় না, কাজ করতে মনে চায় না, টেবিলে বসলে কেমন যেন এক অস্থিরতা কাজ করে! তখন উদভ্রান্ত মন নিয়ে বারান্দায় এসে বসি।  নিভু নিভু সূর্যের নিস্তেজ হয়ে পড়া আমাকে আমার শেষ বয়সের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমন একটা দিন আসবে, যেদিন এই মস্তিষ্ক আর আগের মতো শার্প কাজ করবে না, স্মৃতি হাতড়ে বের করতে পারবো না সামনের বসে থাকা মানুষটার নাম। তারপরও কি এক অদ্ভুত অসীমের দিকে ছুটে চলা আমাদের! অস্ত যাওয়া সূর্যটা কাল নিয়ম করে ঠিকই ফিরে আসবে, কিন্তু ফুরিয়ে যাওয়া জীবন আর ফিরে পাওয়া যাবে না!  জড়তা নিয়ে যেমন প্রেমিকার কপালে চুমু খেতে পারে না কোনো প্রেমিক, তেমনিভাবে এতো শত-শত দায়িত্ব আর কর্তব্যের ভীড়ে জীবন উপভোগ করা যায় না। এরপরও জীবন একটা-ই, একে নিজের মতো করে সাঁজিয়ে নিতে হয়। নিজের মতো করে উপভোগ্যকর...