Monologue 22

 রাত ৯:০৫। হাতে ওয়ান টাইম চায়ের কাপ নিয়ে ফুটপাতের ওপর বসে আছি। রাত নয়টার পর থেকে কুমিল্লা শহর আস্তে আস্তে নীরব হতে শুরু করে। পৌরসভার এই দিকটা আরো তাড়াতাড়ি যেন নীরব হয়ে যায়। এ সময়টায় এভাবে ফুটপাতের ওপর চুপচাপ বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে। এই ফুটপাতে ভিক্ষুকরা বসে ভিক্ষে করে, মুচি বসে জুতা সেলাই করে, প্রেমিক-প্রেমিকারা বসে আড্ডায় দেয়, অনেকে সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে এখানে এসে সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্লান্তি ভুলে।

ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি আর সাতপাঁচ ভাবছি। পাশ থেকে একজন সিগারেট বাড়িয়ে দিলো হাসিমুখে। আমি ভদ্রতা সুলভ হাসি দিয়ে বললাম," সরি ভাইয়া, আমি স্মোক করি না, তবে ধন্যবাদ আপনাকে "। এরপর দীর্ঘ এক আড্ডা হলো উনার সাথে। আড্ডার প্রতিপাদ্য ছিলো," এই সিগারেটের খাতিরে কতোজনের সাথে পরিচয় হয়! ছেলেরা আসলে ওয়ানটাইম কাপে চা খেলেও একই সিগারেটের ফিল্টারে কয়েকজন মিলে ফুঁকতে দ্বিধাবোধ করে না "। কী অদ্ভুত এক আলোচনা করলাম এতোক্ষণ! আড্ডা ছেড়ে দু'জনেই উঠে রওয়ানা দিলাম। হাঁটছি আর ভাবছি," বদ অভ্যেস থাকা সবাই কী এমন ইন্টেলেকচুয়াল হয়?" হয়তো হয়। আমার জীবনে অধিকাংশ ভাইদেরই এমন দেখেছি। এক ভাই তো সারাক্ষণ নেশায় বুদ হয়ে থাকে, তারপরও নাকি ডিপার্ট্মেন্টের ব্যাচ টপার, মিশুক প্রকৃতিরও। এই মিশুক প্রকৃতির স্বভাব আর রুচিশীলতা হয়তো সবচেয়ে সুন্দরী আপুটাকে উনার প্রেমিকা বানিয়ে দিয়েছে ! তবে, দিনশেষে কোথায় যেন উনাদের আমি হারু পার্টির দলেই দেখতে পাই। অনেক কিছু থেকেও যেন তাদের অনেককিছু নেই! 

গলির রাস্তাটায় দেখতে পেলাম এক ভাই আপুকে স্কুটি চালানো শিখাচ্ছে। সম্ভবত, আজকেই প্রথম দিন। খুব লম্বা ব্রিফ দিচ্ছে। ভাইয়াকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে আপু বেশ রাগি রাগি গলায় বলছে, "তোমাকে তো বলেছি আমি এসব চিনি, তুমি শুধু আমাকে একটু ব্যালেন্সিং করাটা শিখিয়ে দাও"।

"আরেহ, তোমাকে ব্যালেন্সিং শিখার আগে তো ব্র্যাক আর স্টার্ট দেওয়া শিখতে হবে। ব্যালেন্সিং অনেক পরের বিষয়।"

এসব কথা শুনতে শুনতে ক্রস করে যাওয়ার সময় এদের কথাবার্তায় বুঝতে পারলাম উনারা স্বামী স্ত্রী। এ যুগে এমন সাপোর্টিভ স্বামী পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। সারাদিন কাজ করে এসে রাতে আবার স্ত্রীকে নিয়ে স্কুটি শিখাতে বের হওয়া! এ শহরের কয়টা স্বামী করে এমন? এমন ভাইয়াদের জন্যই হয়তো ইদানীং কুমিল্লা শহরে মেয়ে বাইকার এবং স্কুটি চালক বেশ চোখে পড়ছে। জিনিসটা মন্দ না, বেশ পজিটিভ। 

আমি হাঁটছি আর ভাবছি, দিনশেষে দুই-একটা বদ অভ্যেস থাকলে হয়তো মন্দ হতো না। এই একাকীত্ব আর ক্লান্তির দায়ভার সব বদঅভ্যেসের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজে বেশ থাকতে পারতাম। পরক্ষণে মনে হয়, একটা বয়সের পর এসে এসবের জন্য অনুশোচনা করার চেয়ে কোনো বদঅভ্যেসে না জড়ানোটায় বরং ভালো। 

হাটঁছি আর ভাবছি, একটা সাপোর্টিভ মানুষ পেলেও মন্দ হতো না, বরং বেশ ভালোই হতো। দিনশেষে সবাই একটা কাঁধ খুঁজে, একটা আশ্রয় খুঁজে। পরক্ষনে মনে হয়, এসব ভাগ্যের বিষয়। সবার কপালে জুটে না।  এ জীবনে কে রাখে কার খোঁজ!  সবকিছু ক্ষণিকের জন্য সুন্দর। 

#Monologue_22

রাত ৯:৪৫, মঙ্গলবার

২২ই আগস্ট ২০২৩ইং

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest