পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না

একটা সময় পর্যন্ত আমি আমার জীবনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোর আগা-মাথা মিলাতে পারতাম না। তখন শুধু মনে হতো, "এসব জিনিস আমার সাথেই কেন ঘটছে। আমার সাথে যত্তসব অন্যায় করতেছো খোদা"। তখন সব দোষ খোদার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে সহানুভূতি দিতাম। সেই ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে করতে শৈশবের একটা বড় অংশ পার করলাম। একদিন টেবিলে বসে অংক মিলাতে মিলাতে মনে হলো, "খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না। অংকের মতো সমাধান আগেই বের করে রাখেন তারপরও অংকের সমাধান খুঁজতে পৃথিবীতে পাঠান। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর ব্যস্ত হয়ে যায় আমোদ-প্রমোদে! ফুর্তি করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেই কেবল খোদাকে স্মরণ করি।"  আশ্চর্য, করতেছিলাম বীজগণিতের সরল অংক কিন্তু এসব আমার মাথায় কেন আসছিলো!!!  জীবনের একটা সময় পর্যন্ত আমার অভিযোগ আর অভিমানের সীমা ছিলো না। অনেক ভেবে দেখলাম, যে সময়টা পর্যন্ত আমি পরনির্ভরশীল ছিলাম সে-সময়টায় আমার সবথেকে অভিযোগ আর অভিমানবোধ বেশি কাজ করতো। চা যখন আপুরা বানিয়ে এনে সামনে দিতো, তখন চায়ে চুমুক দিয়ে দুধ-চিনি পরিমাণ নিয়ে সে কি অভিযোগ আমার! আম্মা রান্না করে খাবার যখন প্লেটে বেড়ে টেবিলে দিয়ে যেত, তখন ...