পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জীবন যেন একটা স্যুটকেস

একটা সময় পর,জীবন যেন একটা স্যুটকেস এর মতো হয়ে যায়।আজকে এক জায়গায় তো, কালকে আরেক জায়গায়। কখনো এখানে তো, কখনো সেখানে।আবার কোনোদিন অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে ঘরের কর্নারে। স্যোসাইল স্ট্যাবিলিটি আনতে গিয়ে এ যেন, জীবনের স্ট্যাবিলিটির বারোটা বেজে যায়! রাত্রি বেলা ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরও মনে হয়, মাথায় ভেতর শব্দ করে মস্ত বড় একটা ট্রেন চলছে! 

একটা প্রস্টিটিউটরে প্রমোট করা থেকে থামেন ভাই

NSU এর যে মেয়েটার চ্যাট ভাইরাল হলো, প্রথমবার দেখে খুব অবাকই হয়েছিলাম এই ভেবে যে, একেই হয়তো 'পশ প্রস্টিটিউশন' বলে, এভাবেই হয়তো ডিল করে! কিন্তু সবথেকে বেশি অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে এই মেয়েটার চ্যাট রীতিমতো 'Talk of the Town'। বিশেষ করে এই মেয়ের একরাত্রি 25k ব্যাপারটা!  সকাল থেকে দেখছি, অনেকেই এই মেয়ের রেট নিয়ে খুব কথাবার্তা বলতেছে স্যোসাইল মিডিয়াগুলোতে। সব থেকে বাজে যে ব্যাপারতা হলো,মেয়েরাই এই মেয়েকে নিয়ে বেশি ট্রল করতেছে। এদের ক্যাপশন অনেকটা এমন যে, "৬৯ টাকার জিনিস ২৫ হাজার হয় কেমনে?"  "মুদ্রাস্ফীতির ফলে আজ ২৫০ টাকার জিনিস ২৫ হাজার!"  " বছরে ৯১ হাজার 😲"  ....................ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তাভাবনা কোথায় গিয়ে পৌঁছালে মানুষ এভাবে একটা Prostitute কে প্রমোট করতে পারে। এরা ভাবে এসব নিয়ে ট্রল করলে নিজেরা সুশীল। কিন্তু আমি তো এদের মানসিকতার সাথে সুশীল সমাজের বিস্তর ফারাক দেখি! মেয়েটা ইনবক্সে গিয়ে করেছে, যা করেছে। ছেলেটাও কম দোষী না। সেই প্রথম অফার করেছে, এবং মেয়েটা প্রশ্রয় দিয়েছে। অথচ ছেলেটাকে নিয়ে কোথাও কথা হচ্ছে না। উত্তেজনা সঠিক জায়গায় না উঠ...

আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে!

বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে! এমন ঝুম বৃষ্টির বেশ কয়েক রাত আমি স্টেশনে বসে কাটিয়েছি ট্রেনের অপেক্ষায়।টিউশন থেকে ফিরতে গিয়ে কত বার যে মাঝরাস্তায় আটকা পড়ে ছিলাম এমন ঝুম বৃষ্টির জন্যে। মন খারাপবোধটা এসব অভিজ্ঞতার জন্যও না। আমার ঝুম বৃষ্টির ভয় অন্য কারণে।এমন মুষলধারে বৃষ্টি হলেই মনে হয় কোথায় কার সদ্য কবর থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে, কোথায় কোনো এক মা যেন ফুটো টিনের চালার ঘরে তার সন্তানকে আগলে ধরে বসে আছে বৃষ্টি থামবার অপেক্ষায়!

Dear GEN-Z

Dear GEN-Z, সংগ্রাম করে পুরো একটা দেশ স্বাধীন করলা, স্বৈরাচারের পতন ঘটাইলা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরের স্বৈরাচারকে এখনো দূর করতে পারতেছো না! সংগ্রাম করলা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। বিজয়ীও হইলা। কিন্তু লাভটা কি হইলো বলো তো আমারে? বড় ভাইদের পেছনে গিয়া শো-ডাউন দিতেছো, সহমত ভাই মনোভাব নিয়ে ঘুরতেছো, গর্ত থেকে বের হয়ে নিজেরে সমন্বয়ক দাবিদার ভাইয়েরা যা বলতেছে তাই করতেছো। একবারও মনটারে জিজ্ঞাইতেছো না, এই ভাইয়েরা যেই যেই কাজ করাইতেছে তোমাদের দিয়া তা কী আদো উপকারী, সমাজের ভালো হচ্ছে নাকি শুধুই সময় আর এনার্জি নষ্ট হইতেছে?  গত একটা সপ্তাহ ধরে এলাকায় থাকলাম। খুব আশা নিয়ে আসছিলাম, নিজের এলাকার পরিবর্তন দেখবো স্বচক্ষে। আমার মনে হয় না খুব একটা পরিবর্তনমূলক কিছু করে যেতে কিংবা দিয়ে যেতে পারছি! আমি ব্যর্থ হইলাম, আমার মনে হয় আমার সাথে ব্যর্থ তোমরা অনেকেই।  কথা ছিলো, আমরা সমাজের মূল ধারায় পরিবর্তন করবো। কিন্তু পরিশেষে দেখলাম আমরা নিজেরাই সমাজের মূল ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলাম!  খালি দেশ স্বাধীন, দেশ স্বাধীন বইলা না চিল্লাইয়া, একটু ভাবতে বইসো, একটু ক্রিটি...

QuotaReformProtest

যেই ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ছেড়ে লং মার্চে গেলো, যারা পরিবার ছেড়ে রাজপথে নামলো, তারা এখনো বাড়িও ফেরেনি। এর মাঝে আপনারা এক্সপোজার নেয়া শুরু করলেন বাড়িতে বসেই?  আপনার এই এক্সপোজার নেওয়া বিবেক নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেন?   একটা দল ক্ষমতা না ছাড়তেই আরেকটা দল এসে ক্যাম্পাসে শো ডাউন দিয়ে যায়, ভাংচুর করে, সংখ্যালঘুদের লুটপাট করে আগুন দিয়ে যায়! এভাবে খালি এক্সপোজার পাওয়ার চিন্তা করলে দেখবেন দেশে আবার অগণতন্ত্রই আসবে। লীডারের নামে নেতা আসবে, ছাত্রসংসদের নামে ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকদের নামে অযোগ্য-ব্যক্তিত্বহীন-ছাপোষা চাকুরিজীবী!  

QuotaReformProtest

পুরো একটা জেনারেশন যেন কিংবদন্তির ফিনিক্স পাখি হয়ে পড়েছে। ফিনিক্স, যে পাখি আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে আবার সেই ছাই হতেই পুনরায় জন্মায় পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে। এই জেনারেশন, যাদেরকে ভেবেছিলো দুই-চার দিন প্রতিবাদ করে থেমে যাবে, কিন্তু তারা থামলো না! এরপর ভাবা হলো দুই-চার টাকে গুলি করে মারলে দমিয়ে দেওয়া যাবে পুরো জেনারেশনটাকে, কিন্তু শত-শত ছেলে-মেয়েকে হত্যা করার পর দেখা গেলো কিংবদন্তির এই ফিনিক্স পাখিরা ফিরিয়ে এসেছে শত-শত ছেলে-মেয়েদের রূপে পূর্বের থেকে বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে!   যে প্রজন্মকে নিয়ে একটা সময় আমরা হতাশ ছিলাম, যাদের 'পোলট্রি জেনারেশন' মনে হতো সেই একটা গোটা জেনারেশন জাতির জন্য অনেক বড় উদাহরণ রেখে যাচ্ছে যে কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয় তার। আসলে যে প্রজন্ম জন্মের পর থেকেই বৈষম্য, অন্যায়, আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে দেখে বড় হচ্ছে, তাদের ভেতর ক্ষোভ, ঘৃণা আর হতাশা জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। আমরা যখন দেখতে পেলাম বইয়ের পাতার সাথে দেশের পলিসির কোনো মিল নেই, বইয়ের লিখার সাথে নিজের দেশের ডেমোক্রেসির কোনো মিল নেই, দেশপ্রেমিকের নামে মুখোশ পরিধান করা হাজার কোটি টাকা ...