Monologue-24
বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছি। বাস একদম খালি, ছাড়তে নাকি দেরি হবে। ৫ মিনিট পর আরেকটা বাস ছাড়বে। ওইটা এসি। এসিতে উঠবো কি উঠবো না, দ্বিধাদ্বন্দে আছি। খোলা জানালার পাশে বসে বাতাসের সাথে শীতের কুয়াশার আবাসটা মিস করবো বদ্ধ এই এসি বাসে ওঠলে। অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে নন এসির একদম ড্রাইভার মামার পেছনের সিটের টিকেট কাটলাম। টিকেট নাম্বার-৪, একদম জানালার পাশে। যেহেতু আমিই প্রথম যাত্রী, তার উপর তিশা প্লাস। তারমানে বাস ছাড়তে অনেক দেরি। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলছে, সময় হলেও যাত্রী না হলে বাস ছাড়বে না উনারা। সময় কাটানোর জন্য অগত্যা ব্যাগ থেকে, " The Art of Reading Mind" বইটা নিয়ে পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।
একে একে যাত্রী ওঠতে শুরু করলো। সবাইকে কন্ডাক্টর ভাই বেশ জোড় গলায় বলছে,"শেষ ট্রিপ। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে দিবে তাড়াতাড়ি উঠেন"। ঘড়ির দিকে তাকালাম, প্রায় ৩০ মিনিটের উপর হয়ে গিয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময় আরো ১০ মিনিট আগে পার হয়ে গিয়েছে। বিরক্তি লুকানোর জন্য বইয়ের সূচিপত্রে গিয়ে ইন্টারেস্টিং চ্যাপ্টার খোঁজা শুরু করেছি৷
কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বেশ চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। সবাই বেশ রাগ ঝাড়ছে, নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কেন বাস ছাড়ছে না। আমি চুপচাপ বিরক্তি চেপে বইয়ে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। পাশে বসে থাকা যাত্রী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আমাকে জিজ্ঞেস করছে," ভাই আপনি কিছু বলছেন না কেন? সবাই বললেই তো বাস ছেড়ে দেয় এরা"।
"দেখুন এটা উনাদের আজকের দিনের লাস্ট ট্রিপ। এখন যতগুলো সিট ফিলআপ করতে পারে উনাদেরই লাভ। আমার তাদের সার্ভিস সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা আছে। এখন আমার তাড়াহুড়োর জন্য যদি উনি দুইটা যাত্রী কম নেয়, তাহলে আমার দ্বারা উনাদের ক্ষতি হলো। শুধু শুধু দরকার কী উনাদের রিজিক নষ্ট করার। বাসে তেমন ইমার্জেন্সি রোগীও দেখছি না যে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। আমার তেমন তাড়া নেই, তাই কিছু বলছি না। আপনাদের তাড়া থাকলে বলুন উনাদের অথবা সামনের এসিতে চলে যান"।
উত্তর পেয়ে পাশে বসা যাত্রী কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ড্রাইভার মামা বাস ছেড়ে দিলো অবশেষে। আমি পুনরায় বইয়ের পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।
বাস কাঁচপুর ব্রীজ পেরিয়ে গেল। এর মাঝে যাত্রীরা বেশ কয়েকবার লাইটগুলো নিঁভিয়ে দিতে বললো। ড্রাইভার মামা পেছনের সবগুলো লাইট নিভিয়ে দিলেও সামনের সারির লাইট অফ করেনি। সামনের দিকের যাত্রী অবজেকশান দিচ্ছিলো বারবার। মামার হয়তো ঘুম পাবে সামনের দিকের লাইট অফ করলে তাই অফ করেনি, এটা ভেবে আমি আবার বইয়ে মনোযোগ দিলাম।
কাঁচপুর ব্রীজ আসার পর হঠাৎ মনে হলো মামা আমার জন্য আবার লাইট অন রাখেনি তো! বইটা তাড়াতাড়ি বন্ধ করে ব্যাগে রেখে মামার দিকে তাকালাম। মামা স্ট্যারিং ঘুরাতে ঘুরাতে লুকিং গ্লাস দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো। ফিরতি মুচকি হাসি দিয়ে আমি ইশারা দিলাম লাইটটা অফ করে দিতে পারেন৷ উনি লাইটা অফ করে দিলো! পাশের যাত্রীদের দিকে তাকালে বিব্রতবোধ করবো। তাই জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বাতাসে শীতের কুয়াশার ঘ্রাণ অনুভব করার চেষ্টা করছি।
ব্যবহার, কী এক আশ্চর্য রকমের জিনিস! মানসিকতা ভেদে এক জায়গায় ঢাল তো আরেক জায়গায় তলোয়ার ❤️
#Monologue-24
18 October 2023
Wednesday, 11:17 PM
মন্তব্যসমূহ