পোস্টগুলি

উৎসর্গে প্রলাপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

কালবেলার নিউজে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্টাফদের ব্যক্তিগত তথ্য (প্রায় ৭০ জিবি ডাটা) হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের কর্মকতার মাঝে তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই দেখা গেল না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা তো বাদই দিলাম! সেই কর্মকর্তা দেখলাম বেশ কনফিডেন্ট নিজের সিস্টেম নিয়ে, আবার বলছেন এই হ্যাক করার প্রচেষ্টা নাকি গত দুবছর ধরে চালাচ্ছিলো, এখন এসে সফল হয়েছে, তার উপর ৭০ জিবির ডাটার ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন রীতিমতো! কথা হলো, দু'বছর ধরে চেষ্টা করে থাকলে তাদের এই দুবছরে ডিফেন্স মেকানিজম কি ছিলো ?  দুবছরে একবারও টের পায় নাই? এই সিস্টেম এ ঢুকতে দুই বছর? নিরাপত্তায় পুলিশ না রেখে চুরি হওয়ার পর চুরি হওয়ার ব্যাপারটাকে অস্বীকার করলে চোরদেরই লাভ। চোরেরা বসে বসে তো মুচঁকি হাসবেই!  মাস ছয়েক আগে সাত কলেজের এক ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা হয়েছিলো এক একাউন্ট দিয়ে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে। কৌতুহলবশত সার্ফিং করতে গিয়ে খেয়াল করলাম ঢাবির ডাটাবেজ লিংকড কিছুক্ষেত্রে। আমি সিকিউরিটি সেক্টরে বলতে গেলে একদম ন্যুব। এখনো তেমন কিছুই জানি না ভালো করে। কলেজের সাইটট...

রেখেছে দখল করে আশৈশব আমার একালা

আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম এটা শুনে যে প্রেমিকের লিখা পড়ে প্রাক্তন প্রেমিকা যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে অন্যের সাথে সে পাগল হয়ে যেতে পারে! সেদিন বিষ্ময় নিয়ে, "যে জলে আগুন জ্বলে" কবিতাগুলোর লাইনগুলো পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম প্রেমিক হলে এমনই হওয়া উচিত। প্রাক্তন হলেও, যার প্রতি কমেনি সম্মান একটুও। উনার অধিকাংশ কবিতায় ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার মানুষটাকে না পাওয়ার হাহাকার! নিজের লিখা পড়ে কবির প্রাক্তন প্রেমিকা হেলেন মানসিক ভারসাম্য হারায়,স্বামী ডিভোর্স দিয়ে দেয়, এই অনুশোচনায় হেলাল হাফিজ আর বিয়ে-থা করেননি। তারপর অর্ধ যুগ গেল, এই মানুষটাকে আমি চিনে গেলাম কবিতার লাইনেই। যার মৃত্যু ঘটলো চরম নিঃসঙ্গতায়!  যে প্রেম শেখালো, তার কি নির্মম প্রেমহীন মৃত্যুবরণ! তারপর আমি বিশ্বাস করতে শিখলাম মরণশীল মানুষের লিখা ও প্রেম, মানুষকে অমর করে রাখে! ওপারে এই মানুষটা যেন ভালোবাসা পায়। প্রতীক্ষায় থেকো না আমার আমি আসবো না, থাকলো কথার কবুতর কখনো বাইষ্যা মাসে পেয়ে অবসর নিতান্তই জানতে ইচ্ছে হলে আমার খবর পাখিকে জিজ্ঞেস করো নিরিবিলি, পক্ষপাতহীন পাখি বিস্তারিত সংবাদ জানাবে কী কী ব্যথা এবং আর্দ্রতা রেখেছে...

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...

যার জীবনে যা-কিছুর অভাব, সে ওসব কিছুরই গল্প করে। যে চেয়েও যা কিছু পায়নি, সে সেসব কিছু নিয়েই ভাবে

অষ্টাদশ পার করা কিশোরী, যার গালে অস্ত যাওয়া সূর্যের রক্তিম আভার ছাপ, চোখেমুখে জীবন নিয়ে জানার তীব্র আগ্রহ, যাকে নিঃসন্দেহে প্রতিস্থাপিত করে দেওয়া যাবে রোমান্টিক কোনো উপন্যাসের নায়িকার স্থানে, তার পুরুষজাতি নিয়ে বিশাল এক অভিযোগ। ষোড়শের পর তার পেছনে কতো ছেলের লাইন, কিন্তু ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া এসব ছেলেদের মাঝে সে ব্যক্তিত্বের ছিটেফোঁটাও খুঁজে পায়নি! পুরুষরূপী প্রেমিক হতে গিয়ে মাঝখানে ব্যক্তিত্ব ভুলে গিয়েছে যেন, সিম্প হয়ে যায় একটু এটেনশন পেলে-ই!   আর এইদিকে, দুই যুগ পাড়ি দেওয়া যুবকের কাছে নিজের আত্মসম্মানবোধ ছাড়া আর কিছুই নেই পুঁজি! পুরো একটা যুগ চলে গিয়েছে বেচারার ব্যক্তিত্ব গড়তেই। যার জন্য এতো পড়াশোনা, এতোকিছুর অভ্যেস, তারপরও কোথায় যেন নিজের ব্যক্তিত্বে কমতি থেকেই যায় বলে মনে হয় তার। তার কাছে সৌন্দর্য্য মানে চোখের শান্তি, প্রেমিকা মানে মানসিক শান্তি, পরিবার মানে সামাজিক স্বীকৃতি। বই তাকে যা শিখিয়েছে, বাস্তবতা তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে, জীবনে পার্ফেক্ট মানুষ হওয়ার চেয়ে মানিয়ে নেওয়া সহজ। ওয়েস্টার্ন ফিলোসোফি সব ভুল!  যার জীবনে যা-কিছুর অভাব, সে ওসব কিছুরই গল্...

উপলব্ধি

এই বয়সে এসে উপলব্ধি হয়, নিজের ব্যাপারে মানুষকে বুঝানোর চেয়ে মানুষকে বুঝা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। নিজেরে কারো কাছে প্রকাশ করতে, মেলে ধরতে কেমন যেন জড়তা কাজ করে। এর থেকে ভালো মনে হয় সামনে থাকা মানুষটাকে বুঝি, সে কি চায় সে অনুযায়ী আচরণ করি। সেও খুশি,আমিও রেহাই পেলাম!  এখন কেন জানি জ্বর উঠলে "ঔষুধ খাইনি কেন?", তার এক্সপ্লেইনেশন আর কাউকে দিতে ভালো লাগে না। কিভাবে বুঝায়, ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মাথায় পানি দিয়ে, গা মুছিয়ে দিয়ে জোর করে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে, ঔষুধ খাইয়ে দেওয়া মানুষটা যে আর যে নেই। ঔষুধ যে এখন বড্ড তিক্ত লাগে! নিজের শখ-আহ্লাদের কথা এখন আর কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। কারণ মানুষ প্রচন্ড ব্যস্ত। গল্প শুরু করার আগেই শেষ করার তাগিদ দেওয়া শুরু করে। কী দরকার, অযথা কারো সময়ের ভাগীদার হওয়ার!  এখন আর অসুস্থ আছি নাকি মন খারাপ, তাও কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। তারপর কতো প্রশ্নের সম্মুখীনের হতে হবে এই ভেবে! যেই আমি'টার মন খারাপ নাকি অসুস্থ, তা চেহারা দেখেই কেউ বুঝে যেতো, মুখ ফুঁটে বলার আগেই বুঝে যেত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া উচিত, সেই আমি'টা এখন এই আদরের অভাবে তীব্র মন খারাপ লুকিয়ে হাসি...

কিছু মানুষ জীবনেও ভালো হবে না !

GRE তে টপ স্কোর পাওয়া এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। ভাই চা অফার করলো। ভাবলাম টিউশনি সারাজীবনই করাতে পারবো, ভাই টপ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাবে আছে আর কয়দিন দেশে, ভাইকেই সময় দিই।  দুজনে চা খাচ্ছি আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতেছি। ভাই কেমন যেন উদাস উদাস ভাব নিয়ে হাঁটতেছে। ভাবলাম মন খারাপ উনার, পজিটিভ কিছু বলে উনার মন ভালো করার চেষ্টা করি। -" ভাই কেমন লাগছে মাস্টার্স আর এদেশের এডুকেশন সিস্টেমে থেকে এদেশে করা লাগতেছে না বলে? আপনি তো খুব করে চাইতেন, আন্ডারগ্রেড শেষ করে এই ভার্সিটিকে লাল সালাম দিয়ে এই দেশ থেকে বের হতে😄 অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে আপনার তাহলে! -" নারেহ, একদমই ভালো লাগতেছে না। বাইরের কোনো ভার্সিটিতেই সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নাই, সাদা-কালো দলও নাই, টিচাররা ক্লাসও বর্জন করে না। কি এক্টা বোরিং সিস্টেমে যাইতেছি পড়াশোনা করতে এবার বুঝ! "  একবার উনার চেহারার দিকে তাকাইতেছিলাম আরেকবার বৃষ্টির দিকে। ধুর, আমার টিউশনিতে যাওয়াটাই ভালো ছিলো।  কিছু মানুষ জীবনেও ভালো হবে না??

স্থিতিস্থাপক সীমার মাঝে পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক

ফিজিক্সে খুব সুন্দর একটা থিওরি আছে, "স্থিতিস্থাপক সীমার মাঝে পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক"। হুকের এই থিওরির সহজ বাংলা করলে দাঁড়ায়, "লেবু বেশি কচলালে তেঁতো হয়ে যায়, ততটুকুই কচলানো উচিত যতটুকু তার রস আছে"।  আমরা বাস্তব জীবনে এর রেজাল্ট অহরহ দেখছি। কেউ তার ব্যক্তিজীবনে, কেউ একাডেমিক লাইফে, কেউ প্রফেশনাল লাইফে। একজীবনে যেন এর বহুমাত্রিক প্রয়োগ!  পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষেরই তার সীমার মাঝে রাখা উচিত। সীমার বাইরে যেতে দিলেই যতো সমস্যা। আপনি তাকে যখন ঘাড় থেকে মাথায় তুলবেন, তখনই সে মাথায় উঠে নেচে আপনারই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠবে। সীমার মাঝে রাখেন সে আপনাকে সম্মান, শ্রদ্ধা সবটুকু দিবে। এর বাইরে এক্সেস দিলেই আপনার চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে রেখে দিবে!  রবার্ট হুকের এই থিওরির বিস্তৃত প্রয়োগ আমি বেশিরভাগ দেখি আজকালের ভালোবাসায়। তারপর সবথেকে বেশি দেখি একাডেমিক লাইফে। কি এক ডেস্পারেশন, কি এক গভীরতা! মানুষ যেন ভুলে যায় তার আসল পরিচয়, ভুলে যায় তার দেওয়া সহ্যের সীমা। তারপর একদিন ব্যক্তিগত কিংবা একাডেমিক জীবন থেকে চিরতরে মন ছুটে যায়।  আসলে আমরা কোনো মানুষকে ভুলি না, শুধু এসব মানুষের দেওয়া সহ্যে...

High valued Partner

Rafsan Sabab, Esha, এবং Xefer-এদের ঘটনায় আমি জানি না রাফসান এর দোষ কতটুকু, ঈশা-ই-বা কতটুকু নির্দোষ, জেফার-ই-বা কতটুকু খারাপ! এদের কারোরই ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে নাক গলানোর অধিকার আমাদের নেই। হ্যা, আমরা প্রতিবাদ করতে পারি অন্যায়ের। কিন্তু সেটা জেনে, বুঝে করা উচিত। কিন্তু আমরা এই ব্যাপারটাকে নিয়ে রীতিমতো ট্রল, মিম বানিয়ে নিজেদের পার্সোনাল এ্যাটাকে নিয়ে যাচ্ছি। ব্যাডা জাত, হেহ হেহ, ব্যাডি মানুষ, হেহ হেহ , ফালতু সব ক্যাপশন দেখতে পাচ্ছি। প্রতিবাদের নামে বডি শেমিং করছি আমরা। একটা মেয়ে হয়ে আরেকটা মেয়ের চরিত্রে আঙ্গুল তুলতে দেখছি কত সহজে! এই যুগে Cheat করা অনেক সহজ  কাজ। আমরা একে রীতিমতো  Coolness এবং  Social Taboo বানিয়ে ফেলেছি। অধিকাংশ ছেলেদের আড্ডার হট টপিক কয়টা মেয়ের সাথে ডেট করলো,অধিকাংশ মেয়েদের আড্ডার টক অফ দ্যা টেবিল, " কার কয়টা বয়ফ্রেন্ড, কোনটা বেটার"। যখন জৈবিক চাহিদা এককেন্দ্রিক না থাকলে আর নীতি-নৈতিকতার মৃত্যু ঘটলে তখন Cheat করা , পরকীয়া করা ব্যাপারগুলোর উদয় ঘটে।  আমাদের হাতে এখন প্রচুর অপশন, অনেক অপরচুনিটি। কারণ, এখন আর মানুষ আগের মতো ভালো মন, পবিত্র ভালোবাসা খুঁজে ...

একটা মানুষকে কেন আপনারা ১৬ আনায় judge করতে যাবেন?

নিউজফিডটা ইদানীং জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। আয়মান সাদিক- মুনজেরিন শহীদ, তানজিম সাকিব উনাদের ইস্যুতে গাঠনিক সমালোচনার নামে চলছে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি! এই বুদ্ধিজীবীদের জন্য নিউজফিডে আর ঢুকা যাচ্ছে না। দু'জন সেলিব্রিটি বিয়ে করেছে। তো এদের বিয়েতে আপনি কি আশা করেন? বোরকা পড়ে মসজিদে গিয়ে বিয়ে করবে? কবুল বলে বউকে ঘরে বসিয়ে রাখবে? ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে ঘরের বাইরে যেতে দিবে না? আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ, যাদের কাজই হলো অন ক্যামেরায় এসে প্রমোট করা, সেটা জ্ঞানই হোক কিংবা লাইফস্টাইল। আর এখন বিয়ে করে অন ক্যামেরায় এসে নাচলেই দোষ। আয়মান সাদিকের দোষ একটাই। মসজিদে বিয়ে করে আবেগী বাঙ্গালীকে  ধর্মীয় ক্যাপশন দিয়ে দিয়ে পোস্ট করালো, এরপর প্রোগ্রামের নাচা-নাচির ভিডিও পোস্ট করে দিলো এদের বিপাকে ফেলে! তারপর এই জনতা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা শুরু করলো। এখন তো নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঠেকাতে ডিফেন্সিভ কার্ড প্লে করতে হবে তাদের। এই শুরু হলো হাদিস-কুরআনে মোড়ানো সেই জ্বালাময়ী যুক্তির নামে কপটতা! আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ উনাদের কাউকেই দেখিনি মসজিদে বিয়ে করেছে বলে নিজেদের ধার্মিক পরিচয় দিতে কিংবা ক্যাপশনে হাদিস লিখ...

ভার্সিটির ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের হাসিখুশি, বোকাসোকা'ই মানায়

ভার্সিটির ফাস্ট ইয়ারের স্টুডেন্টদের হাসিখুশি, বোকাসোকা'ই মানায়। যারা ক্যাম্পাসে ঘুরবে-ফিরবে তিড়িংবিড়িং করবে, ছবি তুলবে, সেই ছবি স্যোসাইল মিডিয়াতে আপলোড দেওয়ার সময় ক্যাপশন দিবে, "Friends Forever"। মাথায় ক্যারিয়ার টেনশন, Project, Thesis এসব নিয়ে পড়ে থাকবে থার্ড-ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্টরা। যে বইটা যেই বুকসেল্ফে রাখলে মানানসই এবং কার্যকরী, তাকে সেখানেই রাখতে হয়। ক্যাম্পাস লাইফের এটাই সৌন্দর্য্য।  এখন কথা হলো এই সিনিয়ররা যারা নিজেরা অন্তঃসারশূন্য, একাডেমিকে হদিস নাই, স্কিলের কথা বললে বেদিশা হয়ে পড়ে। এরা সারাদিন মাঠে পড়ে থাকলে অথবা Cool বড় ভাই সাজতে গিয়ে ছ্যাচঁড়া হয়ে গেলে এটা বড্ড বেশি বেমানান।!  ক্যাম্পাসে প্রতি বছর নতুন নতুন ব্যাচ আসে। প্রতিবছরই নিয়ম করে বড় ভাইরূপী কিছু ত্যাদঁড় আর ছ্যাচড়াদের চিনা হয়। সিনিয়র হয়ে এসব দেখতে এখন নিজেরই লজ্জা লাগে। প্রেম ভিক্ষুক এসব ভাইয়েরা হয়তো ৯০'দশকে পড়ে আছে। এরা ভুলেই যায় যে, এদের সো কলড কেয়ারিং মার্কা ছ্যাচড়ামিগুলো স্কিনশর্ট হয়ে ইনবক্সে ইনবক্সে ভাইরাল হয়!   আপনাদের ভাষায় আপনাদের বলছি, "যেই টেবিলে বসার যোগ্যতা আপনার নাই কিংবা বসতে গিয়ে ...

অপ্রত্যাশিত এক দেখা হোক, দুজন দুজনের সামনাসামনি খুব কাছ থেকে

আমাদের অপ্রত্যাশিত এক দেখা হোক, দুজন দুজনের সামনাসামনি খুব কাছ থেকে! সেদিন চোখ চোখ রেখে চোখের ভাষায় কথা হোক আমাদের। চোখে চোখ রেখে দুজনের মাঝে যেই হাজার বছরের দূরত্ব, তা ঘুঁচে যাক সেদিন। আমাদের পাশাপাশি পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটার যে তীব্র শখ নিয়ে বাঁচা , সেদিন সে শখ পূরণ হোক। এই যে তোমাকে দেখার তীব্র যে তৃষ্ণা নিয়ে প্রতিটা দিন কাঁটায়, সেদিন তোমার কাঁজলকালো চোখের টলমল সমুদ্রে ডুব দিয়ে সে তৃষ্ণা নিবারণ হোক আমার! এই ব্যস্ততার যুগে সময়ের উপর যত অভিমান তোমার, সেদিন সবকিছু ভেঙ্গেচুরে যাক।  একদিন দেখা হোক। নিবার্ক চাহনি গল্প খুঁজুক। মহাশূন্যের মতো শূন্য এ মন পূর্ণতা পাক তোমার উপস্থিতিতে। হাতে রেখে হাত, এ শহরের ল্যাম্পপোস্টগুলো আলো ছড়াক। রং চায়ের কাপে কিংবা ধূমায়িত কফির সাথে দৃষ্টি বিনিময় হোক দু'জনার।এ মন তার মৌলিক অধিকার পেয়ে যাক সেদিন!

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার স্বাদ

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার যেই স্বাদ, এর থেকে তিক্ত স্বাদের আর কিছু পৃথিবীতে হতেই পারে না। নিজের উপর ঠিক আফসোসও না, আবার নির্মমতাও না। এ যেন নিজের নিয়তির উপর ভরসা উঠে যাওয়ার মতো তিক্ততা !  একটা মানুষকে ভালোবেসে তার মন ছুঁয়ে দেখার বাসনায় আপনি নিজের মনের রং-তুলি দিয়ে নিজের মতো করে আঁকতে বসলেন। এঁকেও ফেললেন তার অবয়ব। ভাবলেন, এই তো আমার মনের পার্ফেক্ট মানুষ। জ্বী না, আপনি ভুল, সম্পূর্ণ ভুল! বিধাতার রং-তুলির কাছে আপনার ক্যানভাস ফেইল, একদম ভিন্নও হতে পারে আবার হুবহু একরকমও হতে পারে। এটা নিয়তি নিশ্চিত করে বিধাতার ক্যানভাসে। আপনি নিজেকে যতোই আর্টিস্ট দাবী করেন না কেন, আপনার ক্যানভাস বিধাতার ক্যানভাসের ছোট একটা অংশ মাত্র। এটা নির্ভর করে উনি আঁচড়টা কোথায় দেয়, আপনার ক্যানভাসেও তুলির আঁচড় পড়তে পারে কিংবা নাও পড়তে পারে৷ পড়লে আপনি ভাগ্যবান, না পড়লে আপনি নিয়তির ভবলীলার দুষ্টচক্রে ক্ষত-বিক্ষত মানুষ!  আপনার সাথে আমার ঠিক এই জায়গায় পার্থক্য। ঠিক এই জায়গাতেইই পার্থক্য!!!

For Connecting the dots, we are connected to our past

আমরা কোনো না কোনভাবে আমাদের অতীতের সাথে কানেক্টেড। “For Connecting the dots, we are connected to our past”. অতীত কখনোই আমাদের পিছু ছাড়ে না। অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা হয় আমাদের শুধরে দেয়, নয় আজীবনের জন্য একটা শুন্যস্থান রেখে যায়। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি বর্তমানে ঠিক ওই জিনিসটার পেছনেই ছুটছি, যার অভাববোধ আমি আগে অনুভব করতাম। বুঝতে শিখার পর থেকে যে অভিজ্ঞতাগুলো আমি পেয়েছি, যেই জিনিসগুলোর প্রতি সবসময় একটা চাওয়া কাজ করতো, আমি এখন ঠিক এই জিনিসগুলোর পেছনেই ছুটছি। অনেককিছু অর্জন করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ, আবার অনেক কিছু অর্জন করা এখনও বাকি আছে । ছোটবেলায় যেই ছেলেটার আশ্রয়ের অভাব ছিল, সে নিজের একটা বাড়ি করার স্বপ্ন দেখে। যে ছেলেটা বন্ধুকে তার বাবার গাড়িতে করে স্কুলে আসতে দেখতো , সে নিজের একটা গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে। যেই মেয়েটা ছোটবেলা নিজের মায়ের আদর পায়নি , সে স্বপ্ন দেখে নিজে একদিন আদর্শ মা হওয়ার। মা’কে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়ে আসতে দেখা মেয়েটা নিজে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখে, পুরুষ জাতি আর এই সামাজিক ইকো-সিস্টেমের উপর তার একরাশ জেদ! যে ছেলেটা কিংবা মেয়েটা পারিবারিক অশান্তি কিংবা মা-বা...

মায়া ও ভালো-লাগা

কাউকে ভালো লাগা আর কারো মায়ায় পড়া সম্পূর্ণ দুটো ভিন্ন ব্যাপার। ভালো লাগা ব্যাপারটা সাময়িক সময়ের আর মায়ায় আটকে যাওয়া মানে একটা দীর্ঘ সময় আপনাকে এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ঈশ্বর মানুষকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু কারো মায়া কাটিয়ে উঠবার মতো ক্ষমতা কাউকে কাউকেই দেন নাই।  রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় অনেক মেয়ে চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েদের ছবি প্রায়শই দেখতে পাই। কারো ঠোঁটের লিপস্টিকের সাথে মিলিয়ে পরা শাড়িটা দেখে ভালো লেগে যাই, কারো সুন্দর করে পরা হিজাবটা দেখে ভালো লেগে যাই, কাউকে তার সুন্দর লিখালিখি দেখে ভালো লেগে যাই, কাউকে আবার মিনিমাল মেকআপ এর সাথে মানানসই চেহারা দেখে ভালো লেগে যাই। কিন্তু এই ভালো লাগা রাস্তা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ভালো করেই জানি যে, এই ভালো লাগা রাস্তার বাঁক পর্যন্তই , নিউজফিড পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই ভুলে যাবো। এদের জন্য কখনোই "My Girl”- টাইপ অনুভূতি কাজ করে না। এরা কখনোয় বুকের বা'পাশটায় জায়গা করে নিতে পারে না।  অপরদিকে কারো মায়ায় পড়া ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর রকমের সুন্দর।কারো মায়ায় পড়েছেন মানে আপনি ফেঁসে গিয়েছেন। কেন মায়ায় পড়লাম, কি দেখে...

আম্মা

আম্মা , আপনাকে ছাড়া আরেকটা রামাদান শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাকে ছাড়া এই শবে-ই-বরাত, রামাদান, ঈদ, এই দিনগুলো আমার কেমন জানি অসহায় অসহায় লাগে! এই উৎসবমুখর দিনগুলো আমার কেমন যেন বিষণ্ণটায় কাটে। আমার জন্য না যতোটুকু খারাপ লাগে,তার থেকে বেশি খারাপ লাগে ইমরান আর আব্বার দিকে তাকালে। পুরো বাসাটায় কেমন জানি খাঁ খাঁ করে। সন্ধ্যা কিংবা বিকেলটা আমি বাসায় থাকতে পারি না, কেমন যেন এক শূন্যতা এসে ভর করে। রমাদান আসতেছে ,সামনের সপ্তাহেই বাজার করবো কিন্তু বাসায় মা না থাকলে দুটো পুরুষ মানুষ এর জন্য রমাদান এর বাজার কি কি কিনতে হয়, তা বুঝতে পারছি না! এদের কি কিনে দিয়ে গেলে সেহরি আর ইফতারে ভালো হবে, তাও আন্তাজ করতে পারছি না। আজকে আপনি থাকলে আমাকে এমন দ্বিধাদ্বন্দে পরতে হতো না। আম্মা, আপনি বলতেন না একদিন আমার অনেক টাকা হবে? ইনশাল্লাহ একদিন আমার আসলেই অনেক টাকা হবে, তা আমিও টের পাই। আমি আপনার ডাকা নামের মর্যাদা অবশ্যই রাখবো ইনশাল্লাহ। আব্বা আর ইমরানের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারতেছি তা তো জানি না।তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এদের ভালো রাখবার। আম্মা, আপনার অনেক ইচ্ছে ছিল আমি যাতে অনেক পড়াশোনা করি, বিশ্ববিদ...

উৎসর্গের প্রলাপ

প্রেমিক হিসেবে একজন লেখক এবং প্রেমিকা হিসেবে একজন লেখিকা বেস্ট। আর যদি দুজনই লেখক-লেখিকা হয় তাহলে তো কথায় নেই ! একদম পারফেক্ট কম্বো জুটি। আমি স্বভাবজাতই লেখক ছিলাম। সম্পর্কের শুরুটা থেকেই তাই আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি তোমাকে লেখিকা হিসেবে তৈরি করতে। তাই সম্পর্কে ডিজিটাল এ-ই প্রেমের দুনিয়ার আচঁ পড়তে দেই নি। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে তাই আমাদের মাঝে চিরকুট চালাচালি চলতোই৷ মাঝে মাঝে যখন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পরতাম, তখন অর্ধশতাধিক লাইনের কবিতা কিংবা পাঁচ-দশ পৃষ্ঠা হাতে লিখা চিঠি লিখে সুন্দর কোনো খামে কিংবা উপহারের সাথে তোমাকে পৌঁছে দিতাম। তখন আমাদের ফিলোসোফিটায় এমন ছিল যে, আমাদের লেখাগুলোয় আমাদের কেয়ারিং এর পরিমাপক! তুমি লিখতে। খুব ভালো লিখতে যে, ঠিক তা না। একজন লেখক হিসেবে যতটুকু উপাদেয় আমার আশা করার ছিলো ততটাও ভালো লিখতে না ! কিন্তু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে সেই অনভ্যস্থ হাতের লিখাগুলোয় আমার ভালো লাগতো। বিশ্বাস করতাম, তুমিও একদিন তোমার লেখায় প্রাণ খুঁজে পাবে ৷ আমি উপলব্ধি করতাম তোমার লিখতে ভালো লাগে না, তুমি জোর করে লিখো, আমার জন্য লিখো, আমাকে খুশি করতে লিখো। কারণ ওই একটা জিনিসই আমি তোমার কা...

Sweet in my Black Coffee

আমার হাতে ধরে রাখা কফির মগটার দিকে আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি। এক চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো জিহ্বা থেকে চুলের ডগা পর্যন্ত ঝিনঝিন করে উঠলো! স্টুডেন্ট উপহার হিসেবে কফির প্যাকেটটা দিয়েছিলো। কফির প্যাকেট দেখে খুশিই হয়েছিলাম। প্যাকেটটা দেওয়ার সময় বলে ছিল , "ভাইয়া, ব্ল্যাক কফি স্পেশাল এডিশন, চিনি আর মেট ছাড়া খাবেন"। আমি আমলে নেই নি তখন। ভেবেছিলাম পরীক্ষার আগের রাতে 'Nescafe' দুধ চিনি ছাড়া পান করা পাবলিক আমি, এ আর এমন কি! এখন এই কফিতে চুমুক দেওয়ার পর মনে হচ্ছে ওর কথা গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া উচিত ছিল। কোন বইয়ে যেন পড়েছিলাম, "যে দুধ-চিনি ছাড়া শুধু ব্ল্যাক কফি খেতে পারে, সে মানুষও খুন করতে পারে!" আপাতত আমার মানুষ খুন করার ইচ্ছে করছে না, তবে ওই স্টুডেন্টকে সামনে পেলে Complex Number এর কিছু জটিল ফর্মুলা প্রতিপাদন করিয়ে ছাড়তাম! পরক্ষণে মনে হলো আমার স্টুডেন্ট মনে হয় আমার উপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। এতোদিনের করানো জটিল জটিল থিওরি আর ইকুয়েশনের সব বিষাদ আর তিক্ততা সব এই কফির মাধ্যমে আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছে! তিন চুমুক দেওয়ার পর মনে হলো, " নাহ, আমাকে দিয়ে মানুষ খুন করাও সম...

মত প্রকাশের স্বাধীনতা

আপনি আমার কাছে আপনার চিন্তাধারার মতো সুন্দর,যেমনটা আমাদের দেখান। আপনার মনের ভেতরে কি চলতেছে তা নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায় না !  মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবার সামনে যেমন সুন্দর ভাবে তুলে ধরে আপনাকে,তেমনিভাবে কুৎসিতও বানাতে পারে

Cafe Date

ছবি
ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা কফিতে চুমুক দিচ্ছি আর বাইরে বৃষ্টি দেখছি। ক্যাফের স্বচ্ছ কাঁচের দরজা দিয়ে বাইরের যান চলাচল দেখা যাচ্ছে। যখন বিদ্যুৎ চমঁকিয়ে উঠছে , তখন কাঁচের উপর জমা পানির বিন্দুগুলো হীরের টুকরোর মতো ঝলঝল করে উঠছে। আমার মুখোমুখি টেবিলের ওপাশে একজন আশ্চর্য রকমের রূপবতী মেয়ে বসে আছে। আশেপাশের মানুষ বারবার আমাদের দিকে তাকাচ্ছে। তাই অস্বস্তি দূর করার জন্য আমি বাইরে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আজ আমাদের প্রথম দেখা। ওর সাথে পরিচয় ফেসবুকেই। তখন ভোর রাত প্রায় চারটা। ল্যাপটপ শাটডাউন করে টেবিল গুছিয়ে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম,এমন সময় ম্যাসেঞ্জারের টুং শব্দ। ভোর রাতে ম্যাসেঞ্জারের নোটিফিকেশন এর শব্দে ভ্রু কুঁচকে মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখি ম্যাসেজ রিকুয়েস্ট এসেছে। ম্যসেজ ওপেন করতেই বিশাল বড় এক ম্যাসেজ, " মাঝরাতে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে ম্যাসেজ না দিয়েও পারলাম না ! আপনার সব লিখাই আমি পড়ি। শুধু পড়ি বললে ভুল হবে খুব মনোযোগ দিয়ে বিশ্লেষণ করে করে পড়ি। আপনি কি জানেন আপনার লিখাগুলো যে সুসাইডাল? আপনার কিছু লিখা আছে যা একটা সুস্থ মানুষকে ডিপ্রেশনের সেকেন্ড স্টেজে নিয়ে যেতে যথেষ্ট! এতো গুছানো...

প্রিয় সুহাসিনী

প্রিয় সুহাসিনী , তোমার কথা অনেকদিন ধরে কিছুই জানি না। যখনই তোমার কথা মনে পড়ে এক পশলা দমকা হাওয়া এসে মনটাকে জুড়িয়ে দেয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও তুমি যখন চোখের কল্পনার মাঝে উদয় হও তখন আমার সব ব্যস্ততা এলোমেলো হয়ে যায়। জানি না তুমি কেমন আছো! হয়তো নতুন বন্ধুগুলো,নতুন ক্লাসরূমগুলো তোমাকে অনেক বদলে দিয়েছে! সবাই বলে "দূরত্ব বাড়লে সত্যিকারের ভালোবাসার পরিমাণ বাড়ে", হয়তো আমাদের ভালোবাসাটা ,ভালো লাগাটা ছিল চুম্বকীয় ভালোবাসা তাই তো দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে দেখলে না কেমন তোমার আর আমার মনটাও পরিবর্তন করে দিল! কিন্তু জান? আমার নতুন পরিবেশ ,নতুন বন্ধুবান্ধবগুলো,নতুন ক্লাসরূমগুলো আমাকেও অনেক বদলিয়ে দিয়েছে ঠিকই, তবে তা একমাত্র তাদের কাছেই! আমি যখন আমার আগের পরিবেশে, আগের বন্ধুগুলোর কাছে ফিরে যাই,তখন সেই আমি আবার আগের আমিই হয়ে যায়। তোমার সামনেও ঠিক তাই! শহরের নতুন বন্ধুগুলোর মাঝেও অনেক সময় তোমার ছায়া, তোমার অবয়ব ফিরে পায়,অপলক চেয়ে থাকি তাদের দিকে পরমূহূর্তে আমি আমার ভ্রম বুঝতে পারি। আজ যখন রাতের আকাশের মেঘগুলো ভাবিয়ে তোলে, তখন তোমার ঘোর লাগা স্মৃতিগুলোকেই বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়!  ভালো থেকো তুমি,আর ত...