পোস্টগুলি

উন্মুক্ত মস্তিষ্কের প্রলাপ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

কালবেলার নিউজে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্টাফদের ব্যক্তিগত তথ্য (প্রায় ৭০ জিবি ডাটা) হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের কর্মকতার মাঝে তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই দেখা গেল না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা তো বাদই দিলাম! সেই কর্মকর্তা দেখলাম বেশ কনফিডেন্ট নিজের সিস্টেম নিয়ে, আবার বলছেন এই হ্যাক করার প্রচেষ্টা নাকি গত দুবছর ধরে চালাচ্ছিলো, এখন এসে সফল হয়েছে, তার উপর ৭০ জিবির ডাটার ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন রীতিমতো! কথা হলো, দু'বছর ধরে চেষ্টা করে থাকলে তাদের এই দুবছরে ডিফেন্স মেকানিজম কি ছিলো ?  দুবছরে একবারও টের পায় নাই? এই সিস্টেম এ ঢুকতে দুই বছর? নিরাপত্তায় পুলিশ না রেখে চুরি হওয়ার পর চুরি হওয়ার ব্যাপারটাকে অস্বীকার করলে চোরদেরই লাভ। চোরেরা বসে বসে তো মুচঁকি হাসবেই!  মাস ছয়েক আগে সাত কলেজের এক ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা হয়েছিলো এক একাউন্ট দিয়ে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে। কৌতুহলবশত সার্ফিং করতে গিয়ে খেয়াল করলাম ঢাবির ডাটাবেজ লিংকড কিছুক্ষেত্রে। আমি সিকিউরিটি সেক্টরে বলতে গেলে একদম ন্যুব। এখনো তেমন কিছুই জানি না ভালো করে। কলেজের সাইটট...

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না

একটা সময় পর্যন্ত আমি আমার জীবনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোর আগা-মাথা মিলাতে পারতাম না। তখন শুধু মনে হতো, "এসব জিনিস আমার সাথেই কেন ঘটছে। আমার সাথে যত্তসব অন্যায় করতেছো খোদা"। তখন সব দোষ খোদার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে সহানুভূতি দিতাম। সেই ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে করতে শৈশবের একটা বড় অংশ পার করলাম। একদিন টেবিলে বসে অংক মিলাতে মিলাতে মনে হলো, "খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না। অংকের মতো সমাধান আগেই বের করে রাখেন তারপরও অংকের সমাধান খুঁজতে পৃথিবীতে পাঠান। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর ব্যস্ত হয়ে যায় আমোদ-প্রমোদে! ফুর্তি করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেই কেবল খোদাকে স্মরণ করি।"  আশ্চর্য, করতেছিলাম বীজগণিতের সরল অংক কিন্তু এসব আমার মাথায় কেন আসছিলো!!!  জীবনের একটা সময় পর্যন্ত আমার অভিযোগ আর অভিমানের সীমা ছিলো না। অনেক ভেবে দেখলাম, যে সময়টা পর্যন্ত আমি পরনির্ভরশীল ছিলাম সে-সময়টায় আমার সবথেকে অভিযোগ আর অভিমানবোধ বেশি কাজ করতো। চা যখন আপুরা বানিয়ে এনে সামনে দিতো, তখন চায়ে চুমুক দিয়ে দুধ-চিনি পরিমাণ নিয়ে সে কি অভিযোগ আমার! আম্মা রান্না করে খাবার যখন প্লেটে বেড়ে টেবিলে দিয়ে যেত, তখন ...

জীবন আপনার ফিলোসোফির মতো সুন্দর

আমরা অনেকেই একটা নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে জীবনযাপন করি। স্টুডেন্ট হলে ভার্সিটি-টিউশন-কোকারিকুলার, চাকুরীজীবী হলে নাইন-টু-ফাইভ জব, বাজার করা, পরিবার মেইনটেইন করা,আরো নানান কাজেকর্মে দিন পার হয়ে যাই। এই যান্ত্রিক জীবন নিয়ে আমাদের নানান অভিযোগ তৈরি হয়। একটা সময় এসে, এই ক্লান্ত শরীর আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তখন আর কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতে মনে চায় না, মনে চায় না অপ্রয়োজনে নিজের শক্তি অপচয় করতে! অনেক ফোন কল আর রিসিভ করা হয়ে ওঠে না, অনেক ম্যাসেজের আর জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়তো সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যতাবোধের খাতিরে হাসিমুখে দু'চারটা কথা বলতে হয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও!  দিনের পর দিন যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ যায় কখন উইকেন্ড আসবে এই ভেবে। ট্যুর প্ল্যানও দূরে কোথাও করা যায় না সময়ের অভাব বলে। শেষ কবে ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো তা মনে পড়ে না আর! এভাবেই একটা সময় এসে এই জীবনের সকল ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ জমা হয়, অভিমানে এই জীবন নিয়ে দু'চারটা গাল-মন্দও করে বসি। অবসর জীবনই প্রকৃত জীবন, ছুটি সুন্দর, এসব ধারণা মনে বাসা বাঁধে।  অথচ অবসর সময়ও সবসময় সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে এই যান্ত্রিক জীবন...

জীবন যেন একটা স্যুটকেস

একটা সময় পর,জীবন যেন একটা স্যুটকেস এর মতো হয়ে যায়।আজকে এক জায়গায় তো, কালকে আরেক জায়গায়। কখনো এখানে তো, কখনো সেখানে।আবার কোনোদিন অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে ঘরের কর্নারে। স্যোসাইল স্ট্যাবিলিটি আনতে গিয়ে এ যেন, জীবনের স্ট্যাবিলিটির বারোটা বেজে যায়! রাত্রি বেলা ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরও মনে হয়, মাথায় ভেতর শব্দ করে মস্ত বড় একটা ট্রেন চলছে! 

Dear GEN-Z

Dear GEN-Z, সংগ্রাম করে পুরো একটা দেশ স্বাধীন করলা, স্বৈরাচারের পতন ঘটাইলা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরের স্বৈরাচারকে এখনো দূর করতে পারতেছো না! সংগ্রাম করলা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। বিজয়ীও হইলা। কিন্তু লাভটা কি হইলো বলো তো আমারে? বড় ভাইদের পেছনে গিয়া শো-ডাউন দিতেছো, সহমত ভাই মনোভাব নিয়ে ঘুরতেছো, গর্ত থেকে বের হয়ে নিজেরে সমন্বয়ক দাবিদার ভাইয়েরা যা বলতেছে তাই করতেছো। একবারও মনটারে জিজ্ঞাইতেছো না, এই ভাইয়েরা যেই যেই কাজ করাইতেছে তোমাদের দিয়া তা কী আদো উপকারী, সমাজের ভালো হচ্ছে নাকি শুধুই সময় আর এনার্জি নষ্ট হইতেছে?  গত একটা সপ্তাহ ধরে এলাকায় থাকলাম। খুব আশা নিয়ে আসছিলাম, নিজের এলাকার পরিবর্তন দেখবো স্বচক্ষে। আমার মনে হয় না খুব একটা পরিবর্তনমূলক কিছু করে যেতে কিংবা দিয়ে যেতে পারছি! আমি ব্যর্থ হইলাম, আমার মনে হয় আমার সাথে ব্যর্থ তোমরা অনেকেই।  কথা ছিলো, আমরা সমাজের মূল ধারায় পরিবর্তন করবো। কিন্তু পরিশেষে দেখলাম আমরা নিজেরাই সমাজের মূল ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলাম!  খালি দেশ স্বাধীন, দেশ স্বাধীন বইলা না চিল্লাইয়া, একটু ভাবতে বইসো, একটু ক্রিটি...

নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা হয় না

এদেশে এখন আর শিক্ষিত মানুষরা দেশপ্রেমের গল্প করে না। এরা দেশ ছাড়তে ব্যাঁকুল। নিজে না পারলেও নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে দেশ থেকে বের করতে পারলে এরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে! অথচ, এদেশের Policy Making-এ বসে আছে সব কোট-টাই পড়া শিক্ষিত ভদ্রলোক। এই পলিসি মেকার-রা ই নিজের ছেলে মেয়েদের দেশে রাখেন না। কারণ তারা জানেন এই দেশের পলিসি তারা কতোটা ধ্বংস করে রেখেছেন। এদের পরে যারা আসবে, তাদের জন্য কোনো Ideal Situation-ই রেখে যান না ইনারা। আমার দেখা ভার্সিটির যতো ভিসি এবং শিক্ষকগণ আছেন, তাদের ছেলে-মেয়েকেই বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়ে দিয়েছেন অথবা পরিকল্পনা করছেন পাঠিয়ে দেওয়ার, এমন প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ । ভাবা যায়, ব্যাপারটা কতোটা চিন্তার! যেই পলিসি নিজের ছেলে-মেয়েকেই মানুষ করতে পারবে কি না সন্দেহ , সেই পলিসি দেশের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন উনারা! এটা শুধু ভার্সিটির শিক্ষক বলে না, সকল আমলাদের বেলায় প্রযোজ্য। দেশের পলিসি মেকার ইনারা সবাই-ই!  দেশের সিস্টেমেটিক পলিসি নিয়ে আমার নিজের একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আছে। আমার মতে, "নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা ...

মানুষ মারা যাওয়ার পর আল্লাহ আকাশের তাঁরা বানিয়ে রাখলে খারাপ হতো না

ভোররাত ৩:৪৮। অসুস্থ আমি বারান্দায় বসে বসে আকাশ দেখছি। ফজরের আজান দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে মসজিদের মাইকে মাইকে। এই সময়টায় কেমন যেন শান্ত-স্নিগ্ধ বাতাস বয় চারপাশে। মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লাহ অসুখ-বিসুখ দিয়েও অনেক ভালো কিছু অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়। ঠিক যেমনটা ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মায়ের আদর আর সেবাযত্ন পেতাম। এখন আর সেই সৌভাগ্য নেই, সবকিছু একাকী সহ্য করতে হয়। মা ছাড়া বেড়ে ওঠা এই পৃথিবীর এক একটা ছেলেমেয়ে অযত্নে বড় হওয়া ফুল!  আমি আকাশ দেখছি। খুব মনোযোগ দিয়ে আকাশের তিমির নিমিষেই কিভাবে নীলাভ রং ধারণ করছে তা বুঝবার চেষ্টা করছি। এর আগেও বেশ অনেকবার অনেক ভোর আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি! আকাশের এই পরিবর্তনের সময়টায় কেমন যেন একটা ঘোর লাগা কাজ করে। ঘোর কাটতে কাটতে ততোক্ষণে আঁধার শেষে আলোর চোখে ক্লান্তি ধরিয়ে দেয়। কি অদ্ভুত সময়টা যেন!  আম্মা বলতো যারা আকাশ পছন্দ করে তারা নাকি উদার মনমানসিকতার হয়। আমি নিজেকে মাপার চেষ্টা করছি আমি উদার কি না। এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানার কোনো উপায় নেই। এখন ভোর না হলে হয়তো একজনকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা যেতো,  "হ্যালো, তুমি আমাকে উদারতার মাপকাঠিতে কতো দিবে? Out of...

মানুষকে বেঁচে থাকবার সাহস যোগায় পিছুটান

জীবনে পিছুটান থাকার দরকার আছে। যে পিছুটান পরিবারের কথা একটু হলেও ভাবাবে। যেই পিছুটান কোনো লয়্যালটি ব্রেক করতে গেলেই প্রিয় মানুষটার কথা মনে করিয়ে দিবে। যেই পিছুটান মনে করিয়ে দিবে দিনশেষে তার ফিরবার মতো একটা আশ্রয় আছে। এই পিছুটান হতে পারে নিজের পরিবার, বাসা কিংবা প্রিয় মানুষটা।  আজকাল অনেকেই দেখি বেশ গর্ব করে বলে, "আমার কোনো পিছুটান নেই, যেভাবে খুশি চলবো"। আসলে তারা ভেতরে ভেতরে কতোটা অসহায়, কতোটা একাকী, তা একমাত্র তারাই উপলব্ধি করে। পিছুটান না থাকা কোনো ফ্লেক্স না, বরং মানসিক আশ্রয়হীন একটা জীবন যেন। যার পরিবার নেই, সে জানে দিনশেষে পরিবারে ফিরতে চাওয়ার আকাঙ্খা চেপে রাখা কতোটা কষ্টের। যার মাথা গুঁজবার একটা ঠাঁই নেই, সে জানে আশ্রিত থাকা কতোটা পীড়াদায়ক। দিনশেষে নিজের কথাগুলো বলার জন্যও আমরা মানুষ খুঁজি, মানসিক আশ্রয় খুঁজি, যার মাঝে নিজেকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে বিলীন হতেও দ্বিধাবোধ করি না আমরা। এমন মানুষ আমরা কেউ খুঁজে পাই, কেউবা খুঁজে পাই না।  আমি এমন অভিযোগ অনেক শুনতে পাই যে, আম্মু এটা করতে দেয় না, আব্বু কোথাও যেতে দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কাছে পিছুটান মানে এ-সবই। এরা বড় হওয়া...

প্রতিকূলতা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপদ্রব

জীবনে দু'একটা আঘাত দরকার। যে আঘাতের ক্ষত মনে করিয়ে দিবে, এর থেকে বর্তমান আঘাতের যন্ত্রণা বেশ সহনীয়।  জীবনে দু'একটা প্রিয় মানুষ হারানোর গল্প থাকা দরকার। যে গল্প মনে করিয়ে দিবে, সবটুকু দিয়েও কখনো কাউকে আগলে রাখা যায় না যদি স্রষ্টা না চায়!  জীবনে দু'একটা অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা থাকা দরকার। যা প্রতিনিয়ত নিজেকে মনে করিয়ে দিবে, এই জীবনে সব চাওয়া-পাওয়াই পূরণ হয় না। জীবনে নিজের বলতে দু'একটা অপ্রিয় সত্যি থাকুক। যা মনে করিয়ে দিবে, আমি নিজেও ষোলোকলা খাঁটি না। এতে অহংকার জন্মাবে না নিজের মাঝে। জীবনে দু'একটা নির্ঘুম রাতের অভিজ্ঞতা থাকুক। যা প্রয়োজনে মনে করিয়ে দিবে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারাটাও কতো বড় নিয়ামত। মাঝরাতে শ্বাসকষ্ট উঠা মানুষটা জানে, চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে চোখ মেলে রাখা কতেটা কষ্টের! জীবনে দু'চারটা হেরে যাওয়ার স্মৃতি থাক। এরা প্রতিকূল সময়ে মনে করিয়ে দিবে হেরে যেয়েও বেঁচে থাকা যায়, ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও জীবনের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। জীবনে দু'একটা ভুল বুঝাবুঝি থাকুক। যে ভুল বুঝাবুঝি সবসময় স্মরণ করিয়ে দিবে, নিজের সব সিদ্ধান্ত সঠিক হয় না। মানুষ ম...

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি। আমি বুঝি না, সংসারে দায়িত্বশীল হওয়া বেশি প্রয়োজন, নাকি যত্নবান! আমি এটাও বুঝি না, মানুষকে আসলে কিসে আঁটকে রাখতে হয়, দায়িত্ব নাকি যত্ন দিয়ে? একটা মানুষের জন্য ঠিক কতটুকু যত্নশীল হলে মানুষ আসলে ছেড়ে যায় না, ততোটুকু যত্নশীল কি আদোও হওয়া যায়? সবাইকে দিয়েও তো সব দায়িত্ব পালন হয় না। অথচ মানুষ কতো সহজে যত্ন কিংবা দায়িত্বের অভাব দেখিয়ে ছেড়ে চলে যায়! একদিন সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে যখন সংসারে মনোনিবেশ করতে যাবেন, তখন দেখবেন আপনাকে দিয়ে আর দায়িত্ব এবং যত্নের মাল্টি-টাস্কিং হচ্ছে না। দায়িত্ববান বাবা হতে গিয়ে, যত্নবান বাবা হতে পারছেন না। যত্নবান প্রেমিক হতে গিয়ে, দায়িত্বশীল স্বামী আর হয়ে ওঠা হচ্ছে না আপনাকে দিয়ে। বাস্তব সত্য এটাই যে, মেয়েরা প্রেমিক হিসেবে চায় যত্ন করতে পারে এমন ছেলেকে, আর স্বামী হিসেবে চায় দায়িত্ববান পুরুষকে। এ এক অমোঘ সত্য! এখন অনেকেই ভাবছেন, দায়িত্ব এবং যত্নের ব্যালেন্স করে নিলেই তো হয়। এমনটা কখনো সম্ভব হয় না। মাথায় দায়িত্ব নিয়ে চলা পুরুষ কখনো শতভাগ যত্নবান হতে পারে না। সংসারে মেয়েদের হতে হয় যত্নবান, ছেলেদের হতে হয় দায়িত্বশ...

যন্ত্র ও আমরা

আমরা যারা যন্ত্রের সাথে জীবনযাপন করি, তাদের আর স্যোসাইটি ভালো লাগে না, একটা সময় এসে মানুষকে অসহ্য লাগা শুরু হয়। এই স্যোসাইটির মানুষ থেকে পালিয়ে বাঁচতে মনে চায় তখন, চার দেয়ালবন্দী ঘরকুনো জীবনযাপন করতে ভালো লাগে। চারপাশের মানুষের কথাবার্তা, বেমানান উপদেশ সবকিছুকে অপ্রীতিকর লাগে। তারপরও হাসিমুখে অভিনয় করে সবকিছু চুপচাপ সহ্য করে নিই আমরা।  বেশকিছু প্যারামিটারে যন্ত্র সঙ্গী হিসেবে মানুষ থেকেও ভালো, সামাজিকতা থেকে যান্ত্রিক সভ্যতা আরো ভালো! রোবটিক মুভিতে কিংবা সায়েন্টফিক ডকুমেন্টারিতে মানুষের জায়গায় যন্ত্রের যেই বিকল্প দেখানো হয়, সেই ভবিষ্যত আর বেশি দূরে নয়। মাঝে মাঝে থিসিস, রিসার্চ, প্রজেক্ট এসব দেখে মনে হয় সে ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে বর্তমান হয়ে পড়েছে! আমার স্মার্টওয়াচ আমাদের প্রতিদিন নিয়ম করে পানি পান করার রিমাইন্ডার দিচ্ছে, স্লিপ মনিটর করছে, ফিটনেস দেখাচ্ছে। ঘড়িটা প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুম থেকে তুলছে। রোবট থাকলে ঘরের কাজগুলোও করে দিবো। ইমোশনালেস একটা মানুষের প্রাত্যহিক যতো চাহিদা আছে যন্ত্র সব কাজ করে দিতে সক্ষম বলা যায়। এরা টক্সিক না, এরা প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় আরো।  সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যন্ত্...

প্রেম ও বিয়ে কখনো বরাবরে হয় না। বরাবরে যা হয় তো হলো ঝগড়া!

মানুষ নাকি তার ব্যক্তিত্বের বিপরীত স্বভাবের মানুষের প্রেমে পড়ে। অথচ মানুষ তার আস্ত একটা জীবন পাড় করে ফেলে বিপরীত মানুষটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে। এই গুছানো হতে পারে নিজের মানসিক পরিবর্তন কিংবা নিজেদের একসাথে গ্রো হওয়া ।  অনেকেরা বিয়ের কিংবা প্রেমের আগেই Soulmate খুঁজে। খুঁজে পেলে এটা নিছকই কাকতালীয় ঘটনা ছাড়া আর কিছু না। আমরা কখনোই কারো মনের অবস্থা বুঝতে পারি না, আত্মার খবর তো অনেক পড়ে! একসাথে সংসার করতে করতে তারপরেও এক যুগ পরে মনে হয় মানুষটাকে অচেনা লাগছে! আগে মুরুব্বিরা বলতো, "প্রেম ও বিয়ে কখনো বরাবরে হয় না। বরাবরে যা হয় তো হলো ঝগড়া!" ঝগড়া করতে হলে নিজের বরাবরের মানুষের সাথে করতে হয়, নয়তো এতে নিজেরই সময় এবং এনার্জি দুইটা-ই নষ্ট।ঘর-সংসার করার জন্য চাকার মতো হতে হয়, ব্যালেন্সিং পার্ট এবং গতিশীলতা এনে দিতে হয়।  পুরুষ মানুষ সবসময় শান্তি খুঁজে। এই শান্তির জন্য সে যুদ্ধও করতে পারে, এই শান্তির খুঁজে সে হিমালয়ে গিয়ে ধন্নাও দিতে রাজি! আর নারী খুঁজে প্রেম, নারী খুঁজে ভালোবাসা। এই ভালোবাসার জন্য সে হাজারো স্যাক্রিফাইস করতে রাজি, আবার পুরোদস্তুর সংসারি হতেও। পুরুষ মানুষ প্রেম-ভালোব...

একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে..................

"একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে ", কখনো যদি এমনটা স্বচক্ষে দেখতে পাই, সেটা হবে আমার দেখা বিষ্ময়কর ঘটনাগুলো মধ্যে একটি। যদিও এমন বিষ্ময়কর ঘটনা জীবনে দেখার সৌভাগ্য হবে কি-না সন্দেহ!  মাসুদ রানা, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আহমেদ, উনাদের বইপড়ার সুবাদে আমি Beauty-with-brain এই কনসেপ্টটার সাথে থিওরিটিক্যালি বেশ পরিচিত কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখার মতো সৌভাগ্য হয়নি! মেয়েরা এই 'সৌন্দর্য্য' জিনিসটাকে খুব ভালোভাবে sell করতে পারে। Facebook, Instagram, Snap-chat এর যুগে তো আরো বেশি৷ আর পুরুষ মানুষ মেয়েদের এই বিক্রয়সুলভ আচরণকে খুব ভালোভাবেই লুফে নেয়। এর বাস্তব উদাহরণ মাসুদ রানার প্রায় সবগুলো সিরিজে নারী চরিত্রের রগরগে আবেদনময়ী উপস্থাপন, সমরেশের গল্পের রোমান্টিসিজম আর হুমায়ুন আহমেদের গল্পে মেয়েদের চরিত্রগুলোর অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা!   সমস্যা থিওরিতে না, সমস্যা বাঁধে যখন তা বাস্তবে খুঁজতে শুরু করি আমরা৷ স্যোসাইল মিডিয়ায় ফিল্টারের পর ফিল্টার মারা ছবিগুলোর সাথে সামনে আসা সেই একই মেয়েটার চেহারার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না! স্যোসাইল মিডিয়াটা যেন সুন্দরীদের একটা প্রদর্শনীক্ষেত্র, একটা জা...

I Love You ❤️

" I Love You ❤️", A beautiful sentence spoken in a beautiful way. অদ্ভুত এই বাক্য, সিঙ্গেলদের জন্য নাগালের বাইরের ব্যাপার-স্যাপার, প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অনেকটা তিনবেলা খাবার খাওয়ার মতো ভালোবাসা প্রকাশের সাধারণ বাক্য, অধিকাংশ স্বামী-স্ত্রীদের কাছে ব্যাকডেটেড বাক্যাংশ! আসলেই অদ্ভুত না? স্ট্যাটাসভেদে একেক শ্রেনির মানুষের কাছে একেক রকম ওজন বহন করে যেন। তবে এটা যে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশসূচক বাক্য তার সাথে মোটামুটি সবাই এক মত। এমন কোনো মানুষ পাওয়া দুষ্কর, যে কখনো তার সঙ্গিনীকে একটিবারের জন্যেও বলেনি "I Love You!"। ভালোবাসার ধরন একেকজনের কাছে এক এক রকম। কেউ একযুগ ধরে ভালোবেসেও প্রকাশ করতে পারে না, কেউ ক্ষণিকের ভালো লাগা প্রকাশ করে পস্তায়! এই ভালোবাসা প্রকাশটাও এক অদ্ভুত জিনিস। কেউ ভালোবাসি মুখে না বলেও কাজেকর্মে  প্রকাশ করে, কেউ কাজেকর্মের চেয়ে সহাস্যে ভালোবাসি বলতে বেশি পছন্দ করে। তবে কি, ভালোবাসি বলার চেয়ে ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়াটা অনেক কঠিন। একদিন সাহস করে ভালোবাসি বলে ফেলা যায়,স্বপ্ন দেখিয়ে ভালোবাসার সওদা করে বেড়ানো সহজ। কিন্তু ভালোবাসি বলার পর শক্ত করে হাতটা ধরে বছরের...

বয়সের এই স্টেজে এসে.........

একটা বয়সে এসে আমরা আমাদের নিজের মতো মানুষ খুঁজি। যাদের সাথে নিজের মনমানসিকতার মিল হয়, যাদের সাথে মন খুলে দু'চারটা সুখ-দুঃখের কথা বলা যায়, যাদের সাথে নিজের মতামত তুলে ধরা যায় ফিরতি কোনো মতামতের আশায়। এক কথায় বলতে গেলে বয়সের এই স্টেজে এসে আমরা অ্যাম্বিভার্ট হতে চাই। Extrovert-দের আর cool মনে হয় না, cool মনে হয় না Introvert-দেরও ! বয়সের এই স্টেজে এসে আর Adult জোকস ক্র্যাক করতে ভালো লাগে না, ভালো লাগে না খাপছাড়া কোনো বিষয়ে কথা বলতে। এই বয়সে এসে গান থেকে বেশি Poetry ভালো লাগে, Jokes থেকে বেশি humor ভালো লাগে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে কে কি করছে, এর থেকে বেশি মুখ্য হয়ে ওঠে কে কেমন আছে এই বিষয়। আমরা এই সময় কারো দ্বারা যতো না প্রভাবিত হয়, তার থেকে বেশি তার প্রতি সচেতন হয়ে পড়ি। এক কথায় বলতে গেলে, এই সময়ে Circle of influence থেকে Circle of Concern বেশি কাজ করে।  বয়সের এই স্টেজে এসে এমন সার্কেল খুঁজে পাওয়া ভার, যার সাথে বলা যায় কাল রাতে কোন মুভিটা দেখে কান্না পেয়েছিলো, লাস্ট পড়ে শেষ করা বইটাকে নিয়ে করা যাবে আলোচনা সমালোচনা, যার সাথে করা যাবে ফেলে আসা অতীত আর উদ্বিগ্ন ভবিষ্যৎ এর চিন্তাভাবনা রিভা...

যে জীবন কাক পক্ষির, মানুষ বিষাদগ্রস্ততার বিশারদ!

আপনার জীবন অন্য আট-দশটা জীবনের মতো না। আপনার জীবন একদম স্বতন্ত্র। এই চিন্তাধারা যতদিন না আপনার মস্তিষ্কে শীতল স্রোতধারা সৃষ্টি করবে, ততোদিন আপনার জীবন আপনার কাছে অনেক জটিল মনে হবে। আপনি চাইলেই আপনার আশপাশের মানুষের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করতে পারেন না। তুলনা করাটা সৃষ্টিকর্তা পাপ হিসেবে দেখেন কিনা জানা নেই আমার। তবে আমার কাছে মানবিক দিক থেকে দেখতে গেলে ভীষন পাপ মনে হয়!  ছোটবেলায় জীবন এতো নিষ্পাপ, হাসিখুশি হওয়ার পেছনে সবথেকে বড় যে কারণ, তা হলো তখন জীবনে তুলনা করার প্রতিযোগিতাবোধ সৃষ্টি হয় নাই। যেইমাত্র স্কুলে ভর্তি করানো হয়, তখন প্রথমদিন থেকেই তাকে শিখানো হয় প্রতিযোগিতার লড়াই। সচেতন মানুষদের চোখে এ এক অসুস্থ বিনোদন!   এখন আমরা বড় হয়ে গিয়েছি। মানুষের সাথে তো বটেই ইট-পাথরের সাথেও পর্যন্ত আমাদের নিজেদের তুলনা করে বসি। আকাশের মতো বিশাল হতে চাই, কংক্রিটের প্রাচীরের মতো শক্ত হতে চাই, হাই স্পিড রেসিং কারের মতো জীবন নিয়ে ছুটতে চাই। অথচ দিনশেষে, আমি আর আমার নিজের মতোই হয়ে ওঠতে পারি না! একদিন হয়তো তীব্র বিষাদ নিয়ে মারা যাবো, মরে যাওয়ার পরও মানুষ লাশের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এ...

আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?

আমি মাঝে মাঝে puzzled হয়ে পড়ি। তখন সময় এমন প্রতিকূলে বয়ে চলে যে, নিজেকে তীব্র অসহায় মনে হয়। এতো এতো পেন্ডিং টাস্ক, জমে থাকা কাজ, এর উপর যুক্ত হওয়া এক্সট্রা প্রেশার, সবকিছু মিলিয়ে যাচ্ছেতাই একটা অবস্থা!  চোখের কোণের অসমাপ্ত ঘুম, ক্লান্ত দেহ জানান দিতে থাকে যে, বিশ্রাম বিহীন এই দেহ ফুরিয়ে যাওয়া ডিজেলে চলা গাড়ির মতো। মাঝে মাঝে আমি এমন সিচুয়েশনে তীব্র অসহায় চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। এ বিশালতার মাঝেও এই ক্ষুদ্র নিজের দুঃখ-কষ্ট আর ব্যস্ততাগুলোকে কেন এতো বেশি ভারী মনে হয়, তার হিসেব মিলাতে পারি না কোনোভাবেই!  একটা সময় ছিলো আমিও কবিতা লিখতাম। কী সুন্দর করে, শান্ত মনে বসে কবিতার ছন্দ মিলাতাম। এখন আর সেই শান্ত মন নেই, চঞ্চলতাও নেই। আছে শুধু অনেক দিনের জমে থাকা তীব্র এক দীর্ঘশ্বাস! এখন কলম নিয়ে বসলে আর কবিতা বের হয় না। "আমরা কি আসলেই ব্যস্ত নাকি সময়ের আগে ছুটে চলার প্রয়াস আমাদের ব্যস্ত করে তুলছে?"  এই প্রশ্ন ভীষণ এক Paradox ! 

Passion ছেড়ে Professional হয়ে উঠে চব্বিশের সদ্য গ্রেজুয়েট!

দুই যুগ পার করে ফেলা যুবকের ঠোঁটের কোণে ক্লান্তির হাসি। ফেলে আসা বয়সের সমীকরণ মিলাতে গেলে কেন যেন ফলাফল শূন্যে এসে নামে বারবার। এই যে পাওয়া না পাওয়ার দায়ভার, তা কেবল একান্তই নিজের কাঁধেই নিতে হয়। যে বয়সে এসে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতো সে, সেই বয়সে এসে যখন বুঝতে পারে পায়ের নিচের মাটি-ই এখনো শক্ত করতে পারেনি সে!  নিজের চাহিদার কথা কাউকে বলতে না পারার যেই হাপিত্যেশবোধ, একে একে স্বপ্নগুলো অপূর্ণ থেকে যাওয়ার যেই ক্লান্তি, তা নির্ঘুম এই দুচোখের দিকে তাকালে যে-কেউ বুঝতে পারবে। এই দুই যুগে দুই ডজনেরও বেশি মানুষ হারিয়েও নির্বাক যুবক। নিবার্ক না হওয়ারও কারণ দেখছি না! রোজ নিয়ম করে মানুষ আসে, নিয়ম করে মন ভেঙে দিয়ে যেতে যেতে মনকে পাথর করে দিয়ে গেছে। এখন আর পাথরের প্রাচীর ভেদ করে ওপাশটায় পৌঁছায় না কিছু।  জীবনকে গতিশীল ভাবতে ভাবতে এতো এতো মানুষকে পেছন ফেলে আসতে হয়েছে যে, এখন আর নিজের মানুষ, নিজের আত্মীয়স্বজন বলতে আর কেউ নেই। সাফল্যের পেছনে ছুটতে ছুটতে উপলব্ধি করতে পারছে যে, দিনশেষে সাফল্য এক মরীচিকা মাত্র। এই মরীচিকা নামক গন্তব্যের দূরত্ব অসীম।  এই দুই যুগ পেরোনো বয়স, বাকি চার যুগ বাঁচার ...