পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

একদিন সব হারানোর বিনিময়ে ভালোকিছু পাওয়া হোক

আমরা মানুষ হারাই, না চাইতেও হারাই, কারণে অকারণে হারাই। কেউ আমাদের ছেড়ে চলে যায় তো, আমরা কাউকে ছেড়ে চলে আসি। ভেবে অবাক হই, যে মানুষটা অনেকের আকাঙ্ক্ষার সেই প্রিয় মানুষ, অথচ এই মানুষটাকেও কেউ একজন কোনো একদিন ছেড়ে চলে গিয়েছে! কেউ অসম্ভব ভালোবেসে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায় তো, কেউ ভীষণ অযত্নে অবহেলা দিয়ে প্রমাণ করে দেয় যে, দুনিয়াবি চাহিদার কাছে সম্পর্ক কিছুই না। একদিন এই মানুষগুলো মনে পাথর বেঁধে বাঁচতে শিখে যায়। নিজের চারপাশে পাথরের এক প্রাচীর তৈরি করে ফেলে। যে অদৃশ্য প্রাচীরের বাইরে সকল বিশ্বাস, ভালোবাসা আর আবেগের ঠাঁই হয়। এই প্রাচীরের ভেতর কেবল অনুভূতি শূন্য যান্ত্রিক একটা মানুষের বসবাস। পুড়ে যাওয়া ক্ষতস্থানের দাগ দেখে এক্সিডেন্টের সিভারিটি বুঝে ফেলা যায় কিন্তু আফসোসের বিষয়, তেমনিভাবে এই মানুষগুলোর ক্ষতস্থান দেখাও যায় না, সিভারিটিও বুঝা যায় না!  একদিন সব হারানোর বিনিময়ে ভালোকিছু পাওয়া হোক। সব শূন্যতা ভরে উঠুক পূর্ণতায়। পাথরের প্রাচীরে ফুল ফুটুক, সূচনা হোক নতুনত্বের। বিদাতার উপর নতুন করে আস্থা জন্মাক এদের। এতোটা খুশি হয়ে উঠুক যাতে নিজের অজান্তেই বলে ওঠে, " স্রষ্টা যা করে ভালোর জন্যই করে...

Monologue-24

বাস কাউন্টারে দাঁড়িয়ে আছি। বাস একদম খালি, ছাড়তে নাকি দেরি হবে। ৫ মিনিট পর আরেকটা বাস ছাড়বে। ওইটা এসি। এসিতে উঠবো কি উঠবো না, দ্বিধাদ্বন্দে আছি। খোলা জানালার পাশে বসে বাতাসের সাথে শীতের কুয়াশার আবাসটা মিস করবো বদ্ধ এই এসি বাসে ওঠলে। অনেক ভেবেচিন্তে অবশেষে নন এসির একদম ড্রাইভার মামার পেছনের সিটের টিকেট কাটলাম। টিকেট নাম্বার-৪, একদম জানালার পাশে। যেহেতু আমিই প্রথম যাত্রী, তার উপর তিশা প্লাস। তারমানে বাস ছাড়তে অনেক দেরি। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বলছে, সময় হলেও যাত্রী না হলে বাস ছাড়বে না উনারা। সময় কাটানোর জন্য অগত্যা ব্যাগ থেকে, " The Art of Reading Mind" বইটা নিয়ে পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম।  একে একে যাত্রী ওঠতে শুরু করলো। সবাইকে কন্ডাক্টর ভাই বেশ জোড় গলায় বলছে,"শেষ ট্রিপ। নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে দিবে তাড়াতাড়ি উঠেন"। ঘড়ির দিকে তাকালাম, প্রায় ৩০ মিনিটের উপর হয়ে গিয়েছে। যাত্রার নির্ধারিত সময় আরো ১০ মিনিট আগে পার হয়ে গিয়েছে। বিরক্তি লুকানোর জন্য বইয়ের সূচিপত্রে গিয়ে ইন্টারেস্টিং চ্যাপ্টার খোঁজা শুরু করেছি৷  কিছুক্ষণ পর যাত্রীরা বেশ চেঁচামেচি শুরু করে দিলো। সবাই বেশ রাগ ঝাড়ছে, নির...

Monologue-23

কনফারেন্সের লাঞ্চ ব্রেক। তীব্র ক্লান্তি আর চরম পিপাসা নিয়ে জাদুঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কফির কাপে চুমুক দিয়েই যাচ্ছি। এটা নিয়ে চার নাম্বার কাপ শেষ হলো। ঘুম আর ক্লান্তি কেটে গেলেও পিপাসা কাটছে না কোনোভাবেই। ক্যান্টিন থেকে ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল খালি করে ফেললাম। তারপরও পিপাসা কাটছে না যেন! অবশেষে অনেকটা জোর করে কনফারেন্স রুমে গিয়ে বসলাম৷ স্পিকাররা একজনের পর একজন আসছেন আর লেকচার দিয়ে যাচ্ছেন। মস্তিষ্ক লেকচারগুলোর নোট নিচ্ছে আর এই দিকে মন কোথায় যেন পড়ে আছে। মন চাচ্ছে কফির কাপ নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই শহরটাকে দেখতে। হঠাৎ করে এই যান্ত্রিক শহর আমার ভালো লাগছে কেন, আমি এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছি এখন। অথচ এই শহর ছিল আমার অপছন্দের লিস্টে প্রথম শহর। যে শহরে আসলে আমার হাসফাস লাগতো, সে শহরের প্রতি হঠাৎ তীব্র একটা টান অনুভব করছি যেন! ধুলোবালির এই শহরের ল্যাম্পপোস্টের আলোয় কেমন যেন এক  স্নিগ্ধতা, যা কখনো-ই আমি আগে টের পাইনি। কনফারেন্সে শেষ হতে হতে রাত হয়ে গিয়েছে প্রায়।  বের হয়ে ফুটপাত ধরে হাটছি। শহর ছাড়ার সময় হয়ে ওঠেছে, এবার বিদায় নেওয়ার পালা! খালি পায়ে পুরো শহ...