একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে..................

"একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে ", কখনো যদি এমনটা স্বচক্ষে দেখতে পাই, সেটা হবে আমার দেখা বিষ্ময়কর ঘটনাগুলো মধ্যে একটি। যদিও এমন বিষ্ময়কর ঘটনা জীবনে দেখার সৌভাগ্য হবে কি-না সন্দেহ! 

মাসুদ রানা, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আহমেদ, উনাদের বইপড়ার সুবাদে আমি Beauty-with-brain এই কনসেপ্টটার সাথে থিওরিটিক্যালি বেশ পরিচিত কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখার মতো সৌভাগ্য হয়নি! মেয়েরা এই 'সৌন্দর্য্য' জিনিসটাকে খুব ভালোভাবে sell করতে পারে। Facebook, Instagram, Snap-chat এর যুগে তো আরো বেশি৷ আর পুরুষ মানুষ মেয়েদের এই বিক্রয়সুলভ আচরণকে খুব ভালোভাবেই লুফে নেয়। এর বাস্তব উদাহরণ মাসুদ রানার প্রায় সবগুলো সিরিজে নারী চরিত্রের রগরগে আবেদনময়ী উপস্থাপন, সমরেশের গল্পের রোমান্টিসিজম আর হুমায়ুন আহমেদের গল্পে মেয়েদের চরিত্রগুলোর অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা!  

সমস্যা থিওরিতে না, সমস্যা বাঁধে যখন তা বাস্তবে খুঁজতে শুরু করি আমরা৷ স্যোসাইল মিডিয়ায় ফিল্টারের পর ফিল্টার মারা ছবিগুলোর সাথে সামনে আসা সেই একই মেয়েটার চেহারার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না! স্যোসাইল মিডিয়াটা যেন সুন্দরীদের একটা প্রদর্শনীক্ষেত্র, একটা জাদুঘর। এখানে এতো সহজে কালো, মধ্যমানের মেয়ে পাবেন না। সবাই সৌন্দর্য্যের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত ৷ এরা একজন আরেকজনকে আর্টিফিশিয়াল সৌন্দর্যের মুখোশে টেক্কা দিয়ে ছোট করতে ব্যস্ত। যেই মেয়ের Insta আর Facebook এ যতো বেশি ছবি, তার ম্যাসেজ রিকুয়েষ্ট সংখ্যা ততো বেশি। এরাও আবার ছ্যাচঁড়াদের পাত্তা দেওয়ায় দিনরাত ব্যয় করছে। এই সব স্যোসাইল পরীরা হলো, "Lifeless, goalless, aimless dreamy Girl "!   এদের জীবনে Authentic বলতে কিছু নেই, 

Natural বলতে কিছু নেই। ফিল্টারের আড়ালে নিজেকে সবসময় লুকিয়ে রাখতে রাখতে একটা সময় এসে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুঁগতে শুরু করে। পুরুষ রূপী মৌমাছির দল যখন মধুর সন্ধানে অন্য ফুলের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে এরা তখন বুঝতে পারে এই সৌন্দর্য সাময়িক, স্বার্থান্বেষী। তখন আর কিছু করার থাকে না যে। এরা কখন যেন, নিজের অজান্তে নিজেরই সওদা করে বসে! 

আমি বলছি না সব মেয়েই এমন, তবে হ্যা অধিকাংশ মেয়েরাই এমন। ভার্সিটিতে উঠার পর আমার এই ধারণা আর পাকাপোক্ত হয়েছে! এখানে IQ,EQ এর প্রতিযোগিতার চেয়ে রূপের মার্কিং হয় বেশি। নতুন একটা ব্যাচ আসার পর কিছু সিনিয়র ভাইয়েরা তো রীতিমতো সৌন্দর্য্যের কাঙ্গাল হয়ে যান!

মেয়েদের যে ব্রেন থাকতে পারে, তারা যে পরিশ্রমী হতে পারে, এদের আই-কিউ স্কোরও যে হাই হতে পারে, এই ধারণা অধিকাংশ মেয়েদেরই নেই। এরা সাময়িক সুখ খোঁজে, এরা সৌন্দর্য্য দিয়ে সময় কিনে নিতে চায়, কিনে নিতে চায় একটা সিকিউরিড ভবিষ্যৎ। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি-ক্যারিয়ার এই লম্বা সময়টাকে ফ্রেমে ফেললে চোখের সামনে পরিষ্কার দেখতে পাবেন আমার এই কথার প্রতিফলন!  

*বি:দ্র: আমি কোনো নারী বিদ্বেষী না। আমি মেয়েদের সম্মান করি। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা চোখের সামনে দেখছি, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest