Dear GEN-Z

Dear GEN-Z,

সংগ্রাম করে পুরো একটা দেশ স্বাধীন করলা, স্বৈরাচারের পতন ঘটাইলা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরের স্বৈরাচারকে এখনো দূর করতে পারতেছো না!

সংগ্রাম করলা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। বিজয়ীও হইলা। কিন্তু লাভটা কি হইলো বলো তো আমারে? বড় ভাইদের পেছনে গিয়া শো-ডাউন দিতেছো, সহমত ভাই মনোভাব নিয়ে ঘুরতেছো, গর্ত থেকে বের হয়ে নিজেরে সমন্বয়ক দাবিদার ভাইয়েরা যা বলতেছে তাই করতেছো। একবারও মনটারে জিজ্ঞাইতেছো না, এই ভাইয়েরা যেই যেই কাজ করাইতেছে তোমাদের দিয়া তা কী আদো উপকারী, সমাজের ভালো হচ্ছে নাকি শুধুই সময় আর এনার্জি নষ্ট হইতেছে? 

গত একটা সপ্তাহ ধরে এলাকায় থাকলাম। খুব আশা নিয়ে আসছিলাম, নিজের এলাকার পরিবর্তন দেখবো স্বচক্ষে। আমার মনে হয় না খুব একটা পরিবর্তনমূলক কিছু করে যেতে কিংবা দিয়ে যেতে পারছি! আমি ব্যর্থ হইলাম, আমার মনে হয় আমার সাথে ব্যর্থ তোমরা অনেকেই। 

কথা ছিলো, আমরা সমাজের মূল ধারায় পরিবর্তন করবো। কিন্তু পরিশেষে দেখলাম আমরা নিজেরাই সমাজের মূল ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলাম! 

খালি দেশ স্বাধীন, দেশ স্বাধীন বইলা না চিল্লাইয়া, একটু ভাবতে বইসো, একটু ক্রিটিক্যাল থিংকিং কইরো। বাপজান বাজার থেকে আসলে জিগাইয়ো,"আব্বা বাজারে জিনিসপত্রের দাম আদোও কমেছে কিনা?"। ছোট বোনটা রোজ বাসে করে কলেজে যে যায় তারে জিগাইয়ো," কিরে এখন তো রাস্তাঘাটে ঘুষ( ড্রাইভারদের ভাষায় জিবি) উঠাইয়া দিলাম তাইলে বাস ভাড়া কমেছে নি তোদের? রাস্তাঘাটে হ্যারাসমেন্ট করে নি কেউ?"। তোমরা বিড়ি টানতে টানতে মাদকদ্রব্য নিধনের অভিযানের আলাপ করো, তোমরা ডাঃ ইউনুসের সুদের হিসেব করো অথচ নিজের বাপের ব্যাংকের ঋণের কথা অগোচরে রাখো। 

তোমরা ক্ষমতা পাইলা ঠিকই কিন্তু ক্ষমতার ব্যবহার শিখলা না! তোমরা রেইড দেওয়ার নামে হোটেলে হোটেলে গিয়া এডাল্ট মানুষদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন করতেছো। এসব আবার ফেসবুকে পোস্টাইতেছো। নিজের এরিয়ার মানুষের অসুবিধার কথা না শুনে পাশের এলাকা নিয়া মাতামাতি করতেছো, অথচ পাশের এলাকার মানুষ তোমাদের ডাকেই নাই! গ্র্যাফিতির নামে মসজিদের দেয়ালে গিয়া মন্দির-গির্জার ছবি আঁকতেছো!

ভাইয়েরা, ক্ষমতা পাইয়া তোমরা নিজেরে প্রশাসন ভাবা শুরু করতেছো। একটা মানুষ সে সুদখোর হোক কিংবা ঘুষখোর, সে একটা সিস্টেমের সর্বোচ্চ পদে আসীন। তোমরা তাদের যেভাবে খুশি সেভাবে প্রশ্ন করতেছো, যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করতেছো সামনাসামনি! এসব তো তোমরা করতে পারো না কোনোভাবেই। পড়াশোনার পদবি বলে হোক কিংবা সিস্টেমের  অভিজ্ঞতায়, সে তোমাদের সিনিয়র। তোমরা শুক্র শুক্র আষ্টদিন হইলো পলিটিক্স এ ঢুকতেছো,পলিটিক্স শিখতেছো। সিস্টেমে ভ্যাকুয়াম একবার সৃষ্টি হলে তার ভিক্টিম আমরাই হইরে ভাই।

মনে রাখবা, পাপ বাপেরেও ছাড়ে না। তোমরা পাপী হইয়ো না। 

ভাইয়েরা, হুট কইরা ট্রাফিকে দাঁড়াইয়া তুমি যেমন নিজেরে ট্রাফিক পুলিশ দাবী করতে পারো না, তেমনিভাবে মনে রাখবা এদেশের মানুষরে তুমি একদিনে দুধে ধুঁয়া তুলসী পাতা বানাই ফেলতে পারবা না। কারণ এদেশের সিস্টেমের গোঁড়ায় গোঁড়ায় ভূত ঢুকে গিয়েছিলো এই প্রহসনের রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। সময় দাও ভাইয়েরা, সবাইরে একটু সময় দাও। এতো তাড়াহুড়ো করিও না। 

পরিশেষে, GEN-Z ভাইয়েরা, আমি একটা কথাই বলতে চাই, "তোমরা used হইয়ো না! "। আজকে ছাত্রসমাজরে যেই উচু পর্যায়ে নিয়ে গেছে সবাই,  তার সম্মান তোমরা ধইরা রাইখো। নিজেরে মুই কি হনু রে ভেবে সবকিছু করতে যাইয়ো না। নিজের লিমিটেশন বুইঝো। নিজেরে প্রিয় অভিভাবক বানাইতে যাইয়ো না। 

অনুরোধক্রমে

তোমাদেরই মতো কোনো এক GEN-Z


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

QuotaReformProtest