মানুষকে বেঁচে থাকবার সাহস যোগায় পিছুটান
জীবনে পিছুটান থাকার দরকার আছে। যে পিছুটান পরিবারের কথা একটু হলেও ভাবাবে। যেই পিছুটান কোনো লয়্যালটি ব্রেক করতে গেলেই প্রিয় মানুষটার কথা মনে করিয়ে দিবে। যেই পিছুটান মনে করিয়ে দিবে দিনশেষে তার ফিরবার মতো একটা আশ্রয় আছে। এই পিছুটান হতে পারে নিজের পরিবার, বাসা কিংবা প্রিয় মানুষটা।
আজকাল অনেকেই দেখি বেশ গর্ব করে বলে, "আমার কোনো পিছুটান নেই, যেভাবে খুশি চলবো"। আসলে তারা ভেতরে ভেতরে কতোটা অসহায়, কতোটা একাকী, তা একমাত্র তারাই উপলব্ধি করে। পিছুটান না থাকা কোনো ফ্লেক্স না, বরং মানসিক আশ্রয়হীন একটা জীবন যেন। যার পরিবার নেই, সে জানে দিনশেষে পরিবারে ফিরতে চাওয়ার আকাঙ্খা চেপে রাখা কতোটা কষ্টের। যার মাথা গুঁজবার একটা ঠাঁই নেই, সে জানে আশ্রিত থাকা কতোটা পীড়াদায়ক। দিনশেষে নিজের কথাগুলো বলার জন্যও আমরা মানুষ খুঁজি, মানসিক আশ্রয় খুঁজি, যার মাঝে নিজেকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে বিলীন হতেও দ্বিধাবোধ করি না আমরা। এমন মানুষ আমরা কেউ খুঁজে পাই, কেউবা খুঁজে পাই না।
আমি এমন অভিযোগ অনেক শুনতে পাই যে, আম্মু এটা করতে দেয় না, আব্বু কোথাও যেতে দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কাছে পিছুটান মানে এ-সবই। এরা বড় হওয়ার নামে পিছুটান মুক্ত হতে চায়। অথচ একটা সময় গিয়ে এরা এই মানুষগুলোরই আদর-শাসন মিস করবে। সকল অভিযোগ তখন অনুশোচনাবোধে রূপ নিবে।
আমি আজকাল অনেককেই বাড়ি ফিরবার কথা জিজ্ঞেস করতে ইতস্ততবোধ করি। আসলে করাও উচিত। আমাদের চারপাশে এমনকিছু মানুষ থাকে যাদের বাড়ি ফিরবার কোনো পিছুটান নেই। কার জন্যে ফিরবে, কিসের টানে ফিরবে? তাদের কোনো তাড়া নেই যেন। তাদের কাছে, "Home Sweet Home", একটা জোকসমাত্র!
হয়তো নতুন শহরে কিংবা দেশে নতুনভাবে একটা নতুন জীবন শুরু করা যায়, কিন্তু সেই জীবন একাকীত্বের, বিষাদের, মন খারাপের, যদি সেখানে পিছু ফিরবার টান না থাকে। তাই হয়তো নিজের পরিবার থেকে দেশে-বিদেশে এতেটা দূরে থেকেও মানুষ এতোটা সামাজিক দায়বদ্ধ। দিনশেষে বাড়ি ফিরবার টান অনুভব করে, ছুটে যায় প্রিয়জনের কাছে, বহুদিন পর পরিচিত সেই আশ্রয়ে।
মানুষকে বেঁচে থাকবার সাহস যোগায় এই পিছুটান। পিছুটান ছাড়া মানুষগুলোকে আপনি-আমি বাইরে থেকে দেখে হয়তো মনে করি এরা মুক্ত পাখির মতো আকাশে উড়ছে, কিন্তু আসলে এরা সুতা কাটা ঘুড়ির মতো!
মন্তব্যসমূহ