নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা হয় না

এদেশে এখন আর শিক্ষিত মানুষরা দেশপ্রেমের গল্প করে না। এরা দেশ ছাড়তে ব্যাঁকুল। নিজে না পারলেও নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে দেশ থেকে বের করতে পারলে এরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে! অথচ, এদেশের Policy Making-এ বসে আছে সব কোট-টাই পড়া শিক্ষিত ভদ্রলোক। এই পলিসি মেকার-রা ই নিজের ছেলে মেয়েদের দেশে রাখেন না। কারণ তারা জানেন এই দেশের পলিসি তারা কতোটা ধ্বংস করে রেখেছেন। এদের পরে যারা আসবে, তাদের জন্য কোনো Ideal Situation-ই রেখে যান না ইনারা। আমার দেখা ভার্সিটির যতো ভিসি এবং শিক্ষকগণ আছেন, তাদের ছেলে-মেয়েকেই বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়ে দিয়েছেন অথবা পরিকল্পনা করছেন পাঠিয়ে দেওয়ার, এমন প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ । ভাবা যায়, ব্যাপারটা কতোটা চিন্তার! যেই পলিসি নিজের ছেলে-মেয়েকেই মানুষ করতে পারবে কি না সন্দেহ , সেই পলিসি দেশের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন উনারা! এটা শুধু ভার্সিটির শিক্ষক বলে না, সকল আমলাদের বেলায় প্রযোজ্য। দেশের পলিসি মেকার ইনারা সবাই-ই! 
দেশের সিস্টেমেটিক পলিসি নিয়ে আমার নিজের একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আছে। আমার মতে,
"নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা হয় না"।
দেশের যত বড় বড় অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা রয়েছে তার সাথে আমলা-কামলারাই জড়িত। এদের পেটে প্রচন্ড খিদে। ব্যাকগ্রাউন্ড ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে অধিকাংশই Needy Family থেকে উঠে আসা ছেলে-মেয়ে। উনারা যখন দেখতে পায়, যে টাকার জন্য নিজের বাপ সারাজীবন চাকুরির ঘানি টেনে গিয়েছে, সেই টাকা তাদের মাত্র একটা স্বাক্ষরের বিনিময়ে পাওয়া যাবে, তখন নীতিনৈতিকতা চুলোয় যায় অধিকাংশের ক্ষেত্রেই। তখন তাদের সারাজীবনের নৈতিক শিক্ষার মুখে চুনকালি দিয়ে টাকায় খিদে মিটাতে শুরু করে।
আর ছোটবেলার শিক্ষার কথা-ই বা কি বলবো! এরা দেখেছে টাকার জন্য স্যার ক্লাসে ভালো না পড়িয়ে প্রাইভেট কোচিং এ ভালো পড়াতো, টাকার জন্য মা-বাবাদের মাঝে ঝগড়াঝাঁটি হতো, টাকার মূলে গ্রামের দূর্নীতিবাজ চোর-বাটপার এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান, মসজিদ কমিটির সভাপতি হতো। এসব দেখে বড় হওয়া Needy Family-র ছেলেমেয়েগুলো অধিকাংশই ধনসম্পত্তিকে ঈশ্বর মানা শুরু করে। এরা ভাবে টাকা দিয়ে খোদাকেও কিনা যাবে। তাইতো এতো হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। নয়তো একটা মানুষের সারাজীবন রাজার হালে চলতে কয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হয়? নিশ্চয়ই এতো হাজার হাজার কোটি টাকার নয়!
আমি আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় প্রায়শই একটা কথা বলি, "আর যা-ই হোক Needy Family থেকে উঠে আসা ছেলে-মেয়েদের এভাবে Policy Making-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে খালি মেধা যাচাই করেই বসিয়ে দেওয়া উচিত না। ISSB এর ট্রেনিং এর মতো করে সবকিছু নিরিখ করে দেখা উচিত। এদের চারিত্রিক পরীক্ষার জন্য টাকা-পয়সা, প্রস্টিটিউট, বাড়ি-গাড়ি সবকিছু দিয়ে হলেও যাচাই-বাছাই করে তারপর পদমর্যাদা দেওয়া উচিত "। তিরিশ বছর বুভুক্ষুের মতো থাকার পর এরা যখন ক্ষমতা পায়, তখন নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ায়, অর্থ পাচারে জড়ায়, রাজনীতির অপব্যবহার করে। তাহলে এদের এতো মেধা দিয়ে দেশের, দেশের মানুষের লাভ হচ্ছেটা কোথায়? উল্টো জনগণের ট্যাক্সের টাকা শুঁষে আয়েশি জীবনযাপন করছে আর স্ক্যান্ডালে জড়াচ্ছে!  
এই সিস্টেমের বর্তমানে দুই শ্রেনীর ছেলে-মেয়ে সব থেকে ভাগ্যবান বলে আমি মনে করি। এক, যাদের সচেতন মা-বাবা ছেলে-মেয়ের সরকারি চাকরি করার জন্য কোনো প্রেশার দিচ্ছে না। দুই, যাদের কোনো পিছুটান নেই অথবা মা-বাবা দেশের বাইরে পড়তে দেয়ার জন্য রাজি আছেন। 
এখন দেশপ্রেম শুধু চর্চা হয়, চায়ের দোকানে। অশিক্ষিত মানুষদের দ্বারা। যারা এখনোও অবুঝ মন নিয়ে গল্পে সময় পার করছে সোনার বাংলার অর্ধশত বছরের স্বাধীনতা জয়গান নিয়ে। আর ওইদিকে শিক্ষিত জুচ্চুরেরা দেশ নিলামে তুলছে। আর আমার মতো উদাসীনরা হিসেব করছে দেশটা অখণ্ড ভারত হতে আর কতোদিন বাকি, সে-সব এর! 
তারপরও যারা সারাদিন কৌটা আন্দোলন করে, সন্ধ্যায় ফেসবুকে এসে দেখেন এতোদিন পিএসসি প্রশ্ন ফাঁস করে আসছিলো, তাদের মানসিক পরিস্থিতির কথা আমাকে প্রচন্ড ভাবায়। এদের গল্প কাদের শোনাবে তারা? তারপরও তারা সিস্টেমের সুবুদ্ধি উদয়ের আশায় হতাশা লুকোয়! 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest