যন্ত্র ও আমরা
আমরা যারা যন্ত্রের সাথে জীবনযাপন করি, তাদের আর স্যোসাইটি ভালো লাগে না, একটা সময় এসে মানুষকে অসহ্য লাগা শুরু হয়। এই স্যোসাইটির মানুষ থেকে পালিয়ে বাঁচতে মনে চায় তখন, চার দেয়ালবন্দী ঘরকুনো জীবনযাপন করতে ভালো লাগে। চারপাশের মানুষের কথাবার্তা, বেমানান উপদেশ সবকিছুকে অপ্রীতিকর লাগে। তারপরও হাসিমুখে অভিনয় করে সবকিছু চুপচাপ সহ্য করে নিই আমরা।
বেশকিছু প্যারামিটারে যন্ত্র সঙ্গী হিসেবে মানুষ থেকেও ভালো, সামাজিকতা থেকে যান্ত্রিক সভ্যতা আরো ভালো! রোবটিক মুভিতে কিংবা সায়েন্টফিক ডকুমেন্টারিতে মানুষের জায়গায় যন্ত্রের যেই বিকল্প দেখানো হয়, সেই ভবিষ্যত আর বেশি দূরে নয়। মাঝে মাঝে থিসিস, রিসার্চ, প্রজেক্ট এসব দেখে মনে হয় সে ভবিষ্যৎ ইতিমধ্যে বর্তমান হয়ে পড়েছে!
আমার স্মার্টওয়াচ আমাদের প্রতিদিন নিয়ম করে পানি পান করার রিমাইন্ডার দিচ্ছে, স্লিপ মনিটর করছে, ফিটনেস দেখাচ্ছে। ঘড়িটা প্রতিদিন নিয়ম করে ঘুম থেকে তুলছে। রোবট থাকলে ঘরের কাজগুলোও করে দিবো। ইমোশনালেস একটা মানুষের প্রাত্যহিক যতো চাহিদা আছে যন্ত্র সব কাজ করে দিতে সক্ষম বলা যায়। এরা টক্সিক না, এরা প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় আরো।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো যন্ত্র আমাদের কখনো জাজ করে না। আমরা শুধুমাত্র একবার যেভাবে দিকনির্দেশনা দেই, ঠিক সেভাবে সে কাজ করে। যন্ত্র সভ্যতায় বসবাস করা আমাদের সবথেকে বড় মাথাব্যথার বিষয় হলো পাংচুয়ালিটি, যন্ত্র আমাদের এতে অভ্যস্ত করে ফেলে। তাছাড়া মানুষ সবসময় নিজের ভুল অন্য কেউ শুধরে দিক, এটা সে পছন্দ করে না। যন্ত্রকে আমরা নিজেরা নিজেদের মতো করে গুছাতে পারি, যন্ত্র আমাদের জাজমেন্টাল লুক দেয়ও না। ফলে মানুষ এখন সঙ্গিনীর চেয়ে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে যন্ত্রের উপর। কালচারাল স্যোসাইটি বিমুখ হয়ে পড়ছে পুরো একটা ইয়্যুথ।
এবং এই ধারাবাহিকতা চলবেই!
মন্তব্যসমূহ