পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা

আমি ভার্সিটিতে ঢুকবার সময় দেখেছি মোটামুটি সব ছেলেমেয়েই নিজের পটেনশিয়ালটি দিয়ে, নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। নিজের হেডমে, নিজের বাবার পরিচয়ে, নিজের পরিবারের সাপোর্টে এতোটা শেকড় থেকে শিখরে এসেছে তারা। তাদের অধিকাংশেরই বাবা কৃষক, সাধারণ চাকুরীজীবি কিংবা দিনে এনে দিনে খায় শ্রেনীর। কারো আবার বাবা নেই, কারো মা। এককথায় বলতে গেলে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা। 

আমি জানতাম, এসব পরিবারের সন্তানদের শিরদাঁড়া খুব শক্ত হয়। জীবনে এতো ঝড় তুফান আর প্রতিকূলতা সহ্য করে যে, তাদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত হওয়ার আগে তাদের পা শক্ত হয়ে যায়। তাদের আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটা যে, প্রথম বর্ষে উঠে তারা কেমন যেন বিকিয়ে যায়! হল প্রশাসন কর্তৃক হল বরাদ্দ করে দেয় প্রতিটা শিক্ষার্থীকে,এর জন্য হল ফিও নেওয়া হয় প্রতি সেমিস্টারে। এমনকি যারা হলে থাকে না, তাদেরও হল ফি বাধ্যতামূলক। তাহলে হলে উঠা শিক্ষার্থীদের কেন আশ্রয়ের জন্য আরেকজনের প্রভুত্ব করতে হয়? 

এদের প্রোফাইলে দেখি প্রিয় অভিভাবক বড় ভাইকে নিয়ে তৈলাক্ত ক্যাপশনে পোস্টে ভরপুর। অথচ যে মা-বাবা কিংবা পরিবারের মূলে এরা আজকে এতদূর এসেছে, আমি উনাদের নিয়ে তাদের প্রোফাইলে কোনো পোস্ট দেখি না! বাইকের পেছনে বসে এরা এমন এমন স্লোগান দেয় যেন চোখে কালো কাপড় বাঁধা, ন্যায় অন্যায় বুঝার ক্ষমতা তাদের নেই। একটু ক্ষমতার লোভ, একটু চাটুকারিতার জন্য মানুষ এভাবে আত্মসম্মান বিসর্জন দেয় কিভাবে! 

Needy Family থেকে উঠা আসা মানেই অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে হবে এমন না। একটা স্টুডেন্ট চাইলেই আত্মনির্ভরশীল হতে পারে পড়াশোনার পাশাপাশি। টিউশনিই করতে হবে এমন না, আমার ক্যাম্পাসে তো ঝালমুড়ি বিক্রি করে দিব্যি চলছে এমন ছেলেপুলেও আছে। সহজ ইনকামের হারাম আর অন্যায়ের টাকায় জীবনযাপন করা থেকে, পরিশ্রমের অল্প উপার্জনের হালাল টাকা অনেক বরকতময়। আপনার একাডেমিক লাইফেও এর বরকত বুঝতে পারবেন। 

ভার্সিটির স্টুডেন্ট হয়েও যদি নিজের স্বাধীনতা বলতে কিছু না থাকে, অদৃশ্য কাপড়ে হাত-পা বাঁধা থাকে, তাহলে দরকার কি এমন চাটুকার হয়ে অন্যায়ে শামিল হওয়ার! সামনে থেকে সালাম পেয়ে পেছনে গালি খাওয়ার মতো প্রিয় অভিভাবক বড় ভাই হয়ে লাভ কী তাতে?

আত্মসম্মানবোধ থাকলে আর নিজের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা থাকলে আপনাদের চোখে যে অদৃশ্য কালো কাপড় বাঁধা আছে, তা সরান৷ দেখবেন ন্যায়ের পথ দুর্গম হলেও অনেক শান্তির, নোংরা রাজনীতি করার চেয়েও দিনে-এনে-দিনে খাওয়া হালাল উপার্জন অনেক বরকতের। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ আপনার বাবা। উনার হালাল উপার্জনে আপনি এতো কম্পিটিশনের মধ্য দিয়ে আজ পাবলিকের একটা সিটে আপনি। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়তেছেন একটু তো দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ভাবুন, পরকালের হিসাব না হয় বাদই দিলাম! 

আত্মসম্মানবোধ অনেক দামী একটা জিনিস। এটা আপনার অনুপস্থিতিতে সবাই আপনাকে নিয়ে প্রশংসায় ভাসায়, আপনার গুরুত্ব বাড়ায় সমাজে। একটু আশ্রয় আর একটা পদের আশায় যে ভুলগুলো, সে অন্যায়গুলো আপনারা করে যাচ্ছেন তা লজ্জার, ধিক্কারের, ন্যাক্কারজনক!

নিজের মা-বাবা, ভাই-বোনদের কথা একবার হলেও ভাববেন কারো উপর পরেরবার হাত উঠানোর আগে। আপনারা নিশ্চয়ই জারজ না। আপনাদেরও পরিবার থাকার কথা,  মৃত কিংবা জীবিত!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest