অন্ধকারে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে খোঁজার চেষ্টা করি

এই বয়সটা এতোটাই দোটানায় পড়ার বয়স যে সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত শুধু কনফিউশান আর কনফিউশান! 

সকাল ৯টায় বের হতে হবে।এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে ৮টায়।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কনফিউজড হয়ে যায় যে,আরো দশ মিনিট ঘুমিয়ে নিবো নাকি ওঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে ১০ মিনিট রেস্ট নিবো! 

বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে ভার্সিটির বাসের দিকে তাকিয়ে কনফিউশানের মধ্যে পড়ে যায় যে,এতো ভীড়ের মধ্যে এই বাসেই উঠে যাব নাকি আরো সময় নিয়ে পরের বাসটার জন্য অপেক্ষা করব! 

বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসলে মন ও মস্তিষ্ক দুটোই একসাথে কনফিউশানে পড়ে যাই!এক বন্ধু সফটওয়্যার মার্কেট এর ভবিষ্যতবাণী করছে, আরেক বন্ধু খেলার বুলেটিন আলোচনা করছে তো আরেকজন তার অসংজ্ঞায়িত প্রেমের সংজ্ঞা শোনাচ্ছে। এই বহুপাক্ষিক আলোচনা সভায়, আমি কি বলে শান্তিচুক্তি করব তা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে রই! 

এই বয়সটায় এসে এতো ভিন্ন ভিন্ন মানুষদের সাথে মিশতে হয় এবং তাদের মন রক্ষা করে চলতে হয় যে,কার সাথে কেমন আচরণ করতে হবে তা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে যায় মন!  

সারা বছর পড়াশোনা না করে পরীক্ষার দুইদিন আগে যখন পড়তে বসি তখন মন ও মস্তিষ্ক দুটোই একসাথে কনফিউড, কোর্স টিচারের দেওয়া শীট মুখস্থ করব নাকি বুঝে বুঝে পড়ব তা নিয়ে!এদিকে বুঝে পড়ার সময় কই! এই কনফিউশান চলতে থাকে পরীক্ষা হলে ঢুকার আগ পর্যন্ত। 

রাতে বিছানায় শুয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে কনফিউজড হয়ে যাই, এলার্মটা কখন দিবো? এক এলার্মে ঘুম ভাঙ্গবে তো? কনফিউশান নিয়ে এক নাগাড়ে ৮ঃ০০,৮ঃ১০,৮ঃ২০ এলার্ম দিয়েই যাই! 

কনফিউশানগুলো আসতে আসতে আমাদের কৈশোর ঢেকে দেয়।বয়স বাড়ার সাথে সাথে কনফিউশানগুলো বাড়তে থাকে।আমরা এই কনফিউশানগুলোর নাম দেয় অভিজ্ঞতা, সময়টার নাম দেয় বাস্তবতা! এই বয়সটায় আমরা অন্ধকারে নিজেকে লুকায়।অন্ধকারে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যক্তিত্বকে খোঁজার চেষ্টা করি।এভাবে অন্ধকার হাতড়ে যখন বাস্তবতার অভিজ্ঞতার ঝুলি পূর্ণ হয়,ততোদিনে যৌবন শেষ! 

পা রাখি, "মিডল এইজ" নামক আরেক অধ্যায়ে! 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest