আম্মা

আম্মা , আপনাকে ছাড়া আরেকটা রামাদান শুরু করতে যাচ্ছি। আপনাকে ছাড়া এই শবে-ই-বরাত, রামাদান, ঈদ, এই দিনগুলো আমার কেমন জানি অসহায় অসহায় লাগে! এই উৎসবমুখর দিনগুলো আমার কেমন যেন বিষণ্ণটায় কাটে। আমার জন্য না যতোটুকু খারাপ লাগে,তার থেকে বেশি খারাপ লাগে ইমরান আর আব্বার দিকে তাকালে। পুরো বাসাটায় কেমন জানি খাঁ খাঁ করে। সন্ধ্যা কিংবা বিকেলটা আমি বাসায় থাকতে পারি না, কেমন যেন এক শূন্যতা এসে ভর করে। রমাদান আসতেছে ,সামনের সপ্তাহেই বাজার করবো কিন্তু বাসায় মা না থাকলে দুটো পুরুষ মানুষ এর জন্য রমাদান এর বাজার কি কি কিনতে হয়, তা বুঝতে পারছি না! এদের কি কিনে দিয়ে গেলে সেহরি আর ইফতারে ভালো হবে, তাও আন্তাজ করতে পারছি না। আজকে আপনি থাকলে আমাকে এমন দ্বিধাদ্বন্দে পরতে হতো না। আম্মা, আপনি বলতেন না একদিন আমার অনেক টাকা হবে? ইনশাল্লাহ একদিন আমার আসলেই অনেক টাকা হবে, তা আমিও টের পাই। আমি আপনার ডাকা নামের মর্যাদা অবশ্যই রাখবো ইনশাল্লাহ। আব্বা আর ইমরানের দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারতেছি তা তো জানি না।তবে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, এদের ভালো রাখবার। আম্মা, আপনার অনেক ইচ্ছে ছিল আমি যাতে অনেক পড়াশোনা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আপনি আমাকে প্রায়ই বলতেন, "পড়াশোনা ছাড়িস না কখনও, এটাই তোদের একমাত্র সম্বল"। সত্যিই আম্মা, এই কথার মর্ম এখন হারে হারে টের পাচ্ছি। আড্ডায় সবাই যখন এতো এতো কিছু নিয়ে গর্ব করে, তখন আমার কাছে গর্ব করার মতো ওই একটা অর্জনই থাকে। আমি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় বর্ষে আম্মা। আমার এই রেজাল্ট, এই পরিশ্রম, এই যে সবকিছু ব্যালেন্স করা, সবকিছু আপনার দোয়া। আমি জানি, আপনি অনেক দূর থেকেও আমার খেয়াল সবসময় রাখছেন, দোয়া করছেন প্রতিনিয়ত। আম্মা, আপনার মনে আছে কী ভাত খেতে বসিয়ে বলা গল্পগুলোর কথা, খাইয়ে না দিলে যে খেতে চাইতাম না? তখন আপনি বলতেন,"আমি মারা গেলে তখন কে খাইয়ে দিবে? তখন কি না খেয়ে থাকবি?”। আম্মা না খেয়ে নাই সত্যিই, তবে আগের স্বাদটা আর পাই না। এখন মনে হয় বাঁচার জন্য খাচ্ছি। আম্মা, আসলেই চলতে পারছি না! দিনশেষে কেমন যেন এক আকাশ শূন্যতা আর হতাশা কাজ করে। অনেকেই আমাকে সুবোধ ভাবে, দায়িত্বনিষ্ঠ ভেবে বসে, কিন্তু আম্মা আপনার প্রতি দায়িত্ববান হতে না পারার হতাশা আর আফসোস আমাকে সারা জীবন আনুশোচনায় ভোগাবে। আজকে আপনি থাকলে হয়তো আমি নিশ্চিন্তে ঘরসংসার আপনার উপর ছেড়ে দিয়ে নিজের কাজে ফোকাস হতে পারতাম। এখন আমাকে ঘরসংসার এবং নিজেকেও সামলাতে হচ্ছে। কাউকে কিছু বলতেও পারি না, আবার একা সহ্যও করতে পারছি না এই চাপ। এতো বড় তো হইতে চাই নাই আম্মা, যতো বড় হলে আমি আপনাকে হারাইয়া শূন্য হয়ে যাইবো।যেই বড় হলে প্রিয় মানুষদের হারাতে হয়,সে বড় হয়ে কি লাভ ?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest