প্রেম বনাম ম্যারাথন

সে বললো প্রেম, আমি বললাম ম্যারাথন। 

সে বললো প্রেমিকা, আমি বললাম যার কাছে মানিসক শান্তি মেলে।

"তাহলে প্রেমিক?"

আমি বললাম," যে পুরুষ রিকশা ভাড়ার টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা দিয়ে ফুল কিনে।"

সে তখন আমার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিচ্ছে আর বলছে,"প্রেম নিয়ে দারুন ফ্যান্টাসাইজ তো আপনি। আপনার এই যুক্তিহীন প্রেমে যুক্তি টা কোথায়?" 

আমি বললাম, "প্রেম জিনিসটাই অযৌক্তিক। যুক্তি দিয়ে আর যাইহোক প্রেম হয় না। কথায় কথায় যুক্তি দেখানো মানুষগুলো প্রেমিক/প্রেমিকা হয়ে ওঠতে পারে না। বেচারা প্রেমিক হলুদ খামের জন্য আকুল হয়ে অপেক্ষা করে, বেচারি প্রেমিকা ভরা জ্যোৎস্নায় নীল শাড়ি পড়ে পূর্ণিমা দেখবার বায়না ধরে। আপনি এসবের মাঝে যুক্তি খোঁজতে গেলে পাগলের প্রলাপ বলে দ্রুত প্রস্থান করবেন।"

তার মুখে বিদ্রুপ চোখে দুষ্টুমি, " আর যা-ই বলেন এসব প্রেম বইপত্রেই সুন্দর৷ বাস্তব জীবনে প্রেমিকা হিসেবে আপনারা চান সুন্দরী-সুশ্রী-রমনী আর মেয়েরা চায় সামাজিক নিরাপত্তা, সুন্দর ভবিষ্যত"। 

এবার আমার মুখে বিদ্রুপ, ঠোঁটে বাঁকা হাসি," অনেক পুরুষ কাজলকালো চোখের মায়ায় দেখে কাঁত হয়ে যায়। পুরুষ মানুষ যেখানে মানসিক শান্তি খুঁজে পায়, সেখানে বটবৃক্ষ হয়ে ওঠে। বটবৃক্ষ যেমনটা একটু আলো আর এতোটুকু পানি পেলে শিকড় মেলতে থাকে যার স্থায়িত্বকাল ২০০ বছরের অধিক, পুরুষ মানুষও অনেকটা তা-ই! আর ব্রাইট ফিউচার আর সামাজিক নিরাপত্তা এক মরীচিকার নাম। যতোই অপেক্ষা করুক মেয়েরা, বেটার অপশন কখনো এদের জীবনে আসে না। " 

বেচারি এবার কিছুটা কথার খেই হারিয়ে ফেললো, " তাহলে ধরেন আপনি বেকার প্রেমিক। বিয়ের পর বউকে পালবেন কিভাবে? ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরে?" 

কিছুক্ষণ চুপ থেকে কথাগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি। বুকের ভেতর থাকা দীর্ঘশ্বাসটা ফেলতে ফেলতে বললাম," প্রেমিক যখন হয়েছি, পুরুষ তখন হতেই হবে। মেধা দিয়ে একটা না একটা কিছু করেই ফেলবো। তারপর মন দিয়ে ভালোবাসবো, মেধা দিয়ে পরিশ্রম! "

"বাহ, সংসার জিনিসটাকে এতো সিম্পলি নিয়ে নিলেন! বউ পালা, সংসার করা এতোটাই সহজ? জামদানী শাড়ির আবদার,দামী মেকআপ আর গহনার আবদার, হানিমুন এসব আবদার বলেও বউয়ের কিছু থাকে জনাব।" 

আমি বললাম, " আমি ঠিক করেছি কি জানেন, আমি পালিয়ে বিয়ে করবো। বিয়ের শুরুটাই যদি সাদাসিধা হয় তখন আমি যদি ভালোবেসে আপনাকে ফুলও দিই, আপনি সারাটা জীবন সেই ফুলের গল্পে আমার হয়েই থাকবেন, তা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অন্যদিকে বিয়ের মতো একটা ব্যাপারে লাখ লাখ টাকা খরচ করে ধুমধাম করে বিয়ে করলাম, তখন আপনি সঙ্গিনী হিসেবে জামদানী আর হানিমুন স্পট হিসেবে মালদ্বীপ এর আবদার করতেই পারেন। তবে আমি এতোটা কৃপণ নয় আবার! আমি চাই প্রেমিকার সাথে আমার সাদাসিধে জীবনযাপন। দামী মেক-আপ আর ভারী ভারী গহনা যেন আমার মানুষটার প্রাকৃতিক রূপ-লাবণ্যকে ঢেকে না ফেলে! হ্যা এতো সাধারণ জীবনযাপনে আমার হয়তো বিলাসীতার সামর্থ্য নেই, তবে হানিমুনের বদলে নীলক্ষেতের পুরোনো বইয়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে বলবো "বই কিনো তোমার মনের ইচ্ছে মতো। আজ না হয় দু'জনে দুহাত ভর্তি করে গল্পের বই নিয়েই দেউলিয়া হয়ে ঘরে ফিরবো!"। ফিরবার পথে হাঁটতে হাঁটতে সুর মিলাবো একে অপরের গানে। ছোট্ট এক সংসারে বিলাসী জীবন বলতে থাকবে বই আর বই৷ আসবাবপত্রের চেয়ে চার দেয়ালে থাকবে সারি সরি বই৷ পড়ন্ত বিকেলে সে বারান্দায় বসে বই পড়তে পড়তে আমাকে অর্ডার দিবে চা বানিয়ে এনে পাশে বসতে গল্প শোনাবে বলে।"

এরপর অনেকদিন হয়ে গেলো মেয়েটার সাথে আর কথা হয় নি আমার। কে জানে হয়তো উদ্ভট পাগলাটে কিসিমের কেউ মনে করেছে আমাকে। আমিও আগ বাড়িয়ে আর কখনো নক দিতে যাই নি তাকে! অনেকদিন পর কলেজ লাইফের পুরোনো সেই ঠিকানায় এক পার্সেল এলো। কিছুটা ভ্রু কুঁচকে ফোনটা রেখে পার্সেলটা আনতে গেলাম৷ পার্সেলটা খুলে বেশ অবাক হলাম এবার। কয়েকটা চিরকুট, একটা হলুদ খামে লম্বা এক চিঠি। সন্ধ্যা নেমে শান্ত হয়ে আসা ক্লান্ত এই শহরে রাস্তা ধরে হাঁটছি আর চিঠিটা পড়ছি।

........নাহ, এই চিঠি পড়া যাবে না আর। পুরোটা পড়ে ফেললেই কেন জানি মনে হচ্ছে, আমি যুক্তিহীন কাজ করে বসবো। চারপাশে যে প্রাচীর নিজেকে ঘিরে প্রতিনিয়ত তৈরি করছি, তা ভাঙ্গবার সাহস আর আমার মধ্যে নেই। 

গল্পের চরিত্র থেকে শুরু করে লেখক নিজেই, সম্পূর্ণ কাল্পনিক😐 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest