সুইসাইডাল মুডে একটাই চিন্তা থাকে নিজের অস্তিত্ব শেষ করে দিয়ে তাড়াতাড়ি দাবার বোর্ড ত্যাগ করা
ক্লাস নাইনের পর আমি যে একটামাত্র খেলা খেলতাম তা হলো দাবা। যেদিন থেকে মিশির আলী পড়া শুরু করেছি, সেদিন থেকে এই মাইন্ড গেইম আর সাইকোলজিক্যাল এর ব্যাপার-স্যাপারের উপর তীব্র আগ্রহের শুরু। ওয়েস্টার্ন ফিলোসোফির আর সাইকোলজির প্রতি একটা টান অনুভব করি। এরপর থেকে ক্রিকেট-ফুটবল আর আমাকে তেমন আকর্ষণ করেনি।
স্কুল লাইফে দাবাটাকে খেলা হিসেবেই নিতাম। কিন্তু যখন থেকে গেইম প্ল্যান সাজানো শিখলাম, জানতে পারলাম একটা মুচঁকি হাসি দিয়েও ওপনেন্টকে ম্যানিপুলেট করে ফেলা যায়,সেদিন থেকে দাবাকে আমার কাছে রীতিমতো War of Manipulation মনে হতে লাগলো।
দাবা খেলার সাথে জীবনের অনেকটা অংশের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে জীবনের দাবা খেলায় আপনার ওপনেন্ট টিম আপনি নিজেই।
জীবনে আসা অধিকাংশ মানুষগুলোয় ঘোড়া(Knight)-এর মতো। আপনার সাথে স্বার্থের সুবিধা করতে না পারলে সুযোগ মতো আপনাকে ডিঙ্গিয়ে আড়াই ঘরের চাল দিয়ে চলে যাবে!
প্রতিদিন অনেক মানুষের সাথে আমাদের দেখা হয়, কথা হয়, পরিচয় হয়। এরা হলো সৈন্য(Pawn) এর মতো । মনে হবে তেমনকিছু না, উদ্দেশ্যহীন। কিন্তু সুযোগ বুঝে এমন চাল দিবে যে আপনি কপোকাত। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে আপনার গেইম প্ল্যান শেষ😄
আত্মীয় স্বজনরা হলো হাতি(Bishop)-এর মতো, সবসময় ত্যাড়া চাল চালবেই! এই ত্যাড়ামি কখনো আপনার জন্য সুফল বয়ে আনবে, আবার কখনো মাইনকা চিপা😀
নৌকা(Rock) হলো আমাদের পরিকল্পনা আর চিন্তাভাবনাগুলো। সবসময় সরল মনে হলেও ধুম করে জটিল হয়ে যায় সিচুয়েশন বুঝে!
আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী ভুমিকায় থাকা ক্যারাক্টারকে নিয়ে আমার শত কনফিউশান, Queen ওরফে মন্ত্রী। যিনি-ই বাংলা নামকরণ করেছে রানীর উপর মনে হয় উনার এক আকাশ পরিমাণ অভিযোগ ছিল! এই Queen/মন্ত্রী হলো আপনার প্রিয় মানুষটা, যে সবসময় আপনাকে রক্ষা করতে নিয়োজিত। আপনার সব গেইম প্ল্যান থাকে তাকে ঘিরেই। প্রথম প্রথম মনে হয় Queen/মন্ত্রী ছাড়া গেইম কন্টিনিউ করা সম্ভব না। কিন্তু বাধ্য হয়ে একে স্যাক্রিফাইস করে যখন একা লড়তে হয়, তখন কিন্তু ঠিকই Survive করতে পারেন। আবার অনেকে জিতেও যায়!
এই দাবা খেলা আমাকে শিখায় কিভাবে আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ ক্যারাক্টারগুলো হারিয়ে যাক কিংবা রূপ পাল্টে ফেলুক না কেন, জিততে হলে লড়াই করার বিকল্প নেই। কারণ এই খেলার রাজা তো আমি নিজেই। মুচঁকি হাসি দিয়ে যা আছে তা নিয়ে নতুন করে গেইম প্ল্যান সাজাতে বসি, নতুন করে জিতার আশায়। তবে হ্যা, অনেকেই আছে আশেপাশের জাজমেন্টাল লুক আর এই FoMo(fear of missing out) এর চক্করে পড়ে হারার আশঙ্কায় মাঝপথে ফেলে চলে যায়!
এই যে আপনারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেয়েটার সুইসাইড নিয়ে এতো এতো Overrated ক্যাপশন দিয়ে পোস্ট করছেন, মায়া কান্না করছেন এই বলে," এতো ভালো একটা ইনস্টিটিউশনে পড়ে, এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারে উঠে, আর কয়েকদিন পর ডাক্তার হয়ে বের হতো, কী দরকার ছিলো সুইসাইড এটেম্পট নেওয়ার?"
আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, জীবনের এই দাবা খেলায় শেষ চাল অব্দি বলা যায় না কে জিতবে, কার গেইম প্ল্যান কেমন। এই খেলায় সৈন্য থেকেও checkmate খেতে হয়। সৈন্যের পেছনের কাতারের Rock, Knight ,Bishop, Queen এর যেই ব্যাক-সাপোর্ট তা না থাকলে ওপনেন্ট টিম Checkmate দিয়ে দেয়। তখন হতাশা আসে, ডিপ্রেশন ভর করে। শেষ অব্দি টিকে থাকার গেইম প্লেইন তখন হয় Survival Mood এ নিয়ে যায়, না হয় Suicidal Mood এ। সুইসাইডাল মুডে একটাই চিন্তা থাকে নিজের অস্তিত্ব শেষ করে দিয়ে তাড়াতাড়ি এই দাবার বোর্ড ত্যাগ করা।
মন্তব্যসমূহ