একটা বিকেল থাকুক, একান্তই আমার
আমার অধিকাংশ বিকেল কাটে বারান্দায় বসে। কখনো চায়ের কাপে, কখনো কফির মগের সাথে মস্তিষ্কের তীব্র বুঝাপড়ার মধ্য দিয়ে আমার কত-শত বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এই বিকেল ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামা, আমাকে আমার জীবনের যে আয়ু ফুরিয়ে আসছে, তা মনে করিয়ে দেয়। এই বিকেল বেলায় আমার কাজকর্মে জড়তা এসে ভর করে। টিউশনে যেতে মনে চায় না, কাজ করতে মনে চায় না, টেবিলে বসলে কেমন যেন এক অস্থিরতা কাজ করে! তখন উদভ্রান্ত মন নিয়ে বারান্দায় এসে বসি।
নিভু নিভু সূর্যের নিস্তেজ হয়ে পড়া আমাকে আমার শেষ বয়সের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমন একটা দিন আসবে, যেদিন এই মস্তিষ্ক আর আগের মতো শার্প কাজ করবে না, স্মৃতি হাতড়ে বের করতে পারবো না সামনের বসে থাকা মানুষটার নাম। তারপরও কি এক অদ্ভুত অসীমের দিকে ছুটে চলা আমাদের! অস্ত যাওয়া সূর্যটা কাল নিয়ম করে ঠিকই ফিরে আসবে, কিন্তু ফুরিয়ে যাওয়া জীবন আর ফিরে পাওয়া যাবে না!
জড়তা নিয়ে যেমন প্রেমিকার কপালে চুমু খেতে পারে না কোনো প্রেমিক, তেমনিভাবে এতো শত-শত দায়িত্ব আর কর্তব্যের ভীড়ে জীবন উপভোগ করা যায় না। এরপরও জীবন একটা-ই, একে নিজের মতো করে সাঁজিয়ে নিতে হয়। নিজের মতো করে উপভোগ্যকর করে তুলতে হয়।
আমি যতবার পেছন ফিরে তাকিয়েছি, ততোবার অতীতকে সাময়িক সময়ের এক ফ্ল্যাশব্যাক মনে হয়েছে আমার কাছে ৷ একটা শর্ট ফিল্মের চেয়েও কম সময়ের ব্যবধানে যেন পুরো একটা জীবন পার করে ফেলেছি। জীবন কোনো ফিল্ম না, আবার কারো জন্য এর থেকেও কম না।
জীবনে দায়িত্ব, কর্তব্য, অবহেলা, ভাঙ্গন, অভিযোগ সব আসুক। এরপরেও, এই ভরাডুবির মাঝে হলেও আমার একটা বিকেল থাকুক, একান্তই আমার। যেই বিকেলে কেউ ভাগ বসাতে আসবে না, এই সময়টা শুধুই আমার হোক। এই যাপিত জীবনের পাওয়া না পাওয়া আর ফেলে আসা অতীতের সসীম সময়টুকু, আমার এই অসীম আর অনিশ্চিত ভবিষ্যত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই দিক।
মন্তব্যসমূহ