পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

কালবেলার নিউজে দেখলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর স্টাফদের ব্যক্তিগত তথ্য (প্রায় ৭০ জিবি ডাটা) হ্যাকাররা হাতিয়ে নিয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইটি সেলের কর্মকতার মাঝে তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপই দেখা গেল না, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা তো বাদই দিলাম! সেই কর্মকর্তা দেখলাম বেশ কনফিডেন্ট নিজের সিস্টেম নিয়ে, আবার বলছেন এই হ্যাক করার প্রচেষ্টা নাকি গত দুবছর ধরে চালাচ্ছিলো, এখন এসে সফল হয়েছে, তার উপর ৭০ জিবির ডাটার ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন রীতিমতো! কথা হলো, দু'বছর ধরে চেষ্টা করে থাকলে তাদের এই দুবছরে ডিফেন্স মেকানিজম কি ছিলো ?  দুবছরে একবারও টের পায় নাই? এই সিস্টেম এ ঢুকতে দুই বছর? নিরাপত্তায় পুলিশ না রেখে চুরি হওয়ার পর চুরি হওয়ার ব্যাপারটাকে অস্বীকার করলে চোরদেরই লাভ। চোরেরা বসে বসে তো মুচঁকি হাসবেই!  মাস ছয়েক আগে সাত কলেজের এক ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা হয়েছিলো এক একাউন্ট দিয়ে এডমিট কার্ড ডাউনলোড করতে। কৌতুহলবশত সার্ফিং করতে গিয়ে খেয়াল করলাম ঢাবির ডাটাবেজ লিংকড কিছুক্ষেত্রে। আমি সিকিউরিটি সেক্টরে বলতে গেলে একদম ন্যুব। এখনো তেমন কিছুই জানি না ভালো করে। কলেজের সাইটট...

নতুন বছরে সবকিছু নতুন করে শুরু হোক

মাথার ভেতর এখন যেন 24/7 আস্ত একটা ক্যালকুলেটর চলে। প্রতিনিয়ত যেন চলতে থাকে হিসেব-নিকেশ। শেষ কবে এই যন্ত্র বিরতি নিয়েছিলো তা মনে পড়ে না। ঘুমের মাঝেও মস্তিষ্কে চলে রাজ্যের হিসেব-নিকেশ।  সমুদ্রের পাড়ে বসে তীরের ঢেউ গুনতে গুনতে মনে হয়, "এই তো আরেকটা সূর্যাস্ত শেষ, আরেকটা দিনের সমাপ্তি "। আড্ডা আর আগের মতো হাসিঠাট্টার হয় না। এখন আড্ডা হয়ে উঠে যতসব হিসেব-নিকেশের। এই হিসেব-নিকেশ সংসারের, নিজের, প্রয়োজনের কিংবা বেশিরভাগই অপ্রয়োজনের! আমরা এখন সম্পর্কের চেয়ে বেশি সময়ের দাম দিতে শিখে গিয়েছি। যান্ত্রিকতা ছুঁইয়ে দিচ্ছে রক্তে-মাংসের দেহটাকে। কেউই মাটির কাছে ফিরবার কথা মনে-ই করে না আর! তারপরও আমরা সবাই বয়সের কাছে এসে কেমন যেন ক্যালকুলেটিভ হয়ে পড়ছি দিন দিন। এই পরিবর্তন বড্ড বেশি চোখে পড়ার মতো! আমি বছরের শেষ দিনে এসে ক্যালেন্ডার সরিয়ে রাখতে রাখতে ভাবি, "এভাবেই দিনগুনে বছর শেষ তারপরও প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির ভীড়ে কত-শত মানুষ হারালাম, তার আর হিসেব কই রাখলাম?  নতুন বছরে হয়তো নতুন নতুন মানুষ আসবে জীবনে, পুরনোদের আর হিসেব কই রাখলাম?  তাহলে কি মানুষের মস্তিষ্ক 24/7 যে হিসেব কষে, তা শুধুই স্বার্থ...

রেখেছে দখল করে আশৈশব আমার একালা

আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম এটা শুনে যে প্রেমিকের লিখা পড়ে প্রাক্তন প্রেমিকা যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে অন্যের সাথে সে পাগল হয়ে যেতে পারে! সেদিন বিষ্ময় নিয়ে, "যে জলে আগুন জ্বলে" কবিতাগুলোর লাইনগুলো পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম প্রেমিক হলে এমনই হওয়া উচিত। প্রাক্তন হলেও, যার প্রতি কমেনি সম্মান একটুও। উনার অধিকাংশ কবিতায় ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার মানুষটাকে না পাওয়ার হাহাকার! নিজের লিখা পড়ে কবির প্রাক্তন প্রেমিকা হেলেন মানসিক ভারসাম্য হারায়,স্বামী ডিভোর্স দিয়ে দেয়, এই অনুশোচনায় হেলাল হাফিজ আর বিয়ে-থা করেননি। তারপর অর্ধ যুগ গেল, এই মানুষটাকে আমি চিনে গেলাম কবিতার লাইনেই। যার মৃত্যু ঘটলো চরম নিঃসঙ্গতায়!  যে প্রেম শেখালো, তার কি নির্মম প্রেমহীন মৃত্যুবরণ! তারপর আমি বিশ্বাস করতে শিখলাম মরণশীল মানুষের লিখা ও প্রেম, মানুষকে অমর করে রাখে! ওপারে এই মানুষটা যেন ভালোবাসা পায়। প্রতীক্ষায় থেকো না আমার আমি আসবো না, থাকলো কথার কবুতর কখনো বাইষ্যা মাসে পেয়ে অবসর নিতান্তই জানতে ইচ্ছে হলে আমার খবর পাখিকে জিজ্ঞেস করো নিরিবিলি, পক্ষপাতহীন পাখি বিস্তারিত সংবাদ জানাবে কী কী ব্যথা এবং আর্দ্রতা রেখেছে...

সব পেলে নষ্ট জীবন

তারপরও জীবন থামতে চায়। চলন্ত রেলগাড়ীতে তীব্র ব্রেক কষে যাত্রার মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যেতে মনে চায়। এই যাত্রায় কারো কাছে "Life is a journey", কারো কাছে "Life is a tour" বলা এ জীবন নিজের কাছে মনে হয় "Life is a Marathon"! একটু ঝিমুনি আসলেই চোখ খুলে দেখতে হয় পেছনের অনেকে টপকে সামনে চলে গিয়েছে!  তারপরও জীবন একটু থেমে আশেপাশের মানুষের মুখোশের অন্তরালে আসল মানুষটিকে চিনতে-জানতে মনে চায়। যে মুখোশের আড়ালে মানুষ কান্না লুকায়, চাপা আর্তনাদ ফেলে, ক্রোধ পুষে, সেই মুখোশ ফেলে দিয়ে আয়নায় তাদের কুৎসিত চেহারাটা চিনিয়ে দিতে মনে চায়! এই জীবনে একটু থেমে ভালোবাসার স্বাদ উপভোগ করতে মনে চায়। যান্ত্রিকতার আত্মগ্লানিতে ক্লান্ত মন ভালোবাসার পরিচর্যায় পুনরায় উজ্জীবিত হতে চায়। দিনশেষে ভালোবেসে কেউ একজন থাকুক যে ম্যাটারিয়ালিস্টিক প্রাচুর্যের বাইরেও যার থাকবে আত্মসম্মানবোধ,গভীর যত্ন নিয়ে আগলে রাখার ক্ষমতা আর অফুরন্ত ভালোবাসা। যে ব্যকুল হয়ে অপেক্ষা করবে বেলাশেষে শেষ ট্রেনে কখন বাড়ি ফিরবো এই আশায়।  এই জীবন একটু ফুরসত নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ডুব দিতে চায়। পাহাড়ের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আগামীর...

Monologue- 29

ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। চা'ওয়ালা মামাকে বলে এক প্যাকেট কফি মিক্সড করে নিয়েছি। চিনি ছাড়া কড়া লিকারের কফি মিশ্রিত এ এক বিদঘুটে স্বাদ! স্বাভাবিক সময়ে হলে এ চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে আমার জিহ্বা ১২০ ভোল্টের শক খেতো কিন্তু এখনো তেমন কিছুই অনুভব করছি না। লাস্ট ২০ ঘন্টার ১৪ ঘন্টায় ঘুমিয়েছি। এরপর ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে টিউশনে গেলাম। পড়াতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো ঘুমে কথা জড়িয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি পড়ানো শেষ করে এসে মামার ভাসমান টি-স্টলে বসলাম। এ জায়গাটা আমার পছন্দের একটা জায়গা। সত্যি বলতে ফুটপাতে বসতে প্রথমদিকে অনেক মৌন বাধা কাজ করলেও, এখন বেশ মজায় লাগে! রাস্তার ভিখিরি থেকে শুরু করে জুতা সেলাই করা মামার নজরে পথচারীরা দেখতে কেমন, তা বুঝাতে পারা যায়।  ঘুমের আড়ষ্টতা যেন আস্তে আস্তে কাটছে মনে হচ্ছে। হঠাৎ কানে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম কোথা থেকে যেন। পুরুষ মানুষের কান্না। চারপাশে চোখ ভুলিয়ে বুঝতে পারলাম কিছুটা দূরে মধ্যবয়স্কা এক লোক কান্না করছে। হাতে বড়সড় একটা ফাইল, মেডিকেলের কাগজপত্র আর রিপোর্ট। ফোনে কারো সাথে কথা বলছে আর কান্না করছে। যতটুকু শুনতে পেলাম, উনার পরিবারের কারো কঠিন কিছু একটা হয়েছে। কান্নায় কেমন যেন...

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!

খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না

একটা সময় পর্যন্ত আমি আমার জীবনে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলোর আগা-মাথা মিলাতে পারতাম না। তখন শুধু মনে হতো, "এসব জিনিস আমার সাথেই কেন ঘটছে। আমার সাথে যত্তসব অন্যায় করতেছো খোদা"। তখন সব দোষ খোদার উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেকে নিজে সহানুভূতি দিতাম। সেই ভিক্টিম কার্ড প্লে করতে করতে শৈশবের একটা বড় অংশ পার করলাম। একদিন টেবিলে বসে অংক মিলাতে মিলাতে মনে হলো, "খোদা আসলে কারো সাথে অন্যায় করেন না। অংকের মতো সমাধান আগেই বের করে রাখেন তারপরও অংকের সমাধান খুঁজতে পৃথিবীতে পাঠান। কিন্তু পৃথিবীতে আসার পর ব্যস্ত হয়ে যায় আমোদ-প্রমোদে! ফুর্তি করতে করতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে পড়লেই কেবল খোদাকে স্মরণ করি।"  আশ্চর্য, করতেছিলাম বীজগণিতের সরল অংক কিন্তু এসব আমার মাথায় কেন আসছিলো!!!  জীবনের একটা সময় পর্যন্ত আমার অভিযোগ আর অভিমানের সীমা ছিলো না। অনেক ভেবে দেখলাম, যে সময়টা পর্যন্ত আমি পরনির্ভরশীল ছিলাম সে-সময়টায় আমার সবথেকে অভিযোগ আর অভিমানবোধ বেশি কাজ করতো। চা যখন আপুরা বানিয়ে এনে সামনে দিতো, তখন চায়ে চুমুক দিয়ে দুধ-চিনি পরিমাণ নিয়ে সে কি অভিযোগ আমার! আম্মা রান্না করে খাবার যখন প্লেটে বেড়ে টেবিলে দিয়ে যেত, তখন ...

অক্টোবর মাসের শুরু

অক্টোবর মাসের শুরু।বেলা ফুরানোর আগেই রোদ্দুরের আচঁ কমে যাচ্ছে, শরতের কাশফুলগুলো নুঁইয়ে পড়ছে, দক্ষিণের বাতাস বন্ধ হয়ে পড়েছে, উত্তর এর মৃদুমন্দ বাতাস শুরু হয়েছে, সবকিছু মিলিয়ে চারিদিকে কেমন যেন একটা আবহাওয়ার লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন টের পাওয়া যাচ্ছে। এই যে একটা ঋতুর পরিবর্তন, তা খুব সূক্ষ্ণভাবে মনের উপরও প্রভাব ফেলছে যেন। বিকেলে ছাদে বসে যখন সূর্যের অস্ত যাওয়া দেখি, তখন উত্তর এর বাতাস এসে জানান দেয় শীতের আগমনের। ভোরের ভ্যাঁপসা গরম, তারপরও কুয়াশার যেন চিকন চাদঁরে আচ্ছাদিত হতে দেখা যায় মাঠ ঘাট! দুপুর গড়াতেই রোদের আচঁ খুব দ্রুত কমতে শুরু করে। না বর্ষা, না প্রখর রোদ্দুর, প্রকৃতির কেমন যেন এক দ্বিধান্বিত রূপ। আগে সন্ধ্যা হতো ৭ টায়। সারাদিনের কাজ শেষ করে এসে একটা সন্ধ্যা পাওয়া যেত ক্লান্ত শরীরটাকে বিশ্রাম দেয়ার। এখন সন্ধ্যা হয় সাড়ে পাঁচটায়। সারাদিনের অর্ধেক কাজও শেষ করা হয়ে উঠে না। তারপর রুমে এসে বসতে না বসতেই রাতের খাবারের সময় হয়ে যায়!  এভাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে খাওয়াতে কেটে যাচ্ছে দিন। আমি এক বেকার প্রেমিক একবার বর্ষার প্রেমে পড়ে কবিতা লিখতে বসি তো, আরেকবার শরৎ এর আকাশ দেখে প্রেমপ...

জীবন আপনার ফিলোসোফির মতো সুন্দর

আমরা অনেকেই একটা নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে জীবনযাপন করি। স্টুডেন্ট হলে ভার্সিটি-টিউশন-কোকারিকুলার, চাকুরীজীবী হলে নাইন-টু-ফাইভ জব, বাজার করা, পরিবার মেইনটেইন করা,আরো নানান কাজেকর্মে দিন পার হয়ে যাই। এই যান্ত্রিক জীবন নিয়ে আমাদের নানান অভিযোগ তৈরি হয়। একটা সময় এসে, এই ক্লান্ত শরীর আর বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে তখন আর কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতে মনে চায় না, মনে চায় না অপ্রয়োজনে নিজের শক্তি অপচয় করতে! অনেক ফোন কল আর রিসিভ করা হয়ে ওঠে না, অনেক ম্যাসেজের আর জবাব দেওয়া হয়ে ওঠে না। হয়তো সামনাসামনি দেখা হলে সৌজন্যতাবোধের খাতিরে হাসিমুখে দু'চারটা কথা বলতে হয় অনিচ্ছাসত্ত্বেও!  দিনের পর দিন যায়, দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ক্যালেন্ডারের পাতায় চোখ যায় কখন উইকেন্ড আসবে এই ভেবে। ট্যুর প্ল্যানও দূরে কোথাও করা যায় না সময়ের অভাব বলে। শেষ কবে ভালো একটা ঘুম হয়েছিলো তা মনে পড়ে না আর! এভাবেই একটা সময় এসে এই জীবনের সকল ব্যস্ততা নিয়ে অভিযোগ জমা হয়, অভিমানে এই জীবন নিয়ে দু'চারটা গাল-মন্দও করে বসি। অবসর জীবনই প্রকৃত জীবন, ছুটি সুন্দর, এসব ধারণা মনে বাসা বাঁধে।  অথচ অবসর সময়ও সবসময় সুন্দর না। আমি মাঝে মাঝে এই যান্ত্রিক জীবন...

Monologue-26

বিকেল ৪:১৩। জ্যামে রিকশায় বসে বসে ঘামছি আর মেজাজ শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। ১৯-২০ বছরের একটা ছেলে একদম মাঝ রাস্তায় মোটরসাইকেলে কিক মারছে বার-বার তারপরও গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট নিচ্ছে না। এইদিকে পেছন থেকে সব গাড়ি তাকে হর্ণ বাজিয়ে যাচ্ছে, এতে তার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সে  এমনভাবে মনোযোগ দিয়ে একটু পর পর তেলের পাইপ চেক করছে যেন দুনিয়ায় সে আর তার মোটবাইক বাদে আর কিছুই নেই! পেছনে উঁকি দিয়ে দেখি বিশাল লম্বা জ্যাম লেগে গেছে ইতিমধ্যে।  ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলাম কাস্টমাইজড বাইক। ওল্ড মডেলকে নতুন বডি দিয়ে যেন সাজিয়েছে। এই বয়সী ছেলে-মেয়ে অবশ্য এসব শখ অদ্ভুত কিছু না। সেদিন এক স্টুডেন্টকে জিজ্ঞেস করলাম, "পড়াশোনার পাশাপাশি কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস কি করো?" সে উত্তর দিলো, "COD(Call of Duty) খেলি স্যার"। বেশ সুন্দর উত্তর!  আরেক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, "পড়াশোনা যে ঠিকঠাক মতো করছো না আঙ্কেল আন্টি তো ধরে বিয়ে দিয়ে দিবে। তখন ভালো লাগবে স্বামী বাড়িতে গিয়ে সকাল সন্ধ্যা রুটি বানাবা আর চা? " প্রতিত্তোরে সে বললো,"স্যার বিয়ে দিয়ে দিলে তো ভালোই ছিলো। হাসবেন্ড আমাকে প্রতিদিন সকাল...

সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলো

আমার সিরিয়াস স্বভাবের মানুষগুলোকে খুব ভালো লাগে। এদের মাঝে ব্যক্তিত্ব বলতে একটা ব্যাপার ফুঁটে থাকে। এদের সবসময় দরকার হয় না সামনে থেকে চেনার, কথা বলে পরিচিত হওয়ার। এদের দূর থেকেও এমনিতেই চেনা যায়, কার্যকলাপেও বুঝা যায়। দরকারের বাইরে কোনো অতিরিক্ত কথা নেই, শো-অফের এর নামে এটেনশান সিক করতে চায় না, প্রয়োজনের সময় এক্সট্রোভার্ট এবং অপ্রয়োজনে একদম চুপচাপ। এর মানে এই না যে, আমি অন্যদের অপছন্দ করি। কিন্তু প্রয়োজনের বাইরে যারা অতিরিক্ত মজা করে, Flirt করার নামে ভাঁড়ামি করে, সিরিয়াস সিচুয়েশনে জোকস ক্র্যাক করতে আসে, তাদের আমি একদমই অপছন্দ করি। একটা গামছা ৮ বছরে কিভাবে টিকে এসব নিয়ে ট্রল করে। ফেলানী-স্বর্ণা দাস বর্ডারে গুলি খেয়ে মরে এসব নিয়ে এরা কিছু বলে না, জাতীয় সংগীত পাল্টিয়ে পাগলু হবে না লুঙ্গি ড্যান্স তা নিয়ে পরে আছে! মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে করে এদের বলি কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে, কোন বিষয়ে মতামত দিলে সেটা জোকস হবে আর কোথায় সেটা ভাঁড়ামি হবে!  ইদানীং স্যোসাইল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের আড্ডায়, সব জায়গায় অনেকেই নিজেকে Funny সাজাতে গিয়ে জোকার সাজিয়ে ফেলছে, মজা করার নামে ভাঁড়ামি করতেছে! আপনাদের শেয়ার...

জীবন যেন একটা স্যুটকেস

একটা সময় পর,জীবন যেন একটা স্যুটকেস এর মতো হয়ে যায়।আজকে এক জায়গায় তো, কালকে আরেক জায়গায়। কখনো এখানে তো, কখনো সেখানে।আবার কোনোদিন অবহেলিত হয়ে পড়ে থাকে ঘরের কর্নারে। স্যোসাইল স্ট্যাবিলিটি আনতে গিয়ে এ যেন, জীবনের স্ট্যাবিলিটির বারোটা বেজে যায়! রাত্রি বেলা ক্লান্ত শরীরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করার পরও মনে হয়, মাথায় ভেতর শব্দ করে মস্ত বড় একটা ট্রেন চলছে! 

একটা প্রস্টিটিউটরে প্রমোট করা থেকে থামেন ভাই

NSU এর যে মেয়েটার চ্যাট ভাইরাল হলো, প্রথমবার দেখে খুব অবাকই হয়েছিলাম এই ভেবে যে, একেই হয়তো 'পশ প্রস্টিটিউশন' বলে, এভাবেই হয়তো ডিল করে! কিন্তু সবথেকে বেশি অবাক হচ্ছি এটা দেখে যে এই মেয়েটার চ্যাট রীতিমতো 'Talk of the Town'। বিশেষ করে এই মেয়ের একরাত্রি 25k ব্যাপারটা!  সকাল থেকে দেখছি, অনেকেই এই মেয়ের রেট নিয়ে খুব কথাবার্তা বলতেছে স্যোসাইল মিডিয়াগুলোতে। সব থেকে বাজে যে ব্যাপারতা হলো,মেয়েরাই এই মেয়েকে নিয়ে বেশি ট্রল করতেছে। এদের ক্যাপশন অনেকটা এমন যে, "৬৯ টাকার জিনিস ২৫ হাজার হয় কেমনে?"  "মুদ্রাস্ফীতির ফলে আজ ২৫০ টাকার জিনিস ২৫ হাজার!"  " বছরে ৯১ হাজার 😲"  ....................ইত্যাদি ইত্যাদি। চিন্তাভাবনা কোথায় গিয়ে পৌঁছালে মানুষ এভাবে একটা Prostitute কে প্রমোট করতে পারে। এরা ভাবে এসব নিয়ে ট্রল করলে নিজেরা সুশীল। কিন্তু আমি তো এদের মানসিকতার সাথে সুশীল সমাজের বিস্তর ফারাক দেখি! মেয়েটা ইনবক্সে গিয়ে করেছে, যা করেছে। ছেলেটাও কম দোষী না। সেই প্রথম অফার করেছে, এবং মেয়েটা প্রশ্রয় দিয়েছে। অথচ ছেলেটাকে নিয়ে কোথাও কথা হচ্ছে না। উত্তেজনা সঠিক জায়গায় না উঠ...

আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে!

বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।আমার এখন ঝুম বৃষ্টি দেখলেই কেমন যেন মন খারাপ লাগে! এমন ঝুম বৃষ্টির বেশ কয়েক রাত আমি স্টেশনে বসে কাটিয়েছি ট্রেনের অপেক্ষায়।টিউশন থেকে ফিরতে গিয়ে কত বার যে মাঝরাস্তায় আটকা পড়ে ছিলাম এমন ঝুম বৃষ্টির জন্যে। মন খারাপবোধটা এসব অভিজ্ঞতার জন্যও না। আমার ঝুম বৃষ্টির ভয় অন্য কারণে।এমন মুষলধারে বৃষ্টি হলেই মনে হয় কোথায় কার সদ্য কবর থেকে যেন মাটি সরে যাচ্ছে, কোথায় কোনো এক মা যেন ফুটো টিনের চালার ঘরে তার সন্তানকে আগলে ধরে বসে আছে বৃষ্টি থামবার অপেক্ষায়!

Dear GEN-Z

Dear GEN-Z, সংগ্রাম করে পুরো একটা দেশ স্বাধীন করলা, স্বৈরাচারের পতন ঘটাইলা। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমরা নিজেদের মনের ভেতরের স্বৈরাচারকে এখনো দূর করতে পারতেছো না! সংগ্রাম করলা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে। বিজয়ীও হইলা। কিন্তু লাভটা কি হইলো বলো তো আমারে? বড় ভাইদের পেছনে গিয়া শো-ডাউন দিতেছো, সহমত ভাই মনোভাব নিয়ে ঘুরতেছো, গর্ত থেকে বের হয়ে নিজেরে সমন্বয়ক দাবিদার ভাইয়েরা যা বলতেছে তাই করতেছো। একবারও মনটারে জিজ্ঞাইতেছো না, এই ভাইয়েরা যেই যেই কাজ করাইতেছে তোমাদের দিয়া তা কী আদো উপকারী, সমাজের ভালো হচ্ছে নাকি শুধুই সময় আর এনার্জি নষ্ট হইতেছে?  গত একটা সপ্তাহ ধরে এলাকায় থাকলাম। খুব আশা নিয়ে আসছিলাম, নিজের এলাকার পরিবর্তন দেখবো স্বচক্ষে। আমার মনে হয় না খুব একটা পরিবর্তনমূলক কিছু করে যেতে কিংবা দিয়ে যেতে পারছি! আমি ব্যর্থ হইলাম, আমার মনে হয় আমার সাথে ব্যর্থ তোমরা অনেকেই।  কথা ছিলো, আমরা সমাজের মূল ধারায় পরিবর্তন করবো। কিন্তু পরিশেষে দেখলাম আমরা নিজেরাই সমাজের মূল ধারা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলাম!  খালি দেশ স্বাধীন, দেশ স্বাধীন বইলা না চিল্লাইয়া, একটু ভাবতে বইসো, একটু ক্রিটি...

QuotaReformProtest

যেই ছাত্রছাত্রীরা বাড়ি ছেড়ে লং মার্চে গেলো, যারা পরিবার ছেড়ে রাজপথে নামলো, তারা এখনো বাড়িও ফেরেনি। এর মাঝে আপনারা এক্সপোজার নেয়া শুরু করলেন বাড়িতে বসেই?  আপনার এই এক্সপোজার নেওয়া বিবেক নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেন?   একটা দল ক্ষমতা না ছাড়তেই আরেকটা দল এসে ক্যাম্পাসে শো ডাউন দিয়ে যায়, ভাংচুর করে, সংখ্যালঘুদের লুটপাট করে আগুন দিয়ে যায়! এভাবে খালি এক্সপোজার পাওয়ার চিন্তা করলে দেখবেন দেশে আবার অগণতন্ত্রই আসবে। লীডারের নামে নেতা আসবে, ছাত্রসংসদের নামে ছাত্ররাজনীতি, শিক্ষকদের নামে অযোগ্য-ব্যক্তিত্বহীন-ছাপোষা চাকুরিজীবী!  

QuotaReformProtest

পুরো একটা জেনারেশন যেন কিংবদন্তির ফিনিক্স পাখি হয়ে পড়েছে। ফিনিক্স, যে পাখি আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে আবার সেই ছাই হতেই পুনরায় জন্মায় পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে। এই জেনারেশন, যাদেরকে ভেবেছিলো দুই-চার দিন প্রতিবাদ করে থেমে যাবে, কিন্তু তারা থামলো না! এরপর ভাবা হলো দুই-চার টাকে গুলি করে মারলে দমিয়ে দেওয়া যাবে পুরো জেনারেশনটাকে, কিন্তু শত-শত ছেলে-মেয়েকে হত্যা করার পর দেখা গেলো কিংবদন্তির এই ফিনিক্স পাখিরা ফিরিয়ে এসেছে শত-শত ছেলে-মেয়েদের রূপে পূর্বের থেকে বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে!   যে প্রজন্মকে নিয়ে একটা সময় আমরা হতাশ ছিলাম, যাদের 'পোলট্রি জেনারেশন' মনে হতো সেই একটা গোটা জেনারেশন জাতির জন্য অনেক বড় উদাহরণ রেখে যাচ্ছে যে কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয় তার। আসলে যে প্রজন্ম জন্মের পর থেকেই বৈষম্য, অন্যায়, আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে দেখে বড় হচ্ছে, তাদের ভেতর ক্ষোভ, ঘৃণা আর হতাশা জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। আমরা যখন দেখতে পেলাম বইয়ের পাতার সাথে দেশের পলিসির কোনো মিল নেই, বইয়ের লিখার সাথে নিজের দেশের ডেমোক্রেসির কোনো মিল নেই, দেশপ্রেমিকের নামে মুখোশ পরিধান করা হাজার কোটি টাকা ...

QuotaReformProtest

গত একটা সপ্তাহ ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দিতে অনেক চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ চেষ্টা বলা যায়।  এমন অনেক লিখা আছে ব্যাক স্পেস দিয়ে ডিলেট করতে বাধ্য হয়েছি, কারণ বাকস্বাধীনতার অধিকার তো কবেই কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিলো এখন জানপ্রাণও নিচ্ছে!  চোখ বন্ধ করলে নৃশংসতা, চোখ খুললে বর্বরতা আর পৈশাচিকতা। মানুষ Writer's Block এ আঁটকায়, আর আমি আটকায় আত্মগ্লানিতে। আমার মনে হচ্ছে আমি যা-ই লিখি না কেন, যা-ই ভাবি না কেন, এ-সময়টায় এসব ভাবনার সময় না। জোর করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও বিবেক প্রতিনিয়ত পীড়া দেয় ব্যাকস্পেস ব্যবহার করার জন্য! স্রষ্টা মানুষ বানানোর সময় সবাইকে বিবেক দিলেও, অপরাধ আর অনুশোচনা বোধশক্তি সবাইকে দেননি। তিনি কাউকে ক্ষমতা দিয়ে বানিয়েছেন ইবলিশের অনুরাগী, কাউকে শুধুমাত্র একবুক সাহস দিয়ে বানিয়েছেন শহীদ। কি এক দেশে বাস করছি, যেখানে একটা নিদিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে, আরেক শ্রেনীর মানুষ মারা গেলে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ছে! সবাই মানুষ, পার্থক্য শুধু কাজেকর্মে! কতোটা নিকৃষ্ট কাজকর্ম করলে মানুষের মনে এতোটা ঘৃণা জন্মায় এদের জন্য!  একদিন ওপারে চলে যাবো, সেদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে...

QuotaReformProtest

যেই আন্দোলনের দাবীগুলোর যৌক্তিকতা একটা রিকশাওয়ালা মামা পর্যন্ত বুঝে, যেই আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে দেশের আপামর জনতা, এই দাবিগুলোয় কীভাবে দ্বিমত পোষণ  করেন এদেশের তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর অধিকাংশ স্যার-ম্যাম, পুলিশ, বিজিবি, ***লীগ এর মতো মানুষগুলো ???   আপনাদের হাত-পা, চোখ-মুখও কি বেঁধে ফেলা হয়েছে?  যেমনটা র‍েইপ করার সময় ধর্ষকেরা বেঁধে দেয় ভিক্টিমকে, যাতে আওয়াজ, নড়াচড়া করতে না পারে। আপনাদের কার্যক্রম আর নীরব থাকা তো তারই প্রতীক!!!  চাটতে চাটতে যারা উপরে উঠে, তাদের আর জিহ্বা বলতে কিছু থাকে না যা দিয়ে প্রতিবাদের ধ্বনির বের হবে। অন্যায়ের কাছে কুঁজো হয়ে থাকতে থাকতে তো নিজের সততার মেরুদণ্ড হারিয়ে বসতেছেন। নিজের সন্তানদের জন্য সততার গল্প বলবেন কোথা থেকে!  টাকার কাছে বিবেক বিক্রি হয়, এর জন্য এতোটা নিকৃষ্টভাবে? খুন করতেও পিছু হটতে বলছে না আপনার বিবেক? বউ-বাচ্চা সর্বোচ্চ ২-৩ দিন না খেয়ে থাকবে, ২-৩ মাস কষ্ট করতে হবে চাকরিটা হারিয়ে , চাকুরিটা না থাকলে লাইফস্টাইল লো হয়ে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শহীদদের খুনি বাবা/মা/ভাই/বোন ট্যাগ নিয়ে অন্তত সারাজীব...