QuotaReformProtest
পুরো একটা জেনারেশন যেন কিংবদন্তির ফিনিক্স পাখি হয়ে পড়েছে। ফিনিক্স, যে পাখি আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে আবার সেই ছাই হতেই পুনরায় জন্মায় পূর্বের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে। এই জেনারেশন, যাদেরকে ভেবেছিলো দুই-চার দিন প্রতিবাদ করে থেমে যাবে, কিন্তু তারা থামলো না! এরপর ভাবা হলো দুই-চার টাকে গুলি করে মারলে দমিয়ে দেওয়া যাবে পুরো জেনারেশনটাকে, কিন্তু শত-শত ছেলে-মেয়েকে হত্যা করার পর দেখা গেলো কিংবদন্তির এই ফিনিক্স পাখিরা ফিরিয়ে এসেছে শত-শত ছেলে-মেয়েদের রূপে পূর্বের থেকে বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে!
যে প্রজন্মকে নিয়ে একটা সময় আমরা হতাশ ছিলাম, যাদের 'পোলট্রি জেনারেশন' মনে হতো সেই একটা গোটা জেনারেশন জাতির জন্য অনেক বড় উদাহরণ রেখে যাচ্ছে যে কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হয় তার। আসলে যে প্রজন্ম জন্মের পর থেকেই বৈষম্য, অন্যায়, আর ক্ষমতার অপব্যবহার দেখে দেখে বড় হচ্ছে, তাদের ভেতর ক্ষোভ, ঘৃণা আর হতাশা জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। আমরা যখন দেখতে পেলাম বইয়ের পাতার সাথে দেশের পলিসির কোনো মিল নেই, বইয়ের লিখার সাথে নিজের দেশের ডেমোক্রেসির কোনো মিল নেই, দেশপ্রেমিকের নামে মুখোশ পরিধান করা হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা চোর একেকটা, তখনই সব অসামঞ্জস্য ক্রোধ হয়ে ফেটে পড়া শুরু করলো। এ ক্ষোভ একদিনের না, এ ক্ষোভ জন্মের পর বুঝতে শেখার পর থেকেই।
এখন যখন মেয়েদের দেখছি দ্বিধাহীন কন্ঠে প্রেস মিডিয়া কিংবা মিছিলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তখন কেমন যেন তীব্র একটা ভালো লাগা কাজ করে। এদের দেখলে মনে হয়, "এই Feminism-ই তো আমরা চেয়েছিলাম"। স্লিভলেস ব্রাউজ আর কপালে বড় টিপ লাগানো তথাকথিত ফেমিনিস্টগুলোর কাছে এই প্রজন্মের অসংখ্য মেয়ে উদাহরণ হয়ে থাকবে আসল ফেমিনিজমের সংজ্ঞা হয়ে। এই প্রজন্মের মেয়েরা প্রয়োজনে সোচ্চার, অপ্রয়োজনে রক্ষনশীল হতে জানে।
একটা ফোন টেপা জেনারেশন হঠাৎ করে ভূ-রাজনীতি বুঝতে শুরু করলো, সংবিধানের ধারার প্রয়োগ জানতে আগ্রহী হয়ে উঠলো, রিলস আর টিকটিকের রিলস বাদ দিয়ে ঘন্টা দুই ঘন্টার টকশোতে আগ্রহী হয়ে উঠলো, রাজকাহনে মতামত দেওয়া শুরু করলো। যে ছেলে স্যারের সামনে প্রশ্ন করতে ভয় পায়, সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্যারের নির্লিপ্ততায় জবাবদিহিতা চাওয়া শুরু করলো। মা-বাবার বাধ্যগত ছেলেটাও ভোর রাতে মা-বাবাকে না বলে বেরিয়ে পড়লো গ্র্যাফিতি করতে।
এই ২৪, অনেক কিছুর শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অসংখ্য মানুষের মাঝে পজিটিভ চেঞ্জ আনা শুরু করে দিয়েছে। অসংখ্য ছেলে-মেয়ে পুনরায় দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে, দেশকে ভালোবাসা শুরু করেছে। এদের ভালোবাসুন, এদের দেশপ্রেমিক হতে বাঁধা দিয়েন না। পারলে সাহায্য করুন, সাহস যোগান। ভুল পথে পা দিতে দিয়েন না এদের।
Once I believed that The Great Bangladeshi Dream is to Leave Bangladesh.
Sorry, I apologize.
মন্তব্যসমূহ