রেখেছে দখল করে আশৈশব আমার একালা
আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম এটা শুনে যে প্রেমিকের লিখা পড়ে প্রাক্তন প্রেমিকা যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে অন্যের সাথে সে পাগল হয়ে যেতে পারে!
সেদিন বিষ্ময় নিয়ে, "যে জলে আগুন জ্বলে" কবিতাগুলোর লাইনগুলো পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম প্রেমিক হলে এমনই হওয়া উচিত। প্রাক্তন হলেও, যার প্রতি কমেনি সম্মান একটুও। উনার অধিকাংশ কবিতায় ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার মানুষটাকে না পাওয়ার হাহাকার! নিজের লিখা পড়ে কবির প্রাক্তন প্রেমিকা হেলেন মানসিক ভারসাম্য হারায়,স্বামী ডিভোর্স দিয়ে দেয়, এই অনুশোচনায় হেলাল হাফিজ আর বিয়ে-থা করেননি। তারপর অর্ধ যুগ গেল, এই মানুষটাকে আমি চিনে গেলাম কবিতার লাইনেই। যার মৃত্যু ঘটলো চরম নিঃসঙ্গতায়!
যে প্রেম শেখালো, তার কি নির্মম প্রেমহীন মৃত্যুবরণ! তারপর আমি বিশ্বাস করতে শিখলাম মরণশীল মানুষের লিখা ও প্রেম, মানুষকে অমর করে রাখে! ওপারে এই মানুষটা যেন ভালোবাসা পায়।
প্রতীক্ষায় থেকো না আমার
আমি আসবো না, থাকলো কথার কবুতর
কখনো বাইষ্যা মাসে পেয়ে অবসর
নিতান্তই জানতে ইচ্ছে হলে আমার খবর
পাখিকে জিজ্ঞেস করো নিরিবিলি,
পক্ষপাতহীন পাখি বিস্তারিত সংবাদ জানাবে
কী কী ব্যথা এবং আর্দ্রতা
রেখেছে দখল করে আশৈশব আমার একালা,
আমি কতো একা,
কতোখানি ক্ষত আর ক্ষতি নিয়ে
বেদনার অনুকূলে প্রবাহিত আমার জীবন।
(কবিতা, হেলাল হাফিজ)
মন্তব্যসমূহ