উপলব্ধি
এই বয়সে এসে উপলব্ধি হয়, নিজের ব্যাপারে মানুষকে বুঝানোর চেয়ে মানুষকে বুঝা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। নিজেরে কারো কাছে প্রকাশ করতে, মেলে ধরতে কেমন যেন জড়তা কাজ করে। এর থেকে ভালো মনে হয় সামনে থাকা মানুষটাকে বুঝি, সে কি চায় সে অনুযায়ী আচরণ করি। সেও খুশি,আমিও রেহাই পেলাম!
এখন কেন জানি জ্বর উঠলে "ঔষুধ খাইনি কেন?", তার এক্সপ্লেইনেশন আর কাউকে দিতে ভালো লাগে না। কিভাবে বুঝায়, ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মাথায় পানি দিয়ে, গা মুছিয়ে দিয়ে জোর করে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে, ঔষুধ খাইয়ে দেওয়া মানুষটা যে আর যে নেই। ঔষুধ যে এখন বড্ড তিক্ত লাগে!
নিজের শখ-আহ্লাদের কথা এখন আর কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। কারণ মানুষ প্রচন্ড ব্যস্ত। গল্প শুরু করার আগেই শেষ করার তাগিদ দেওয়া শুরু করে। কী দরকার, অযথা কারো সময়ের ভাগীদার হওয়ার!
এখন আর অসুস্থ আছি নাকি মন খারাপ, তাও কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। তারপর কতো প্রশ্নের সম্মুখীনের হতে হবে এই ভেবে! যেই আমি'টার মন খারাপ নাকি অসুস্থ, তা চেহারা দেখেই কেউ বুঝে যেতো, মুখ ফুঁটে বলার আগেই বুঝে যেত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া উচিত, সেই আমি'টা এখন এই আদরের অভাবে তীব্র মন খারাপ লুকিয়ে হাসি!
একাডেমিকে রেজাল্ট কেন খারাপ হচ্ছে, মনোযোগ কেন নেই, এসবের এক্সপ্লেইনেশন এখন আর দিতে ইচ্ছে করে না কাউকে। কারণ, কেউ এখন আর আগের মতো শাসন করে সবকিছু শুধরে দিবে এমন মানুষ নেই। স্বার্থ ছাড়া এখন কেউ এসে পাশে দাঁড়ায় না, উন্নতি চাওয়া তো অনেক পরের বিষয়!
মন্তব্যসমূহ