একটা মানুষকে কেন আপনারা ১৬ আনায় judge করতে যাবেন?
নিউজফিডটা ইদানীং জঞ্জালে ভরে গিয়েছে। আয়মান সাদিক- মুনজেরিন শহীদ, তানজিম সাকিব উনাদের ইস্যুতে গাঠনিক সমালোচনার নামে চলছে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি! এই বুদ্ধিজীবীদের জন্য নিউজফিডে আর ঢুকা যাচ্ছে না।
দু'জন সেলিব্রিটি বিয়ে করেছে। তো এদের বিয়েতে আপনি কি আশা করেন? বোরকা পড়ে মসজিদে গিয়ে বিয়ে করবে? কবুল বলে বউকে ঘরে বসিয়ে রাখবে? ধর্মের মিথ্যা দোহাই দিয়ে ঘরের বাইরে যেতে দিবে না? আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ, যাদের কাজই হলো অন ক্যামেরায় এসে প্রমোট করা, সেটা জ্ঞানই হোক কিংবা লাইফস্টাইল। আর এখন বিয়ে করে অন ক্যামেরায় এসে নাচলেই দোষ। আয়মান সাদিকের দোষ একটাই। মসজিদে বিয়ে করে আবেগী বাঙ্গালীকে ধর্মীয় ক্যাপশন দিয়ে দিয়ে পোস্ট করালো, এরপর প্রোগ্রামের নাচা-নাচির ভিডিও পোস্ট করে দিলো এদের বিপাকে ফেলে! তারপর এই জনতা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা শুরু করলো। এখন তো নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস ঠেকাতে ডিফেন্সিভ কার্ড প্লে করতে হবে তাদের। এই শুরু হলো হাদিস-কুরআনে মোড়ানো সেই জ্বালাময়ী যুক্তির নামে কপটতা! আয়মান সাদিক ও মুনজেরিন শহিদ উনাদের কাউকেই দেখিনি মসজিদে বিয়ে করেছে বলে নিজেদের ধার্মিক পরিচয় দিতে কিংবা ক্যাপশনে হাদিস লিখতে৷ আপনারাই শুরুতে ধর্ম টেনে আনলেন, কতগুলো হুজুরদের দেখলাম রীতিমতো ভিউ এর জন্য ওয়াজও বের করে ফেলেছে রাতারাতি! এখন আবার যখন ব্যাপারটা স্রোতের প্রতিকূলে যাচ্ছে এদের, তখন শুরু হলো ধর্ম টেনে এনে কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ি। এটাও তো মুনাফেকি ভাই!
আরেক নবাগত ন্যাশনাল প্লেয়ার তানজিম সাকিব। এর ব্যাপারটা তো আরো অদ্ভুত। একটা ছেলে যখন এতোটা পরিচিত পায়নি, আমজনতা ছিলো তখন নিজের মতামত নিজের টাইমলাইনে শেয়ার দিয়েছিলো। সেটা নিয়ে এখন দুই দলে বিভক্ত হয়ে মাঝখানে ধর্মকে খন্ডন করছে! আমি যখন সাধারণ কেউ তখন আমি কি বলেছি, কি ছবি আপলোড দিয়েছি তা একান্তই আমার। কিন্তু যখন আমি একটা পরিচিত মুখ, ন্যাশনাল পর্যায়ে পরিধি তখন আমার মতামত, আমার দৃষ্টিভঙ্গি আর একান্তই আমার থাকবে না। কিছু বললে, কিছু করলে এটা তখন জাতীয় ইস্যু। আগের তানজিম সাকিবকে সবাই চিনতো না। তার তখনকার পোস্ট সম্পূর্ণ গুটিকয়েকজন কেন্দ্রিক ছিলো৷ এখনকার প্রেক্ষাপটে তার এই স্ট্যাটাস একদমই যুক্তিযুক্ত না। আর যারা তার এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে নারীদের কাজ করা নিয়ে এতো এতো ধর্মের নামে বাণী কপচাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, " রেফারেন্সসহ কয়েকটা হাদিস দিয়ে যাবেন। আসেন কাঁদা ছুঁড়াছুঁড়ির সমালোচনা না করে গাঠনিক সমালোচনা করবো"।
একটা মানুষকে কেন আপনারা ১৬ আনায় judge করতে যাবেন? ১৬ আনা Judge করার জন্য তো আল্লাহ আপনাকে আপনার পুরো জীবনটা দিয়েছে-ই। নিজেকে নিয়ে ভাবুন না, নিজেকে জানুন৷ যারা বিড়ি খেয়ে কুলি করে নামাজ পড়তে যায় কিংবা মদ খেয়ে পুজো দেয়, তাদের মুখে তো আরেক জনের ধর্মচেতনার নিয়ে সমালোচনা মানায় না! নিজের বিয়ের সময় ধর্ম মেনে নিকা করেন কিংবা ঘরের বাইরে কাজ করা নিয়ে এতোটাই সংবেদনশীলতা থাকলে নিজের মা-বোন-বউ-মেয়ে'কে ঘর থেকে বের হতে দিয়েন না। ঘরে বসিয়ে রাখবেন, তাহলেই তো হয়।
মন্তব্যসমূহ