মায়া ও ভালো-লাগা

কাউকে ভালো লাগা আর কারো মায়ায় পড়া সম্পূর্ণ দুটো ভিন্ন ব্যাপার। ভালো লাগা ব্যাপারটা সাময়িক সময়ের আর মায়ায় আটকে যাওয়া মানে একটা দীর্ঘ সময় আপনাকে এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ঈশ্বর মানুষকে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন, কিন্তু কারো মায়া কাটিয়ে উঠবার মতো ক্ষমতা কাউকে কাউকেই দেন নাই। 

রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময় অনেক মেয়ে চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েদের ছবি প্রায়শই দেখতে পাই। কারো ঠোঁটের লিপস্টিকের সাথে মিলিয়ে পরা শাড়িটা দেখে ভালো লেগে যাই, কারো সুন্দর করে পরা হিজাবটা দেখে ভালো লেগে যাই, কাউকে তার সুন্দর লিখালিখি দেখে ভালো লেগে যাই, কাউকে আবার মিনিমাল মেকআপ এর সাথে মানানসই চেহারা দেখে ভালো লেগে যাই। কিন্তু এই ভালো লাগা রাস্তা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ভালো করেই জানি যে, এই ভালো লাগা রাস্তার বাঁক পর্যন্তই , নিউজফিড পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই ভুলে যাবো। এদের জন্য কখনোই "My Girl”- টাইপ অনুভূতি কাজ করে না। এরা কখনোয় বুকের বা'পাশটায় জায়গা করে নিতে পারে না। 

অপরদিকে কারো মায়ায় পড়া ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর রকমের সুন্দর।কারো মায়ায় পড়েছেন মানে আপনি ফেঁসে গিয়েছেন। কেন মায়ায় পড়লাম, কি দেখে পড়লাম এসবের কোনো যৌক্তিক উত্তর থাকে না। আর যদি আপনি এর উত্তর খুঁজে পেয়ে যান তাহলে বুঝে নিবেন এটা মায়া ছিল না , ভালো লাগা ছিল। মায়ায় আটকে পড়া ব্যাপারটা যন্ত্রণাদায়কও বটে। আপনি চাইলেই এর থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবেন না। এর থেকে বের হওয়ার জন্য দরকার তীব্র সাধনার।ঈশ্বর যার উপর সদয় হয়, তার এই যন্ত্রণা কিছুটা উপশম করে দেন।

অবশ্য এই যুগে এসে মায়ায় পড়া ব্যাপারটা বিলুপ্ত প্রায়।এখন কেউ আর কারো মায়ায় পড়ে না। সবাই ভালো লাগায় ব্যস্ত, ভালো লাগিয়ে নেওয়ায় ব্যস্ত, ভালো মানিয়ে নেওয়ায় ব্যস্ত।তা না হলে চারপাশে সংসারের এতো ভাঙন, এতো সম্পর্কের ছেদ, এতো এতো ভগ্ন হৃদয় কেন ?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আপনার ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে বেচা-কেনা হচ্ছে

Dear GEN-Z

QuotaReformProtest