অসমাপ্ত ভালবাসা
ম্যাসেজের রিংটোনের শব্দে গভীর ঘুমটা হালকা হয়ে গেল হিমাদ্রীর।
"Happy Valentine....
tmi ki vule giyeso ajk j amdr meet krar ktha? ! Amdr relationship ar first valentine aj othocho tmi nicchoy pore ghumaccho!!! "
চোখে যতটুকু ঘুম বাকি ছিল পুরোটা উবে গেল হিমাদ্রীর। কোনো রকমে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়ল ফুলের দোকানের উদ্দেশ্যে। তারপর চকোলেটের দোকান, তারপর গিফটের দোকানে যেতে হবে। আজকে পাগলিটার হাত থেকে রেহাই নেই তার! " আচ্ছা গিয়ে কিভাবে রাগটা ভাঙ্গানো যায়? গিয়েই জড়িয়ে ধরে বলবে Happy Valentine sweetheart. I love u! "
এভাবেই সাত পাঁচ ভাবছিল আর হাঁটছিল দোকানের উদ্দেশ্যে।
হঠাৎ তার চোখের সামনে ঘটে গেল এক দূর্ঘটনা। বাসন্তী রঙা শাড়ি পড়িহীতা এক মেয়ের শাড়ির আচলের সাথে রিকশার চাঁকা পেচিয়ে যায়৷ চলন্ত রিকশা থেকে তরুণী পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায়। হিমাদ্রীর ছুটে গিয়ে দেখে প্রচন্ড রক্তক্ষরণে তরুণী অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। "বেঁচে আছে? হ্যা এই তো পালস চলছে " দ্রুত সিনজি নিয়ে সদর হসপিটালে ছুটে। ডাক্তার জানাই দ্রুত এক ব্যাগ এপজিটিভ রক্তের দরকার । সে ভাবে " আমারই তো এ পজিটিভ রক্তের গ্রুপ " ডাক্তারকে বলে আপনি ব্যবস্থা করুন আমি দিব রক্ত৷
এদিকে নিলু গাঢ় রঙ্গা নীল শাড়ি পড়ে ৩ ঘন্টা যাবত বসে আছে। এই দিন ঘন্টাই ৭২ টা কল দিয়েছে হিমাদ্রীকে। প্রথম কয়েকবার কল ঢুকলেও তারপর থেকে সুইচ অফ দেখাচ্ছে। অবশেষে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিয়ে আর না পেরে বাসায় এসে রাগে রুমের যতগুলো কাঁচের গ্লাস ছিল একটা একটা করে প্রচন্ড শব্দ করে ভাঙ্গতে থাকে। আর ভাবতে থাকে " হিমাদ্রী আসলেই একটা খারাপ ছেলে। ও আমার সাথে চিট করেছে, আমার আগেই বুঝা উচিত ছিল ওর অন্য মেয়ের সাথে অ্যাফেয়ার আছে। আমার বান্ধবীরা ঠিকই বলতো। "
তখন প্রায় শেষ বিকেল, হিমাদ্রী অসুস্থ মেয়েটির বাবা মাকে ইতিমধ্যে জানিয়েছে , তারা আসছে শুনে সে হসপিটাল থেকে বেড়িয়ে পড়ে। কারণ এখন ওই মেয়ের বাবা মা আসলেই কত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন শুরু করবে " বাবা তুমি মহান, তুমি না থাকলে হয়তো আমার মেয়ের মরা মুখ দেখতাম আমি, বলো তুৃমি কি চাও ইত্যাদি ইত্যাদি" যা হিমাদ্রীর একটুও ভাল লাগে না। তার কথা হলো" মানুষ মানুষের জন্য এতে আবার চাওয়া পাওয়ার হিসেবের কি আছে। আজকে ওই মেয়েটির জায়গায় আমার বোন হতে পারতো কিংবার আমার সেই প্রিয় মানুষটিও, তখন কি আমি এড়িয়ে যেতে পারতাম? দেখেও না দেখার ভান করে চলে যেতাম? "ও প্রিয় মানুষটির কথা মনে আসতেই তার নিলুর কথা মনে পড়ে গেল। আসলে আজকে মেয়েটি বাচঁবে কিনা সেটা নিয়ে এতো টেনশনে ছিল ওইদিকে নিলুর কথা মনেই ছিল না তার। পকেটে হাত দিয়ে মোবাইলটা বের করে আনতেই দেখে সুইচ অফ, চার্জ শেষ!
দ্রুত চকোলেট আর গিফট কিনে পাশের বুথ থেকে নিলুকে ফোন দেয়, রিং হচ্ছে, ভয়ের পিপাসায় গলাটা একদম শুঁকিয়ে গিয়েছে, নিলুকে কি বলবে সে! নিলু কি কথা বলবে ওর সাথে? "
- হ্যালো, নিলু?
-হ্যা, কে বলছেন?
- আমি হিমাদ্রী। সরি, নিলু, সত্যিই আমি দুঃখিত, আসলে আমি একটা........ ফোনটা কেটে দিল ওপাশ থেকে!
পাগলিটা সত্যিই রাগ করেছে। সে এবার রওয়ানা দিল নিলুদের বাসার উদ্দেশ্যে। নিলুকে দেখতে না পেলে আজকে ও সত্যিই অসুস্থ হয়ে পড়বে। ওর জন্য ই তো নিলু আজ কষ্ট করলো, কে জানে হয়তো না খেয়েই বসে আছে। বাসায় গিয়ে দরজায় নক করলো। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ খুলতেও আসছে না। বাসায় নিলু আর ওর মা থাকেন। কয়েকবার ডাকার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে চিরকুট রাখা খামটা চকোলেটের বাক্স আর গোলাের তোড়াটার মাঝে রেখে শেষবারের মতো "I love u, i will waiting for ur text "
এদিকে বাসায় থাকা নিলু সবই শুনছিল। কিন্তু তখনো তার রাগ ভাঙ্গে নি। সে দরজা খুলিনি।
অনেকটা হতাশ হয়েই হিমাদ্রী বাসায় ফিরতে শুরু করে। " আসলেই কি দোষটা আমার ছিল। নিলুর কি একবারও আমাকে বুঝার উচিত ছিল না? হয়তে দোষটা আমারই এভাবে ওকে একা বসিয়ে রেখে সারাদিন মানব সেবা করাটা ঠিক হয়নি। এর আগেও অনেকবার বকা শুনতে হয়েছে নিলুর কাছ থেকে এর জন্য। "সাত পাচ ভাবতে ভাবতে রাস্তা পার হচ্ছিল হঠাৎ রাস্তা পার হতে গিয়ে পাগলের মতো ছুটে আসা বাসের ধাক্কায় হিমাদ্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হসপিটালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে।
ওই দিকে রাত ১ টায় নিলুর রাগ কিছুটা কমে যায়। সে বুঝতে পারে হিমাদ্রীকে তার কথা গুলো বলার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল।
সে ফোনটা নিয়ে হিমাদ্রীর নাম্বারে কল করে। ভাবে ফোনটা ধরলেই বিকেলের সবগুলা ভালবাসার জবাব এক নিঃশ্বাসে দিয়ে ফেলবে বলবে " I really miss u. I love u too "
। ওপাশটায় রিং হচ্ছে। কিন্তু আজ এতো দেরি করছে কেন হিমাদ্রী? ' সবসময় তো এক রিং হলেও ফোনটা ধরে "জানু " বলে ডেকে উঠে।
কিছুক্ষণ পর যে ফোনটা ধরে তার কন্ঠটা নিলুর অচেনা। হিমাদ্রীকে চাইলে ওপাশ থেকে কান্না জড়িত কন্ঠে কেউ বল উঠে " আমার হিমাদ্রী বাবা বর নেই, বিকেলে এক বাস তাকে আমাদের কাছ থেকে ছিমিয়ে নিয়ে গিয়েছে...........
আর কিছু শুনতে পাই না নিলু। ওর চারপাশটা অন্ধকার হয়ে আসছে। দু চোখের অবিরল ধারায় বর্ষা নেমেছে।
চকোলেট এর বাক্সটাকে তীব্র আলিঙ্গন দিয়ে বলছে " হ্যা আমার রাজপুত্র আমার তোমাকে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। এভাবে অভিমান করে আমাকে একা ফেলে যেতে পার না। আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ। আমি আর তোমার ওপর রাগ করব না।ফিরে এসো প্লিজ............ "
প্রিয় মানুষটার ভুল ক্রুটির জন্য ওকে সুযোগ দিন। হয়তো সম্পর্ক আরো সুন্দর হতে পারতো। এভাবে হিমাদ্রীদেরমতো কাউকে যেন অভিমান নিয়ে না মরতে হয়। নিলুদের মতো কাউকে যেন নিজেকে দোষী মনে করে না কাটাতে হয়।
Happy Valentine Day. 😊
মন্তব্যসমূহ