পোস্টগুলি

কিছু মানুষ জীবনেও ভালো হবে না !

GRE তে টপ স্কোর পাওয়া এক বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। ভাই চা অফার করলো। ভাবলাম টিউশনি সারাজীবনই করাতে পারবো, ভাই টপ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাবে আছে আর কয়দিন দেশে, ভাইকেই সময় দিই।  দুজনে চা খাচ্ছি আর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতেছি। ভাই কেমন যেন উদাস উদাস ভাব নিয়ে হাঁটতেছে। ভাবলাম মন খারাপ উনার, পজিটিভ কিছু বলে উনার মন ভালো করার চেষ্টা করি। -" ভাই কেমন লাগছে মাস্টার্স আর এদেশের এডুকেশন সিস্টেমে থেকে এদেশে করা লাগতেছে না বলে? আপনি তো খুব করে চাইতেন, আন্ডারগ্রেড শেষ করে এই ভার্সিটিকে লাল সালাম দিয়ে এই দেশ থেকে বের হতে😄 অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে আপনার তাহলে! -" নারেহ, একদমই ভালো লাগতেছে না। বাইরের কোনো ভার্সিটিতেই সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নাই, সাদা-কালো দলও নাই, টিচাররা ক্লাসও বর্জন করে না। কি এক্টা বোরিং সিস্টেমে যাইতেছি পড়াশোনা করতে এবার বুঝ! "  একবার উনার চেহারার দিকে তাকাইতেছিলাম আরেকবার বৃষ্টির দিকে। ধুর, আমার টিউশনিতে যাওয়াটাই ভালো ছিলো।  কিছু মানুষ জীবনেও ভালো হবে না??

প্রেম ও বিয়ে কখনো বরাবরে হয় না। বরাবরে যা হয় তো হলো ঝগড়া!

মানুষ নাকি তার ব্যক্তিত্বের বিপরীত স্বভাবের মানুষের প্রেমে পড়ে। অথচ মানুষ তার আস্ত একটা জীবন পাড় করে ফেলে বিপরীত মানুষটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে। এই গুছানো হতে পারে নিজের মানসিক পরিবর্তন কিংবা নিজেদের একসাথে গ্রো হওয়া ।  অনেকেরা বিয়ের কিংবা প্রেমের আগেই Soulmate খুঁজে। খুঁজে পেলে এটা নিছকই কাকতালীয় ঘটনা ছাড়া আর কিছু না। আমরা কখনোই কারো মনের অবস্থা বুঝতে পারি না, আত্মার খবর তো অনেক পড়ে! একসাথে সংসার করতে করতে তারপরেও এক যুগ পরে মনে হয় মানুষটাকে অচেনা লাগছে! আগে মুরুব্বিরা বলতো, "প্রেম ও বিয়ে কখনো বরাবরে হয় না। বরাবরে যা হয় তো হলো ঝগড়া!" ঝগড়া করতে হলে নিজের বরাবরের মানুষের সাথে করতে হয়, নয়তো এতে নিজেরই সময় এবং এনার্জি দুইটা-ই নষ্ট।ঘর-সংসার করার জন্য চাকার মতো হতে হয়, ব্যালেন্সিং পার্ট এবং গতিশীলতা এনে দিতে হয়।  পুরুষ মানুষ সবসময় শান্তি খুঁজে। এই শান্তির জন্য সে যুদ্ধও করতে পারে, এই শান্তির খুঁজে সে হিমালয়ে গিয়ে ধন্নাও দিতে রাজি! আর নারী খুঁজে প্রেম, নারী খুঁজে ভালোবাসা। এই ভালোবাসার জন্য সে হাজারো স্যাক্রিফাইস করতে রাজি, আবার পুরোদস্তুর সংসারি হতেও। পুরুষ মানুষ প্রেম-ভালোব...

স্থিতিস্থাপক সীমার মাঝে পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক

ফিজিক্সে খুব সুন্দর একটা থিওরি আছে, "স্থিতিস্থাপক সীমার মাঝে পীড়ন বিকৃতির সমানুপাতিক"। হুকের এই থিওরির সহজ বাংলা করলে দাঁড়ায়, "লেবু বেশি কচলালে তেঁতো হয়ে যায়, ততটুকুই কচলানো উচিত যতটুকু তার রস আছে"।  আমরা বাস্তব জীবনে এর রেজাল্ট অহরহ দেখছি। কেউ তার ব্যক্তিজীবনে, কেউ একাডেমিক লাইফে, কেউ প্রফেশনাল লাইফে। একজীবনে যেন এর বহুমাত্রিক প্রয়োগ!  পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষেরই তার সীমার মাঝে রাখা উচিত। সীমার বাইরে যেতে দিলেই যতো সমস্যা। আপনি তাকে যখন ঘাড় থেকে মাথায় তুলবেন, তখনই সে মাথায় উঠে নেচে আপনারই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠবে। সীমার মাঝে রাখেন সে আপনাকে সম্মান, শ্রদ্ধা সবটুকু দিবে। এর বাইরে এক্সেস দিলেই আপনার চোদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে রেখে দিবে!  রবার্ট হুকের এই থিওরির বিস্তৃত প্রয়োগ আমি বেশিরভাগ দেখি আজকালের ভালোবাসায়। তারপর সবথেকে বেশি দেখি একাডেমিক লাইফে। কি এক ডেস্পারেশন, কি এক গভীরতা! মানুষ যেন ভুলে যায় তার আসল পরিচয়, ভুলে যায় তার দেওয়া সহ্যের সীমা। তারপর একদিন ব্যক্তিগত কিংবা একাডেমিক জীবন থেকে চিরতরে মন ছুটে যায়।  আসলে আমরা কোনো মানুষকে ভুলি না, শুধু এসব মানুষের দেওয়া সহ্যে...

আমি আমার মায়ের কোলের মতো নিরাপদ, পবিত্র আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার একটা জীবন চাই

মানুষ আসলে কি চায়?  দুইদিন সমুদ্রে থেকে, নাবিক হয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে। একদিন পাহাড়ে উঠে, এই পাহাড়ি জীবনে জন্মগ্রহণ না করার আফসোস করে। যান্ত্রিক জীবন নিয়ে হাপিত্যেশ আবার গ্রাম্য জীবনে জীবনযাত্রার মান পিছিয়ে পড়ার ভয়, তারা একদমই দ্বিধাগ্রস্ত!  মানু্ষ আসলেই কি চায়?  পুরো যৌবন বিজর্সন দিলো চাকরিটা পাওয়ার পেছনে। তারপর? তারপর কয়েকদিন যেতে না যেতেই বন্ধুর চাকুরিটা নিজে না পাওয়ায় আফসোস করে বাঁচে । নিজের বেছে নেওয়া জীবিকার প্রতি তার তীব্র বিতৃষ্ণা শুরু হয়।  মানুষ আসলেই কি চায়?  একটুখানি যত্ন আর আহ্লাদের কাঙ্গাল প্রেমিক বেচারা কখন যেন এসব ভুলে গিয়ে দেহের কাঙ্গাল হয়ে পড়ে সে নিজেও বুঝতে পারে না। আসলেই একজন প্রেমিকের প্রকৃত অর্থে কি প্রয়োজন, যত্নের নাকি দেহের? অথচ দেহ আজ যত্রতত্র মিলে। সস্তাতেই আমাদের যত ঝোঁক!   এইদিকে বেচারি প্রেমিকা বেকার প্রেমিকের শূন্য পকেট আর আগন্তুকের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার মাঝে দ্বিধান্বিত হয়ে আছে। একদিকে চেনা মানুষটার সাথে স্বপ্নের ঘর বাঁধার বাসনা, অন্যদিকে অচেনা মানুষটার ঘরের ফার্নিচার হয়ে প্রবেশ!  মানুষ আসলেই কি চায়? ...

একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে..................

"একটা সুন্দরী মেয়ে বসে বসে দাবা খেলছে ", কখনো যদি এমনটা স্বচক্ষে দেখতে পাই, সেটা হবে আমার দেখা বিষ্ময়কর ঘটনাগুলো মধ্যে একটি। যদিও এমন বিষ্ময়কর ঘটনা জীবনে দেখার সৌভাগ্য হবে কি-না সন্দেহ!  মাসুদ রানা, সমরেশ মজুমদার, হুমায়ুন আহমেদ, উনাদের বইপড়ার সুবাদে আমি Beauty-with-brain এই কনসেপ্টটার সাথে থিওরিটিক্যালি বেশ পরিচিত কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখার মতো সৌভাগ্য হয়নি! মেয়েরা এই 'সৌন্দর্য্য' জিনিসটাকে খুব ভালোভাবে sell করতে পারে। Facebook, Instagram, Snap-chat এর যুগে তো আরো বেশি৷ আর পুরুষ মানুষ মেয়েদের এই বিক্রয়সুলভ আচরণকে খুব ভালোভাবেই লুফে নেয়। এর বাস্তব উদাহরণ মাসুদ রানার প্রায় সবগুলো সিরিজে নারী চরিত্রের রগরগে আবেদনময়ী উপস্থাপন, সমরেশের গল্পের রোমান্টিসিজম আর হুমায়ুন আহমেদের গল্পে মেয়েদের চরিত্রগুলোর অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা!   সমস্যা থিওরিতে না, সমস্যা বাঁধে যখন তা বাস্তবে খুঁজতে শুরু করি আমরা৷ স্যোসাইল মিডিয়ায় ফিল্টারের পর ফিল্টার মারা ছবিগুলোর সাথে সামনে আসা সেই একই মেয়েটার চেহারার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না! স্যোসাইল মিডিয়াটা যেন সুন্দরীদের একটা প্রদর্শনীক্ষেত্র, একটা জা...

কোনো রকমে বাঁচা আর বাঁচার মতো বাঁচার মাঝে যেই সাড়ে তিন হাতের ব্যবধান তার পুরোটা জুড়েই রুচিশীলতা

এ জীবনে কারো কোনো রকমে একটা বাড়ি হলেই সে খুশি। কারো আবার দক্ষিণমুখো একটা বাসা-ই দরকার, সেটা নিজের হোক কিংবা ভাড়াটে। কেউ ভাড়াটে বাড়িকে এমনভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে যত্নে রাখে মনেই হয় না উনারা সাময়িক বাসিন্দা। কেউ একটুখানি মাথা গুজার ঠাঁই খুঁজে, কেউবা যতোদিন বাঁচে বাঁচার মতো বাঁচতে চায়। কেউ ফুল ছিঁড়ে কানে গুঁজে নিজের সৌন্দর্য্য বাড়ানোর জন্য, কেউ ফুল চাষ করে জীবিকার তাগিদে। যারা গোলাপ চাষ করে, তাদের অনেকের কাছে গোলাপ ফুল সাধারণ একটা ফুল মাত্র। আবার যে ফুল দেখতে গোলাপ বাগানে ছুটে, তার কাছে গোলাপ সৌন্দর্যের প্রতীক।  লাইফের একটা স্টেজে এসে তারও বয়স ত্রিশ ছুঁই, আপনারও বয়স ত্রিশ ছুঁই। পেছনে ফিরে তাকালে আপনার না থাকে সুন্দর কোনো মুহূর্ত, না থাকে ভালো কিছু স্মৃতি। এই ত্রিরিশে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারেন, যেই সময়টার জন্য পেছনে এতোকিছু উৎসর্গ করে এসেছেন, এই সময়ে এসে সবকিছুর যোগফল শূন্য!  আপনার আর জীবনের প্রতি অহংবোধ থাকলো না, থাকলো না কোনো আকাঙ্ক্ষাও। অপরদিকে, আপনার বয়সী আরেকজন তখন সাফল্যের সিঁড়ি যেন ক্রমান্বয়ে ডিঙিয়ে যাচ্ছে! কোনো রকমে বাঁচা আর বাঁচার মতো বাঁচার মাঝে যেই সাড়ে তিন হাতের ব্যবধান তার পুরো...