পোস্টগুলি

Monologue 21

রাত ১০:৩৬। বারান্দার কর্ণারটায় গ্রীল দিয়ে পা বের করে বসে আছি। বাইরে বৃষ্টি, এর সাথে ঘনঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। এ মুহূর্তে আমার মন চাচ্ছে শহরের সব আলো নিভিয়ে দিয়ে সবকিছু অন্ধকার করে চুপচাপ আকাশের দিকে তাকিয়ে বিদ্যুৎ চমকানো দেখি।  গ্রামে যখন সন্ধ্যার পর ঝড় শুরু হতো তখন রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা হয়ে যেত। ঠিক ঝড় শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তের সেই সময়গুলো অনেক মনে পড়ছে এখন। কেন মনে পড়ছে জানি না। আমি তখন প্রায়শই আকাশ কালো দেখলে কিংবা ঝড় এর আভাস পেলে হাঁটতে বেড়িয়ে পড়তাম। গ্রামের শেষের সেই দক্ষিণের ওদিককার বড় ব্রীজটায় গিয়ে বসতাম। মনে মনে বলতাম নিজেকে বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা যেন আমার উপরই পড়ে! তখন থেকেই বুঝতে পারি, আমার ভেতর এক বিলাসিতা জন্ম নিচ্ছে। আমার যা ভালো লাগে তা অন্যের কাছে বিলাসিতা কিংবা পাগলামো হলেও আমি তাই করি। এখনও তা-ই করছি।  বাইরে বের করে রাখা পায়ের উপর বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। এই শীতল শিহরণ পা থেকে এসে যেন আমার মস্তিষ্কে এসে পৌঁছুচ্ছে। পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা কানেক্টেড ফিল করছি শিরা-উপশিরা গুলোয়। এমনটা শেষ মনে হয়েছিলো যখন খালি পায়ে ঘাসের উপর হেঁটে বেড়িয়ে ছিলাম। আকাশের আলোকচ্ছটা আমাকে মুগ্ধ করছ...

কেউ যদি আমাকে একবার বলতে পারতো কোথায় টাকার বিনিময়ে সময়ের সওদা হয়?

কখনো যদি সুযোগ পেতাম টাকা দিয়ে সময় কিনে নিতাম। আমার হারানো সেই সময়গুলো, যে সময়গুলো আমাকে ভালো থাকতে শিখিয়েছিলো, যে সময়গুলোতে হাসি-আনন্দে একটা দিন কেটে যেতো।  টাকা দিয়ে সময় কিনা গেলে, আমি আমার ছোটবেলার সেই বিকেলগুলো কিনে নিতাম আরেকটিবারের জন্য হলেও। যে বিকেলগুলোয় নাটাই এর সুতোর টানে আর উড়ন্ত ঘুড়ির দিকে তাকিয়ে নেমে যেত সূর্যাস্ত! একদিকে মাগরিবের আযান, অন্যদিকে অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসছে ক্রমশই! ক্রমান্বয়ে আকাশে উড়া ঘুড়িটা অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে যেন। এইদিকে নাটাই এ দু'হাতের আঙ্গুল তীব্রবেগে চলছে। ঘুড়িটা যখন আকাশ থেকে নেমে আসে, ততোক্ষণে নাটাই ধরে রাখা দু'হাতের আঙ্গুল বেশ ক্লান্ত। একহাতে ঘুড়ি আরেক হাতে নাটাই ধরে ছুটতাম, ততোক্ষণে অন্ধকার নেমে পড়েছে চারদিকে। বাসায় গিয়ে কোনো রকমে হাতমুখটা ধুয়ে লুকিয়ে চুপচাপ টেবিলে গিয়ে বসে পড়তাম বকুনি থেকে বাঁচার জন্য। যখন দেখতাম কেউ আসছে না বকাঝকা করতে, তখন এক তীব্র স্বস্তির সুখ অনুভব করতাম। আমি সেই সুখটুকু আবার কিনে নিতে চাই!  টাকা দিয়ে সময় কিনা গেলে, আমি আমার ছোটবেলার লোডশেডিং এর সেই সময়গুলোকে কিনে নিতাম। ঘরের সামনের উঠোনটায় মাদুর বিছিয়ে সব ভাইবোন মিলে গল্...

একদিন সব শূন্যতা তার পূর্ণতা পাবে

কোথায় যেন এক রাশ শূন্যতা! মনের কোনো এক গহীনে তার বসবাস। এই শূন্যতার শোকসভার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু খুঁজে বের করা যায় না কোথায় তার ঘন-কালো মেঘের পুঞ্জীভূত। রোজ নিয়ম-অনিয়ম করে তিনবেলা খাওয়া হচ্ছে, নিয়ম করে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো হচ্ছে। ভালো মুহূর্তগুলো টুক করে ফ্রেমবন্দী করে ফেলা হচ্ছে। কনসার্টে বন্ধুরা মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুরে মূর্ছনা যাচ্ছে, আড্ডায় বসে হাসি-আনন্দে শেষ বেলাটুকু কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে নির্বিঘ্নে। এরপরও দিনশেষে কোথায় যেন তীব্র এক শূন্যতা কাজ করে। অনেককিছু পেয়েও যেন না পাওয়া-ই রয়ে গেল এই জীবনে।  বাইরে থেকে হাসিখুশি পরিপাটি এই জীবন যেখানে অনেককেই প্রভাবিত করে, অথচ এই সেই জীবনে আত্মগোপনে শূন্যতা বাস করে! এই জীবনে সবই পাওয়া হয়ে গেলেও যেন এই অনূভুতি থেকে রেহায় নেই। একটা আপাদমস্তক জীবন লাগিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না এই শূন্যতার উৎপত্তিস্থল!  শত-শত ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দিতে বসে যখন দেখি মাথা হুট করে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে, তখন সেই শূন্যতার অনুভূতি তীব্র বিষাদের! রাত দুটোয় কফির মগ নিয়ে যখন ছাঁদের কার্ণিশে বসে চুমুক দিতে দিতে এ-শহররের পরিশ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া দ...

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার স্বাদ

মানুষকে পেয়ে গিয়ে হারিয়ে ফেলার যেই স্বাদ, এর থেকে তিক্ত স্বাদের আর কিছু পৃথিবীতে হতেই পারে না। নিজের উপর ঠিক আফসোসও না, আবার নির্মমতাও না। এ যেন নিজের নিয়তির উপর ভরসা উঠে যাওয়ার মতো তিক্ততা !  একটা মানুষকে ভালোবেসে তার মন ছুঁয়ে দেখার বাসনায় আপনি নিজের মনের রং-তুলি দিয়ে নিজের মতো করে আঁকতে বসলেন। এঁকেও ফেললেন তার অবয়ব। ভাবলেন, এই তো আমার মনের পার্ফেক্ট মানুষ। জ্বী না, আপনি ভুল, সম্পূর্ণ ভুল! বিধাতার রং-তুলির কাছে আপনার ক্যানভাস ফেইল, একদম ভিন্নও হতে পারে আবার হুবহু একরকমও হতে পারে। এটা নিয়তি নিশ্চিত করে বিধাতার ক্যানভাসে। আপনি নিজেকে যতোই আর্টিস্ট দাবী করেন না কেন, আপনার ক্যানভাস বিধাতার ক্যানভাসের ছোট একটা অংশ মাত্র। এটা নির্ভর করে উনি আঁচড়টা কোথায় দেয়, আপনার ক্যানভাসেও তুলির আঁচড় পড়তে পারে কিংবা নাও পড়তে পারে৷ পড়লে আপনি ভাগ্যবান, না পড়লে আপনি নিয়তির ভবলীলার দুষ্টচক্রে ক্ষত-বিক্ষত মানুষ!  আপনার সাথে আমার ঠিক এই জায়গায় পার্থক্য। ঠিক এই জায়গাতেইই পার্থক্য!!!

Monologue 20

সন্ধ্যা ৬:৩৬। আলো আর অন্ধকারের মিশেলে অদ্ভুত একটা সময়! এ সময়টা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে মনে চায়। চোখের পলক ফেলে খুলতেই যেন হঠাৎ আবছা অন্ধকার নেমে আসে চারিদিকে।  ছাঁদের কিনারায় বসে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। কিছুটা দূরে এক বিল্ডিংয়ের ছাদের পানির ট্যাংক এর উপর দৃষ্টি পড়লো আমার। আন্দাজে গুণে গুণে দেখলাম বিল্ডিংটা ১২ তালা হবে, ১৩ তালায় ছাঁদ, এর উপর পানির ট্যাংক। এর উপর একটা ছেলের অবয়ব। মাথার উপর একরাশ কালো মেঘ। আগুনের ফুলকি জ্বলছে হাতে ধরে রাখা সিগারেটটায়। ছেলেটা কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে বসে আকাশ দেখলো, এরপর সিগারেটটা ফেলে দিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললো। ছেলেটা খুব সম্ভবত কান্না করছে কিংবা অবসাদ লুকানোর চেষ্টা করছে। কে জানে আকাশের কালো মেঘের মতো তার মনের মেঘও ভেতরে জমাট বেঁধেছে!   এই দৃশ্য দেখছি আর ভাবছি আমি শেষ কবে কেঁদেছিলাম?  শেষ ছ'মাসে নিজের জন্য কয়বার কেঁদেছি আর অন্যের জন্য কয়বার?  আমার কান্নাগুলো কেউ দেখলে আমার সম্পর্কে কি ভেবে বসতো?  আচ্ছা, পুরুষ মানুষের কাঁদা উচিত? উচিত হলেও কী কারো সামনে কান্না করা উচিত? সামনে বসে থাকা মানুষটা কী তাকে দুর্বল ভেবে বসবে?  একে ...

For Connecting the dots, we are connected to our past

আমরা কোনো না কোনভাবে আমাদের অতীতের সাথে কানেক্টেড। “For Connecting the dots, we are connected to our past”. অতীত কখনোই আমাদের পিছু ছাড়ে না। অতীতের কোনো অভিজ্ঞতা হয় আমাদের শুধরে দেয়, নয় আজীবনের জন্য একটা শুন্যস্থান রেখে যায়। আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় আমি বর্তমানে ঠিক ওই জিনিসটার পেছনেই ছুটছি, যার অভাববোধ আমি আগে অনুভব করতাম। বুঝতে শিখার পর থেকে যে অভিজ্ঞতাগুলো আমি পেয়েছি, যেই জিনিসগুলোর প্রতি সবসময় একটা চাওয়া কাজ করতো, আমি এখন ঠিক এই জিনিসগুলোর পেছনেই ছুটছি। অনেককিছু অর্জন করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ, আবার অনেক কিছু অর্জন করা এখনও বাকি আছে । ছোটবেলায় যেই ছেলেটার আশ্রয়ের অভাব ছিল, সে নিজের একটা বাড়ি করার স্বপ্ন দেখে। যে ছেলেটা বন্ধুকে তার বাবার গাড়িতে করে স্কুলে আসতে দেখতো , সে নিজের একটা গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখে। যেই মেয়েটা ছোটবেলা নিজের মায়ের আদর পায়নি , সে স্বপ্ন দেখে নিজে একদিন আদর্শ মা হওয়ার। মা’কে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়ে আসতে দেখা মেয়েটা নিজে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার স্বপ্ন দেখে, পুরুষ জাতি আর এই সামাজিক ইকো-সিস্টেমের উপর তার একরাশ জেদ! যে ছেলেটা কিংবা মেয়েটা পারিবারিক অশান্তি কিংবা মা-বা...