একদিন সব শূন্যতা তার পূর্ণতা পাবে
কোথায় যেন এক রাশ শূন্যতা! মনের কোনো এক গহীনে তার বসবাস। এই শূন্যতার শোকসভার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু খুঁজে বের করা যায় না কোথায় তার ঘন-কালো মেঘের পুঞ্জীভূত।
রোজ নিয়ম-অনিয়ম করে তিনবেলা খাওয়া হচ্ছে, নিয়ম করে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানো হচ্ছে। ভালো মুহূর্তগুলো টুক করে ফ্রেমবন্দী করে ফেলা হচ্ছে। কনসার্টে বন্ধুরা মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুরে মূর্ছনা যাচ্ছে, আড্ডায় বসে হাসি-আনন্দে শেষ বেলাটুকু কাটিয়ে দেওয়া হচ্ছে নির্বিঘ্নে। এরপরও দিনশেষে কোথায় যেন তীব্র এক শূন্যতা কাজ করে। অনেককিছু পেয়েও যেন না পাওয়া-ই রয়ে গেল এই জীবনে।
বাইরে থেকে হাসিখুশি পরিপাটি এই জীবন যেখানে অনেককেই প্রভাবিত করে, অথচ এই সেই জীবনে আত্মগোপনে শূন্যতা বাস করে! এই জীবনে সবই পাওয়া হয়ে গেলেও যেন এই অনূভুতি থেকে রেহায় নেই। একটা আপাদমস্তক জীবন লাগিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না এই শূন্যতার উৎপত্তিস্থল!
শত-শত ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দিতে বসে যখন দেখি মাথা হুট করে ফাঁকা হয়ে গিয়েছে, তখন সেই শূন্যতার অনুভূতি তীব্র বিষাদের! রাত দুটোয় কফির মগ নিয়ে যখন ছাঁদের কার্ণিশে বসে চুমুক দিতে দিতে এ-শহররের পরিশ্রান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়া দেখি, যখন বিলিংগুলোর রুমের লাইট একে একে নিভে যাওয়া দেখি, ছাঁদ গুলোতে একটা কাকপক্ষীও দেখতে পাই না, এই শূন্যতার শোকশভা স্বচক্ষে দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়!
"একদিন সব শূন্যতা তার পূর্ণতা পাবে", এ সান্ত্বনাটুকু এখন আমি আর নিজেকে দেই না। এ জীবন জেনে গিয়েছে কিছু মানুষ, কিছু স্মৃতি, কিছু ভুল, কিছু অনুভূতি প্রতিস্থাপন কখনোই সম্ভব নয়। এদের বয়ে বেড়িয়ে বাকিসব প্রাপ্তির পূর্ণতা নিয়ে কাটিয়ে দিতে হবে বাকিটুকু জীবন!
মন্তব্যসমূহ