পোস্টগুলি

ট্র্যাজেডিক প্রথম প্রেম

মাঝে মাঝে মনে হয় প্রথম প্রেমগুলো হয়-ই ভাঙ্গার জন্য। ট্র্যাজেডিক সেই সময়টা দুটো মানুষকে এক হতে গিয়ে একা বাঁচতে শিখিয়ে দেয়। প্রথম প্রেম মানসিকভাবে ম্যাচুউরড হতে শিখিয়ে দিয়ে যায়। হাত ধরে রাস্তা পার করে দেয়া, একটা তাজা গোলাপ কিংবা কাঁচের চুড়ির জন্য পুরো শহর চষে বেড়ানো, কতো কী নতুন নতুন অভিজ্ঞতা! এ যেন, প্রিয় মানুষটার জন্য শত প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে রাজি। বোকা প্রেমিক অনেকদিন পর জানতে পারে প্রিয় মানুষটাকে রিকশায় বা'পাশের সিটে বসতে দিতে হয়। রেস্টুরেন্টের সার্ভিস বয় নয়, প্রিয় মানুষটা চায় তার জন্য তার প্রেমিক আগ বাড়িয়ে দরজাটা খুলে দিক!আর এইদিকে বেচারি প্রেমিকা ইউটিউবে রেসিপি শিখে, লুকিয়ে লুকিয়ে প্রথমবারের মতো মায়ের শাড়ি পড়ে, ছবি তুলে, বাড়ি ফিরে তাড়াতাড়ি টেক্সট করে ওপর পাশের জন টেনশন করছে কিনা এই ভেবে, এলোমেলো ছেলেটার জীবন গুছানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়ে৷ আহা, একদম পাক্কা সংসারী একটা ভাব, মায়ের মতো সেই আগলে রাখা। চঞ্চল সেই মেয়েটা প্রথম ব্রেক আপের পর হঠাৎ কেমন যেন চুপচাপ হয়ে যায়৷ আঠারো বছর না পেরোনো ছেলেটার কথাবার্তায় সে কী ট্র্যাজেডিক চিন্তাভাবনা! এই ছেলেমেয়ে গুলো পূর্বে কখনোয় এতো স্বপ্ন, এতো আশা আর ...

" পূর্ণতা " by Warfaze

Warfaze এর একটা গান আছে 'পূর্ণতা'। যাদের জীবনে প্রিয় মানুষ হারানোর গল্প নেই, তারা জানে না এই গানের প্রতিটা লিরিক্স কি ভীষণ উপলব্ধিবোধ আর অনুশোচনাবোধ জাগায়! আমার কাছে এই গানটার লিরিক্সগুলো রীতিমতো Magical sentences বলা যায়! Concert এ কিংবা কোথাও জড়ো হয়ে এই গানের সুরে সুর মিলিয়ে ছেলে-মেয়েদের গনজোয়ার তুলতে দেখি, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে লিরিক্সে সুর মিলাতে দেখি, দেখি আকাশের দিকে তাঁকিয়ে কতগুলো ভঙ্গ হৃদয়ের ছেলে-মেয়েকে কান্না লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে। সেদিন কনসার্টে Warfaze আসে নি, আসার কথাও ছিল না। কিন্তু মাঠ থেকে বার বার একাংশ বলে উঠছিলো Warfaze এর 'পূর্ণতা' এবং শিরোনামহীনের 'এই অবেলায়' গানটা যেন গাওয়া হয়। আমিও বেশ তীব্রভাবে চাচ্ছিলাম এই দুটো গান যেন অন্তত লোকাল ব্যান্ডরা পারফর্ম করে৷ স্টেজে যখন পূর্ণতা টিউন করা হলো, ব্যাকস্টেজে তখন রীতিমতো আনন্দের ঢেউ! তারপর সব চঞ্চল প্রাণগুলো যেন আশ্চর্য রকমের শান্ত হয়ে গেল। এই একটা গান সবাইকে যেন এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দিলো। সবার কন্ঠে চাপা কষ্ট, প্রিয়জন হারানোর অনুশোচনাবোধ, হৃদয়ের শূন্যতার হাহাকার। মাথার উপর বসন্তের আগমনী পূর্ণি...

Monologue-14

ছবি
সন্ধ্যা ৬ঃ৪৩। ঘুম ঘুম চোখে কোনো রকমে কফিটা বানিয়ে মগটা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম। গত ৪০ ঘন্টার অঘুম, দুই ঘন্টা ঘুমালে যা হয়! ঘুম থেকে উঠে মাথাব্যথাটা আরো বেড়ে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে আমি বেশ আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার জন্য ঘুমোতে যাই ৷ যেমনটা আজকে! দুঃস্বপ্ন দেখার প্রথম আয়োজন হিসেবে রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে পাখাটা হালকা স্পীডে ছেড়ে রুমের তাপমাত্রা ঠান্ডা করে কাথার নীচে ঢু্ঁকে পড়ি৷ কানে ইয়ারফোনে লাগিয়ে প্লে করে দেই কাঠখোট্টা টপিকের কোনো পডকাস্ট। ব্যাস্, ক্লান্ত মস্তিষ্কে স্ববিরোধী সবচিন্তাভাবনা উদয় হতে থাকে শীতল তাপমাত্রার সাথে! সারারাত না ঘুমিয়ে, সারাদিন ল্যাব দিয়ে এসে কোনো রকমে দুপুরের খাবারটা খেয়ে আজকেও আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রিপারেশন নিলাম ৷ এভাবে নিজের মস্তিককে জানিয়ে শুনিয়ে স্বপ্ন দেখানোর ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ মজার। মনে হয় যেন, আমি আমার মন দিয়ে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করছি! লেপের ভেতর ঢুঁকে পড়ছি। কানে ইয়ারফোনে পডকাস্ট চলছে৷ আজকের পডকাস্টের টপিক " Financial independency vs Psychological freedom "। বঙ্গানুবাদ করলে এমন দাঁড়ায় অনেকটা - "..... ফিনানশিয়াল ইনডিপেনডে...

Monolouge-13

ছবি
রাত ১০ঃ৪৫। রাতের খাবার খেয়ে একা একা হাঁটতে বের হয়েছি। গ্রামের রাস্তা, চুপচাপ, নির্জনতায় একা একা পায়ে ধুলো মেখে হাঁটছি, উদ্দেশ্যহীন হাঁটা যাকে বলে। স্কুল লাইফে এই রাস্তাটায় প্রায়ই বাড়ি ফিরা হতো, রাতে কারেন্ট চলে গেলেও হাঁটতে বের হয়ে যেতাম এই রাস্তায়। আর এখন তো আসা হয় না বললেই চলে। এই বয়সে ব্যস্ততা নামক অজুহাত জীবন যান্ত্রিক করে দিচ্ছে। দু'পাশে ক্ষেত, তার মধ্য দিয়ে ইট বাঁধানো ধুলোপড়া রাস্তা। কনকনে ঠান্ডা, নাকমুখ দিয়ে কুঁয়াশা ঢুকছে। স্কুল লাইফে রাত দশটার পর এখান দিয়ে একাকী হাঁটা কল্পনাই করতে পারতাম না। এখন অবশ্য কিছুটা যাতায়াত আর ঘরবসতি বেড়েছে এ-ই দিকটায়। গাঁ ঝিমঝিম করছে অমাবস্যা আর রাস্তার পাশের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে। তারপরও হাঁটতে ভালো লাগছে। কতোদিন হলো খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস বুক ভরে নিই না। যানজট আর দুশ্চিন্তায় ভরা এই হাপিত্যেশ জীবনে শেষ কবে যে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেছি, তা চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না! আজ মনটা অনেক ভারী হয়ে আছে। মনে যে কালো মেঘের জমাট বাঁধছে তার কারণ একাধিক হলেও, আপাতত একটা কারণ আমাকে ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। তাই মন হালকা করতে এই কুঁয়াশা জড়ানো রাস্তা...

ডাইরি ও আত্মসন্তুষ্টি !!!

ছবি
ক্লাস সেভেন থেকে ডাইরি লিখা শুরু করি। অবশ্য ডাইরি লিখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম বড় কাকার থেকে। উনার ডাইরির অনেক গল্পই কাকী আমাকে শুনিয়েছেন বহুবার। তারপর একদিন পত্রিকায় আনা ফ্রাঙ্কের ডাইরি সম্পর্কে জানা। এভাবে ডাইরি লিখার আগ্রহ জাগে। সর্বপ্রথম ডাইরিটা ছিল রিমা আপুর দেওয়া ছোট একটা ঝিকিমিকি লক ডাইরি। ডাইরিটার লকটা যদিও তেমন সিকিউরড ছিল না, তারপরও প্রতিবার লিখে ডাইরিটা লক করে কতো যত্নসহকারেই না চাবিটা লুকিয়ে রাখতাম! তখন থেকে ডাইরিতে নিজের স্বপ্নগুলো, প্রাত্যহিক ঘটা ঘটনাগুলো লিখা শুরু করি। নিজেকে গুছাতে থাকি লিখার মাধ্যমে। ডাইরিতে লিখা অধিকাংশ স্বপ্নগুলো যেন কী এক কাকতালীয়ভাবেই পূর্ণতা পাচ্ছিলো! এর দুটো কারণ হতে পারে। এক, ছোটবেলা থেকেই হয়তো আমার বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন জাগেনি কখনোই। দুই, তখন হয়তো অবচেতন মন নিজ সীমার মধ্যে স্বপ্নগুলো লিখে যায়৷ ক্লাস এইটের ডাইরির পাতায় লিখা একটা লাইন "আম্মা সন্তুষ্ট হয় এমন একটা রেজাল্ট করতেই হবে আমাকে, এপ্লাস গোল্ডেন এবার যেটাই হোক"। আমাকে গোল্ডেনই পেতে হবে কিংবা এপ্লাস এমন কোনো চাপও কখনো পরিবার থেকে দেয় নি। সে বার গোল্ডেন পাইনি, এ প্লাস এসেছিলো৷ টেলে...

উৎসর্গের প্রলাপ

প্রেমিক হিসেবে একজন লেখক এবং প্রেমিকা হিসেবে একজন লেখিকা বেস্ট। আর যদি দুজনই লেখক-লেখিকা হয় তাহলে তো কথায় নেই ! একদম পারফেক্ট কম্বো জুটি। আমি স্বভাবজাতই লেখক ছিলাম। সম্পর্কের শুরুটা থেকেই তাই আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি তোমাকে লেখিকা হিসেবে তৈরি করতে। তাই সম্পর্কে ডিজিটাল এ-ই প্রেমের দুনিয়ার আচঁ পড়তে দেই নি। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে তাই আমাদের মাঝে চিরকুট চালাচালি চলতোই৷ মাঝে মাঝে যখন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পরতাম, তখন অর্ধশতাধিক লাইনের কবিতা কিংবা পাঁচ-দশ পৃষ্ঠা হাতে লিখা চিঠি লিখে সুন্দর কোনো খামে কিংবা উপহারের সাথে তোমাকে পৌঁছে দিতাম। তখন আমাদের ফিলোসোফিটায় এমন ছিল যে, আমাদের লেখাগুলোয় আমাদের কেয়ারিং এর পরিমাপক! তুমি লিখতে। খুব ভালো লিখতে যে, ঠিক তা না। একজন লেখক হিসেবে যতটুকু উপাদেয় আমার আশা করার ছিলো ততটাও ভালো লিখতে না ! কিন্তু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে সেই অনভ্যস্থ হাতের লিখাগুলোয় আমার ভালো লাগতো। বিশ্বাস করতাম, তুমিও একদিন তোমার লেখায় প্রাণ খুঁজে পাবে ৷ আমি উপলব্ধি করতাম তোমার লিখতে ভালো লাগে না, তুমি জোর করে লিখো, আমার জন্য লিখো, আমাকে খুশি করতে লিখো। কারণ ওই একটা জিনিসই আমি তোমার কা...