পোস্টগুলি

Monologue-14

ছবি
সন্ধ্যা ৬ঃ৪৩। ঘুম ঘুম চোখে কোনো রকমে কফিটা বানিয়ে মগটা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম। গত ৪০ ঘন্টার অঘুম, দুই ঘন্টা ঘুমালে যা হয়! ঘুম থেকে উঠে মাথাব্যথাটা আরো বেড়ে গিয়েছে। মাঝেমধ্যে আমি বেশ আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার জন্য ঘুমোতে যাই ৷ যেমনটা আজকে! দুঃস্বপ্ন দেখার প্রথম আয়োজন হিসেবে রুমের দরজা জানালা বন্ধ করে পাখাটা হালকা স্পীডে ছেড়ে রুমের তাপমাত্রা ঠান্ডা করে কাথার নীচে ঢু্ঁকে পড়ি৷ কানে ইয়ারফোনে লাগিয়ে প্লে করে দেই কাঠখোট্টা টপিকের কোনো পডকাস্ট। ব্যাস্, ক্লান্ত মস্তিষ্কে স্ববিরোধী সবচিন্তাভাবনা উদয় হতে থাকে শীতল তাপমাত্রার সাথে! সারারাত না ঘুমিয়ে, সারাদিন ল্যাব দিয়ে এসে কোনো রকমে দুপুরের খাবারটা খেয়ে আজকেও আয়োজন করে দুঃস্বপ্ন দেখার প্রিপারেশন নিলাম ৷ এভাবে নিজের মস্তিককে জানিয়ে শুনিয়ে স্বপ্ন দেখানোর ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ মজার। মনে হয় যেন, আমি আমার মন দিয়ে মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করছি! লেপের ভেতর ঢুঁকে পড়ছি। কানে ইয়ারফোনে পডকাস্ট চলছে৷ আজকের পডকাস্টের টপিক " Financial independency vs Psychological freedom "। বঙ্গানুবাদ করলে এমন দাঁড়ায় অনেকটা - "..... ফিনানশিয়াল ইনডিপেনডে...

Monolouge-13

ছবি
রাত ১০ঃ৪৫। রাতের খাবার খেয়ে একা একা হাঁটতে বের হয়েছি। গ্রামের রাস্তা, চুপচাপ, নির্জনতায় একা একা পায়ে ধুলো মেখে হাঁটছি, উদ্দেশ্যহীন হাঁটা যাকে বলে। স্কুল লাইফে এই রাস্তাটায় প্রায়ই বাড়ি ফিরা হতো, রাতে কারেন্ট চলে গেলেও হাঁটতে বের হয়ে যেতাম এই রাস্তায়। আর এখন তো আসা হয় না বললেই চলে। এই বয়সে ব্যস্ততা নামক অজুহাত জীবন যান্ত্রিক করে দিচ্ছে। দু'পাশে ক্ষেত, তার মধ্য দিয়ে ইট বাঁধানো ধুলোপড়া রাস্তা। কনকনে ঠান্ডা, নাকমুখ দিয়ে কুঁয়াশা ঢুকছে। স্কুল লাইফে রাত দশটার পর এখান দিয়ে একাকী হাঁটা কল্পনাই করতে পারতাম না। এখন অবশ্য কিছুটা যাতায়াত আর ঘরবসতি বেড়েছে এ-ই দিকটায়। গাঁ ঝিমঝিম করছে অমাবস্যা আর রাস্তার পাশের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে। তারপরও হাঁটতে ভালো লাগছে। কতোদিন হলো খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে মুক্ত বাতাস বুক ভরে নিই না। যানজট আর দুশ্চিন্তায় ভরা এই হাপিত্যেশ জীবনে শেষ কবে যে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেছি, তা চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না! আজ মনটা অনেক ভারী হয়ে আছে। মনে যে কালো মেঘের জমাট বাঁধছে তার কারণ একাধিক হলেও, আপাতত একটা কারণ আমাকে ভীষণভাবে ভোগাচ্ছে। তাই মন হালকা করতে এই কুঁয়াশা জড়ানো রাস্তা...

ডাইরি ও আত্মসন্তুষ্টি !!!

ছবি
ক্লাস সেভেন থেকে ডাইরি লিখা শুরু করি। অবশ্য ডাইরি লিখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম বড় কাকার থেকে। উনার ডাইরির অনেক গল্পই কাকী আমাকে শুনিয়েছেন বহুবার। তারপর একদিন পত্রিকায় আনা ফ্রাঙ্কের ডাইরি সম্পর্কে জানা। এভাবে ডাইরি লিখার আগ্রহ জাগে। সর্বপ্রথম ডাইরিটা ছিল রিমা আপুর দেওয়া ছোট একটা ঝিকিমিকি লক ডাইরি। ডাইরিটার লকটা যদিও তেমন সিকিউরড ছিল না, তারপরও প্রতিবার লিখে ডাইরিটা লক করে কতো যত্নসহকারেই না চাবিটা লুকিয়ে রাখতাম! তখন থেকে ডাইরিতে নিজের স্বপ্নগুলো, প্রাত্যহিক ঘটা ঘটনাগুলো লিখা শুরু করি। নিজেকে গুছাতে থাকি লিখার মাধ্যমে। ডাইরিতে লিখা অধিকাংশ স্বপ্নগুলো যেন কী এক কাকতালীয়ভাবেই পূর্ণতা পাচ্ছিলো! এর দুটো কারণ হতে পারে। এক, ছোটবেলা থেকেই হয়তো আমার বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন জাগেনি কখনোই। দুই, তখন হয়তো অবচেতন মন নিজ সীমার মধ্যে স্বপ্নগুলো লিখে যায়৷ ক্লাস এইটের ডাইরির পাতায় লিখা একটা লাইন "আম্মা সন্তুষ্ট হয় এমন একটা রেজাল্ট করতেই হবে আমাকে, এপ্লাস গোল্ডেন এবার যেটাই হোক"। আমাকে গোল্ডেনই পেতে হবে কিংবা এপ্লাস এমন কোনো চাপও কখনো পরিবার থেকে দেয় নি। সে বার গোল্ডেন পাইনি, এ প্লাস এসেছিলো৷ টেলে...

উৎসর্গের প্রলাপ

প্রেমিক হিসেবে একজন লেখক এবং প্রেমিকা হিসেবে একজন লেখিকা বেস্ট। আর যদি দুজনই লেখক-লেখিকা হয় তাহলে তো কথায় নেই ! একদম পারফেক্ট কম্বো জুটি। আমি স্বভাবজাতই লেখক ছিলাম। সম্পর্কের শুরুটা থেকেই তাই আপ্রাণ চেষ্টা করে গিয়েছি তোমাকে লেখিকা হিসেবে তৈরি করতে। তাই সম্পর্কে ডিজিটাল এ-ই প্রেমের দুনিয়ার আচঁ পড়তে দেই নি। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে তাই আমাদের মাঝে চিরকুট চালাচালি চলতোই৷ মাঝে মাঝে যখন অনেক আবেগপ্রবণ হয়ে পরতাম, তখন অর্ধশতাধিক লাইনের কবিতা কিংবা পাঁচ-দশ পৃষ্ঠা হাতে লিখা চিঠি লিখে সুন্দর কোনো খামে কিংবা উপহারের সাথে তোমাকে পৌঁছে দিতাম। তখন আমাদের ফিলোসোফিটায় এমন ছিল যে, আমাদের লেখাগুলোয় আমাদের কেয়ারিং এর পরিমাপক! তুমি লিখতে। খুব ভালো লিখতে যে, ঠিক তা না। একজন লেখক হিসেবে যতটুকু উপাদেয় আমার আশা করার ছিলো ততটাও ভালো লিখতে না ! কিন্তু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে সেই অনভ্যস্থ হাতের লিখাগুলোয় আমার ভালো লাগতো। বিশ্বাস করতাম, তুমিও একদিন তোমার লেখায় প্রাণ খুঁজে পাবে ৷ আমি উপলব্ধি করতাম তোমার লিখতে ভালো লাগে না, তুমি জোর করে লিখো, আমার জন্য লিখো, আমাকে খুশি করতে লিখো। কারণ ওই একটা জিনিসই আমি তোমার কা...
ছবি
আমার কাছে চা একটা ম্যাজিক্যাল রেসিপি! মগ ভর্তি গরম পানি সাথে দুই চা-চামচ চিনি, ছোট এক টুকরো লেবু, একটা টি-ব্যাগ। এই একই চা আমি রুমের বারান্দায়,ছাদে,পড়ার টেবিলে,সব জায়গায় পান করি। একেক জায়গায় এক এক স্বাদ টের পাই। অথচ প্রতিবার ওই একই উপকরণ! যখন খুব স্ট্রেসে থাকি,চা নিয়ে ছাদে চলে যাই। চায়ের ধোঁয়ার মতোই যেন স্ট্রেসগুলো ক্রমশ হালকা হয়ে মিলিয়ে যায়! ক্লান্ত শরীর যখন পড়ার টেবিলকে আর গ্রহণ করতে চায় না, তখন এই চা-ই যেন সেল্ফ-মোটিভেশান জাগায়। একটা মন খারাপের বিকেলের সঙ্গী এই মগ ভর্তি চা ৷ স্টেশনের চা, কড়া লিকারের সমপরিমাণ গরুর দুধ, সাথে দুই চা-চামচ চিনি। এই একই দোকানের অভিন্ন চা, আড্ডায় এক রকম স্বাদ, ফুটওভারের উপর একাকী দাঁড়িয়ে পান করার সময় আরেক রকম স্বাদ, আবার চলন্ত ট্রেনে জানালার পাশের সিটটায় বসে পান করার সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদ!প্রতিবারের তৃপ্তি যেন ভিন্নতার উপলব্ধি দেয়! চা আড্ডা জমায়,চা গল্প তৈরি করে,চা একাকীত্বের সঙ্গী হয়, চা একাকী বসে ভাবতে সাহায্য করে, চা এন্টি ডিপ্রেশন এর ঔষধ হিসেবে কাজ করে৷ A cup of tea can fix myself,but you can't!

আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন

ছবি
ক্যাফেতে ঢুকেই রীতিমতো একটা ধাক্কা খেলাম! আজ প্রায় তিনমাস পর এই ক্যাফেতে আসা। ক্যাফের চেয়ার টেবিল, দেয়ালে লাগানো দেয়ালিকা, ঝুলে থাকা ল্যাম্পশেড, সবকিছু কেমন যেন অচেনা মনে হতে লাগলো। "Please Pay First"-লিখা কাউন্টারে কফি অর্ডার দিয়ে পেমেন্ট করে এসে সেই প্রিয় কর্ণারটায় এসে বসলাম। এই ক্যাফেটাকে ঘিরে অনেক স্মৃতি আমাদের। আমাদের প্রথম ডেইট ছিল এই ক্যাফেটায়, বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলাম এখানে । একটা সময় পর আমরা থেকে আমি হয়ে গেলাম! এরপর থেকে প্রায় একাই বেশ কয়েকবার আসছি এখানে। গরম কফিতে চুমুক দিয়ে আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন করতে প্রায়ই আসা হয় আমার। একাকী বসে যতবার এই গরম Cappuccino-তে চুমুক দেই, ততোবার সেই একসাথে খাওয়া Cappuccino-এর স্বাদ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। নাহ, কাজল চোখে চোখ রেখে গরম কফিতে চুমুক দেওয়ার মাঝে যেই স্বাদ, তা কি আর একলা বসে সামনে থাকা ফাঁকা চেয়ারের দিকে তাকিয়ে চুমুক দিতে দিতে পাওয়া যায়?! তবে কফিতে চুমুক দিয়ে মনে হয় যেন একটা Meditate স্টেজে চলে যাই! মনের ভেতর চলা স্মৃতির ঝড়, অবসাদ, অনুশোচনাবোধ সবকিছু কেমন যেন সাময়িকভাবে Dump হয়ে যায়। সাময়িক সময়ের জন্য একটা প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর ...