পোস্টগুলি

ছবি
আমার কাছে চা একটা ম্যাজিক্যাল রেসিপি! মগ ভর্তি গরম পানি সাথে দুই চা-চামচ চিনি, ছোট এক টুকরো লেবু, একটা টি-ব্যাগ। এই একই চা আমি রুমের বারান্দায়,ছাদে,পড়ার টেবিলে,সব জায়গায় পান করি। একেক জায়গায় এক এক স্বাদ টের পাই। অথচ প্রতিবার ওই একই উপকরণ! যখন খুব স্ট্রেসে থাকি,চা নিয়ে ছাদে চলে যাই। চায়ের ধোঁয়ার মতোই যেন স্ট্রেসগুলো ক্রমশ হালকা হয়ে মিলিয়ে যায়! ক্লান্ত শরীর যখন পড়ার টেবিলকে আর গ্রহণ করতে চায় না, তখন এই চা-ই যেন সেল্ফ-মোটিভেশান জাগায়। একটা মন খারাপের বিকেলের সঙ্গী এই মগ ভর্তি চা ৷ স্টেশনের চা, কড়া লিকারের সমপরিমাণ গরুর দুধ, সাথে দুই চা-চামচ চিনি। এই একই দোকানের অভিন্ন চা, আড্ডায় এক রকম স্বাদ, ফুটওভারের উপর একাকী দাঁড়িয়ে পান করার সময় আরেক রকম স্বাদ, আবার চলন্ত ট্রেনে জানালার পাশের সিটটায় বসে পান করার সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদ!প্রতিবারের তৃপ্তি যেন ভিন্নতার উপলব্ধি দেয়! চা আড্ডা জমায়,চা গল্প তৈরি করে,চা একাকীত্বের সঙ্গী হয়, চা একাকী বসে ভাবতে সাহায্য করে, চা এন্টি ডিপ্রেশন এর ঔষধ হিসেবে কাজ করে৷ A cup of tea can fix myself,but you can't!

আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন

ছবি
ক্যাফেতে ঢুকেই রীতিমতো একটা ধাক্কা খেলাম! আজ প্রায় তিনমাস পর এই ক্যাফেতে আসা। ক্যাফের চেয়ার টেবিল, দেয়ালে লাগানো দেয়ালিকা, ঝুলে থাকা ল্যাম্পশেড, সবকিছু কেমন যেন অচেনা মনে হতে লাগলো। "Please Pay First"-লিখা কাউন্টারে কফি অর্ডার দিয়ে পেমেন্ট করে এসে সেই প্রিয় কর্ণারটায় এসে বসলাম। এই ক্যাফেটাকে ঘিরে অনেক স্মৃতি আমাদের। আমাদের প্রথম ডেইট ছিল এই ক্যাফেটায়, বেশ কয়েকবার দেখা করেছিলাম এখানে । একটা সময় পর আমরা থেকে আমি হয়ে গেলাম! এরপর থেকে প্রায় একাই বেশ কয়েকবার আসছি এখানে। গরম কফিতে চুমুক দিয়ে আসক্ত স্মৃতি রোমন্থন করতে প্রায়ই আসা হয় আমার। একাকী বসে যতবার এই গরম Cappuccino-তে চুমুক দেই, ততোবার সেই একসাথে খাওয়া Cappuccino-এর স্বাদ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি। নাহ, কাজল চোখে চোখ রেখে গরম কফিতে চুমুক দেওয়ার মাঝে যেই স্বাদ, তা কি আর একলা বসে সামনে থাকা ফাঁকা চেয়ারের দিকে তাকিয়ে চুমুক দিতে দিতে পাওয়া যায়?! তবে কফিতে চুমুক দিয়ে মনে হয় যেন একটা Meditate স্টেজে চলে যাই! মনের ভেতর চলা স্মৃতির ঝড়, অবসাদ, অনুশোচনাবোধ সবকিছু কেমন যেন সাময়িকভাবে Dump হয়ে যায়। সাময়িক সময়ের জন্য একটা প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর ...

ডিসেম্বরের শহর থেকে যায় অপেক্ষায় প্রাক্তন ভালোবাসায়

রাত ১০টা। চায়ের কাপ হাতে ফুটপাতের বেঞ্চিতে বসে আছি। শহরের ব্যস্ততা কমে আসছে ধীরে ধীরে। বিকেল থেকে টানা চার টিউশন করে আমার নিজেরও ব্যস্ততা শেষ। এখন মাথার ঝিমঝিম ভাবটা কমানোর জন্য রাস্তার পাশের এই ভাসমান টংয়ের দোকানে বসে আছি। দেখতে দেখতে ডিসেম্বর চলে এলো। ২২-সালের শেষ মাস৷ কত চাওয়া-পাওয়া আর হারানোর মধ্য দিয়ে চলে গেল বছরটা ! শীতের কিছুটা আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। হালকা কুয়াশা পড়া শুরু করেছে, শীতশীত একটা ভাব। বেঞ্চিতে বসে চায়ে একের পর এক চুমুক দিচ্ছি। আহা, চায়ের লিকারের সাথে যেন সমস্ত ক্লান্তি বোধ গলা দিয়ে নেমে যাচ্ছে। এ মুহুর্তে "ডিসেম্বরের শহরে" গানটা কানে ইয়ারফোন গুঁজে ফুল ভলিউম শুনতে খুব মন চাচ্ছে । মোবাইলে To-Do লিস্ট খুলে টাস্কটা দেখলাম, "ডিসেম্বরের কোন এক শীতের রাত, চাদর গায়ে ফুটপাতে বসে চা সাথে ডিসেম্বরের শহরে গান। *** সাথে কেউ না থাকলেও চলবে। তবে দলবেঁধে গলা ছেড়ে গাইতে পারলে মন্দ হবে না! *** " ০৩.০৪.২০২২ আজকে নভেম্বর ২৯, তারমানে আজকে শোনা ঠিক হবে না। কিছু জিনিস সঠিক সময়েই সুন্দর, এর আগে চাহিদা পেয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে ফেললে এর সৌন্দর্য্য আর মুগ্ধতা থাকে না। তবে এই গানের...

Chess with my Queen

ছবি
কোনো এক অলস বিকেলে মগ ভর্তি কফি আর মাথা ভর্তি গেইম প্ল্যান নিয়ে বসবো দাবার বোর্ডে। আমার opponent-এ বসবে তুমি৷ আমাদের কথা হবে চোখে চোখে, আমাদের কথা হবে দাবা বোর্ডে প্রত্যেকের ১৬ সদস্যের সেনা বহরের মাধ্যমে! তুমি আমার সাথে মাইন্ড গেইম খেলতে চাইবে। আমার গেইম প্ল্যান এলেমেলো করে দেওয়াই হবে তোমার প্রধান ডেমোক্রেসি। আমার বিশপদ্বয় যখন তোমার বোর্ডে এগিয়ে যাবে, তখন তোমার ঠোঁটের বাকা হাসি দিয়ে আমি সহ আমার বিশপদ্বয়ের বাঁকা চাল কুপোঁকাত করাই হবে তোমার মূল লক্ষ্য৷ আমি আমার মোহগ্রস্ত মন আর গেইম প্ল্যানার বিশপদ্বয়ের বাঁকা চাল নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা করেই যাব! আমার কিস্তিদ্বয় যখন তোমার দাবার বোর্ডের রাজার দিকে তাকঁ করে থাকবে, তখন তুমি তোমার নিজের রাজা এই আমিটাকে তোমার কাঁজল চোখের সরল দৃষ্টি দিয়ে ঘাঁয়েল করার চেষ্টা করবে! আমি তোমার এই কালো জাদু থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করবো। ভেস্তে যাবে আমার সব গেইম প্ল্যান! নিজেকে আত্মসংবরণ এ নিয়ে তাড়াতাড়ি ছক বাঁধবো নতুন গেইম প্ল্যানের। আমি যখন চেক-মেইট দিতে যাবো, তখন তোমার গম্ভীর-বিষাদগ্রস্ত-অন্ধকার করা মুখের দিকে তাকিয়ে স্বেচ্ছায় নিজের মন্ত্রীকে খুঁইয়ে...

Man in Mystery!

ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি পুরো রুম অন্ধকার। ল্যাপটপে তখনও ওয়েব সিরিজ চলছে, এপিসোড ৮। চোখ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত যতদূর মনে পড়ছে এপিসোড ৫ চলছিলো। তারমানে (৪৫*২)= ৯০+ মিনিট মানে প্রায় দেড় ঘন্টা চলে গিয়েছে। লাফ মেরে উঠে বিছানা থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি ৪ঃ৩০ বাজে, ট্রেন ৩ঃ৪০ এ ছিল। তারমানে ট্রেন মিস!!! অগত্যা কাপড় পাল্টিয়ে ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলাম চা বানাতে। আব্বাকে কল দিলাম বাসায় আসতে। আব্বা বাসায় এসে কিছুটা অবাক, "তোর না ট্রেন বিকালে ছিলো?"। আমি হেঁসে বললাম,"আমি ঘুমায় পড়ছিলাম, আপনে জানতেন বিকালে আমার ট্রেন ডাক দিলেন না কেন তাহলে? রাতের ট্রেনে যাইতে হবে এখন। ১২টায় ট্রেন, আপুদের বলার দরকার নেই উনারা আবার টেনশন করবে "। চা নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম দু-জনে। শেষ কবে এভাবে দুজনের সামনাসামনি বসা হয়েছিলো মনে পড়ছে না। সপ্তাহে বাসায় আসলেও, বাসায় সময় দেওয়া হয় না তেমন। রান্নাঘরে কাজ করার সময় টুকটাক কথা হয় তাও কাজের, বাজার-সদাই আছে কিনা, কি রান্না করা হবে এসবই। খাওয়ার সময় পর্যন্ত একসাথে খাওয়া হয়ে ওঠে না আমাদের। কারণ বাসায় আসলে আমি প্রায়ই রাত করে বাসায় ফিরি, তখন আব্বা ঘুম ৷ গেইটের তালাটা আ...

জীবনের ডার্ক সিক্রেট

আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো ডার্ক সিক্রেট থাকে। সে সিক্রেটগুলো চাইলেও বেস্ট ফ্রেন্ড কিংবা ক্লোজ কারো সাথে শেয়ার করা যায় না। এই সিক্রেটগুলো আমরা চাইলেও রিভিল করতে পারি না, অনুতপ্ত হলেও অনুশোচনাবোধ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, কিচ্ছু করার থাকে না আমাদের! আমি যতবার এমন সিচুয়েশানে পড়েছি, ততোবারই খেয়াল করেছি এই সিক্রেটগুলো শেয়ার করার একমাত্র মাধ্যম হলো ডাইরিতে লিখে ফেলা। যে সিক্রেটগুলো বন্ধুমহল জানলে হয়তো হাসি-ঠাট্টা করতো, ক্লোজড মানুষজনকে বললে হয়তো জাজমেন্টাল লুক দিতো, পরিবারকে বললে হয়তো ঝড় বয়ে যেত বাসায়, এই সিক্রেটগুলো নির্দ্বিধায়-নির্বিঘ্নে শুধুমাত্র ডাইরিতে শেয়ার করার মাঝেই এক অন্যরকম শান্তিবোধ কাজ করে। ডাইরি আমাকে জাজমেন্টাল লুক দেয় না, হাসিঠাট্টা করে না, চুপচাপ হজম করে যায় গল্পগুলো। লেখার পর যখন নিচে সিগনেচার দিয়ে লেখার ইতি টানি, তখন অন্যরকম এক প্রশান্তি কাজ করে মনে। একটা জিনিস খেয়াল করেছি, প্রতিবার লেখার ধরনের উপর আমার প্রতিটা সিগনেচারের ধরন পাল্টে যায়! বিষন্ন মনে লিখতে বসলে সিগনেচারের টানটা লম্বা দিয়ে ফেলি, হাসিখুশি মনে লিখতে বসলে সিগনেচার একটা স্মাইলি ইমুজি কোড দিয়ে ফেলি, বিরক্তি নিয়ে লি...