জীবনের ডার্ক সিক্রেট
আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো ডার্ক সিক্রেট থাকে। সে সিক্রেটগুলো চাইলেও বেস্ট ফ্রেন্ড কিংবা ক্লোজ কারো সাথে শেয়ার করা যায় না। এই সিক্রেটগুলো আমরা চাইলেও রিভিল করতে পারি না, অনুতপ্ত হলেও অনুশোচনাবোধ কুঁড়ে কুঁড়ে খায়, কিচ্ছু করার থাকে না আমাদের!
আমি যতবার এমন সিচুয়েশানে পড়েছি, ততোবারই খেয়াল করেছি এই সিক্রেটগুলো শেয়ার করার একমাত্র মাধ্যম হলো ডাইরিতে লিখে ফেলা। যে সিক্রেটগুলো বন্ধুমহল জানলে হয়তো হাসি-ঠাট্টা করতো, ক্লোজড মানুষজনকে বললে হয়তো জাজমেন্টাল লুক দিতো, পরিবারকে বললে হয়তো ঝড় বয়ে যেত বাসায়, এই সিক্রেটগুলো নির্দ্বিধায়-নির্বিঘ্নে শুধুমাত্র ডাইরিতে শেয়ার করার মাঝেই এক অন্যরকম শান্তিবোধ কাজ করে। ডাইরি আমাকে জাজমেন্টাল লুক দেয় না, হাসিঠাট্টা করে না, চুপচাপ হজম করে যায় গল্পগুলো। লেখার পর যখন নিচে সিগনেচার দিয়ে লেখার ইতি টানি, তখন অন্যরকম এক প্রশান্তি কাজ করে মনে। একটা জিনিস খেয়াল করেছি, প্রতিবার লেখার ধরনের উপর আমার প্রতিটা সিগনেচারের ধরন পাল্টে যায়! বিষন্ন মনে লিখতে বসলে সিগনেচারের টানটা লম্বা দিয়ে ফেলি, হাসিখুশি মনে লিখতে বসলে সিগনেচার একটা স্মাইলি ইমুজি কোড দিয়ে ফেলি, বিরক্তি নিয়ে লিখলে সিগনেচারের লেটারগুলো বেখাপ্পা করে ফেলি। কি অদ্ভুত!!! নিউরো সায়েন্স বলে, আমাদের সারাদিনের ৯৫% কাজ-কর্ম আমাদের অবচেতন মন করে থাকে, তাহলে কি সিগনেচারের নিয়ন্ত্রণও আমার অবচেতন মনের কাছে???
অবচেতন মন শতকরা ৯৫ ভাগ কাজ নিয়ন্ত্রণ করলেও,আমাদের এই ডার্ক সিক্রেটগুলো সে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। এর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আমাদের কাছেই! আমরা এই সিক্রেটগুলোকে এতোটা কনজারভেটিভ মাইন্ডসেটে নিয়ে ঘুরি যে, কখনো স্বপ্নে এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটলে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি যখন বুঝতে পারি, এটা স্বপ্ন ছিল!
মন্তব্যসমূহ