পোস্টগুলি

নতুন বছরে সবকিছু নতুন করে শুরু হোক

মাথার ভেতর এখন যেন 24/7 আস্ত একটা ক্যালকুলেটর চলে। প্রতিনিয়ত যেন চলতে থাকে হিসেব-নিকেশ। শেষ কবে এই যন্ত্র বিরতি নিয়েছিলো তা মনে পড়ে না। ঘুমের মাঝেও মস্তিষ্কে চলে রাজ্যের হিসেব-নিকেশ।  সমুদ্রের পাড়ে বসে তীরের ঢেউ গুনতে গুনতে মনে হয়, "এই তো আরেকটা সূর্যাস্ত শেষ, আরেকটা দিনের সমাপ্তি "। আড্ডা আর আগের মতো হাসিঠাট্টার হয় না। এখন আড্ডা হয়ে উঠে যতসব হিসেব-নিকেশের। এই হিসেব-নিকেশ সংসারের, নিজের, প্রয়োজনের কিংবা বেশিরভাগই অপ্রয়োজনের! আমরা এখন সম্পর্কের চেয়ে বেশি সময়ের দাম দিতে শিখে গিয়েছি। যান্ত্রিকতা ছুঁইয়ে দিচ্ছে রক্তে-মাংসের দেহটাকে। কেউই মাটির কাছে ফিরবার কথা মনে-ই করে না আর! তারপরও আমরা সবাই বয়সের কাছে এসে কেমন যেন ক্যালকুলেটিভ হয়ে পড়ছি দিন দিন। এই পরিবর্তন বড্ড বেশি চোখে পড়ার মতো! আমি বছরের শেষ দিনে এসে ক্যালেন্ডার সরিয়ে রাখতে রাখতে ভাবি, "এভাবেই দিনগুনে বছর শেষ তারপরও প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির ভীড়ে কত-শত মানুষ হারালাম, তার আর হিসেব কই রাখলাম?  নতুন বছরে হয়তো নতুন নতুন মানুষ আসবে জীবনে, পুরনোদের আর হিসেব কই রাখলাম?  তাহলে কি মানুষের মস্তিষ্ক 24/7 যে হিসেব কষে, তা শুধুই স্বার্থ...

রেখেছে দখল করে আশৈশব আমার একালা

আমি তখন ক্লাস টেনে পড়ি। সেদিন খুব অবাক হয়েছিলাম এটা শুনে যে প্রেমিকের লিখা পড়ে প্রাক্তন প্রেমিকা যার বিয়ে হয়ে গিয়েছে অন্যের সাথে সে পাগল হয়ে যেতে পারে! সেদিন বিষ্ময় নিয়ে, "যে জলে আগুন জ্বলে" কবিতাগুলোর লাইনগুলো পড়ছিলাম আর ভাবছিলাম প্রেমিক হলে এমনই হওয়া উচিত। প্রাক্তন হলেও, যার প্রতি কমেনি সম্মান একটুও। উনার অধিকাংশ কবিতায় ফুটে উঠেছিল ভালোবাসার মানুষটাকে না পাওয়ার হাহাকার! নিজের লিখা পড়ে কবির প্রাক্তন প্রেমিকা হেলেন মানসিক ভারসাম্য হারায়,স্বামী ডিভোর্স দিয়ে দেয়, এই অনুশোচনায় হেলাল হাফিজ আর বিয়ে-থা করেননি। তারপর অর্ধ যুগ গেল, এই মানুষটাকে আমি চিনে গেলাম কবিতার লাইনেই। যার মৃত্যু ঘটলো চরম নিঃসঙ্গতায়!  যে প্রেম শেখালো, তার কি নির্মম প্রেমহীন মৃত্যুবরণ! তারপর আমি বিশ্বাস করতে শিখলাম মরণশীল মানুষের লিখা ও প্রেম, মানুষকে অমর করে রাখে! ওপারে এই মানুষটা যেন ভালোবাসা পায়। প্রতীক্ষায় থেকো না আমার আমি আসবো না, থাকলো কথার কবুতর কখনো বাইষ্যা মাসে পেয়ে অবসর নিতান্তই জানতে ইচ্ছে হলে আমার খবর পাখিকে জিজ্ঞেস করো নিরিবিলি, পক্ষপাতহীন পাখি বিস্তারিত সংবাদ জানাবে কী কী ব্যথা এবং আর্দ্রতা রেখেছে...

সব পেলে নষ্ট জীবন

তারপরও জীবন থামতে চায়। চলন্ত রেলগাড়ীতে তীব্র ব্রেক কষে যাত্রার মাঝপথে কোনো স্টেশনে নেমে যেতে মনে চায়। এই যাত্রায় কারো কাছে "Life is a journey", কারো কাছে "Life is a tour" বলা এ জীবন নিজের কাছে মনে হয় "Life is a Marathon"! একটু ঝিমুনি আসলেই চোখ খুলে দেখতে হয় পেছনের অনেকে টপকে সামনে চলে গিয়েছে!  তারপরও জীবন একটু থেমে আশেপাশের মানুষের মুখোশের অন্তরালে আসল মানুষটিকে চিনতে-জানতে মনে চায়। যে মুখোশের আড়ালে মানুষ কান্না লুকায়, চাপা আর্তনাদ ফেলে, ক্রোধ পুষে, সেই মুখোশ ফেলে দিয়ে আয়নায় তাদের কুৎসিত চেহারাটা চিনিয়ে দিতে মনে চায়! এই জীবনে একটু থেমে ভালোবাসার স্বাদ উপভোগ করতে মনে চায়। যান্ত্রিকতার আত্মগ্লানিতে ক্লান্ত মন ভালোবাসার পরিচর্যায় পুনরায় উজ্জীবিত হতে চায়। দিনশেষে ভালোবেসে কেউ একজন থাকুক যে ম্যাটারিয়ালিস্টিক প্রাচুর্যের বাইরেও যার থাকবে আত্মসম্মানবোধ,গভীর যত্ন নিয়ে আগলে রাখার ক্ষমতা আর অফুরন্ত ভালোবাসা। যে ব্যকুল হয়ে অপেক্ষা করবে বেলাশেষে শেষ ট্রেনে কখন বাড়ি ফিরবো এই আশায়।  এই জীবন একটু ফুরসত নিয়ে প্রকৃতির মাঝে ডুব দিতে চায়। পাহাড়ের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে আগামীর...

Monologue- 29

ফুটপাতে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। চা'ওয়ালা মামাকে বলে এক প্যাকেট কফি মিক্সড করে নিয়েছি। চিনি ছাড়া কড়া লিকারের কফি মিশ্রিত এ এক বিদঘুটে স্বাদ! স্বাভাবিক সময়ে হলে এ চায়ে চুমুক দিতে গিয়ে আমার জিহ্বা ১২০ ভোল্টের শক খেতো কিন্তু এখনো তেমন কিছুই অনুভব করছি না। লাস্ট ২০ ঘন্টার ১৪ ঘন্টায় ঘুমিয়েছি। এরপর ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে টিউশনে গেলাম। পড়াতে গিয়ে মনে হচ্ছিলো ঘুমে কথা জড়িয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি পড়ানো শেষ করে এসে মামার ভাসমান টি-স্টলে বসলাম। এ জায়গাটা আমার পছন্দের একটা জায়গা। সত্যি বলতে ফুটপাতে বসতে প্রথমদিকে অনেক মৌন বাধা কাজ করলেও, এখন বেশ মজায় লাগে! রাস্তার ভিখিরি থেকে শুরু করে জুতা সেলাই করা মামার নজরে পথচারীরা দেখতে কেমন, তা বুঝাতে পারা যায়।  ঘুমের আড়ষ্টতা যেন আস্তে আস্তে কাটছে মনে হচ্ছে। হঠাৎ কানে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম কোথা থেকে যেন। পুরুষ মানুষের কান্না। চারপাশে চোখ ভুলিয়ে বুঝতে পারলাম কিছুটা দূরে মধ্যবয়স্কা এক লোক কান্না করছে। হাতে বড়সড় একটা ফাইল, মেডিকেলের কাগজপত্র আর রিপোর্ট। ফোনে কারো সাথে কথা বলছে আর কান্না করছে। যতটুকু শুনতে পেলাম, উনার পরিবারের কারো কঠিন কিছু একটা হয়েছে। কান্নায় কেমন যেন...

সমুদ্র

ছবি
আমার সমুদ্র পছন্দ, খুব বেশিই পছন্দ। যতোবারই কেউ জিজ্ঞেস করেছে পাহাড় নাকি সমুদ্র, আমি সমুদ্র বলতে দ্বিতীয়বার আর চিন্তা করিনি। ছোটবেলায় আঙ্কেল টমাস কেবিন থেকে শুরু করে তিনগোয়েন্দার গল্পে সমুদ্রের গল্পগুলো আমাকে ভীষণভাবে টানতো। ছোটবেলায় দুপুরে খাওয়ার পর কত অলস দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা পেরিয়েছে গল্পের বইয়ের পাতায় সমুদ্রের অভিযানে! সেই সমুদ্র, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, তীরে ঝিনুক কুড়ানো, স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উঠে। এরপর কখনো এক মাসে দুইবার, কখনো বছরের ট্যুর সমুদ্রে, টানা যাওয়া হয়েছে।  এই ৮-১০ বারের সমুদ্র দর্শন, আমাকে প্রতিবারেরই যেন এক অদ্ভুত রকমের একাকীত্ব অনুভব করিয়েছে। এ এক ভিন্ন রকমের একাকীত্ববোধ! যতোবারই গিয়েছি, তার আগে প্রতিবারই আমার মানসিক অবস্থা ছিল ভিন্ন, জীবনের অনেক পরিস্থিতিই ছিল ভিন্ন রকম। কিন্তু সমুদ্রের ঢেউ, সমুদ্রের তীর, সবকিছু সেই আগের মতোই দেখি গিয়ে প্রতিবার। তারপর বুঝলাম, মানুষ পাল্টায় সমু্দ্র ঠিক আগের মতোই থাকে।  রাতে খাওয়াদাওয়ার পর যখন একাকী হাঁটতে বের হতাম সমুদ্রের তীরে, তখন সমুদ্রের বিশাল গর্জন কানে তালা লাগিয়ে দিতো যেন। ভাটার সময় হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল কর...

সুদিনের আশায়

সুদিনের আশায় আমরা কতো কিছু ছাড়লাম। রাতের ঘুম, ভোরের সূর্যোদয়, দুপুরের খাওয়া শেষে অলস ঘুম, বিকেলের খেলার মাঠ! ছাড়লাম পরিবার, প্রিয় মানুষজন, প্রিয় অনেক মুহূর্ত, বন্ধুদের সাথে আড্ডা-গান, নিজের শখগুলো। মেধাবী ছাত্রটা পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালো শ্রমিক পরিচয়ে, আরো কত-কী!   এই সুদিনের আশায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও অংশ নিলাম জীবনের ইঁদুর দৌড়ে। মেনে নিলাম চার ঘন্টার ঘুম শেষে লাল লাল চোখ। মানিয়ে নিলাম পছন্দের সাবজেক্টে অপছন্দের কোর্স কিংবা যুতসই ক্যারিয়ারের জন্য অপছন্দের সাবজেক্ট । পাকস্থলী সয়ে নিলো গ্যাস্ট্রিক-আলসারের মতো রোগ! কতজন সয়ে নিলো অপছন্দের জীবনসঙ্গীও! তারপরও সুদিন আর আসে না। সুদিন হয়ে ঘরে ফিরে, সুদিনের আশায় পাড়ি জমানো মানুষগুলোর নিথর দেহ। তারপর সেই দেহের সাথে চিরতরে দাফন করে দেওয়া হয় সুদিন!