পোস্টগুলি

QuotaReformProtest

গত একটা সপ্তাহ ভাবনাগুলোকে শব্দে রূপ দিতে অনেক চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ চেষ্টা বলা যায়।  এমন অনেক লিখা আছে ব্যাক স্পেস দিয়ে ডিলেট করতে বাধ্য হয়েছি, কারণ বাকস্বাধীনতার অধিকার তো কবেই কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিলো এখন জানপ্রাণও নিচ্ছে!  চোখ বন্ধ করলে নৃশংসতা, চোখ খুললে বর্বরতা আর পৈশাচিকতা। মানুষ Writer's Block এ আঁটকায়, আর আমি আটকায় আত্মগ্লানিতে। আমার মনে হচ্ছে আমি যা-ই লিখি না কেন, যা-ই ভাবি না কেন, এ-সময়টায় এসব ভাবনার সময় না। জোর করে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও বিবেক প্রতিনিয়ত পীড়া দেয় ব্যাকস্পেস ব্যবহার করার জন্য! স্রষ্টা মানুষ বানানোর সময় সবাইকে বিবেক দিলেও, অপরাধ আর অনুশোচনা বোধশক্তি সবাইকে দেননি। তিনি কাউকে ক্ষমতা দিয়ে বানিয়েছেন ইবলিশের অনুরাগী, কাউকে শুধুমাত্র একবুক সাহস দিয়ে বানিয়েছেন শহীদ। কি এক দেশে বাস করছি, যেখানে একটা নিদিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষ মারা গেলে সবাই আলহামদুলিল্লাহ পড়ছে, আরেক শ্রেনীর মানুষ মারা গেলে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ছে! সবাই মানুষ, পার্থক্য শুধু কাজেকর্মে! কতোটা নিকৃষ্ট কাজকর্ম করলে মানুষের মনে এতোটা ঘৃণা জন্মায় এদের জন্য!  একদিন ওপারে চলে যাবো, সেদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে...

QuotaReformProtest

যেই আন্দোলনের দাবীগুলোর যৌক্তিকতা একটা রিকশাওয়ালা মামা পর্যন্ত বুঝে, যেই আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে দেশের আপামর জনতা, এই দাবিগুলোয় কীভাবে দ্বিমত পোষণ  করেন এদেশের তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত শ্রেনীর অধিকাংশ স্যার-ম্যাম, পুলিশ, বিজিবি, ***লীগ এর মতো মানুষগুলো ???   আপনাদের হাত-পা, চোখ-মুখও কি বেঁধে ফেলা হয়েছে?  যেমনটা র‍েইপ করার সময় ধর্ষকেরা বেঁধে দেয় ভিক্টিমকে, যাতে আওয়াজ, নড়াচড়া করতে না পারে। আপনাদের কার্যক্রম আর নীরব থাকা তো তারই প্রতীক!!!  চাটতে চাটতে যারা উপরে উঠে, তাদের আর জিহ্বা বলতে কিছু থাকে না যা দিয়ে প্রতিবাদের ধ্বনির বের হবে। অন্যায়ের কাছে কুঁজো হয়ে থাকতে থাকতে তো নিজের সততার মেরুদণ্ড হারিয়ে বসতেছেন। নিজের সন্তানদের জন্য সততার গল্প বলবেন কোথা থেকে!  টাকার কাছে বিবেক বিক্রি হয়, এর জন্য এতোটা নিকৃষ্টভাবে? খুন করতেও পিছু হটতে বলছে না আপনার বিবেক? বউ-বাচ্চা সর্বোচ্চ ২-৩ দিন না খেয়ে থাকবে, ২-৩ মাস কষ্ট করতে হবে চাকরিটা হারিয়ে , চাকুরিটা না থাকলে লাইফস্টাইল লো হয়ে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা শহীদদের খুনি বাবা/মা/ভাই/বোন ট্যাগ নিয়ে অন্তত সারাজীব...

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা

আমি ভার্সিটিতে ঢুকবার সময় দেখেছি মোটামুটি সব ছেলেমেয়েই নিজের পটেনশিয়ালটি দিয়ে, নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়। নিজের হেডমে, নিজের বাবার পরিচয়ে, নিজের পরিবারের সাপোর্টে এতোটা শেকড় থেকে শিখরে এসেছে তারা। তাদের অধিকাংশেরই বাবা কৃষক, সাধারণ চাকুরীজীবি কিংবা দিনে এনে দিনে খায় শ্রেনীর। কারো আবার বাবা নেই, কারো মা। এককথায় বলতে গেলে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই Needy Family থেকে উঠে আসা।  আমি জানতাম, এসব পরিবারের সন্তানদের শিরদাঁড়া খুব শক্ত হয়। জীবনে এতো ঝড় তুফান আর প্রতিকূলতা সহ্য করে যে, তাদের পায়ের তলায় মাটি শক্ত হওয়ার আগে তাদের পা শক্ত হয়ে যায়। তাদের আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটা যে, প্রথম বর্ষে উঠে তারা কেমন যেন বিকিয়ে যায়! হল প্রশাসন কর্তৃক হল বরাদ্দ করে দেয় প্রতিটা শিক্ষার্থীকে,এর জন্য হল ফিও নেওয়া হয় প্রতি সেমিস্টারে। এমনকি যারা হলে থাকে না, তাদেরও হল ফি বাধ্যতামূলক। তাহলে হলে উঠা শিক্ষার্থীদের কেন আশ্রয়ের জন্য আরেকজনের প্রভুত্ব করতে হয়?  এদের প্রোফাইলে দেখি প্রিয় অভিভাবক বড় ভাইকে নিয়ে তৈলাক্ত ক্যাপশনে পোস্টে ভরপুর। অথচ যে মা-...

নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা হয় না

এদেশে এখন আর শিক্ষিত মানুষরা দেশপ্রেমের গল্প করে না। এরা দেশ ছাড়তে ব্যাঁকুল। নিজে না পারলেও নিজের পরবর্তী প্রজন্মকে দেশ থেকে বের করতে পারলে এরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে! অথচ, এদেশের Policy Making-এ বসে আছে সব কোট-টাই পড়া শিক্ষিত ভদ্রলোক। এই পলিসি মেকার-রা ই নিজের ছেলে মেয়েদের দেশে রাখেন না। কারণ তারা জানেন এই দেশের পলিসি তারা কতোটা ধ্বংস করে রেখেছেন। এদের পরে যারা আসবে, তাদের জন্য কোনো Ideal Situation-ই রেখে যান না ইনারা। আমার দেখা ভার্সিটির যতো ভিসি এবং শিক্ষকগণ আছেন, তাদের ছেলে-মেয়েকেই বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠিয়ে দিয়েছেন অথবা পরিকল্পনা করছেন পাঠিয়ে দেওয়ার, এমন প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ । ভাবা যায়, ব্যাপারটা কতোটা চিন্তার! যেই পলিসি নিজের ছেলে-মেয়েকেই মানুষ করতে পারবে কি না সন্দেহ , সেই পলিসি দেশের হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন উনারা! এটা শুধু ভার্সিটির শিক্ষক বলে না, সকল আমলাদের বেলায় প্রযোজ্য। দেশের পলিসি মেকার ইনারা সবাই-ই!  দেশের সিস্টেমেটিক পলিসি নিয়ে আমার নিজের একটা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ আছে। আমার মতে, "নিজের পেটে খিদে নিয়ে আর যা-ই হোক না কেন বাসার অতিথি আপ্যায়ন কিংবা সমাজসেবা ...

মানুষ মারা যাওয়ার পর আল্লাহ আকাশের তাঁরা বানিয়ে রাখলে খারাপ হতো না

ভোররাত ৩:৪৮। অসুস্থ আমি বারান্দায় বসে বসে আকাশ দেখছি। ফজরের আজান দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে মসজিদের মাইকে মাইকে। এই সময়টায় কেমন যেন শান্ত-স্নিগ্ধ বাতাস বয় চারপাশে। মাঝে মাঝে মনে হয় আল্লাহ অসুখ-বিসুখ দিয়েও অনেক ভালো কিছু অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেয়। ঠিক যেমনটা ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মায়ের আদর আর সেবাযত্ন পেতাম। এখন আর সেই সৌভাগ্য নেই, সবকিছু একাকী সহ্য করতে হয়। মা ছাড়া বেড়ে ওঠা এই পৃথিবীর এক একটা ছেলেমেয়ে অযত্নে বড় হওয়া ফুল!  আমি আকাশ দেখছি। খুব মনোযোগ দিয়ে আকাশের তিমির নিমিষেই কিভাবে নীলাভ রং ধারণ করছে তা বুঝবার চেষ্টা করছি। এর আগেও বেশ অনেকবার অনেক ভোর আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি! আকাশের এই পরিবর্তনের সময়টায় কেমন যেন একটা ঘোর লাগা কাজ করে। ঘোর কাটতে কাটতে ততোক্ষণে আঁধার শেষে আলোর চোখে ক্লান্তি ধরিয়ে দেয়। কি অদ্ভুত সময়টা যেন!  আম্মা বলতো যারা আকাশ পছন্দ করে তারা নাকি উদার মনমানসিকতার হয়। আমি নিজেকে মাপার চেষ্টা করছি আমি উদার কি না। এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানার কোনো উপায় নেই। এখন ভোর না হলে হয়তো একজনকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা যেতো,  "হ্যালো, তুমি আমাকে উদারতার মাপকাঠিতে কতো দিবে? Out of...

মানুষকে বেঁচে থাকবার সাহস যোগায় পিছুটান

জীবনে পিছুটান থাকার দরকার আছে। যে পিছুটান পরিবারের কথা একটু হলেও ভাবাবে। যেই পিছুটান কোনো লয়্যালটি ব্রেক করতে গেলেই প্রিয় মানুষটার কথা মনে করিয়ে দিবে। যেই পিছুটান মনে করিয়ে দিবে দিনশেষে তার ফিরবার মতো একটা আশ্রয় আছে। এই পিছুটান হতে পারে নিজের পরিবার, বাসা কিংবা প্রিয় মানুষটা।  আজকাল অনেকেই দেখি বেশ গর্ব করে বলে, "আমার কোনো পিছুটান নেই, যেভাবে খুশি চলবো"। আসলে তারা ভেতরে ভেতরে কতোটা অসহায়, কতোটা একাকী, তা একমাত্র তারাই উপলব্ধি করে। পিছুটান না থাকা কোনো ফ্লেক্স না, বরং মানসিক আশ্রয়হীন একটা জীবন যেন। যার পরিবার নেই, সে জানে দিনশেষে পরিবারে ফিরতে চাওয়ার আকাঙ্খা চেপে রাখা কতোটা কষ্টের। যার মাথা গুঁজবার একটা ঠাঁই নেই, সে জানে আশ্রিত থাকা কতোটা পীড়াদায়ক। দিনশেষে নিজের কথাগুলো বলার জন্যও আমরা মানুষ খুঁজি, মানসিক আশ্রয় খুঁজি, যার মাঝে নিজেকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়ে বিলীন হতেও দ্বিধাবোধ করি না আমরা। এমন মানুষ আমরা কেউ খুঁজে পাই, কেউবা খুঁজে পাই না।  আমি এমন অভিযোগ অনেক শুনতে পাই যে, আম্মু এটা করতে দেয় না, আব্বু কোথাও যেতে দেয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের কাছে পিছুটান মানে এ-সবই। এরা বড় হওয়া...