পোস্টগুলি

যার জীবনে যা-কিছুর অভাব, সে ওসব কিছুরই গল্প করে। যে চেয়েও যা কিছু পায়নি, সে সেসব কিছু নিয়েই ভাবে

অষ্টাদশ পার করা কিশোরী, যার গালে অস্ত যাওয়া সূর্যের রক্তিম আভার ছাপ, চোখেমুখে জীবন নিয়ে জানার তীব্র আগ্রহ, যাকে নিঃসন্দেহে প্রতিস্থাপিত করে দেওয়া যাবে রোমান্টিক কোনো উপন্যাসের নায়িকার স্থানে, তার পুরুষজাতি নিয়ে বিশাল এক অভিযোগ। ষোড়শের পর তার পেছনে কতো ছেলের লাইন, কিন্তু ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া এসব ছেলেদের মাঝে সে ব্যক্তিত্বের ছিটেফোঁটাও খুঁজে পায়নি! পুরুষরূপী প্রেমিক হতে গিয়ে মাঝখানে ব্যক্তিত্ব ভুলে গিয়েছে যেন, সিম্প হয়ে যায় একটু এটেনশন পেলে-ই!   আর এইদিকে, দুই যুগ পাড়ি দেওয়া যুবকের কাছে নিজের আত্মসম্মানবোধ ছাড়া আর কিছুই নেই পুঁজি! পুরো একটা যুগ চলে গিয়েছে বেচারার ব্যক্তিত্ব গড়তেই। যার জন্য এতো পড়াশোনা, এতোকিছুর অভ্যেস, তারপরও কোথায় যেন নিজের ব্যক্তিত্বে কমতি থেকেই যায় বলে মনে হয় তার। তার কাছে সৌন্দর্য্য মানে চোখের শান্তি, প্রেমিকা মানে মানসিক শান্তি, পরিবার মানে সামাজিক স্বীকৃতি। বই তাকে যা শিখিয়েছে, বাস্তবতা তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে, জীবনে পার্ফেক্ট মানুষ হওয়ার চেয়ে মানিয়ে নেওয়া সহজ। ওয়েস্টার্ন ফিলোসোফি সব ভুল!  যার জীবনে যা-কিছুর অভাব, সে ওসব কিছুরই গল্...

সম্পর্কের লয়্যালটি

দীর্ঘদিন একটা মানুষের প্রতি সেইম ফিলিংস ধরে রাখা অনেক কঠিন। রীতিমতো স্যাক্রিফাইস বলা চলে! নাটক সিনেমাতে এক নারী/পুরুষে আসক্ত ক্যারেক্টার যতোটা সহজে দেখানো হয়, বর্তমানে তা ততোটাই কঠিন।  সম্পর্কে এক্সপ্লোরিং একটা স্টেজ থাকে, এবার এই সম্পর্ক বন্ধুত্বের হোক কিংবা ভালোবাসার। এই সময়টায় আমরা একটা মানুষকে অনেকটাই কম জানি, কম বুঝি, কম চিনি। এই কমবেশি অজানার প্রতি জানার যে আগ্রহ, তার প্রতি আমরা অবসেসড হয়ে পড়ি। একটা সময় সবকিছু ঠিক থাকলে, এই অবসেশন রূপ নেয় ভালো বন্ধুত্বে, রুপ নেয় ভালোবাসায়। একটা সময় এসে এই স্টেজে আমরা ইউজড টু হয়ে যায়। তখন সম্পর্কের শুরু হয় এডাপ্টিভ স্টেজ। এই স্টেজে এসে আমাদের চোখে পড়ে সামনের মানুষটার সব ভালোমন্দের অতীত, অভ্যেস, স্বভাব, পারিবারিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ সবকিছু। এসবের মাঝে আমরা অনেকটা কনফিউজড হয়ে যাই। সম্পর্ক তখন দুটো দিকে মোড় নেয়। হয় দুটো মানুষের আন্ডারস্ট্যান্ডিং তাদের নিজেদের শুধরে দেয়, তারা নিজেদের পছন্দ অপছন্দের প্রায়োরিটি দিতে শিখে। নয়তো চুম্বকের বিকর্ষণ বলের মতো দু'জন দু'জনের কাছ থেকে মানসিকভাবে ছিটকে দূরে সরে যায়। অনূভতিরা মরতে শুরু করে। মানসিক একটা ...

প্রতিকূলতা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় উপদ্রব

জীবনে দু'একটা আঘাত দরকার। যে আঘাতের ক্ষত মনে করিয়ে দিবে, এর থেকে বর্তমান আঘাতের যন্ত্রণা বেশ সহনীয়।  জীবনে দু'একটা প্রিয় মানুষ হারানোর গল্প থাকা দরকার। যে গল্প মনে করিয়ে দিবে, সবটুকু দিয়েও কখনো কাউকে আগলে রাখা যায় না যদি স্রষ্টা না চায়!  জীবনে দু'একটা অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা থাকা দরকার। যা প্রতিনিয়ত নিজেকে মনে করিয়ে দিবে, এই জীবনে সব চাওয়া-পাওয়াই পূরণ হয় না। জীবনে নিজের বলতে দু'একটা অপ্রিয় সত্যি থাকুক। যা মনে করিয়ে দিবে, আমি নিজেও ষোলোকলা খাঁটি না। এতে অহংকার জন্মাবে না নিজের মাঝে। জীবনে দু'একটা নির্ঘুম রাতের অভিজ্ঞতা থাকুক। যা প্রয়োজনে মনে করিয়ে দিবে, ঠিকমতো ঘুমাতে পারাটাও কতো বড় নিয়ামত। মাঝরাতে শ্বাসকষ্ট উঠা মানুষটা জানে, চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে চোখ মেলে রাখা কতেটা কষ্টের! জীবনে দু'চারটা হেরে যাওয়ার স্মৃতি থাক। এরা প্রতিকূল সময়ে মনে করিয়ে দিবে হেরে যেয়েও বেঁচে থাকা যায়, ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও জীবনের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। জীবনে দু'একটা ভুল বুঝাবুঝি থাকুক। যে ভুল বুঝাবুঝি সবসময় স্মরণ করিয়ে দিবে, নিজের সব সিদ্ধান্ত সঠিক হয় না। মানুষ ম...

আমরা কেউ আর দেশপ্রেমিক নেই

আগে মানুষ চোর ডাকাতদের ভয় পেতো। এখন আর এই যুগ নেই। যুগ পাল্টে গেছে। মানুষ এখন শিক্ষিত মানুষদের বেশি ভয় পায়। কেমন যেন বিতৃষ্ণার ভয়! এই ভয়, সম্মান দেখিয়ে ভয় পাওয়া নয়। এই ভয় অন্তরে অসম্মান নিয়ে বাইরে ভীতসন্ত্রস্ত হওয়া!   ৬ বছর ধরে ট্রেনে প্রায়শই সপ্তাহে সপ্তাহে যাতায়াত করি। ট্রেনে TTE থাকে, মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্টও। এতো বছরে এক দুইজন TTE আর মোবাইল কোর্ট ছাড়া আর কাউকে তার কাজে সৎ থাকতে দেখি নাই! গায়ে সফেদ সাদা পোশাক, মুখে সুন্নতি দাঁড়ি রেখে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করা যাত্রীদের থেকে উপঢৌকন নিচ্ছে তাও কোনো ডকুমেন্টস না দিয়ে। এই টাকা কখনো সরকারি খাতে যাবে না, যাবে এদের সিন্ডিকেটের ভাগবাটোয়ারাতে। কোনো যাত্রী যদি একটু টাকা কম দেয় কিংবা সহজ সরল হয়, এদের ব্যবহার এতোটা বাজে হয় যে দেখে বুঝায় যাবে না এরা ডিগ্রীধারী শিক্ষিত ভদ্রমানুষ! এর উপর ট্রেনে তো যাত্রীর থেকে হকার আর ভিক্ষুক বেশি। এক হকারের সাথে কথা বললাম, এদেরও নাকি উপঢৌকন দিতে হয় সিন্ডিকেটকে। আমরা যারা স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটি এবং মেয়ে মানুষদের যে কি ভোগান্তি হয় এই হকার আর ভিক্ষুকদের জন্য, তা কেবল আমরাই সামনে থেকে দেখি। অথচ পুরো রেলওয়ে খাতটা ...

উপলব্ধি

এই বয়সে এসে উপলব্ধি হয়, নিজের ব্যাপারে মানুষকে বুঝানোর চেয়ে মানুষকে বুঝা তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ। নিজেরে কারো কাছে প্রকাশ করতে, মেলে ধরতে কেমন যেন জড়তা কাজ করে। এর থেকে ভালো মনে হয় সামনে থাকা মানুষটাকে বুঝি, সে কি চায় সে অনুযায়ী আচরণ করি। সেও খুশি,আমিও রেহাই পেলাম!  এখন কেন জানি জ্বর উঠলে "ঔষুধ খাইনি কেন?", তার এক্সপ্লেইনেশন আর কাউকে দিতে ভালো লাগে না। কিভাবে বুঝায়, ছোটবেলায় জ্বর উঠলে মাথায় পানি দিয়ে, গা মুছিয়ে দিয়ে জোর করে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে, ঔষুধ খাইয়ে দেওয়া মানুষটা যে আর যে নেই। ঔষুধ যে এখন বড্ড তিক্ত লাগে! নিজের শখ-আহ্লাদের কথা এখন আর কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। কারণ মানুষ প্রচন্ড ব্যস্ত। গল্প শুরু করার আগেই শেষ করার তাগিদ দেওয়া শুরু করে। কী দরকার, অযথা কারো সময়ের ভাগীদার হওয়ার!  এখন আর অসুস্থ আছি নাকি মন খারাপ, তাও কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। তারপর কতো প্রশ্নের সম্মুখীনের হতে হবে এই ভেবে! যেই আমি'টার মন খারাপ নাকি অসুস্থ, তা চেহারা দেখেই কেউ বুঝে যেতো, মুখ ফুঁটে বলার আগেই বুঝে যেত আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া উচিত, সেই আমি'টা এখন এই আদরের অভাবে তীব্র মন খারাপ লুকিয়ে হাসি...

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি

আমি সবসময় দায়িত্ব আর যত্ন, এই দু’য়ের ভারসাম্যহীন অবস্থায় ভুঁগি। আমি বুঝি না, সংসারে দায়িত্বশীল হওয়া বেশি প্রয়োজন, নাকি যত্নবান! আমি এটাও বুঝি না, মানুষকে আসলে কিসে আঁটকে রাখতে হয়, দায়িত্ব নাকি যত্ন দিয়ে? একটা মানুষের জন্য ঠিক কতটুকু যত্নশীল হলে মানুষ আসলে ছেড়ে যায় না, ততোটুকু যত্নশীল কি আদোও হওয়া যায়? সবাইকে দিয়েও তো সব দায়িত্ব পালন হয় না। অথচ মানুষ কতো সহজে যত্ন কিংবা দায়িত্বের অভাব দেখিয়ে ছেড়ে চলে যায়! একদিন সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে যখন সংসারে মনোনিবেশ করতে যাবেন, তখন দেখবেন আপনাকে দিয়ে আর দায়িত্ব এবং যত্নের মাল্টি-টাস্কিং হচ্ছে না। দায়িত্ববান বাবা হতে গিয়ে, যত্নবান বাবা হতে পারছেন না। যত্নবান প্রেমিক হতে গিয়ে, দায়িত্বশীল স্বামী আর হয়ে ওঠা হচ্ছে না আপনাকে দিয়ে। বাস্তব সত্য এটাই যে, মেয়েরা প্রেমিক হিসেবে চায় যত্ন করতে পারে এমন ছেলেকে, আর স্বামী হিসেবে চায় দায়িত্ববান পুরুষকে। এ এক অমোঘ সত্য! এখন অনেকেই ভাবছেন, দায়িত্ব এবং যত্নের ব্যালেন্স করে নিলেই তো হয়। এমনটা কখনো সম্ভব হয় না। মাথায় দায়িত্ব নিয়ে চলা পুরুষ কখনো শতভাগ যত্নবান হতে পারে না। সংসারে মেয়েদের হতে হয় যত্নবান, ছেলেদের হতে হয় দায়িত্বশ...